বাউড়ি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাউড়ি একপ্রকার হিন্দু তফসিলি জাতিবিশেষভারতীয় বর্ণব্যবস্থায় এরা নিম্নবর্গীয়। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের বাঁকুড়া, বীরভূম ও অন্যান্য জেলায় বাউড়িরা প্রচুর সংখ্যায় বাস করেন।[১][২]

২০০১ সালের জনগণনা অনুযায়ী বাউড়িদের সংখ্যা ১,০৯১,০২২। এঁরা পশ্চিমবঙ্গের তফসিলি জাতি জনসংখ্যার মোট ৫.৯ শতাংশ। বাউড়িদের মধ্যে মাত্র ৩৭.৫ শতাংশ সাক্ষর – এর মধ্যে পুরুষ সাক্ষরতার হার ৫১.৮ শতাংশ এবং নারী সাক্ষরতার হার ২২.৭ শতাংশ। মাত্র ৪.৭ শতাংশ বাউড়ি মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়েছে অথবা বিদ্যালয় শিক্ষা সমাপ্ত করেছে।[৩]

উপবর্ণ[সম্পাদনা]

বাউড়িরা নিম্নলিখিত উপবর্ণগুলিতে বিভক্ত: মল্লভূমিয়া, শিখরিয়া বা গোবারিয়া, পঞ্চকোটী, মোলা বা মুলো, ঢালিয়া বা ঢুলো, মালুয়া, ঝাটিয়া বা ঝেটিয়া ও পাথুরিয়া। বাউড়িদের কয়েকটি উপবর্ণ নির্দিষ্ট অঞ্চলের সীমার মধ্যে বসবাস করতেন। মল্লভূমিয়া, মালুয়া ও সম্ভবত মোলারা মল্লভূমের (প্রাচীন মধ্য ও দক্ষিণ বাঁকুড়া) বাসিন্দা ছিলেন। শিখরিয়ারা সম্ভবত বাস করতেন শিখরভূম অর্থাৎ কাঁসাইবরাকর নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে। ঢুলিয়ারা বাস করলেন ঢলভূম অর্থাৎ বর্তমান খাতড়া মহকুমা অঞ্চলে। পঞ্চকোটীরা ছিলেন পুরুলিয়া জেলার পঞ্চকোট এস্টেটের বাসিন্দা। গোবরিয়াদের পেশা ছিল খাদ্যের উচ্ছিষ্ট ও গোবর পরিষ্কার করা। ঝাটিয়ারা খাদ্যের উচ্ছিষ্ট না ধুয়ে কেবলমাত্র ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করত।[১]

লাল-পৃষ্ঠবিশিষ্ট সারস ও কুকুর আজও বাউড়িদের টোটেম। সারস এই জাতির প্রতীক রূপে ব্যবহৃত। বাউড়িরা কুকুর পবিত্র মনে করে এবং কোনো অবস্থাতেই কুকুর হত্যা করে না।[১]

বাউড়িরা অত্যধিক মদ্যপান করে এবং গোরু, শূকর, মুরগির মাংস এবং সকল প্রকার মাছ ও ইঁদুর খায়। যদিও তারা সাপ বা গিরগিটি খায় না।[১]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ O’Malley, L.S.S., Bengal District Gazaeteers, Bankura, pp. 65-67, 1995 edition, Government of West Bengal
  2. O’Malley, L.S.S., Bengal District Gazeteers, Birbhum, p.41, 1996 edition, Government of West Bengal
  3. "West Bengal, Census of India 2001, Data Highlights – The Scheduled Castes"। Office of the Registrar General, India। সংগৃহীত 2009-06-28