ফজলি আম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ফজলি আম
ভৌগোলিক স্বীকৃতি
Mango Bangladesh (6).JPG
ফজলি আম
বর্ণনাফজলি আম একপ্রকার আম যা আঁশবিহীন, রসালো, সুগন্ধযুক্ত, সুস্বাদু ও মিষ্টি।
ভাগকৃষি
অঞ্চলমালদা ,পশ্চিম বঙ্গ
দেশভারত
উপাদানআম
প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটhttp://ipindia.nic.in/girindia/

ফজলি বা ফকিরভোগ মৌশুমি ফল আমের একটি প্রকারভেদ। এই ফল দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বদিকে বিশেষ করে বাংলাদেশভারতের পশ্চিম বঙ্গবিহারে পাওয়া যায়। আমের অন্যান্য প্রজাতির থেকে দেরিতে ফলে এই ফসল। সাধারণতঃ জ্যাম ও আচার তৈরিতে ব্যবহৃত ফজলি, আকারে বেশ বড় হয়; এক কিলোগ্রাম বা তারও বেশি ওজনের হতে পারে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদা জেলা[১] এবং বাংলাদেশের উত্তরদিকের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ফজলি চাষের জন্য বিখ্যাত।[২][৩][৪]

এপ্রিল, ২০০৮ থেকে মার্চ, ২০০৯ সময়ের মধ্যে ভারত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় মালদা জেলার ফজলি আমের জন্য ভৌগলিক সূচক লাভ করেছে।[৫] বাংলাদেশও রাজশাহীর ফজলির জন্য ২০১৩ সালে ভৌগলিক সূচক পাবার ব্যাপারে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে।[৬][৭]

নামকরণের ইতিহাস[সম্পাদনা]

কথিত আছে, ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে মালদহের কালেক্টর র‌্যাভেন সাহেব ঘোড়ার গাড়ি চেপে গৌড় যাচ্ছিলেন। পথে তাঁর জল তেষ্টা মেটানোর জন্য গ্রামের এক মহিলার কাছে জল খেতে চান। ফজলু বিবি নামে সেই মহিলার বাড়ির আঙিনায় বড় একটি আমগাছ ছিল। ফজলু বিবি সেই আম দিয়ে ফকির-সন্ন্যাসীদের আপ্যায়ন করাতেন (এজন্য এই আমের আর এক নাম ফকিরভোগ)। ফজলু বিবি তাঁকে জলের বদলে একটি আম খেতে দেন। আম খেয়ে কালেক্টর সাহেব ইংরেজিতে তাঁকে আমের নাম জিজ্ঞেস করেন। বুঝতে না পেরে ওই মহিলা তাঁর নিজের নাম বলে বসেন। সেই থেকে ওই আমের নাম হয়ে যায় ফজলি।[৮][৯][১০]

বিবরণ[সম্পাদনা]

ফজলি আম গড়ে লম্বায় ১৩.৮ সে.মি. চওড়ায় ৯.৫ সে.মি. উচ্চতায় ৭.৮ সে.মি. হয়। গড়ে ওজন হয় ৬৫৪.৪ গ্রাম। আমটি দীর্ঘ এবং ঈষৎ চ্যাপ্টা। পাকা আমের খোসা কিছুটা হলুদ হয়ে ওঠে। শাঁস হলুদ, আঁশবিহীন, রসালো, সুগন্ধযুক্ত, সুস্বাদু ও মিষ্টি। খোসা পাতলা। আঁটি লম্বা, চ্যাপ্টা ও পাতলা। এই আমের মিষ্টতার পরিমাণ ১৭.৫ শতাংশ। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে, বা মোটামুটি ৭ই জুলাই থেকে ফজলি আম পাকে।[৮]

সাহিত্যে উল্লেখ[সম্পাদনা]

বিভিন্ন ধরনের আমের উল্লেখ বাংলা সাহিত্যে বহুবার এসেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শেষের কবিতা উপন্যাসে নায়ক অমিত রায়কে দিয়ে বলিয়েছেন, "কবিমাত্রের উচিত পাঁচ-বছর মেয়াদে কবিত্ব করা, পঁচিশ থেকে ত্রিশ পর্যন্ত। এ কথা বলব না যে, পরবর্তীদের কাছ থেকে আরো ভালো কিছু চাই, বলব অন্য কিছু চাই। ফজলি আম ফুরোলে বলব না, ‘আনো ফজলিতর আম।’ বলব, ‘নতুন বাজার থেকে বড়ো দেখে আতা নিয়ে এসো তো হে।’"[১১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Ratna Ganguli, TNN Jul 4, 2004, 11.35pm IST (৪ জুলাই ২০০৪)। "Bengal's Fazli mangoes make it to London stores - Economic Times" (ইংরেজি ভাষায়)। Articles.economictimes.indiatimes.com। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৪ 
  2. Hafez Ahmed @ http://www.thefinancialexpress-bd.com (২২ জুলাই ২০১২)। "Fazli mango market gains momentum in Rajshahi" (ইংরেজি ভাষায়)। Thefinancialexpress-bd.com। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৪ 
  3. "Fazli market gains momentum"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-১১-২২ 
  4. "Fazli mango market gains momentum in Rajshahi"www.thefinancialexpress-bd.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-১১-২২ 
  5. "STATE WISE REGISTRATION DETAILS OF G.I APPLICATIONS 15th September, 2003 – Till Date" (PDF)ipindia.nic.in/ (ইংরেজি ভাষায়)। Geographical Indication Registry। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ 
  6. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ও শেখ রুকসানা বুরহান (১২ নভেম্বর ২০১৩)। "Geographic Indication: The role of the private sector" (PDF)www.bfti.org.bd/ (ইংরেজি ভাষায়)। দা ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস। পৃষ্ঠা 3। ১৭ জুন ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ 
  7. Our Bureau। "Dhaka to contest India's GI claim over Jamdani sarees, Fazli mangoes | Business Line" (ইংরেজি ভাষায়)। Thehindubusinessline.com। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৪ 
  8. আলম, ফখরে। "আমপাঁচালি"। কালের কন্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ 
  9. "নাম দিয়ে যায় চেনা"। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ 
  10. "আমের মৌতাতে সাহিত্যের স্মৃতিবিলাস"। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ 
  11. পাঠক, আশিস। "আমের মৌতাতে সাহিত্যের স্মৃতিবিলাস"। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৬