বীণা রায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বীণা রায়
Bina Rai in Aurat.jpg
আওরত ছবিতে বীণা রায়
জন্ম
কৃষ্ণ সরিন

(১৯৩১-০৭-১৩)১৩ জুলাই ১৯৩১
মৃত্যু৬ ডিসেম্বর ২০০৯(2009-12-06) (বয়স ৭৮)
অন্যান্য নামবীনা রায়
পেশাঅভিনেত্রী
কর্মজীবন১৯৫০–১৯৯১
দাম্পত্য সঙ্গীপ্রেম নাথ
সন্তান

বীণা রায় (হিন্দি: बीना राय; ১৩ জুলাই ১৯৩১ - ৬ ডিসেম্বর ২০০৯) ওরফে "বীনা রায়" ছিলেন একজন ভারতীয় অভিনেত্রী, মূলত তিনি হিন্দি সিনেমার সাদা-কালো যুগের অভিনেত্রী ছিলেন। তিনি তার হাসির জন্য বিখ্যাত ছিলেন।[২] তিনি আনারকলি (১৯৫৩) এবং তাজমহল (১৯৬৩) এর মতো ধ্রুপদী চরিত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন এবং ঘোঙ্গঘাট (১৯৬০) ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

বীণা রায় এর জন্মের সময় নাম ছিল কৃষ্ণ সরিন, জন্ম ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে। ১৯৩১ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় তার পরিবার লাহোর থেকে উত্তর প্রদেশে চলে আসে। তিনি লাহোরের স্কুলে পড়েন এবং তারপরে ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউয়ের আইটি কলেজে পড়েন। বীণা রায় অভিনয়ের জন্য চলে না আসা পর্যন্ত কানপুরে বাস করতেন। ছবিতে অভিনয় করার অনুমতি দেওয়ার জন্য তাকে তার পিতামাতাকে বোঝাতে হয়েছিল, তিনি দাবি করেন যে তিনি তার নিমরাজি পিতামাতাকে তার চলচ্চিত্রে যোগদানের ব্যপারে রাজি করানোর জন্য অনশন পর্যন্ত করেছেন এবং অবশেষে তারা এতে নরম হন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

বীণা রায় ১৯৫০ সালে যখন লখনউয়ের ইসাবেলা থোবার্ন কলেজের আর্টসের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন, তখন তিনি একটি প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার বিজ্ঞাপন দেখে তিনি আবেদন করেন এবং স্পনসরদের কাছ থেকেে এতে ডাক পান। যদিও তিনি কলেজ নাটকে সক্রিয় ছিলেন,  তবে চলচ্চিত্রে কর্ম জীবন গড়ে তুলবেন তা কখনও তার ভাবনায় ছিল না। সে যাই হোক, তিনি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বোম্বাই যান, সেখানে তিনি জয় লাভ করেন এবং পুরস্কার হিসেবে ২৫,০০০ টাকা লাভ করেন, কিশোর সাহুর কালী ঘাটা (১৯৫১) চলচ্চিত্রে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রের অভিষেক ঘটে এবং এতে কিশোর সাহু প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।[৩][৪][৫]

প্রকৃতপক্ষে বীণা রায়ের জন্ম ১৯২১ সালের ১৩ জুলাই, এবং তিনি তাঁর প্রথম ছবিতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন ১৩ জুলাই ১৯৫০ সালে, ছবির নাম ছিল কালী ঘাটা। তার প্রথম ছবিটি ১৯৫২ সালের ১৩ জুলাই মুক্তি পায় এই এই খুশির দিনেই প্রেম নাথের সাথে তার বাগ্দান হয়। ১৯৫২ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি অভিনেতা প্রেম নাথকে বিয়ে করেন, যার বোন কৃষ্ণা অভিনেতা-পরিচালক রাজ কাপুরের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং কাপুর পরিবারের অংশ ছিলেন।[৬] তারা কয়েকটি ছবিতে একসাথে অভিনয় করেছেন, আওরত (১৯৫৩) হলো প্রথম চলচ্চিত্র যেখানে তিনি বীণা রায়ের সাথে জুটি বেঁধেছিলেন, এটি ছিল স্যামসন এবং ডেলিলা (১৯৪৯) এর বাইবেলের একটি করুণ গল্পের বলিউড সংস্করণ। চলচ্চিত্রটি জনপ্রিয়তা না পেলেও বীণা রায় এবং প্রেম নাম একে অপরের প্রেমে পড়ে যান। তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পি.এন. ফিল্মস নামে নিজেদের প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তুলেন। পি.এন. ফিল্মস থেকে তাদের প্রথম চলচ্চিত্র ছিল শাগুফা (১৯৫৪) এবং এটি নিয়ে তাদের উচ্চ প্রত্যাশা ছিল, তবে দর্শকদের মাঝে এটি আলোড়ন ফেলতে পারেনি। বীণা রায়ের মায়াবিনী সৌন্দর্য বা প্রেম নাথের ডাক্তারের ভূমিকায় সংবেদনশীল ভূমিকা, শাগুফাকে ফ্লপ হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। এবং শাগুফার পরে আসা চলচ্চিত্রগুলি - গোলকোন্ডার বন্দী, সমুন্দর এবং ওয়াতান রূপালী পর্দায় হিট হওয়ার সাথে সাথে প্রায় লীন হয়ে গেল। এভাবে প্রেম নাথ-বীণা রায় জুটি কখনও পর্দায় জনপ্রিয়তা লাভ করেনি।[৭]

তবে শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা প্রদীপ কুমারের সাথে তাঁর চলচ্চিত্রগুলি তাঁর সেরা স্মরণীয় অভিনয় ছিল, যেখানে তিনি আনারকলি (১৯৫৩), তাজমহল এবং ঘুঙ্গঘাটে অভিনয় করেন, যার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার লাভ করেন।[৮]

১৯৭০-এর দশকে তাঁর পুত্র প্রেম কৃষ্ণ অভিনেতা হন এবং তার একটি ছবি দুর্দান্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে; দুলহান ওহি জো পিয়া মন ভায়ে (১৯৭৭), কিন্তু জনপ্রিয়তার গতি বজায় রাখতে পারেনি, তাই তিনি সিনেভিস্তাসের ব্যানারে প্রযোজক হন, এটি কতসাগর, গুল গুলশান গুল্ফাম এবং জুনুনের মতো টিভি সিরিজ প্রযোজনা করেছে। তিনি ২০০২ সালে তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে কন্যা আকঙ্কশা মালহোত্রাকে অভিনেত্রী হিসাবে অভিনয় করান, তিনি দাবি করেন যে তিনি তার মাধ্যমে তাঁর মা বীণা রায়কে স্মরণ করিয়ে দিবেন।

বীণা রায় অনেক আগেই চলচ্চিত্রে অভিনয় বন্ধ করে দিয়েছেন, তিনি বলেন যে একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর মহিলারা ভাল ভূমিকা রাখেন না। তিনি তার স্বামী প্রেমনাথ সম্পর্কে বলেন, যিনি ১৯৯২ সালের ৩ নভেম্বর মারা গিয়েছেন। ২০০২ সালে তাদের পুত্র কৈলাশ (মন্টি) নাথ তার পিতার দশম মৃত্যুবার্ষিকী এবং ৮৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর বাবার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে আমার প্রেমনাথ শীর্ষক একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন; এটি সারেগামা থেকে প্রকাশিত হয়।[৯][১০] তাঁর নাতি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা চিকিৎসকদের নিয়ে সঞ্জিবনী (২০০৪) নামে একটি সফল টিভি ধারাবাহিক পরিচালনা করেন।[৪]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

বীণা রায় কার্ডিয়াক সমস্যার পরে ২০০৯ সালের ৬ ডিসেম্বর মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর দুই পুত্র প্রেম কিশেন এবং কৈলাশ (মন্টি) এবং নাতি নাতনী সিদ্ধার্থ ও আকানশাকে রেখে যান। সিনেভিসতাস লিমিটেড নামে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনা সংস্থা গড়ার আগে চলচ্চিত্রের অভিনেতা হিসাবে প্রেম কিশনের একটি স্বল্প মেয়াদী কর্মজীবন ছিল। তাঁর নাতি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, যিনি ধর্ম প্রোডাকশনের উই আর ফ্যামিলি (২০১০) দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন।[৫][১১]

পুরষ্কার[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

  • ১৯৫১: কালী ঘাটা
  • ১৯৫২: স্বপ্না
  • ১৯৫৩: আনারকলি[১২]
  • ১৯৫৩: আওরত
  • ১৯৫৩: গওহর
  • ১৯৫৩: সাগুফা
  • ১৯৫৩: শোলে
  • ১৯৫৪: মিনার
  • ১৯৫৪: গোলকন্ডার বন্দী
  • ১৯৫৫: ইনসানিয়াত
  • ১৯৫৫: মাধ ভরে নাইন
  • ১৯৫৫: মেরিন ড্রাইভ
  • ১৯৫৫: সর্দার
  • ১৯৫৬: চন্দ্রকান্ত
  • ১৯৫৬: দুর্গেশ নন্দিনী
  • ১৯৫৬: হামারা ওয়াতান
  • ১৯৫৭: বন্দি
  • ১৯৫৭: চেঙ্গিস খান
  • ১৯৫৭: হিল স্টেশন
  • ১৯৫৭: মেরা সালাম
  • ১৯৫৭: সমুন্দর
  • ১৯৫৭: তালাশ
  • ১৯৬০: ঘুঙ্গঘাট
  • ১৯৬২: ভাল্লা কেয়া বাত হ্যায়
  • ১৯৬৩: তাজমহল
  • ১৯৬৬: দাদী মা
  • ১৯৬৭: রাম রাজ্য
  • ১৯৬৮: আপনা ঘর আপনি কাহানী[১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rafique, Mohd Arshi (৭ ডিসেম্বর ২০০৯)। "'IT' Factor"The Indian Express। ২ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৬ 
  2. Obituary London Independent, 22 March 2010.
  3. Bina Rai biography ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে
  4. Bina Rai: The good old days ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে Screen.
  5. "Bina Rai, noted actress of B&W era, passes away"The Times of India। ৭ ডিসেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৩ 
  6. Pradhan, Bharathi S. (১৩ ডিসেম্বর ২০০৯)। "Bye bye, Bina"The Telegraph। Calcutta, India। 
  7. Spouses don't click as screen lovers ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০ মে ২০১৬ তারিখে The Tribune, 28 October 2001.
  8. Anarkali 1953 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ নভেম্বর ২০১২ তারিখে The Hindu, 14 March 2009.
  9. Anarkali reborn ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে Rediff.com, 6 February 2002.
  10. TRIBUTE: Monty Nath on father Premnath[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] Screen, 8 November 2002.
  11. "Noted actress Bina Rai passes away"The Times of India। ৬ ডিসেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৩ 
  12. "Archived copy"। ৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-২৭ 
  13. "Indian Filmography", Firoze Rangoonwalla, 1970.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]