চীন জাতীয় ফুটবল দল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চীন
দলের লোগো
ডাকনামলং জি তুই (ড্রাগন)
গু জু (জাতীয় দল)[১]
অ্যাসোসিয়েশনচীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন
কনফেডারেশনএএফসি (এশিয়া)
প্রধান কোচলি থিয়ে
অধিনায়কজেং জি
সর্বাধিক ম্যাচলি ওয়েইফেং (১১২)
শীর্ষ গোলদাতাহাও হাইতং (৪১)
মাঠবিভিন্ন
ফিফা কোডCHN
ওয়েবসাইটwww.thecfa.cn
প্রথম জার্সি
দ্বিতীয় জার্সি
ফিফা র‌্যাঙ্কিং
বর্তমান ৭৫ হ্রাস ৪ (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১)[২]
সর্বোচ্চ৩৭ (ডিসেম্বর ১৯৯৮)
সর্বনিম্ন১০৯ (মার্চ ২০১৩)
এলো র‌্যাঙ্কিং
বর্তমান ৮৪ বৃদ্ধি ৭ (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১)[৩]
সর্বোচ্চ২৩ (মে ১৯৩৪)
সর্বনিম্ন৯২ (অক্টোবর ১৯৯২)
প্রথম আন্তর্জাতিক খেলা
 ফিলিপাইন ২–১ চীন 
(ম্যানিলা, ফিলিপাইন; ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯১৩)[৪]
বৃহত্তম জয়
 চীন ১৯–০ গুয়াম 
(হো চি মিন সিটি, ভিয়েতনাম; ২৬ জানুয়ারি ২০০০)
বৃহত্তম পরাজয়
 ব্রাজিল ৮–০ চীন 
(রেসিফি, ব্রাজিল; ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২)
বিশ্বকাপ
অংশগ্রহণ১ (২০০২-এ প্রথম)
সেরা সাফল্যগ্রুপ পর্ব (২০০২)
এএফসি এশিয়ান কাপ
অংশগ্রহণ১২ (১৯৭৬-এ প্রথম)
সেরা সাফল্যরানার-আপ (১৯৮৪, ২০০৪)

চীন জাতীয় ফুটবল দল (সরলীকৃত চীনা: 中国国家足球队; প্রথাগত চীনা: 中國國家足球隊; ফিনিন: Zhōngguó guójiā zúqiú duì, ইংরেজি: China national football team) হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে চীনের প্রতিনিধিত্বকারী পুরুষদের জাতীয় দল, যার সকল কার্যক্রম চীনের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই দলটি ১৯৩১ সাল হতে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার এবং ১৯৭৪ সাল হতে তাদের আঞ্চলিক সংস্থা এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য হিসেবে রয়েছে। চীনা গৃহযুদ্ধের পর, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী চীন দ্বারা সংস্কার করা হয়েছিল। ১৯১৩ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি তারিখে, চীন প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করেছে; ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত উক্ত ম্যাচে চীন ফিলিপাইনের কাছে ২–১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।

লং জি তুই নামে পরিচিত এই দলটি বেশ কয়েকটি স্টেডিয়ামে তাদের হোম ম্যাচগুলো আয়োজন করে থাকে। এই দলের প্রধান কার্যালয় চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত। বর্তমানে এই দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন লি থিয়ে এবং অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন কুয়াংচৌ এভারগ্রান্ড তাওবাওয়ের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় জেং জি

চীন এপর্যন্ত মাত্র ১ বার ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে, যেখানে তারা শুধুমাত্র গ্রুপ পর্বে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছিল। অন্যদিকে, এএফসি এশিয়ান কাপে চীন এপর্যন্ত ১২ বার অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সেরা সাফল্য হচ্ছে ১৯৮৪ এবং ২০০৪ এএফসি এশিয়ান কাপের ফাইনালে পৌঁছানো। যদিও আধুনিক ফুটবলে চীনের ততটা ইতিহাস নেই, তবে ২০০৪ এএফসি এশিয়ান কাপ ফাইনালের জন্য আনুমানিক ২৫০ মিলিয়ান দর্শক ছিল, যেখানে চীন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জাপানের কাছে ৩–১ গোলে পরাজিত হয়েছিল। এটি উক্ত সময়ে দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম একক অনুষ্ঠান ছিল।[৫]

লি ওয়েইফেং, জু বো, লিন কাও, হাও হাইতং এবং জেং জির মতো খেলোয়াড়গণ চীনের জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন।

দ্বন্দ্ব[সম্পাদনা]

ঐতিহ্যগতভাবে, চীনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে জাপান জাতীয় ফুটবল দল[৬] ২০০৪ সালের এফসি এশিয়ান কাপের ফাইনালে জাপানের কাছে ৩–১ গোলে পরাজিত হওয়ার পর চীনের ভক্তদের ওয়ার্কার স্টেডিয়ামের উত্তর গেটের কাছে দাঙ্গা শুরু করেছিল।[৭] উক্ত সময় টুর্নামেন্টের বিতর্কিত ওষুধ ও দুর্যোগপূর্ণ জাপানী মনোভাবের কারণে দাঙ্গা ছড়ানোর কথা বলা হয়েছিল।

আরেকটি সুপরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহযোদ্ধা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও রয়েছে। ১৯৭৮ এবং ২০১০ সালে ৩২ বছরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে তারা ২৭টি ম্যাচ খেলেছে, যেখানে চীন একটি ম্যাচও (১১ ড্র এবং ১৬ হার) জয়লাভ করতে পারেনি। এই ঘটনাটি বর্ণনা করার জন্য মিডিয়াটি "কোরেফোবিয়া" শব্দটি সংকলন করেছে, কিন্তু ২০১০ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি তারিখে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে চীন অবসেস জয়লাভ করেছিল। ২০১০ সালের এশিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ৩–০ ব্যবধানে জয়ী হয় এবং শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি জিতে নেয়।

রাজনৈতিক চাপের কারণে হংকংয়ের সাথে চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। হংকং ভক্তরা চীনের জাতীয় সংগীতের সময় নিন্দা প্রকাশ করে।

র‌্যাঙ্কিং[সম্পাদনা]

ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে, ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে চীন তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থান (৩৭তম) অর্জন করে এবং ২০১৩ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা ১০৯তম স্থান অধিকার করে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিংয়ে চীনের সর্বোচ্চ অবস্থান হচ্ছে ২৩তম (যা তারা ১৯৩৪ সালে অর্জন করেছিল) এবং সর্বনিম্ন অবস্থান হচ্ছে ৯২। নিম্নে বর্তমানে ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং এবং বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিংয়ে অবস্থান উল্লেখ করা হলো:

ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ অনুযায়ী ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং[২]
অবস্থান পরিবর্তন দল পয়েন্ট
৭৩ অপরিবর্তিত  দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩৪৮.৬
৭৪ হ্রাস  উত্তর মেসিডোনিয়া ১৩৪৫.৪৭
৭৫ হ্রাস  চীন ১৩৩৪.৫২
৭৬ অপরিবর্তিত  গিনি ১৩২৬.০৯
৭৭ অপরিবর্তিত  কাবু ভের্দি ১৩১৪.১৯
বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিং
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ অনুযায়ী বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিং[৩]
অবস্থান পরিবর্তন দল পয়েন্ট
৮৩ হ্রাস  বেলারুশ ১৪৮২
৮৪ বৃদ্ধি  চীন ১৪৮১
৮৫ বৃদ্ধি  সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৪৭৫
৮৬ হ্রাস  গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ১৪৭২
৮৬ বৃদ্ধি  জর্ডান ১৪৭২

প্রতিযোগিতামূলক তথ্য[সম্পাদনা]

ফিফা বিশ্বকাপ[সম্পাদনা]

ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
সাল পর্ব অবস্থান ম্যাচ জয় ড্র হার স্বগো বিগো ম্যাচ জয় ড্র হার স্বগো বিগো
উরুগুয়ে ১৯৩০ অংশগ্রহণ করেনি প্রত্যাখ্যান
ইতালি ১৯৩৪
ফ্রান্স ১৯৩৮
ব্রাজিল ১৯৫০
সুইজারল্যান্ড ১৯৫৪
সুইডেন ১৯৫৮ উত্তীর্ণ হয়নি
চিলি ১৯৬২ অংশগ্রহণ করেনি প্রত্যাখ্যান
ইংল্যান্ড ১৯৬৬
মেক্সিকো ১৯৭০
পশ্চিম জার্মানি ১৯৭৪
আর্জেন্টিনা ১৯৭৮
স্পেন ১৯৮২ উত্তীর্ণ হয়নি ১০ ১৭
মেক্সিকো ১৯৮৬ ২৩
ইতালি ১৯৯০ ১১ ১৮
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪ ১৮
ফ্রান্স ১৯৯৮ ১৪ ২৪ ১৬
দক্ষিণ কোরিয়া জাপান ২০০২ গ্রুপ পর্ব ৩১তম ১৪ ১২ ৩৮
জার্মানি ২০০৬ উত্তীর্ণ হয়নি ১৪
দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ ১৪
ব্রাজিল ২০১৪ ২৩
রাশিয়া ২০১৮ ১৮ ৩৫ ১১
কাতার ২০২২ অনির্ধারিত অনির্ধারিত
মোট গ্রুপ পর্ব ১/২১ ১০৬ ৬৫ ১৬ ২৫ ২১৬ ৭২

অর্জন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "China PR: Profile"। FIFA। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  2. "ফিফা/কোকা-কোলা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং"ফিফা। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  3. গত এক বছরে এলো রেটিং পরিবর্তন "বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিং"eloratings.net। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ 
  4. "China matches, ratings and points exchanged"। World Football Elo Ratings: China। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৪ 
  5. "Asian Cup final smashes viewing records"। The AFC। ১৮ অক্টোবর ২০০৭। ৯ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০১১ 
  6. Minter, Adam। "Why Chinese Hate Their Men's Soccer Team"। Bloomberg। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  7. ESPNSoccernet. 'Hand of Koji' brings Japan third title 8 August 2004

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]