শোভা নাইডু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শোভা নাইডু
জন্ম১৯৬২ (বয়স ৫৮–৫৯)
পেশাভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্য
পুরস্কারপদ্মশ্রী (২০০১)
ওয়েবসাইটsobhanaidu.org

শোভা নাইডু ভারতের শীর্ষস্থানীয় কুচিপুড়ি নর্তকীদের মধ্যে অন্যতম একজন এবং কুচিপুড়ি নৃত্যের প্রখ্যাত গুরু ভেমপতি চিন্না সত্যমের একজন অসাধারণ শিষ্যা। তিনি খুব অল্প বয়স থেকেই কুচিপুড়ির কৌশলটি আয়ত্ত আনতে সক্ষম হন এবং নৃত্যনাট্যে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা শুরু করেন। তিনি তাঁর গুরুর দলভুক্ত হয়ে সত্যভামা ও পদ্মাবতীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও তিনি একজন চমৎকার একক নর্তকী। হায়দরাবাদের কুচিপুড়ি আর্ট একাডেমির অধ্যক্ষ, শোভা নাইডু, গত কয়েক বছর ধরে অল্প বয়স্ক শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন।[১] ২০১০ সালে, স্কুলটির ৩০ বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে। তিনি বেশ কয়েকটি নৃত্যনাট্যে নৃত্য পরিকল্পনা করেছেন। তিনি মাদ্রাজের কৃষ্ণ গণ সভা থেকে নৃত্য চুড়ামণির উপাধি লাভ করেন।

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

শোভা নাইডু ১৯৫৬ সালে অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের বিশাখাপত্তনম জেলার আনাকাপাল্লেতে জন্মগ্রহণ করেন।[২] তিনি চেন্নাইয়ে অবস্থান করে কুচিপুড়িতে প্রশিক্ষণ অর্জনের পাশাপাশি কুইন মেরি'র কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন।[৩]

তাঁর বাবা ছিলেন একজন প্রকৌশলী। তিনি চাইতেন তাঁর কন্যা বড় হয়ে হাসপাতালের ডাক্তার হোক। তবে শোভার স্বপ্ন ছিল নৃত্যকে ঘিরে। তাঁর মা বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং পারিবারিক বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর মা সরোজিনী দেবী রাজমহেন্দ্রবরমে পি.এল রেড্ডির অধীনে তাকে শিক্ষিত করে তোলেন। এরপরে তিনি কিংবদন্তি শ্রী ভেম্পতি চিন্না সত্যমের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন।[৩] তিনি ভেম্পতির একজন অসাধারণ ছাত্রী ছিলেন।[২]

পুরষ্কার এবং অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

১২ বছরের কঠোর সাধনায় তাঁর সেরা চরিত্রসমূহের ঝুলিতে রয়েছে সত্যভামা, পদ্মাবতী এবং চণ্ডালিকার প্রতিকৃতি। এছাড়াও তিনি ৮০ টি একক নৃত্য ও ১৫ টি ব্যালে নৃত্য পরিকল্পনা করেছেন এবং ভারত ও বিদেশের ১৫০০ এরও বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন।[৪]

নাইডু কেবল তাঁর নিজ দেশে নয়, বরং সারা বিশ্বজুড়েই তাঁর নৃত্যের জন্য প্রশংসিত। টানা (TANA) কর্তৃক আয়োজিত ট্যুরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেন ও অভিনয় করেন। তিনি যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন, সিরিয়া, তুরস্ক, হংকং, বাগদাদ, কাম্পুচিয়া এবং ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। পশ্চিম এশিয়া সফর শেষে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নাইডু ওয়েস্ট ইন্ডিজ, মেক্সিকো, ভেনেজুয়েলা, তিউনিস (তিউনিসিয়ার রাজধানী) এবং কিউবা গমন করেন যেখানে তিনি একটি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন।[১]

  • ২০০১ সালে পদ্মশ্রী পুরষ্কার [৫]
  • ১৯৮২ সালে নৃত্য চুড়ামণি পুরষ্কার [২]
  • ১৯৯১ সালে কুচিপুড়ি নৃত্যে অবদানের জন্য তিনি সংগীত নাটক আকাদেমি পুরষ্কার পান
  • ১৯৯৬ সালে নৃত্য কালা শিরোমণি পুরষ্কার
  • ১৯৯৮ সালে প্রয়াত শ্রী এন টি রমা রাও পুরষ্কার
  • এপি রাজ্য সরকার হামসা পুরষ্কার

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "I explained it when I danced it"। sobhanaidu.org। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৭ 
  2. "Shobha Naidu Success Story"। mahilalu.com। ২৯ জানু ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৭ 
  3. "Personalities: Sobha Naidu"। Andhra Portal। ১৬ মে ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৭ 
  4. "Dancer with a difference"। Deccan Herald। ২৯ এপ্রিল ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৭ 
  5. "Padma Awards" (PDF)। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]