কাজল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কাজল দেবগন
Kajol promotes her film VIP2 in Delhi.jpg
২০১৭ সালে কাজল
জন্ম
কাজল মুখার্জী

(1974-08-05) ৫ আগস্ট ১৯৭৪ (বয়স ৪৫)
পেশাচলচ্চিত্র অভিনেত্রী
কার্যকাল১৯৯২–২০০১, ২০০৬–বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গীঅজয় দেবগন (১৯৯৯–বর্তমান)
সন্তান
পিতা-মাতাসমু মুখার্জী (পিতা)
তনুজা (মাতা)
পুরস্কারপূর্ণ তালিকা

কাজল দেবগন (হিন্দি: काजोल देवगन, জন্ম: কাজল মুখার্জী; আগস্ট ৫, ১৯৭৪) একজন ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তিনি কাজল নামেই সমধিক পরিচিত। ভারতের মুম্বই শহরে জন্ম নেওয়া কাজল পরিচালক সমু মুখার্জী ও অভিনেত্রী তনুজা দম্পতির কন্যা, এবং অভিনেতা অজয় দেবগনের স্ত্রী। কাজল ভারতের অন্যতম সফল এবং সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী। তিনি তার কর্মজীবনে বারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার মনোনয়নের মধ্যে ছয়টি পুরস্কার জয় লাভ করেছেন। তার মাসী নূতনের সাথে যৌথভাবে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচবার ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার বিজয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছেন। ২০১১ সালে ভারত সরকার তাকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ সম্মানিত পুরস্কার পদ্মশ্রীতে ভূষিত করেন।

কাজলের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৯২ সালে তার মায়ের সাথে প্রণয়ধর্মী বেখুদি চলচ্চিত্রে। তার প্রথম বাণিজ্যিক সফল চলচ্চিত্র হল থ্রিলারধর্মী বাজীগর (১৯৯৩)। নব্বইয়ের দশকে তিনি ভারতের পাঁচটি সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিসমূহ হল - ইয়ে দিল্লাগি (১৯৯৪), ইশ্‌ক (১৯৯৭), প্যায়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া (১৯৯৮), প্যায়ার তো হোনা হি থা (১৯৯৮), এবং হাম আপকে দিল মে রেহতে হ্যাঁয় (১৯৯৯)। ১৯৯৭ সালে রহস্য চলচ্চিত্র গুপ্ত: দ্য হিডেন ট্রুথ এবং ১৯৯৮ সালে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার দুশমন তাকে খ্যাতি এনে দেয়। গুপ্ত: দ্য হিডেন ট্রুথ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ খলনায়ক পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে রোম্যান্টিক দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে ছবিতে রক্ষণশীল ভারতীয় পরিবারের কন্যা, ১৯৯৮ সালে প্রণয়মূলক-নাট্যধর্মী কুছ কুছ হোতা হ্যায় ছবিতে প্রথমে বালকসুলভ চেহারা ও পরে আদর্শ ভারতীয় নারী চরিত্রে, ২০০১ সালে পারিবারিক-নাট্যধর্মী কভি খুশি কভি গম... ছবিতে নিম্ন মধ্যবিত্ত পাঞ্জাবি নারী, ২০০৬ সালে ফনা ছবিতে অন্ধ কাশ্মিরি নারী, এবং ২০১০ সালে মাই নেম ইজ খান ছবিতে বিচ্ছেদ হওয়া একক মা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য রেকর্ড সংখ্যক পাঁচবার ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল ইউ মি অউর হাম (২০০৮), উই আর ফ্যামিলি (২০১০), এবং দিলওয়ালে (২০১৫)।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি কাজল সামাজিক কর্মকান্ডেও জড়িত। তিনি বিধবা নারী এবং শিশুদের নিয়ে কাজের জন্য সুপরিচিত। এই কাজের জন্য তিনি ২০০৮ সালে কর্মবীর পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি জি টিভির রিয়েলিটি শো রক-এন-রোল অনুষ্ঠানের বিচারক এবং দেবগন এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড সফটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

জন্ম ও পরিবার[সম্পাদনা]

কাজল তার মা তনুজা (মধ্য) এবং বোন তানিশার (ডান) সাথে।

কাজল ১৯৭৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতের মুম্বইয়ে বাঙালি-মারাঠি মুখার্জী-সমর্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সমু মুখার্জী ছিলেন একজন পরিচালক ও প্রযোজক, এবং তার মাতা তনুজা সমর্থ একজন অভিনেত্রী।[১] তার পিতা সমু ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।[২] কাজলের ছোট বোন তানিশা মুখার্জীও অভিনেত্রী। তার মাসী ছিলেন অভিনেত্রী নূতন এবং তার নানী শোভনা সমর্থ ও প্র-পিতামহী ছিলেন রতন বাই। তারা সকলেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত ছিলেন। তার দুই চাচা জয় মুখার্জীদেব মুখার্জী চলচ্চিত্র প্রযোজক। তার দাদা শশধর মুখার্জী এবং নানা কুমারসেন সমর্থও চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন। কাজলের চাচাত বোন রানী মুখার্জীশ্রাবণী মুখার্জী বলিউডের অভিনেত্রী এবং চাচাত ভাই অয়ন মুখার্জী চলচ্চিত্র পরিচালক।[৩][৪][৫]

শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

কাজল পঞ্চগণির সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নৃত্যসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত কার্যক্রমে অংশ নিতেন।[৬] বিদ্যালয়ে থাকাকালীন তার কথাসাহিত্য পাঠের আগ্রহ জন্মে। এই অভ্যাস তাকে তার জীবনের দুঃসময়ে সঙ্গ দেয়।[৭] ষোল বছর বয়সে তিনি রাহুল রাওয়াইলের বেখুদি চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তার বিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময়ে ধারণকৃত চলচ্চিত্রটিতে কাজ শেষে তার বিদ্যালয়ে ফিরে আসার পরিকল্পনা ছিল। তবে তিনি দ্বাদশ শ্রেণিতে ফেল করার পর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে চলচ্চিত্রে পূর্ণকালীন কর্মজীবন শুরু করতে মনোনিবেশ করেন। পড়াশোনা শেষ না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পড়াশোনা শেষ না করলেও আমি মনে করি না যে আমি কোন অংশে কম চৌকস।"[৮]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৯২-১৯৯৬: অভিষেক ও খ্যাতি অর্জন[সম্পাদনা]

কাজলের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সতেরো বছর বয়সে ১৯৯২ সালে প্রণয়মূলক নাট্যধর্মী বেখুদি চলচ্চিত্রে আরেক অভিষিক্ত কমল সাদানাহ ও তার মা তনুজার সাথে। এই ছবিতে তার মা তার চরিত্রের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন।[৯] কাজল রাধিকা নামে এক তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করেন যে সাদানাহের চরিত্রের প্রেমে পড়ে, কিন্তু তার পিতামাতার ইচ্ছা তার অন্য একজনের সাথে বিয়ে দেওয়ার। যদিও ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়, কিন্তু কাজলের অভিনয় দৃষ্টি কাড়ে এবং তাকে পরিচালক যুগল আব্বাস-মাস্তানের রোমহর্ষক বাজীগর (১৯৯৩) চলচ্চিত্রের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হয়। ১৮২.৫ মিলিয়ন রুপী আয়কারী ছবিটি সে বছরের অন্যতম ব্যবসাসফল এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র।[১০] মার্কিন চলচ্চিত্র আ কিস বিফোর ডাইং চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত চলচ্চিত্রটিতে তিনি শাহরুখ খান, শিল্পা শেঠীসিদ্ধার্থ রায়ের সাথে অভিনয় করতে দেখা যায় এবং তিনি প্রিয়া চোপড়া নামে এক তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করেন যে তার বোনের খুনীর প্রেমে পড়ে। এটি শাহরুখ খানের সাথে তার অভিনীত অসংখ্য কাজের প্রথম কাজ।[১১]

১৯৯৪ সালে কাজল উধার কী জিন্দগী চলচ্চিত্রে জিতেন্দ্রমৌসুমী চট্টোপাধ্যায় অভিনীত চরিত্রের নাতনীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। তেলুগু চলচ্চিত্র সীতারমাইয়া গারি মানাভারালু-এর পুনর্নির্মিত চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।[১২] তবে কাজল তার অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বঙ্গ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি এরপর যশ রাজ ফিল্মসের প্রণয়মূলক নাট্যধর্মী ইয়ে দিল্লাগি ছবিতে অক্ষয় কুমারসাইফ আলি খানের সাথে অভিনয় করে আরও খ্যাতি অর্জন করেন। চলচ্চিত্রটি ১৯৫৪ সালের মার্কিন চলচ্চিত্র সাবরিনার পুনর্নির্মাণ। ছবিতে তাকে এক ভৃত্যের কন্যার চরিত্রে দেখা যায় যে মডেল হওয়ার পর দুই ভাইয়ের সাথে ত্রিভুজ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায়।[১৩] ইয়ে দিল্লাগির সফলতাকে কাজলের প্রথম আলোচিত সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তিনি এই কাজের জন্য তার প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।

২০১৪ সালে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে (১৯৯৫) চলচ্চিত্রের বিশ বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে মারাঠা মন্দিরে এক প্রদর্শনীতে সহশিল্পী শাহরুখ খানের সাথে কাজল

১৯৯৫ সালে কাজল দুটি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, সেগুলো হল রাকেশ রোশনের করন অর্জুন এবং আদিত্য চোপড়ার দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে। দুটি ছবিতেই তার বিপরীতে ছিলেন শাহরুখ খান। প্রথমটি পুনর্জন্মের গল্পে একটি নাট্যধর্মী থ্রিলার, যেখানে তিনি সোনিয়া সাক্সেনা নামক একটি পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন যে শাহরুখের চরিত্রের প্রেমে পড়ে। চলচ্চিত্রটি সে বছরে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র।[১৪] পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় সম্পর্কে তিনি বলেন, "আমি করন অর্জুন ছবিটি করেছি কারণ আমি জানতে চেয়েছিলাম কেবল অলংকার হতে কেমন লাগে। এই ছবিতে আমার সুন্দর মুখশ্রী ধরে রাখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।"[১৫] এই বছরে কাজলের পরবর্তী তিনটি কাজ - তাকত, হালচালগুন্ডারাজ বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়। শেষ দুটি ছবিতে তিনি তার ভবিষ্যৎ স্বামী অজয় দেবগনের সাথে অভিনয় করেন।[১৬]

১৯৯৫ সালে কাজল অভিনীত ও মুক্তিপ্রাপ্ত পঞ্চম চলচ্চিত্র ছিল প্রণয়ধর্মী দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে। এটি শুধু ১৯৯৫ সালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রই নয়, বরং ভারতের সর্বকালের সবচেয়ে সফল চলচ্চিত্র।[১৭][১৮] মুক্তির সময় চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী ১.২৩ বিলিয়ন আয় করে,[১৯] এবং পরবর্তী কালেও নিয়মিত মুম্বইয়ে প্রদর্শিত হতে থাকে।[২০] চলচ্চিত্রটি সমালোচনামূলক দিক থেকেও সফল হয় এবং শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ দশটি বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করে এবং কাজল লন্ডন প্রবাসী ভারতীয় তরুণী সিমরান সিং চরিত্রে তার অভিনয়ের জন্য তার প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।[২১] ২০০৫ সালে ইন্ডিয়াটাইমস মুভিজ চলচ্চিত্রটিকে "২৫টি অবশ্য দর্শনীয় বলিউড চলচ্চিত্র" তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং ছবিটি সম্পর্কে লিখে এটি "এক ধরনের নতুন ধারা সৃষ্টিকারী"।[২২] এই বছরের এক ফিরে দেখা চলচ্চিত্র পর্যালোচনায় রেডিফ.কমের রাজা সেন বলেন "কাজলকে সিমরান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চাতুর্যের সাথে নির্বাচন করা হয়, শুরুতে সিমরান হিসেবে বিনয়াভিমানী ও অনিচ্ছুক হলেও পরে তিনি আবেগ-উত্তেজনা ও বিশ্বাসপ্রবণতা দেখিয়েছিলেন।[২৩] পর্দায় তার রসায়নকে আলাদাভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি ইতোমধ্যে কিংবদন্তিতুল্য হয়ে গেছে।" ১৯৯৬ সালে কাজল বিক্রম ভাটের মারপিট-নাট্যধর্মী বাম্বাই কা বাবু ছবিতে সাইফ আলি খান ও অতুল অগ্নিহোত্রীর সাথে অভিনয় করেন। মুক্তি পর ছবিটি সমালোচনামূলকভাবে এবং বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।[২৪]

১৯৯৭-৯৮: অধিকতর সফলতা[সম্পাদনা]

১৯৯৭ সালে গুপ্ত: দ্য হিডেন ট্রুথ চলচ্চিত্রে মনোবিকৃত ধারাবাহিক খুনী ও মোহাবিষ্ট প্রেমিকা ইশা দিওয়ান চরিত্রে তার অভিনয় সমাদৃত হয় এবং এটি তার কর্মজীবনের বাঁক বদলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।[২৫] তিনি দিওয়ান চরিত্রে অভিনয় সম্পর্কে বলেন এটি তার কর্মজীবনের সবচেয়ে কঠিন চরিত্র কারণ এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা খুবই কষ্টকর।[২৬] দ্য হিন্দু-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক রাজীব রাই বলেন, "[আমি] গুপ্ত ছবিতে কাজলের বৈচিত্রপূর্ণ শিল্পীভাবকে ব্যবহার উপযোগী করেছিলাম। তার চরিত্রটি জটিল ছিল এবং তিনি ছবিটিতে এই চরিত্রায়নের বিরল কৌশলগত সূক্ষ্মতা নিয়ে এসেছেন।"[২৭] এই সাসপেন্স থ্রিলারটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন ববি দেওলমনীষা কৈরালা। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়,[২৮] এবং কাজল প্রথম অভিনেত্রী হিসেবে শ্রেষ্ঠ খল অভিনয়শিল্পী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন এবং পুরস্কৃত হন।[২৯]

তার পরবর্তী কাজ ছিল আদিত্য পঞ্চোলিসাইফ আলি খানের সাথে সঞ্জয় গুপ্তের পুনর্জন্ম বিষয়ক প্রণয়ধর্মী চলচ্চিত্র হামেশা। ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। এরপর তিনি অরবিন্দ স্বামীপ্রভু দেবার সাথে রাজীব মেননের তামিল ভাষার প্রণয়মূলক নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র মিনসারা কানাভু-এ একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী নান চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনি তামিল ভাষা জানতেন না, তাই তার স্থলে কণ্ঠ দেন তামিল অভিনেত্রী রেবতী। কাজল পরবর্তী কালে বলেন যে প্রভু দেবার সাথে নাচা কষ্টকর ছিল এবং ঠিক নাচের তালের জন্য তাকে ২০ বার পুনঃদৃশ্যধারণ ও ৩০ বার পুনরাবৃত্তি করতে হয়েছিল।[৩০] দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর পর্যালোচনায় তার কাজটি প্রশংসিত হয় এবং লেখা হয়, "কাজল তার চরিত্রের জন্য প্রশংসাসূচক স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে উপযুক্ত ছিলেন। এটি বর্তমান সময়ের অন্যতম অভিব্যক্তিপূর্ণ মুখভঙ্গী। তার পরবর্তী মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল ইন্দ্র কুমারের প্রণয়ধর্মী হাস্যরসাত্মক ইশ্‌ক। এতে তিনি আমির খান, জুহি চাওলাঅজয় দেবগনের সাথে অভিনয় করেন। তাকে এক ধনী যুবকের প্রেমে পড়া দরিদ্র তরুণীর চরিত্রে দেখা যায়। মুক্তির পর ছবিটি ব্যবসাসফল হয় এবং প্রধান চার অভিনয়শিল্পীর অভিনয় প্রশংসিত হয়।[২৮]

১৯৯৮ সালে কাজল সে বছরের তিনটি সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রে কাজ করে সমকালীন হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই বছরে তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল সোহেল খানের প্রণয়ধর্মী হাস্যরসাত্মক প্যায়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া। এতে তিনি মুসকান ঠাকুর নামে এক গ্রাম্য তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেন যে সালমান খান অভিনীত ধনী যুবকের প্রেমে পড়ে, কিন্তু তার বড় ভাই তাদের সম্পর্ক সহজে মেনে না নেওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। ছবিটির শুধু বক্স অফিসে সফলই হয়নি, এটি সমালোচকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক পর্যালোচনা অর্জন করে। এরপর তিনি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারধর্মী দুশমন চলচ্চিত্রে সঞ্জয় দত্তআশুতোষ রানার বিপরীতে যমজ বোন সোনিয়া ও নয়না সায়গল চরিত্রে দ্বৈত ভূমিকায় অভিনয় করেন। তনুজা চন্দ্র পরিচালিত ও মহেশ ভাট রচিত চলচ্চিত্রটিতে নয়নাকে তার বোনের ধর্ষণ ও খুনের প্রতিশোধ নিতে দেখা যায়। এই চলচ্চিত্রে তার কাজের জন্য কাজল সমাদৃত হন[৩১] এবং সমালোচক সুকন্যা বর্মা লিখেন, "কাজল তার সেরা ফর্মে ছিলেন, কর্মজীবন নিয়ে একগুঁয়ে ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী খুন হওয়া বোন ও তার প্রতিশোধ-পরায়ণ যমজ বোন উভয় চরিত্রে।"[৩২] বক্স অফিসে ব্যর্থ হলেও দুশমন ছবিটি বিপুল সমাদৃত হয় এবং কাজল তার প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে স্ক্রিন পুরস্কার অর্জন করেন এবং ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।

তিনি এরপর অজয় দেবগনের বিপরীতে আনিস বাজমির প্রণয়ধর্মী হাস্যরসাত্মক প্যায়ার তো হোনা হি থা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এটি ১৯৯৫ সালের মার্কিন চলচ্চিত্র ফ্রেঞ্চ কিস-এর পুনর্নির্মাণ। এই চলচ্চিত্রে তিনি সঞ্জনা চরিত্রে অভিনয় করেন, যে তার বাগদত্তার খুঁজে প্যারিস থেকে ভারত আসে, এবং অন্য একজনের (অজয় দেবগন) প্রেমে পড়েন। প্ল্যানেট বলিউড-এ এক পর্যালোচনায় লিখে, "কাজল, স্বভাবতই, সঞ্জনা চরিত্রে অসাধারণ। তিনি আড়াই ঘণ্টার এই চলচ্চিত্রে আপনাকে কাঁদাবে, উচ্চস্বরে হাসাবে, রাগান্বিত করবে এবং হাসাবে। তার অভিনয় ইংরেজি অভিনেত্রী মেগ রায়ানের মত।" চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে "সুপার হিট' হয় এবং কাজলকে এই বছরে তার দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন পাইয়ে দেয়।[৩৩]

এই বছরের তার সবচেয়ে সফল কাজ ছিল প্রণয়ধর্মী কুছ কুছ হোতা হ্যায়। এটি ছিল করণ জোহরের পরিচালনায় অভিষেক চলচ্চিত্র। শাহরুখ খান, তার চাচাতো বোন রানী মুখার্জী, এবং সালমান খানের সাথে অভিনীত চলচ্চিত্রটি ভারত ও বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন রুপী আয় করে সর্বকালের ব্লকবাস্টার খ্যাতি অর্জন করে।[৩৪][৩৫] কাজল অঞ্জলি শর্মা চরিত্রে আনন্দপ্রিয় টমবয় ও পরে পরিপূর্ণ নারী ও সুন্দরী হিসেবে রূপান্তরিত হন, যে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে (শাহরুখ খান) গোপনে ভালোবাসত। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক পর্যালোচনায় লিখে, "অঞ্জলি চরিত্রে কাজল সম্মোহনকারী... কাজল তার ঢলঢলে উপস্থিতি, বাউন্সি বব কাট, এবং তার ঠাট্টামূলক বাল্যসুলভ আচরণ এক ধরনের আস্তরণ তৈরি করে।"[৩৬] তিনি তার এই কাজের জন্য ৪৪তম ফিল্মফেয়ার পুরস্কার আয়োজনে তার দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে এবং প্রথম জি সিনে পুরস্কার আয়োজনে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন।[২১] ফিল্মফেয়ার কাজলের দুশমনকুছ কুছ হোতা হ্যায় চলচ্চিত্রের কাজকে তাদের ভারতীয় চলচ্চিত্রের "৮০টি সবচেয়ে প্রতীকী অভিনয়" তালিকায় স্থান দেয়।[৩৭]

১৯৯৯-২০০১: উত্থান-পতন ও কভি খুশি কভি গম...[সম্পাদনা]

১৯৯৯ সালে অজয় দেবগনকে বিয়ের পর কাজল প্রকাশ ঝার নাট্যধর্মী দিল ক্যায়া করে চলচ্চিত্রে অজয় ও মহিমা চৌধুরীর সাথে পার্শ্ব ভূমিকায় অভিনয় করেন। তিনি দেবগন অভিনীত অনন্ত কিশোরের জীবনে দ্বিতীয় নারী নন্দিতা রাই চরিত্রে অভিনয় করেন। ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমার এই চরিত্রের অভিনয় করতে রাজি হওয়ার একমাত্র কারণ হল এতে ধূসর ছায়া ছিল। আমি কিশোরের স্ত্রীয়ের চরিত্রটি হয়ত প্রত্যাখ্যান করতাম। কারণ আমার মনে হয়েছে তাতে আমার করার কিছু ছিল না।"[৩৮] চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর ব্যাপক নেতিবাচক পর্যালোচনা দেখা যায়। সমালোচক শর্মিলা টেলিকুলাম কাজল সম্পর্কে লিখেন যে "একমাত্র তিনিই বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন চরিত্রে কাজ করেছেন।"[৩৯] ব্যবসায়িকভাবেও চলচ্চিত্রটি ব্যর্থ হয়। তার পরবর্তী মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল সতীষ কৌশিকের নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র হাম আপকে দিল মেঁ রেহতে হ্যাঁয়। ছবিটি সমালোচনামূলক ও ব্যবসায়িকভাবে সফলতা অর্জন করে।[৪০] অনিল কাপুরের বিপরীতে তার চরিত্রের প্রতারিত স্ত্রী মেঘা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে আরেকটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। চলচ্চিত্রটি ভারতে নারী কেন্দ্রিক চলচ্চিত্র হিসেবে ব্যবসা সফলতা অর্জন করে গণমাধ্যমে বিপুল প্রচার লাভ করে। ১৯৯৯ সালের কাজলের তৃতীয় ও শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল প্রণয়মূলক নাট্যধর্মী হোতে হোতে প্যায়ার হো গয়াজ্যাকি শ্রফ, অতুল অগ্নিহোত্রীআয়েশা ঝুলকার সাথে অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি সমালোচনামূলক ও ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়।[৪১]

পরের বছর তিনি তার স্বামী অজয়ের প্রযোজনা সংস্থার রাজু চাচা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ৩০০ মিলিয়ন রুপী নির্মাণ ব্যয়ে নির্মিত শিশুতোষ চলচ্চিত্রটি সে সময়ে বলিউডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র ছিল।[৪২] মুক্তির পর চলচ্চিত্রটি নেতিবাচক পর্যালোচনা লাভ করে এবং বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।[৪৩] ২০০১ সালে কাজলের মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল রাহুল রাওয়াইলের হাস্যরসাত্মক কুছ খাট্টি কুছ মিঠি। এতে তিনি জন্মের সময়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যমজ বোন টিনা ও সুইটি খান্না চরিত্রে দ্বৈত ভূমিকায় অভিনয় করেন। এই চলচ্চিত্রটিও ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয় এবং সমালোচকদের নিকট থেকে নেতিবাচক পর্যালোচনা দেখা যায়। রেডিফ.কম-এর সাভেরা আর সোমেশ্বর এই চলচ্চিত্রে কাজলের কাজ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন এবং তার অভিনয়কে "নিষ্প্রাণ" বলে বর্ণনা করেন।[৪৪]

এই বছরের শেষভাগে তিনি করন জোহরের পারিবারিক নাট্যধর্মী কভি খুশি কভি গম... চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি ভারতে ব্লকবাস্টার এবং ২০০৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় চলচ্চিত্র ছিল।[৪৫] অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন, শাহরুখ খান, হৃতিক রোশন, ও কারিনা কাপুরের সাথে অভিনীত চলচ্চিত্রটিতে তিনি দিল্লির চাঁদনী চক এলাকার এক তরুণী পাঞ্জাবি নারী অঞ্জলি শর্মা চরিত্রে অভিনয় করেন, যে শাহরুখ খান অভিনীত ধনী রাহুল রাইচন্দের প্রেমে পড়ে এবং এ নিয়ে রাহুলের সংসারে জটিলতার সৃষ্টি হয়। কাজল চিত্রধারণকালে পাঞ্জাবি ভাষায় স্বচ্ছন্দে কথা বলতে না পারায় শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়েন। তবে তিনি প্রযোজক যশ জোহর ও তার কলাকুশলীদের সহায়তায় সঠিক উচ্চারণ রপ্ত করে নেন।[৪৬] তার হাস্যরসাত্মক-নাট্যধর্মী অভিনয় বিপুল সমাদৃত হয় এবং তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তার তৃতীয় ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ও দ্বিতীয় স্ক্রিন পুরস্কার-সহ একাধিক পুরস্কার অর্জন করেন।[২১]

তরন আদর্শ তাকে "প্রথম-সারির" বলে আখ্যায়িত করেন এবং প্রত্যাশা করেন তার পাঞ্জাবি উচ্চারণ তাকে অনেক প্রশংসিত করবে।[৪৭] দ্য হিন্দু এক পর্যালোচনায় লিখে, "কাজল তার যথাযথ সময়জ্ঞান ও সূক্ষ্ণ দীর্ঘস্থায়ী মুখাভঙ্গী দিয়ে সবর্দায় পুলকিত ছিলেন।"[৪৮][৪৯] কভি খুশি কভি গম... ছবির সফলতার পর কাজল পূর্ণ-সময় অভিনয় থেকে বিরতি নেন। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি চলচ্চিত্র ছাড়ছি না, আমি কেবল বেছে বেছে কাজ নিচ্ছি। ভাগ্যবশত আমি এমন অবস্থানে আছি যেখান থেকে আমি বাছাই ও পছন্দ করতে পারি।"[৫০] তিনি আরও বলেন চলচ্চিত্র থেকে বিরতি নেওয়ার অন্যতম কারণ হল বৈবাহিক জীবনে মনযোগ দেওয়া ও "সংসার শুরু করা"।[৫১]

২০০৬-২০১০: প্রত্যাবর্তন[সম্পাদনা]

কাজল ২০০৬ সালে আমির খানের বিপরীতে কুনাল কোহলির প্রণয়ধর্মী থ্রিলার চলচ্চিত্র ফনা দিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রত্যাবর্তন করেন। তবে তিনি ফনাকে তার প্রত্যাবর্তন বলে অস্বীকার করে বলেন, "আমি কখনো অবসর নেইনি। আমি শুধু একটু বিরতি নিয়েছি।"[৫২] বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন আয়কারী চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে ব্যাপক সফলতা অর্জন করে।[৫৩] তিনি অন্ধ কাশ্মিরী তরুণী জুনি আলি বেগ চরিত্রে অভিনয় করেন, যে অনিচ্ছাকৃতভাবে আমির খান অভিনীত একজন সন্ত্রাসীর প্রেমে পড়ে। চলচ্চিত্রটি এবং কাজলের অভিনয় বিপুল প্রশংসিত হয়। পর্যালোচক সুদিশ কমত বলেন কাজল "এই চলচ্চিত্রটি দেখার একমাত্র কারণ" এবং আরও বলেন, "কাজল এমনভাবে অভিনয় করেছেন যে তিনি পর্দা থেকে কখনোই বিরতি নেননি এবং তার উপস্থিতি দিয়ে চলচ্চিত্রটিকে উজ্জীবিত করেছেন।"[৫৪] ব্লুমবার্গ-এর এক পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয় যে, "কাজল এখনো সহজাতভাবে পর্দাকে আলোকিত করার ক্ষমতা রয়েছে, এবং তিনি আমির খানের পদ্ধতিগত দক্ষতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ গুটিকয়েক প্রধান অভিনেত্রীদের একজন।"[৫৫] ফনা চলচ্চিত্রে তার কাজের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তার চতুর্থ ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং দ্বিতীয় জি সিনে পুরস্কার অর্জন করেন।[২১]

কাজল ২০১০ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে করণ জোহরের মাই নেম ইজ খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা পরবর্তী মার্কিন মুসলমানদের উপর জাতিগত বিদ্বেষ ও বৈষম্য নিয়ে নির্মিত সন্ত্রাস-বিরোধী নাট্য চলচ্চিত্র।[৫৬] চলচ্চিত্রটি ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুক্তি পায় এবং বিপুল ইতিবাচক পর্যালোচনা লাভ করে। এছাড়া চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে।[৫৭] কাজল তালাকপ্রাপ্ত হিন্দু একক মাতা মন্দিরা চরিত্রে অভিনয় করেন, যে একজন মুসলমান স্নায়ুবিক প্রতিবন্ধী লোককে বিয়ে করে। সমালোচকগণ তার অভিনয়ের প্রশংসা করেন; রাজিব মসন্দ বলেন, "কাজল রিজওয়ানের গল্পে অনুভূতির গভীরতা নিয়ে আসেন, মন্দিরা চরিত্রে তিনি পছন্দ করার মত, যে তার চোখ অনুভূতি জ্ঞাপন করে।"[৫৮] এই কাজের জন্য কাজল শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তার পঞ্চম ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন, ফলে তিনি তার প্রয়াত মাসী নূতনের সাথে যৌথভাবে এই বিভাগে সর্বোচ্চ পুরস্কার বিজয়ী।[২১]

২০১৫-বর্তমান: দিলওয়ালে ও অন্যান্য[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে দিলওয়ালে ছবির শুটিংয়ে কাজল ও শাহরুখ খান।

পাঁচ বছর পর্দায় অনুপস্থিত থাকার পর কাজল সতেরতম বারের মত শাহরুখ খানের বিপরীতে প্রণয়ধর্মী হাস্যরসাত্মক দিলওয়ালে (২০১৫) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।[৫৯] রোহিত শেঠী পরিচালিত ছবিটিতে আরও অভিনয় করেন বরুণ ধবনকৃতি শ্যানন। এই ছবিতে কাজল মাফিয়া ডনের কন্যা মীরা দেব মালিক চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি তার বিরোধী পরিবারের একজন সদস্যের প্রেমে পড়েন। সামগ্রিকভাবে চলচ্চিত্রটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লাভ করে, এবং কাজলের অভিনয় মিশ্র থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লাভ করে। ইন্ডিয়া টুডে-র সুহানী সিং লিখেন, "পর্দায় কাজলের উজ্জ্বল উপস্থিতি এবং তার কাছ থেকে যা আশা করা হয়েছিল - তা যথেষ্ট নয়।"[৬০] নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও দিলওয়ালে ছবিটি বক্স অফিসে সফলতা অর্জন করে এবং বিশ্বব্যাপী ৩৭২ কোটি রুপি আয় করে বলিউডের সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী তালিকায় প্রবেশ করে।[৬১] কাজল তার অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারস্ক্রিন পুরস্কার সহ একাধিক পুরস্কার আয়োজনে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে মনোনীত হন।[৬২]

পর্দার বাইরের কাজ[সম্পাদনা]

ব্যবস্থাপক[সম্পাদনা]

১৯৯৯ সালে অজয় দেবগণের সিনেমা প্রোডাকশন কোম্পানি দেবগন ফিল্মস (বর্তমানে দেবগন এন্টারটেইনমেন্ট এবং সফটওয়্যার লিমিটেড নামে পরিচিত)[৬৩]) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, কাজল নবগঠিত প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট তৈরিতে কাজ করেন। ২০০০ সালে তিনি সিনেএক্সপ্লোর নামে একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

২০১৩ সালে স্বামী অজয় দেবগনের সাথে কাজল

১৯৯৪ সালে গুন্ডারাজ চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণকালে কাজল ও তার সহশিল্পী অজয় দেবগনের প্রেমের সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটে।[৬৪] গণমাধ্যমের সদস্যরা তাদের বিপরীত ব্যক্তিত্বের জন্য তাদেরকে "দুর্ভাগা যুগল" বলে অভিহিত করে।[৬৫] দেবগন তাদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলেন, "আমরা কখনো "আমি তোমাকে ভালোবাসি" এই নিত্যনৈমিত্তিক কাজের আশ্রয় নেইনি। কখনো প্রেমের প্রস্তাবই দেওয়া হয়নি। আমরা একে অপরের জন্য গড়েছি। বিবাহ নিয়েও আলোচনা হয়নি, কিন্তু তা সবসময় সমুপস্থিত ছিল।"[৬৬] তারা ১৯৯৯ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি দেবগনের বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী মহারাষ্ট্রীয় পদ্ধতিতে এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।[৬৭] তাদের বিবাহও গণমাধ্যমের ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছিল, গণমাধ্যমের অনেক সদস্যই কাজলের কর্মজীবনের শীর্ষে অবস্থানকালীন তার বিবাহের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।[৬৮] কাজল আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে তিনি চলচ্চিত্র ছাড়বেন না, কিন্তু কাজের পরিমাণ কমিয়ে দিবেন।[৫০][৬৯]

২০০১ সালে কাজল অন্তঃসত্ত্বা হন, কিন্তু গর্ভকালীন জটিলতার কারণে তার গর্ভপাত ঘটে।[৭০] ২০০৩ সালের ২০শে এপ্রিল কাজল এক কন্যার জন্ম দেন, তার নাম রাখা হয় নিসা।[৭১] সাত বছর পর ২০১০ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর তার দ্বিতীয় সন্তান যুগের জন্ম হয়।[৭২] তিনি মাতৃত্বকে "চমৎকার" বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে তার সন্তানেরা "তার সেরাটা" নিয়ে এসেছে।[৭৩]

পুরস্কার ও মনোনয়ন[সম্পাদনা]

কাজল ছয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন, তন্মধ্যে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে (১৯৯৫), কুছ কুছ হোতা হ্যায় (১৯৯৮), কভি খুশি কভি গম... (২০০১), ফনা (২০০৬) এবং মাই নেম ইজ খান (২০১০) চলচ্চিত্রের জন্য পাঁচটি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে এবং গুপ্ত: দ্য হিডেন ট্রুথ (১৯৯৭) চলচ্চিত্রের জন্য একটি শ্রেষ্ঠ খল অভিনয়শিল্পী বিভাগে। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি ২০১১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত চতুর্থ সর্বোচ্চ ভারতীয় বেসামরিক সম্মননা পদ্মশ্রীতে ভূষিত হন।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. R. Rahman A.K. Thakur (১ জানুয়ারি ২০০৯)। Women Entrepreneurship। Deep & Deep Publications। পৃষ্ঠা 109। আইএসবিএন 978-81-8450-165-0। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  2. "Kajol's father passed away"ইন্ডিয়াএফএম। ১০ এপ্রিল ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  3. Varma, Anuradha (১৪ জুন ২০০৯)। "In Bollywood, everyone's related!"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  4. "Kajol, Rani come together"এনডিটিভি। ১২ অক্টোবর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. "Waking up Ayan"মিড ডে। ১২ আগস্ট ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  6. "When Kajol was head girl" (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ.কম। ২২ আগস্ট ২০০৭। ৭ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  7. "Kajol shoots for a short film on education and literacydate=19 April 2012"মিড ডে (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  8. বামজাই, কাভেরি (২২ মে ২০০৬)। "Return of the natural"ইন্ডিয়া টুডে (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  9. দবর, রমেশ (১ জানুয়ারি ২০০৬)। Bollywood Yesterday-Today-Tomorrow (ইংরেজি ভাষায়)। স্টার পাবলিকেশন। পৃষ্ঠা ৬২। আইএসবিএন 978-1-905863-01-3। ৩ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  10. "You, me aur Kajol"দ্য হিন্দু (ইংরেজি ভাষায়)। বলিউড নিউজ সার্ভিস। ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। ২৯ আগস্ট ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  11. বসুদেবন, রবি (২০০০)। Making meaning in Indian cinema (ইংরেজি ভাষায়)। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। পৃষ্ঠা ২৫৬। আইএসবিএন 978-0-19-564545-3। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  12. "Box Office 1994" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ৩০ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  13. ম্যাকনেলি, ক্যারেন (১৬ ডিসেম্বর ২০১০)। Billy Wilder, Movie-Maker: Critical Essays on the Films (ইংরেজি ভাষায়)। ম্যাকফারল্যান্ড। পৃষ্ঠা ২১৬। আইএসবিএন 978-0-7864-4211-9। ২৭ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  14. "Box Office 1995" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ৩০ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  15. এডওয়ার্ডস, এলিজাবেথ; ভৌমিক, কৌশিক (১৫ ডিসেম্বর ২০০৮)। Visual Sense: A Cultural Reader (ইংরেজি ভাষায়)। বার্গ। পৃষ্ঠা ১৩৪। আইএসবিএন 978-1-84520-740-3। ২৭ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  16. "Gundaraj: B'day Bumps: Kajol turns 35" (ইংরেজি ভাষায়)। আইবিএন লাইভ। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  17. "All Time Earners Inflation Adjusted (Figures in Ind Rs)" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ১২ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  18. গন্তি, তেজস্বিনী (২৪ আগস্ট ২০০৪)। Bollywood: A Guidebook To Popular Hindi Cinema (ইংরেজি ভাষায়)। রুটলেজ। পৃষ্ঠা ১৬৯–১৭০। আইএসবিএন 978-0-415-28853-8। ২৭ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  19. "Top Lifetime Grossers Worldwide" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ২২ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  20. "´DDLJ´ Enters The Twelfth Year at the Theaters!" (ইংরেজি ভাষায়)। প্ল্যানেট বলিউড। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  21. "Kajol: Awards & Nominations" (ইংরেজি ভাষায়)। বলিউড হাঙ্গামা। ৪ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  22. কানওয়ার, রচনা (৩ অক্টোবর ২০০৫)। "25 Must See Bollywood Movies"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  23. সেন, রাজা (১৩ মে ২০০৫)। "DDLJ: Ten years, everybody cheers" (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ.কম। ৩০ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  24. "Box Office 1996" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ২৫ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 
  25. চৌধুরী, শান্তনু রায়; নায়েক, প্রশান্ত কুমার (২০০৫)। Icons from Bollywood (ইংরেজি ভাষায়)। পাফিন বুকস। পৃষ্ঠা ১৫৫। ১৯ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৯ 
  26. চৌধুরী, অনুরাধা (মার্চ ২০০০)। "Filmfare -Print Edition: Interview — Kajol" (ইংরেজি ভাষায়)। ফিল্মফেয়ার। ২৫ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  27. রাজেন্দ্রন, গিরিজা (১৭ আগস্ট ২০০১)। "A complete change of scene"দ্য হিন্দু (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৯ 
  28. "Box Office 1997" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ১১ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৯ 
  29. "The life and times of Kajol" (ইংরেজি ভাষায়)। এনডিটিভি। ২৯ জুলাই ২০০৯। ১২ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৯ 
  30. "Movies: An interview with Kajol, actress on the ascendant" (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ.কম। ৪ এপ্রিল ১৯৯৭। ২ জুন ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৯ 
  31. গন্তি, তেজস্বিনী (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২)। Producing Bollywood: Inside the Contemporary Hindi Film Industry (ইংরেজি ভাষায়)। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। পৃষ্ঠা 210–211। আইএসবিএন 978-0-8223-5213-6। ২৭ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৯ 
  32. বর্ম, সুকন্যা (৪ জুন ১৯৯৮)। "Amazon as avenger" (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ.কম। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৯ 
  33. "Box Office 1998" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ২২ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  34. "Top Lifetime Grossers Worldwide" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ২২ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  35. "Overseas Earnings (Figures in Ind Rs)" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  36. কাজমি, নিখত (১৯৯৮)। "Friendship or Love"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। ২ মে ১৯৯৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  37. "Filmfare – 80 Iconic Performances 9/10"ফিল্মফেয়ার (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ জুন ২০১০। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  38. চৌধুরী, অনুরাধা (মার্চ ২০০০)। "Filmfare -Print Edition: Interview — Kajol" (ইংরেজি ভাষায়)। ফিল্মফেয়ার। ২৫ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  39. টেলিকুলাম, শর্মিলা (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯)। "Dil Kya Kare review" (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ.কম। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  40. "Box Office 1999" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ৮ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  41. গুপ্তা, শুভ্রা (২১ মার্চ ২০০৮)। "Show me the money"দ্য হিন্দু (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  42. "Raju Chacha may be most expensive Bollywood film ever" (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ.কম। ৮ নভেম্বর ২০০০। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  43. "Box Office 2000" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ৩০ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  44. সোমেশ্বর, সাভেরা আর. (১৯ জানুয়ারি ২০০১)। "Amazon as avenger" (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ.কম। ১২ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  45. "Box Office 2001" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ২২ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  46. "Filmfare — Print Edition: Best Actress (Kajol)" (ইংরেজি ভাষায়)। ফিল্মফেয়ার। এপ্রিল ২০০২। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  47. আদর্শ, তরন (১১ ডিসেম্বর ২০০১)। "Kabhi Khushi Kabhie Gham review" (ইংরেজি ভাষায়)। ইন্ডিয়া এফএম। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  48. উস সালাম, জিয়া (২১ ডিসেম্বর ২০০১)। "Kabhi Khushi Kabhie Gham"দ্য হিন্দু (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ নভেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  49. চ্যাটার্জি, শৈবাল (১২ ফেব্রুয়ারি ২০০২)। "Kabhi Khushi Kabhie Gham"হিন্দুস্তান টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  50. প্রতাপ-শাহ, মনীষা (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০২)। "Getting candid with Kajol!"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  51. "Filmfare -Print Edition: Gimme Gold"ফিল্মফেয়ার (ইংরেজি ভাষায়)। নভেম্বর ২০০১। ৯ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  52. "Kajol reveals all"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ অক্টোবর ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  53. "Top Lifetime Grossers Worldwide" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ২২ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  54. কমত, সুদিশ (২ জুন ২০০৬)। "Absolute non-starter — Fanaa"দ্য হিন্দু (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  55. মহিদিন, নাবিল (২৯ মে ২০০৬)। "Aamir Khan and Kajol Bring Sparkle to 'Fanaa': Bollywood Review" (ইংরেজি ভাষায়)। ব্লুমবার্গ। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  56. গন্তি, তেজস্বিনী (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২)। Producing Bollywood: Inside the Contemporary Hindi Film Industry (ইংরেজি ভাষায়)। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। পৃষ্ঠা 360। আইএসবিএন 978-0-8223-5213-6। ২৭ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  57. "Top Worldwide Grossers ALL TIME: 37 Films Hit 100 Crore" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস ইন্ডিয়া। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  58. "Review: My Name Is Khan is inherently sincere — Movies News News — IBNLive" (ইংরেজি ভাষায়)। আইবিএন লাইভ। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১০। ১৫ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  59. "আসছে শাহরুখ-কাজলের 'দিলওয়ালে'"দৈনিক জনকন্ঠ। ১৯ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  60. সিং, সুহানী (১৮ ডিসেম্বর ২০১৫)। "Dilwale review: The film struggles to make its way into the audience's hearts"ইন্ডিয়া টুডে (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  61. "Top Worldwide Grossers All Time"বক্স অফিস ইন্ডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  62. "Nominations for the 61st Britannia Filmfare Awards"ফিল্মফেয়ার (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  63. Lalwani, Vickey (৩১ অক্টোবর ২০১১)। "Ajay Devgn and Kumar Mangat at loggerheads"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১২ 
  64. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; বামজাই-২০০৬ নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  65. "The Happiest Marriages in Bollywood" (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ.কম। ২৩ মার্চ ২০১১। ২ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  66. "Bonding of the bubbly belle & the brooder"দ্য ট্রিবিউন (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ এপ্রিল ২০০৩। ১৪ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  67. Srnivasan, V.S. (২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯)। "Quietly were they wed" (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ.কম। ৮ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  68. ভট্টাচার্য, রশমিলা (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০)। "Kajol, Ajay the perfect couple"হিন্দুস্তান টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  69. গুপ্তা, রাখী (২২ ফেব্রুয়ারি ২০০১)। "Kajol decides to 'phase out'"দ্য ট্রিবিউন (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  70. "Kajol back home after miscarriage"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ ডিসেম্বর ২০০১। ৯ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  71. "Kajol delivers baby girl"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ এপ্রিল ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  72. "Kajol, Ajay welcome baby boy"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  73. "Mums, listen to your kids!"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ মে ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]