দৌলতপুর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এই নিবন্ধটি কুষ্টিয়া জেলার একটি উপজেলা সম্পর্কিত; একই বানানের অন্যান্য নিবন্ধের জন্য, দৌলতপুর (দ্ব্যর্থতা নিরসন) দেখুন।
দৌলতপুর
উপজেলা
দৌলতপুর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
দৌলতপুর
দৌলতপুর
বাংলাদেশে দৌলতপুর উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°০০′০৫″উত্তর ৮৮°৫২′৩০″পূর্ব / ২৪.০০১৪° উত্তর ৮৮.৮৭৫০° পূর্ব / 24.0014; 88.8750স্থানাঙ্ক: ২৪°০০′০৫″উত্তর ৮৮°৫২′৩০″পূর্ব / ২৪.০০১৪° উত্তর ৮৮.৮৭৫০° পূর্ব / 24.0014; 88.8750
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ খুলনা বিভাগ
জেলা কুষ্টিয়া জেলা
আয়তন
 • মোট ৪৬১ কিমি (১৭৮ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০১)[১]
 • মোট ৪,৪৩,৯৬০
 • ঘনত্ব ৯৬০/কিমি (২৫০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট daulatpur.kushtia.gov.bd


দৌলতপুর উপজেলা বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

দৌলতপুর উপজেলা কুষ্টিয়া জেলার অধীনে একটি উপজেলা। দৌলতপুর উপজেলার আয়তন ৪৬১বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে বাঘালালপুর, দক্ষিণে গাংনী ও মিরপুর, পুর্বে ভেড়ামারামিরপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৮৩ সালে দৌলতপুর থানাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষনা করা হয়।

নামকরণ
মুক্তিযুদ্ধে

১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর দৌলতপুরে মুক্তিবাহিনী ও পাক হানাদার বাহিনীর মধ্যে একটি লড়াই সংঘটিত হয়। এতে বহু লোক হতাহত হয়। দৌলতপুর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ৬টি গণকবর রয়েছে। এছাড়া এখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে একটি সৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নামে ১০ টি রাস্তার নামকরন করা হয়েছে।

ভৌগোলিক উপাত্ত[সম্পাদনা]

ভূপ্রকৃতি
মৃত্তিকা

নদ-নদী[সম্পাদনা]

দৌলতপুর উপজেলায় ২টি নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে পদ্মা নদীমাথাভাঙ্গা নদী[২][৩] এছাড়া হিশনা-ঝাঞ্চা নদী নামের আরো একটি নদী দৌলতপুর উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সাংষ্কৃতিক বৈশিষ্ঠ্য[সম্পাদনা]

ভাষা
দৌলতপুরে মানুষের মুখের ভাষা মিষ্টি ভাষা হিসেবে খুবই পরিচিত।
উত্সব ঃ এখানে ধর্ম বর্ন মিলে মিশে ঈদ, পুজা পালন করা হয়।
খেলাধুলা
খেলাধুলায় কিছুটা পিছিয়ে আছে তবে আল্লারদর্গা বাজারের পাশে একটি স্টেডিয়াম তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, এতে খেলাধুলার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

১৬১টি মৌজা ও ২৪২টি গ্রাম নিয়ে গঠিত দৌলতপুর উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে।

নির্বাচনী এলাকা ও জনপ্রতিনিধি

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০০১ সালের বাংলাদেশ আদমশুমারী অনুযায়ী দৌলতপুর উপজেলার জনসংখ্যা ৪,৪৩,৯৬০ জন। এর মধ্যে ৫১.৪২ শতাংশ পুরুষ ও বাকী ৪৮.৫৮ শতাংশ নারী। উপজেলার আঠারোর্ধ জনসংখ্যা ১,৭৮,৫৩৯ জন। এখানকার শিক্ষিতের হার ৬৫.৫% (৭+ বছর বয়সী) যেখানে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষিতের হার ৬২.৪%।[৪]

ধর্ম

মোট জনসংখ্যার ৯৯.২৮% মুসলিম ও ০.৭২% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। এখানে ১৬০ টি মসজিদ , ১ টি মন্দির ও ১ টি গির্জা রয়েছে।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্য চিকিৎসা দিক দিয়ে কিছুটা পিছিয়ে, তবুও এখানে আছে ৫০ বেডের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেস, এছাড়া আছি প্রতি ওর্যাডে একটি করে কমিনিটি ক্লিনিক।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

দৌলতপুর উপজেলার শিক্ষিতের হার ৬৭%; যার মধ্যে ৭৩%% পুরুষ ও ৬১% মহিলা। এই উপজেলার রয়েছেঃ

  • মহাবিদ্যালয়ঃ ১১টি,
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৪৫টি,
  • সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ১০৫টি,
  • বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৮২টি,
  • মাদ্রাসাঃ ৩৫টি,
  • ভকেশনাল প্রশিক্ষন কেন্দ্রঃ ১টি এবং
  • এতিমখানাঃ ১টি।

== কৃষি == দৌলতপুর উপজেলা তামাক চাষের জন্যে বিশ্ব বিখ্যাত। এখানে প্রচুর তামাক উৎপাদন হয় যা দেশের চাহিদা পুরন করে বিদেশে রপ্তানি হয়। উপজেলার আমদহ, হরিণগাছি (পাইক পাড়া), পিয়ারপুর,রিফাইতপুর এলাকায় শতকরা ৯৯.৯৯ ভাগ জমিতে তামাক চাষ হয়। এছাড়া তারাগুনি মাথরাপুর এলাকায় প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়, যা স্থানীয় চাহিদা পুরন করে ঢাকাসহ দেশের অন্যে এলাকায় পাঠানো হয়।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

শিল্প-প্রতিষ্ঠান 
এই উপজেলা যেমন কৃষিতে এগিয়ে তেমনি শিল্প প্রতিষ্টানে অনেক উন্নত। এখানে বিশ্বাস পরিবাবের বেশ কয়েক টি বড় শিল্প প্রতিষ্টান আছে, যেমন, নাসির টোব্যাকো ইন্ডাষ্টিজ, নাসির বিড়ি,নাসির সিগারেট, রকেট ম্যাচ,২ স্টার ম্যাচ, বায়জিত অ্যাটো রাইচ মিল ইত্যাদি কল কারখানা, এখানে অনুমানিক ১ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে প্রত্যক্ষ -পরোক্ষ ভাবে। এছাড়া অনেক ছোট ছোট কল কারখানা আছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

সড়কপথ
কুষ্টিয়া শহর থেকে সরাসরি সড়ক পথে দৌলতপুরে যাওয়া যায়। প্রতি ১০ মিনিট পর পর বাস যায়।
রেলপথ 
দৌলতপুরে কোন রেল পথ নেই।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • শাহ আজিজুর রহমান: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। শাহ আজিজুর রহমান কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলাই জন্মগ্রহণ করেন।
  • প্রকৌশলী খিজির খান: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড(পিডিবি) এর চেয়ারম্যান ছিলেন।প্রকৌশলী খিজির খান দৌলতপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

এই উপজেলায় দর্শনীয় স্থান তেমন কিছু নেই বলেই চলে। নাসির সিগারেট ফ্যাক্টরি, পদ্মা নদীর পাড় আর প্রাগপুর স্থল বন্দর দেখার মত স্থান।

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে দৌলতপুর"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি ও বেসিস। সংগৃহীত : ২৭ জানুয়ারী, ২০১৫ 
  2. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৯০, ISBN 978-984-8945-17-9
  3. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬১২, ISBN 984-70120-0436-4.
  4. "Population Census Wing, BBS."আসল থেকে ২০০৫-০৩-২৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত নভেম্বর ১০  |accessyear= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]