কাজল দেবগন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
কাজল দেবগন
Kajol promotes her film VIP2 in Delhi.jpg
২০১৭ সালে কাজল
জন্ম কাজল মুখার্জী
(১৯৭৪-০৮-০৫) ৫ আগস্ট ১৯৭৪ (বয়স ৪৪)
মুম্বই, মহারাষ্ট্র, ভারত
পেশা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
কার্যকাল ১৯৯২–২০০১, ২০০৬–বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গী অজয় দেবগন (১৯৯৯–বর্তমান)
সন্তান
পিতা-মাতা সমু মুখার্জী (পিতা)
তনুজা (মাতা)
পুরস্কার পূর্ণ তালিকা

কাজল দেবগন (হিন্দি: काजोल देवगन, জন্ম: কাজল মুখার্জী; আগস্ট ৫, ১৯৭৪) একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তিনি কাজল নামেই সমধিক পরিচিত। ভারতের মুম্বই শহরে জন্ম নেওয়া কাজল পরিচালক সমু মুখার্জী ও অভিনেত্রী তনুজা দম্পতির কন্যা, এবং অভিনেতা অজয় দেবগনের স্ত্রী। কাজল ভারতের অন্যতম সফল এবং সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী। তিনি তার কর্মজীবনে বারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার মনোনয়নের মধ্যে ছয়টি পুরস্কার জয় লাভ করেছেন। তার মাসী নূতনের সাথে যৌথভাবে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচবার ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার বিজয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছেন। ২০১১ সালে ভারত সরকার তাকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ সম্মানিত পুরস্কার পদ্মশ্রীতে ভূষিত করেন।

কাজলের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৯২ সালে তার মায়ের সাথে রোম্যান্টিক বেখুদি চলচ্চিত্রে। তার প্রথম বাণিজ্যিক সফল চলচ্চিত্র হল থ্রিলারধর্মী বাজীগর (১৯৯৩)। নব্বইয়ের দশকে তিনি ভারতের পাঁচটি সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিসমূহ হল - ইয়ে দিল্লাগি (১৯৯৪), ইশ্‌ক (১৯৯৭), প্যার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া (১৯৯৮), প্যার তো হোনা হি থা (১৯৯৮), এবং হাম আপকে দিল মে রেহতে হেঁ (১৯৯৯)। ১৯৯৭ সালে রহস্য চলচ্চিত্র গুপ্ত: দ্য হিডেন ট্রুথ এবং ১৯৯৮ সালে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার দুশমন তাকে খ্যাতি এনে দেয়। গুপ্ত: দ্য হিডেন ট্রুথ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ খলনায়ক পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে রোম্যান্টিক দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে ছবিতে রক্ষণশীল ভারতীয় পরিবারের কন্যা, ১৯৯৮ সালে রোম্যান্টিক-নাট্যধর্মী কুচ কুচ হোতা হ্যায় ছবিতে প্রথমে বালকসুলভ চেহারা ও পরে আদর্শ ভারতীয় নারী চরিত্রে, ২০০১ সালে পারিবারিক-নাট্যধর্মী কভি খুশি কভি গম... ছবিতে নিম্ন মধ্যবিত্ত পাঞ্জাবি নারী, ২০০৬ সালে ফনা ছবিতে অন্ধ কাশ্মিরি নারী, এবং ২০১০ সালে মাই নেম ইজ খান ছবিতে বিচ্ছেদ হওয়া একক মা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য রেকর্ড সংখ্যক পাঁচবার ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল ইউ মি অউর হাম (২০০৮), উই আর ফ্যামিলি (২০১০), এবং দিলওয়ালে (২০১৫)।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি কাজল সামাজিক কর্মকান্ডেও জড়িত। তিনি বিধবা নারী এবং শিশুদের নিয়ে কাজের জন্য সুপরিচিত। এই কাজের জন্য তিনি ২০০৮ সালে কর্মবীর পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি জি টিভির রিয়েলিটি শো রক-এন-রোল অনুষ্ঠানের বিচারক এবং দেবগন এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড সফটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

কাজল তার মা তনুজা (মধ্য) এবং বোন তানিশার (ডান) সাথে।

কাজল ১৯৭৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতের মুম্বইয়ে বাঙালি-মারাঠি মুখার্জী-সমর্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সমু মুখার্জী ছিলেন একজন পরিচালক ও প্রযোজক, এবং তার মাতা তনুজা সমর্থ একজন অভিনেত্রী।[১] তার পিতা সমু ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।[২] কাজলের ছোট বোন তানিশা মুখার্জীও অভিনেত্রী। তার মাসী ছিলেন অভিনেত্রী নূতন এবং তার নানী শোভনা সমর্থ ও প্র-পিতামহী ছিলেন রতন বাই। তারা সকলেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত ছিলেন। তার দুই চাচা জয় মুখার্জীদেব মুখার্জী চলচ্চিত্র প্রযোজক। তার দাদা শশধর মুখার্জী এবং নানা কুমারসেন সমর্থও চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন। কাজলের চাচাত বোন রাণী মুখার্জীশ্রাবণী মুখার্জী বলিউডের অভিনেত্রী এবং চাচাত ভাই অয়ন মুখার্জী চলচ্চিত্র পরিচালক।[৩][৪][৫]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে দিলওয়ালে ছবির শুটিংয়ে কাজল ও শাহরুখ খান।

পাঁচ বছর পর্দায় অনুপস্থিত থাকার পর কাজল সতেরতম বারের মত শাহরুখ খানের বিপরীতে প্রণয়ধর্মী হাস্যরসাত্মক দিলওয়ালে (২০১৫) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।[৬] রোহিত শেট্টি পরিচালিত ছবিটিতে আরও অভিনয় করেন বরুণ ধবনকৃতি শ্যানন। এই ছবিতে কাজল মাফিয়া ডনের কন্যা মীরা দেব মালিক চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি তার বিরোধী পরিবারের একজন সদস্যের প্রেমে পড়েন। সামগ্রিকভাবে চলচ্চিত্রটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লাভ করে, এবং কাজলের অভিনয় মিশ্র থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লাভ করে। ইন্ডিয়া টুডে-র সুহানী সিং লিখেন, "পর্দায় কাজলের উজ্জ্বল উপস্থিতি এবং তার কাছ থেকে যা আশা করা হয়েছিল - তা যথেষ্ট নয়।"[৭] নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও দিলওয়ালে ছবিটি বক্স অফিসে সফলতা অর্জন করে এবং বিশ্বব্যাপী ৩৭২ কোটি রুপি আয় করে বলিউডের সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী তালিকায় প্রবেশ করে।[৮] কাজল তার অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারস্ক্রিন পুরস্কার সহ একাধিক পুরস্কার আয়োজনে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে মনোনীত হন।[৯]


পর্দার বাইরের কাজ[সম্পাদনা]

ব্যবস্থাপক[সম্পাদনা]

১৯৯৯ সালে অজয় দেবগণের সিনেমা প্রোডাকশন কোম্পানি দেবগন ফিল্মস (বর্তমানে দেবগন এন্টারটেইনমেন্ট এবং সফটওয়্যার লিমিটেড নামে পরিচিত)[১০]) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, কাজল নবগঠিত প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট তৈরিতে কাজ করেন। ২০০০ সালে তিনি সিনেএক্সপ্লোর নামে একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করেন।

নির্বাচিত চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

বছর চলচ্চিত্র ভূমিকা টীকা
২০১৫ দিলওয়ালে মীরা দেব মালিক
২০১০ মাই নেম ইজ খান মন্দিরা খান বিজয়ী: ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার
২০০৬ কভি আলবিদা না কেহনা "রক অ্যান্ড রোল" গানে অতিথি চরিত্রে
২০০৬ ফনা জুনি আলী বেগম বিজয়ী: ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার
২০০৩ কাল হো না হো "মাহি ভে" গানে অতিথি চরিত্রে
২০০১ কভি খুশি কভি গম... অঞ্জলি শর্মা রায়চন্দ বিজয়ী: ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার
২০০১ কুচ খাট্টি কুচ মিঠঠি টিনা/সুইটি খান্না
২০০০ রাজু চাচা অ্যানা
১৯৯৯ হোতে হোতে প্যার হো গ্যায়া পিঙ্কি
১৯৯৯ হাম আপকে দিল মে রেহতে হেঁ মেঘা বিজয়ী: ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার
১৯৯৯ দিল ক্যায়া করে নন্দিতা রায়
১৯৯৮ কুচ কুচ হোতা হ্যায় অঞ্জলি শর্মা বিজয়ী: ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার
১৯৯৮ দুশমন সোনিয়া/নয়না সেহগল মনোনীত: ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার
১৯৯৮ ডুপ্লিকেট অতিথি চরিত্রে
১৯৯৮ প্যার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া মুসকান ঠাকুর মনোনীত: ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার
১৯৯৮ প্যার তো হোনা হি থা সঞ্জনা
১৯৯৭ ইশ্‌ক কাজল
১৯৯৭ মিন্সারা কানাভু প্রিয়া তামিল চলচ্চিত্র (হিন্দি সংস্করণ স্বপ্নে)
বিজয়ী: ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার দক্ষিণ
১৯৯৭ গুপ্ত: দি হিডেন ট্রুথ ইশা দিওয়ান বিজয়ী: ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ খলনায়ক পুরস্কার
১৯৯৭ হামেশা রানী শর্মা/রেশমা
১৯৯৬ বাম্বাই কা বাবু নেহা
১৯৯৫ দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে সিমরান সিং বিজয়ী: ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার
১৯৯৫ গুন্ডারাজ ঋতু
১৯৯৫ তাকাত কবিতা
১৯৯৫ করন অর্জুন সোনিয়া সাক্সেনা
১৯৯৪ ইয়ে দিল্লাগি স্বপ্না মনোনীত: ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার
১৯৯৪ উধার কি জিন্দগী সীতা
১৯৯৩ বাজীগর প্রিয়া চোপড়া
১৯৯২ বেখুদি রাধিকা

পুরস্কার ও মনোনয়ন[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. R. Rahman A.K. Thakur (১ জানুয়ারি ২০০৯)। Women Entrepreneurship। Deep & Deep Publications। পৃষ্ঠা 109। আইএসবিএন 978-81-8450-165-0। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  2. "Kajol's father passed away"ইন্ডিয়াএফএম। ১০ এপ্রিল ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  3. Varma, Anuradha (১৪ জুন ২০০৯)। "In Bollywood, everyone's related!"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  4. "Kajol, Rani come together"এনডিটিভি। ১২ অক্টোবর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  5. "Waking up Ayan"মিড ডে। ১২ আগস্ট ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  6. "আসছে শাহরুখ-কাজলের 'দিলওয়ালে'"দৈনিক জনকন্ঠ। ১৯ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  7. সিং, সুহানী (১৮ ডিসেম্বর ২০১৫)। "Dilwale review: The film struggles to make its way into the audience's hearts"ইন্ডিয়া টুডে (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  8. "Top Worldwide Grossers All Time"বক্স অফিস ইন্ডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  9. "Nominations for the 61st Britannia Filmfare Awards"ফিল্মফেয়ার (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  10. Lalwani, Vickey (৩১ অক্টোবর ২০১১)। "Ajay Devgn and Kumar Mangat at loggerheads"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]