লালন শাহের মাজার
| লালন শাহের মাজার লালনের আখড়া | |
|---|---|
| অবস্থান | ছেউড়িয়া, কুমারখালী উপজেলা, কুষ্টিয়া |
| স্থানাঙ্ক | ২৩°৫৩′৪৫″ উত্তর ৮৯°০৯′০৮″ পূর্ব / ২৩.৮৯৫৭৫৬৪° উত্তর ৮৯.১৫২১৭৫২° পূর্ব |
| প্রতিষ্ঠাকাল | ১৮৯০ |
| মৌলিক ব্যবহার | জিয়ারতের জন্য |
| পুনরুদ্ধার | ১৯৬৩ |
| পুনরুদ্ধারকারী | পাকিস্তান সরকার |
| পরিদর্শন | লক্ষাধিক |
| মালিক | লালন একাডেমি |
লালন শাহের মাজার বা লালনের আখড়া হচ্ছে বাউল সম্রাট লালনের কবরস্থান, এবং এই কবরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া একটি মাজার।[১][২] এই মাজারটি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়া নামক গ্রামে অবস্থিত। লালন শাহের মাজার এখানে একদিনে তৈরি হয়নি, ১৮৯০ সালে লালনের মৃত্যুর পর তার ভক্তরা এখানে ভিড় করতে থাকে, বহু দর্শনার্থী সমাগমের ফলে এই মাজারটির উৎপত্তি হয়েছে। ১৯৬৩ সালে সেখানে তার বর্তমান মাজারটি নির্মাণ করা হয় এবং তা উদ্বোধন করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর মোনায়েম খান।[৩] বর্তমানে এই মাজারে বিভিন্ন দেশের দর্শনার্থীর ভিড় দেখা যায়।[৪]
অবস্থান
[সম্পাদনা]লালনের মাজার বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় অবস্থিত। মাজারটি মূলত উপজেলার ছেউড়িয়া গ্রামে অবস্থিত। কুষ্টিয়া শহরের অদূরে অবস্থিত এই মাজার। কুষ্টিয়া বাস স্ট্যান্ড হতে রিকশা-অটো রিকশার মাধ্যমে ৬০-৭০ টাকা ভাড়া প্রয়োজন।[৫]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]আধ্যাত্মিক সাধক লালনের বাসস্থান ছিলো, ছেঁউড়িয়া গ্রামে। ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর শুক্রবার তিনি মারা যান।[৬] তিনি এই ছেউড়িয়াতেই স্থানীয় ও ভক্তদের দীক্ষা দিতেন। তিনি প্রতিবছর শীতের সময় এখানে মহোৎসবের আয়োজন করতেন। এই উৎসবে সহস্রাধিক ভক্তের আগমন ঘটতো, এখানে তারা বাউল গান ও দেহতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতেন। তার মৃত্যুর পরেও ভক্তরা প্রতিবছর এই আলোচনার জন্য এখানে ভিড় করতো। এভাবেই এখানে একটা আখড়া তৈরি হয়। তার প্রিয় ভক্তদের কবরও এখানেই দেওয়া হয়েছে। এভাবেই এই স্থানের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৬৩ সালে সেখানে তার বর্তমান মাজারটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৪ সালে সেখানেই আধুনিক মানের অডিটোরিয়ামসহ একাডেমি ভবন নির্মাণ করা হয়।[৭]
লালন মেলা
[সম্পাদনা]লালন মেলা প্রতিবছর দুইবার অনুষ্ঠিত হয়। একবার দোল পূর্ণিমা উৎসবের সময় আরেকবার বাংলা কার্তিক মাসের ১ তারিখ (অক্টোবর মাসের ১৬ তারিখ)।[৮] এই মেলা লালন আখড়ায় আয়োজিত হয়। লালন মেলায় সারা দেশ থেকে তার শিষ্যদের আগমন ঘটে।[৯] এছাড়াও দেশ বিদেশ থেকেও অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।[১০] এখানে রাতভর বাউল গানের উৎসব চলে। এই উপলক্ষে মাজারকে রঙ্গিন করে সাজনো হয়। তবে সমালোচনা আছে এই মেলায় সিদ্ধি সেবার আসর বসানো হয়, সাধক ও ভক্তরা এখানে এসে সিদ্ধি সেবন করে।[১১]
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "বাউল সম্রাট লালন শাহের ১৩০তম তিরোধান দিবস আজ, নেই কোনো আয়োজন"। কালের কণ্ঠ। ১৭ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২১।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) - ↑ "লালন ফকিরের কুষ্টিয়া"। যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২১।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) - ↑ "লালন শাহের মজার - কুষ্টিয়া জেলা"। www.kushtia.gov.bd। ১৮ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "লালনের মূল মাজারের পিলারে ফাটল"। দৈনিক মানবকণ্ঠ। ১৯ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "লালন আখড়ায় সাড়ে তিন ঘণ্টা"। banglanews24.com। ১৪ জানুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "কোলাহল নেই ছেঁউড়িয়ায়"। Bangla Tribune। ১৯ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "খুলে দেওয়া হলো লালন শাহের মাজার"। দৈনিক জাগরণ। ১৯ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "সাইঝির মাজার"। সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "কুষ্টিয়ায় লালন স্মরণোৎসব শুরু আজ"। সময় টিভি। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "কুষ্টিয়ায় লালনের দোল উৎসব"। জাগো নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "09.07.2005 - Indian plays' return to UC Berkeley stage"। www.berkeley.edu। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২১।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]
উইকিমিডিয়া কমন্সে লালনের আখড়া সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।