শফিউর রহমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শফিউর রহমান
জন্ম জানুয়ারি ২৪, ১৯১৮
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার কোন্নগরে
মৃত্যু ফেব্রুয়ারি ২১, ১৯৫২
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা
পেশা সরকারি চাকুরে
যে জন্য পরিচিত ভাষা শহীদ

শফিউর রহমান (জন্মঃ জানুয়ারি ২৪, ১৯১৮ - মৃত্যুঃ ফেব্রুয়ারি ২২, ১৯৫২) মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। তাঁর শহীদস্মৃতি পরবর্তীকালে বাঙালি জাতিকে জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। এ চেতনার বলেই ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

পরিচ্ছেদসমূহ

সংক্ষিপ্ত জীবনী[সম্পাদনা]

শফিউর রহমান বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার কোন্নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাহবুবুর রহমান ছিলেন ঢাকার পোস্ট এন্ড টেলিগ্রাফ অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট। কলকাতা গভর্ণমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজ হতে আই.কম পাস করে শফিউর রহমান চব্বিশ পরগণা সিভিল সাপ্লাই অফিসে কেরানীর চাকরি গ্রহণ করেন। ১৯৪৫ সালে কলকাতার তমিজউদ্দিনের কন্যা আকিলা খাতুনের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। দেশ বিভাগের পর পিতার সঙ্গে ঢাকায় এসে ঢাকা হাইকোর্টে হিসাব রক্ষণ শাখায় কেরানী পদে যোগ দেন।

যেভাবে শহীদ হলেন[সম্পাদনা]

আজিমপুর কবরস্থান, ঢাকায় শহীদ শফিউর রহমানের কবর
২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩ সালে শহীদ শফিউর রহমানের কবর

১৯৫২‌-র ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটার দিকে ঢাকার রঘুনাথ দাস লেনের বাসা থেকে সাইকেলে চড়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন শফিউর। সকাল সাড়ে দশটার দিকে নওয়াবপুর রোডে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে পূর্বদিনের পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ পুণরায় গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলি শফিউর রহমানের পিঠে এসে লাগে। আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল না হওয়ায় ঐদিন সন্ধ্যা সাতটায় মৃত্যুবরণ করেন।

দাফন[সম্পাদনা]

কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ২২ ফেব্রুয়ারি'র মধ্যরাতে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর কবরের পাশেই রয়েছে পূর্বদিনের শহীদ আবুল বরকতের কবর।[১]

একুশে পদক[সম্পাদনা]

২০০৫ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শফিউর রহমানকে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়। এছাড়াও, ২০০৬ সালে অন্যান্য ভাষা আন্দোলনে শহীদ অন্যান্য পরিবারের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী বেগম আকিলা খাতুনকে আজীবন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Al-Helal, Bashir. Bhasha Andoloner Itihash. pp.482-83

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]