অরূপ রতন চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অরূপ রতন চৌধুরী
জন্ম (1952-01-23) ২৩ জানুয়ারি ১৯৫২ (বয়স ৬৯)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
মাতৃশিক্ষায়তনঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়
স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক
পেশাদন্ত রোগ বিশেষজ্ঞ
কর্মজীবন১৯৭৫-বর্তমান
পুরস্কারএকুশে পদক
ওয়েবসাইটarupratanchoudhury.com

অরূপ রতন চৌধুরী (জন্ম ২৩ জানুয়ারি, ১৯৫২) হলেন একজন বাংলাদেশী দন্ত রোগ বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিট্যাশন ফর ডায়বেটিস, এন্ডোক্রিন অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডারের (বারডেম) দন্ত চিকিৎসা বিভাগের প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন চিকিৎসক। সমাজসেবায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০১৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে।[১]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

অরূপ রতন ১৯৫২ সালের ২৩ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতা অধ্যাপক ড. মঞ্জুশ্রী চৌধুরী ছিলেন একজন সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ এবং পিতা শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরী। অরূপেরা তিন ভাইবোন। বড় ভাই অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী ও বোন অধ্যাপক ড. মধুশ্রী ভদ্র।[২]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৬৮ সালে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৭০ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে দন্ত চিকিৎসা বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। চৌধুরী ১৯৮৩-৮৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফেলোশিপ প্রোগ্রাম থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেলোশিপ লাভ করেন। পরে ১৯৮৩-৮৪ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক এর স্কুল অফ ডেন্টাল মেডিসিনের ওরাল বায়োলজি অ্যান্ড প্যাথলজি বিভাগে পোস্ট ডক্টরেট রিসার্চ ফেলোশিপ লাভ করেন। তিনি ২০০৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল কলেজ অফ কন্টিনিউয়াস ডেন্টাল এডুকেশনের ফেলো এবং ২০০৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল কনগ্রেস অন ওরাল ক্যান্সারের ফেলো নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে তিনি ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অফ সার্জনস থেকে ফেলোশিপ ইন ডেন্টাল সার্জারি ডিগ্রি লাভ করেন।[২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

অরূপের কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৭৭ সালে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের সহকারী দন্ত চিকিৎসক হিসেবে। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজমিডফোর্ড কলেজ এর লেকচারার ও দন্ত চিকিৎসক পদে এবং ঢাকা শিশু হাসপাতালে দন্ত চিকিৎসক পদে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮১ সালে তিনি সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও ১৯৮১ থেকে ১৯৮২ সালে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল এ দন্ত চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকার পিজি হাসপাতালেও তিনি কয়েক বছর দন্ত চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এসময় ১৯৮৬ সালে ডাঃ ইব্রাহিম পিজি হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসা করাতে আসে এবং তার চিকিৎসায় মুগ্ধ হয়ে তাকে বারডেম-এ নিয়োগ প্রদানের ব্যবস্থা করেন। ১৯৮৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বারডেমের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির দন্ত চিকিৎসা বিভাগের প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।[২]

তিনি ১৯৮৯ সালে মাদক ও ধূমপানবিরোধী সংগঠন 'মানস' প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য হল ধূমপান ও মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে যুব সমাজকে সচেতন করে তোলা। সরকার অনুমোদিত এবং এনজিও দ্বারা পরিচালিত সংগঠনটি ১৯৯৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদক ও সার্টিফিকেট অর্জন করে।[২]

চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে তিনি স্বর্গ থেকে নরক চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। ছবিটি ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ মুক্তি পায়।[৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে "টোবাকো অর হেলথ" (১৯৯৮)
  • অতীশ দীপঙ্কর গোলশানা পরিষদ থেকে অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণ পদক (২০০০)
  • বাচসাস পুরস্কার (২০০৩)
  • সমাজসেবায় একুশে পদক (২০১৫)
  • গ্রেটার ভ্যাঙ্কুভার বাংলাদেশ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন থেকে সম্মাননা (২০১৫)[৪]
  • স্বর্গ থেকে নরক চলচ্চিত্রের জন্য টেলিসিনে সোসাইটি পুরস্কার (২০১৬)[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "একুশে পদক পাচ্ছেন কামাল লোহানীসহ ১৫ জন"দৈনিক যুগান্তর। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৭ 
  2. মাথিন, শাশ্বতী (২০ জানুয়ারি ২০১৬)। "নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো : ড. অরূপ রতন"এনটিভি অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. "২৫ ডিসেম্বর অরূপ রতন চৌধুরীর 'স্বর্গ থেকে নরক'"বাংলা ট্রিবিউন। ডিসেম্বর ১৭, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৭ 
  4. মহুয়া, শাহানা আকতার (২০১৫-১২-০৮)। "ভ্যাঙ্কুভারে সংবর্ধিত অরূপ রতন চৌধুরী"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৭ 
  5. "কলকাতায় পুরস্কার পেলেন ড. অরূপ রতন চৌধুরী"দৈনিক মানবজমিন। ১৫ জুন ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৭ 

অরূপ রতন চৌধুরী[সম্পাদনা]