বাঙালি জাতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(বাঙালি থেকে ঘুরে এসেছে)
বাঙালি
Netaji debaditya chatterjee.jpgTagore3 140x190.jpgNazrul 140x190.jpg
Begum Rokeya 140x190.jpgSheikh mujibur rahman1950 140x190.jpg Satyajit Ray.jpg
সর্বমোট জনসংখ্যা
২৩০,০০০,০০০
উল্লেখযোগ্য জন অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ
~ এই দেশগুলিতে বৃহত্তর জনসংখ্যা রয়েছে: বাংলাদেশভারতে (পশ্চিমবঙ্গ)।
 বাংলাদেশ 150,500,000 [১]
 ভারত 70,000,000 [২]
 সৌদি আরব ~ 1,000,000 [৩]
 সংযুক্ত আরব আমিরাত ~ 600,000 [৪]
 যুক্তরাজ্য ~ 500,000 [৫]
 মালয়েশিয়া ~ 230,000 [৬]
 কুয়েত ~ 150,000 [৭]
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ~ 143,619 [৮]
 দক্ষিন কোরিয়া ~ 130,000 [৯]
 বাহরাইন ~ 120,000
 ওমান ~ 115,000 [৯]
 কানাডা ~ 24,595 [১০]
 ইতালি ~ 35,000 [১১]
 নেপাল ~ 23,000 [১২]
 অস্ট্রেলিয়া ~ 16,000 [১৩]
 জাপান ~ 11,000 [১৪]
ভাষাসমূহ

বাংলা

ধর্ম

ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্ট

সংশ্লিষ্ট নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী

ইন্দো ইউরোপীয়, ইন্দো-ইরানীয়, ইন্দো-আর্য, অস্ট্রো-এশীয়, তিব্বতীয়-বার্মা, প্রোটো অস্ট্রালয়ড, অসমীয়, বিহারি, দ্রাবিড়ীয়, উড়িয়া, ত্রিপুরি

বাঙালি জাতি হল বঙ্গদেশ অর্থাৎ ভারতীয় উপমহাদেশের অধুনা বাংলাদেশ ও ভারতের কিয়দংশে বিভাজিত এক অঞ্চলে বসবাসকারী মানব সম্প্রদায় যাদের ইতিহাস অন্ততঃ চার হাজার বছর পুরোনো। এদের ভাষা বাংলা যা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর পূর্ব-ইন্দো-আর্য বিভাগের একটি ভাষা। নৃতাত্বিকভাবে এরা একদিকে যেমন ওড়িয়া, আসামী, বিহারী ও অন্যান্য পূর্বভারতীয় ভাষাভাষী গোষ্ঠীর নিকট আত্মীয়, তেমনই এদের মধ্যে কিয়দংশে মুণ্ডা, প্রোটো-আস্ট্রালয়েড, তিব্বতী-বর্মী, অস্ট্রো-এশীয়, এবং দ্রাবিড় গোষ্ঠীর বংশধারাও মিশে আছে। এর ফলে বাঙালি জাতি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও স্থানভেদে ভিন্ন। এই নৃগোষ্ঠীর সর্বাধিক ঘনত্ব দেখা যায় অধুনা বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। তবে এছাড়াও অনেক বাঙালি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভারতের আরো নানা রাজ্যে, যেমনঃ ত্রিপুরা, আসাম, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লী, কর্ণাটক এবং ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্তের রাজ্যগুলিতে (অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড)। এছাড়াও পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য, আমেরিকা ইত্যাদি দেশে অনেক বাঙালি আছেন।

পরিচ্ছেদসমূহ

[সম্পাদনা] ইতিহাস

বাঙালি জাতির ইতিহাসকে আদি বা প্রাচীন, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগে ভাগ করা যায়।

[সম্পাদনা] প্রাচীন ইতিহাস

আগে এদেশের সভ্যতাকে অনেকেই অর্বাচিন বলে মনে করলেও বঙ্গদেশে চার হাজারেরো বেশি প্রাচীন তাম্রাশ্ম (chalcolithik) যুগের সভ্যতার নির্দশন পাওয়া গেছে [১৫][১৬] যেখানে দ্রাবিড়, তিব্বতী-বর্মী ও অস্ট্রো-এশীয় নরসম্প্রদায়ের বাস ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বঙ্গ বা বাংলা শব্দটির সঠিক ব্যুৎপত্তি জানা নেই তবে অনেকে মনে করেন এই নামটি এসে থাকতে পারে দ্রাবিড় ভাষী বং নামক একটি গোষ্ঠী থেকে যারা এই অঞ্চলে আনুমানিক ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে বসবাস করত। [১৭] ডঃ অতুল সুরের মতে "বয়াংসি" অর্থাৎ পক্ষী এদের টোটেম ছিল। আর্যদের আগমনের পর বাংলা ও বিহার অঞ্চল জুড়ে মগধ রাজ্য সংগঠিত হয় খ্রীশষ্টপূর্ব সপ্তম শতকে। বুদ্ধের সময় মগধ ছিল ভারত উপমহাদেশের চারটি মহাশক্তিশালী রজত্বের অন্যতম ও ষোড়শ মহাজনপদের একটি। বংশের চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজত্বের সময় মগধের বিস্তার হয় দক্ষিণ এশিয়ার এক বিশাল অঞ্চলে। খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে সম্রাট অশোকের সময় আফগানিস্তানপারস্যের কিছু অংশও মগধের অধিকারভুক্ত ছিল। বৈদেশিক রচনায় বাংলার প্রথম উল্লেখ দেখা যায় গ্রিকদের লেখায় ১০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি। তাতে বর্ণিত আছে গাঙ্গেয় সমতলভুমিতে বাসকারী গঙ্গারিডি নামে জাতির শৌর্যবীর্যের কথা যা শুনে মহাবীর আলেক্সান্ডার তাঁর বিশ্ববিজয় অসম্পূর্ণ রেখে বিপাশার পশ্চিম তীর থেকেই প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। গঙ্গারিডি শব্দটি হয়ত গ্রিক Gangahrd (গঙ্গাহৃৎ) থেকে এসে থাকবে— গঙ্গা-হৃৎ অর্থাৎ গঙ্গা হৃদয়ে যে ভুমির।[১৮] খ্রীষ্টীয় তৃতীয় শতকে মগধে গুপ্ত রাজবংশের পত্তন হয়।

[সম্পাদনা] মধ্যযুগ

বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা বলা হয় শশাঙ্ককে যার রাজত্ব ছিল সাতশো শতকের গোড়ার দিকে।[১৯] তারপর কিছুদিন অরাজকতার পর বৌদ্ধ ধর্মী পাল বংশ এখানে চারশো বছর রাজত্ব করে, তারপর অপেক্ষাকৃত কম সময় রাজত্ব করে ব্রাহ্মণ্য হিন্দু ধর্মী সেন বংশ। বাংলা অঞ্চলে প্রথম ইসলামের প্রচার হয় দ্বাদশ শতকে সুফী ধর্মপ্রচারকদের দ্বারা। পরবর্তীতে বাংলা ইসলামীয় রাজত্বের অধিকারভুক্ত হলে বাংলায় প্রায় সব অঞ্চলেই দ্রুত ইসলামের প্রসার ঘটে।[২০] দিল্লীর দাস বংশের সুলতানীর একজন তুর্কী সেনাপতি বক্তিয়ার খলজী সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলার এক বিশাল অংশ দখল করেন। অতঃপর দিল্লীর বিভিন্ন সুলতান রাজবংশ ও বা তাদের অধীনস্থ স্থানীয় সামন্ত রাজারা বাংলায় রজত্ব করে। ষোড়শ শতকে মুঘল সেনাপতি ইসলাম খান বাংলা দখল করেন। কিন্তু ধীরে ধীরে দিল্লীর মুঘল সরকারের নিযুক্ত শাসকদের হাত ছাড়িয়ে আপাত-স্বাধীন মুর্শিদাবাদের নবাবদের রাজত্ব শুরু হয়, যারা দিল্লীর মুঘল সরকারের শাসন কেবল নামে মাত্র মানত।

[সম্পাদনা] বাংলার নবজাগরণ

বাংলার নবজাগরণ বলতে বোঝায় ব্রিটিশ রাজত্বের সময় অবিভক্ত ভারতের বাংলা অঞ্চলে উনবিংশ ও বিংশ শতকে সমাজ সংস্কার আন্দলনের জোয়ার ও বহু কৃতি মনীষীর আবির্ভাবকে। মুলতঃ রাজা রামমোহন রায়ের(১৭৭৫-১৮৩৩) সময় এই নব জাগরণের শুরু এবং এর শেষ ধরা হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) সময়ে, যদিও এর পরেও বহু জ্ঞানীগুণী মানুষ এই সৃজনশীলতা ও শিক্ষাদীক্ষার জোয়ারের বিভিন্ন ধারার ধারক ও বাহক হিসাবে পরিচিত হয়েছেন।[২১] উনবিংশ শতকের বাংলা ছিল সমাজ সংস্কার, ধর্মীয় দর্শনচিন্তা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, দেশপ্রেম, ও বিজ্ঞানের পথিকৃৎদের এক অন্যন্য সমাহার যা মধ্যয্যগের যুগান্ত ঘটিয়ে এদেশে আধুনিক যুগের সূচনা করে।[২২]

[সম্পাদনা] স্বাধীনতা আন্দোলন

বাঙালিরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে খুবই মূল্যবান ভূমিকা পালন করে। ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রথম সূত্রপাত করেন কিছু শিক্ষিত বাঙালি বুদ্ধিজীবী, যাঁদের পুরোধা ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস, সত্যেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় ইত্যাদি নরমপন্থীরা, এবং পরবর্তীতে বিপ্লবাত্মক ভূমিকায় ঋষি অরবিন্দ ঘোষ, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, রাসবিহারী বসু, ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, সূর্য সেন প্রমুখ বীর বিপ্লবীবর্গ।

[সম্পাদনা] বঙ্গভঙ্গ

বঙ্গভঙ্গ ইতিহাসে ঘটে দুবার: ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ রাজত্বকালে বঙ্গভঙ্গ, যাতে উদবেলিত বাঙালির প্রবল প্রতিবাদস্বরূপ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন হলে ১৯১১ সালে এই বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। দ্বিতীয়বার বাংলা ভাগ হয় ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হবার সময়— বাংলার মুসলিমপ্রধান পূর্ব ভাগ পুর্বপাকিস্তান হিসাবে পাকিস্তানের অংশগত হয় ও হিন্দু প্রধান পশ্চিম ভাগ পশ্চিমবঙ্গ নামে ভারতের অংশ থাকে। পুর্বপাকিস্থান এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর হয় অধুনা স্বাধীন বাংলাদেশ

[সম্পাদনা] বাংলাদেশের জন্ম

এই বিষয়ের জন্য দেখুন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভাষা আন্দোলন নিবন্ধ গুলি।

[সম্পাদনা] বাঙালির লোকাচার

বাঙালিরা শিল্প-সংস্কৃতিতে কৃতিত্বের জন্য বিখ্যাত। নানা বাঙালি লেখক, নাট্যকার, সুরকার, চিত্রকর, এবং চলচ্ছিত্রকাররা ভারতে শিল্প ও কলাচর্চার উন্মেষ ও বিকাশে মুখ্য ভুমিকা রাখেন। উনবিংশ শতকের বাংলার নবজাগরণ মূলে ছিল কিছু ব্রিটিশদের দ্বারা এদেশে পাশ্চাত্যের শিক্ষার ও পাশ্চাত্যীয় আধুনিকমনস্কতার অনুপ্রবেশ। অন্যান্য ভারতীয়দের তুলনায় বাঙালিরা অপেক্ষাকৃত দ্রুত ব্রিটিশদের প্রথা শিখে ফেলেছিল ও ব্রিটিশদের-ই নিজেদের দেশে ব্যবহৃত প্রশাসনব্যবস্থা ও আইনকানুন ইত্যাদির জ্ঞান পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দলনে কাজে লাগিয়েছিল। বাংলার নবজাগরণের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল জায়মান রাজনৈতিক ভারতীয় জাতীয়তার বীজ ও আধুনিক ভারতের কলা ও সংস্কৃতির প্রথম উন্মোচন।বাঙালি কবি ও ঔপন্যাসিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার জয় করে এশিয়ায় সাহত্যে প্রথম নোবেল বিজয়ী হন।

[সম্পাদনা] আরো দেখুন

[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র

  1. https://www.cia.gov/library/publications/the-world-factbook/geos/bg.html#People
  2. http://www.everyculture.com/wc/Afghanistan-to-Bosnia-Herzegovina/Bengalis.html
  3. [১]
  4. http://www.7days.ae/showstory.php?id=62077
  5. [২]
  6. [৩]
  7. [৪]
  8. US Census 2000 foreign born population by country
  9. ৯.০ ৯.১ Hasan, Rafiq (November 20, 2003), "4,000 Bangladeshis to return from Oman in December", The Daily Star খণ্ড: 4 (176), http://www.thedailystar.net/2003/11/20/d3112001055.htm, r হয়েছে: 2008-12-19 
  10. [৫]
  11. [৬]
  12. [৭]
  13. [৮]
  14. [国籍別外国人登録者数の推移]
  15. History of Bangladesh. প্রকাশক: বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন. http://www.orgs.ttu.edu/saofbangladesh/history.htm। সংগৃহীত হয়েছে: ২০০৬-১০-২৬. 
  16. বাংলাদেশে ৪০০০ বছর পুরোনো মানব বাসস্থানের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শনের খনন, জিনহুয়া সংবাদ সংস্থা, মার্চ ২০০৬
  17. (১৯৮৯) প্রাচীন ইতিহাস, ১০০০ খ্রীঃপূঃ-১২০২ খ্রীঃ, জেমস হাইৎস্মান ও রবার্ট এল ওয়ার্ডেন: বাংলাদেশ:এ কান্ট্রি স্টাডি. লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস
  18. চৌধুরী, এ.এম.. Gangaridai. বাংলাপিডিয়া. প্রকাশক: এশিয়াটিক সোসায়টি অফ বাংলাদেশ. http://banglapedia.search.com.bd/HT/G_0019.htm। সংগৃহীত হয়েছে: 2006-09-08. 
  19. শশাঙ্ক. বাংলাপিডিয়া. প্রকাশক: এশিয়াটিক সোসায়টি অফ বাংলাদেশ. http://banglapedia.search.com.bd/HT/S_0122.htm। সংগৃহীত হয়েছে: ২০০৬-১০-২৬. 
  20. Islam (in Bengal). বাংলাপিডিয়া. প্রকাশক: এশিয়াটিক সোসায়টি অফ বাংলাদেশ. http://banglapedia.search.com.bd/HT/I_0103.htm। সংগৃহীত হয়েছে: ২০০৬-১০-২৬. 
  21. History of the Bengali-speaking People নিতিশ সেনগুপ্ত, পৃ ২১১, ইউবিএস পাব্লিশার্স' ডিস্ট্রিবিউটার্স প্রাইভেট. লিমিটেড. ISBN 81-7476-355-4
  22. Calcutta and the Bengal Renaissance - সুমিত সরকার Calcutta, the Living City-তে, সম্পাদকঃ সুকন্ত চৌধুরী, ভলিউম ১, পৃ ৯৫।
নিজস্ব হাতিয়ারসমূহ
নামস্থান

বিকল্পসমূহ
কার্যক্রম
পরিভ্রমন
মুদ্রণ/এক্সপোর্ট
সরঞ্জাম
অন্যান্য ভাষাসমূহ