গ্রেট ব্রিটেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গ্রেট ব্রিটেন
Satellite image of Great Britain and Northern Ireland in April 2002.jpg
২০০২সালের এপ্রিল মাসে তোলা গ্রেট ব্রিটেনের উপগ্রহ চিত্র
ভূগোল
অবস্থান উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ
ভৌগলিক স্থানাংক ৫৩°৫০′ উত্তর ২°২৫′ পশ্চিম / ৫৩.৮৩৩° উত্তর ২.৪১৭° পশ্চিম / 53.833; -2.417
দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ
আয়তন ২২৯.৮[১]
আয়তন ক্রম ৭ম
সর্বোচ্চ উচ্চতা ১,৩৪৪
সর্বোচ্চ বিন্দু বেন নেভিস
সার্বভৌম রাষ্ট্র
কান্ট্রি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস
বৃহত্তম শহর লন্ডন
জনপরিসংখ্যান
জনসংখ্যা ৬০,৮০০,০০০[২] (২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে)
জনঘনত্ব ৩০২
জাতিগত গোষ্ঠীসমূহ

গ্রেট ব্রিটেন[note ১], বা ব্রিটেন /ˈbrɪ.tən/, হল মহাদেশীয় ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূল থেকে কিছু দূরে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এই দ্বীপের আয়তন ২,২৯,৮৪৮ কিমি (৮৮,৭৪৫ মা)। এটি ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ তথা ইউরোপের বৃহত্তম দ্বীপ এবং বিশ্বের নবম বৃহত্তম দ্বীপ।[৫][৬] ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে এই দ্বীপের জনসংখ্যা ৬১,০০০,০০০। ইন্দোনেশিয়ার জাভাজাপানের হনসুর পরেই এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল দ্বীপ।[৭][৮] গ্রেট ব্রিটেনকে ঘিরে রয়েছে ১০০০টিরও বেশি ছোটো দ্বীপ।[৯] আয়ারল্যান্ড দ্বীপটি এই দ্বীপের পশ্চিম দিকে অবস্থিত।

এই দ্বীপটি গ্রেট ব্রিটেন ও উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অঙ্গ। দ্বীপটি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ডওয়েলস, এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত। এই তিন অঞ্চলের রাজধানী যথাক্রমে লন্ডন, এডিনবরাকার্ডিফ। রাজনৈতিকভাবে, গ্রেট ব্রিটেন বলতে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস এবং এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলিকে বোঝায়।[১২]

গ্রেট ব্রিটেন রাজ্যটি ১৭০৭ সালের ইউনিয়ন আইন বলে স্কটল্যান্ড রাজ্যইংল্যান্ড রাজ্যের (যা অধুনা ইংল্যান্ড ও ওয়েলস নিয়ে গঠিত ছিল) সঙ্গে যুক্ত হয়। এই ঘটনার প্রায় ১০০ বছর আগে, ১৬০৩ সালে, স্কটিশ রাজা ষষ্ঠ জেমস ইংল্যান্ডের রাজা হয়েছিলেন। কিন্তু ১৭০৭ সালেই প্রথম দুই দেশের পার্লামেন্ট সংযুক্ত রাজ্য গঠনের ব্যাপারে একমত হয়। এরপর ১৮০১ সালের ইউনিয়ন আইন বলে পার্শ্ববর্তী আয়ারল্যান্ড রাজ্য গ্রেট ব্রিটেনের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯২২ সালে আয়ারল্যান্ডের ছয় ভাগের পাঁচ ভাগ অঞ্চল নিয়ে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র গঠিত হলে যুক্তরাজ্যের নাম হয় গ্রেট ব্রিটেন ও উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্য।

পরিভাষা[সম্পাদনা]

নামের উৎস[সম্পাদনা]

দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দ্বীপপুঞ্জ একটিমাত্র নামে চিহ্নিত হয়ে আসছে। গ্রিকো-রোমান (ক্ল্যাসিকাল) ভৌগোলিকেরা ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জকে যে নামে চিহ্নিত করতেন, সেই নামগুলি থেকেই এই দ্বীপের বর্তমান নামের উৎপত্তি ঘটে। খ্রিস্টপূর্ব ৫০ অব্দ নাগাদ গ্রিক ভৌগোলিকেরা ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জকে Prettanikē বা ওই জাতীয় নামে চিহ্নিত করতেন।[১৩] যদিও রোমানরা ব্রিটেন দখল করার পর গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপটি ব্রিটানিয়া নামে পরিচিত হয়। পরবর্তীকালে ক্যালিডোনিয়ার দক্ষিণে রোম-অধিকৃত ব্রিটেন রোমান ব্রিটেন নামে পরিচিত হয়।[১৪][১৫][১৬]

গ্রেট ব্রিটেনের প্রাচীনতম যে নামটি জানা যায়, সেটি হল অ্যালবিওন (Ἀλβίων) বা ইনসুলা অ্যালবিওনাম। এই নামটির সম্ভাব্য উৎস দুটি হতে পারে। এক লাটিন অ্যালবাস বা সাদা (মহাদেশীয় ইউরোপ থেকে ডোভারের সাদা পার্শ্বদেশটি দেখা যায়, তার প্রসঙ্গক্রমে) অথবা অ্যালবিয়ান জাতির দ্বীপ, এই অর্থে। দ্বিতীয় নামের উৎসটি পাওয়া যায়, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের ম্যাসালিওট পেরিপ্লাসপাইথেয়াসে[১৭]

গ্রেট ব্রিটেন-সংক্রান্ত পরিভাষার প্রাচীনতম উল্লেখ পাওয়া যায় অ্যারিস্টটল (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪–৩২২ অব্দ) বা সম্ভবত ছদ্ম-অ্যারিস্টটল রচিত অন দ্য ইউনিভার্স গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডে। এই বইতে আছে: "ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত দ্বীপপুঞ্জে দুটি বড়ো দ্বীপ আছে, অ্যালবিওনআইয়ের্ন।"[১৮]

প্লিনি দি এল্ডার (২৩–৭৯ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর ন্যাচারাল হিস্ট্রি বইতে গ্রেট ব্রিটেনের এই বর্ণনা দিয়েছেন: "আগে এর নাম ছিল অ্যালবিয়ন। কিন্তু পরবর্তীকালে যে দ্বীপগুলির কথা আমরা এবার আলোচনা করব, সেই সব কটি দ্বীপই 'Britanniæ' নামে পরিচিত হয়।"[১৯]

ব্রিটেন নামটি এসেছে নাটিন নাম ব্রিটেন, Britannia বা Brittānia, ব্রিটনদের দেশ, প্রাচীন ফরাসি Bretaigne (আধুনিক ফরাসিতেও Bretagne) এবং মধ্যযুগীয় ইংরেজি 'Bretayne, Breteyne থেকে। ফরাসি শব্দগুলি প্রাচীন ইংরেজি Breoton, Breoten, Bryten, Breten (বা Breoton-lond, Breten-lond) শব্দগুলিকে প্রতিস্থাপিত করে। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী থেকেই রোমানরা ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জকে ব্রিটানিয়া নামে চিহ্নিত করে আসছিল। এই নামটি এসেছে আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩২০ অব্দের প্রাচীন গ্রিক পর্যটক পাইথেয়াসের বর্ণনা। এই বর্ণনায় উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের থুলে (সম্ভবত নরওয়ে) পর্যন্ত বিভিন্ন দ্বীপের বর্ণনা পাওয়া যায়।

মার্সিয়ান অফ হেরাক্লিয়া তাঁর পেরিপ্লাস মারিস এক্সটেরি গ্রন্থে এই দ্বীপপুঞ্জকে বলেছেন "প্রেটানিক দ্বীপপুঞ্জ" (αἱ Πρεττανικαὶ νῆσοι)।[২০]

এই দ্বীপের অধিবাসীদের বলা হত প্রিটেনি (Πρεττανοί) বা প্রেটানি[১৭] প্রিটেনি নামের উৎস ওয়েলস শব্দ প্রাইডাইন (অর্থাৎ, ব্রিটেন), যেটি এবং গোইডলিক শব্দ ক্রুইথেন (আয়ারল্যান্ডের প্রাচীন ব্রিথোনিক-ভাষী জাতি) শব্দদুটির উৎস এক।[২১] দ্বিতীয় নামটি পরে রোমানরা পিক্ট বা ক্যালিডোনিয়ান শব্দে অভিহিত করে।

জনবসতি[সম্পাদনা]

রাজধানী শহর[সম্পাদনা]

যুক্তরাজ্যের তিনটি কান্ট্রির রাজধানী শহর হল:

অন্যান্য প্রধান শহর[সম্পাদনা]

জনসংখ্যার হিসেবে গ্রেট ব্রিটেনের অন্যান্য বড়ো শহরগুলি হল বার্মিংহাম, গ্লাসগো, লিডস, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার, নটিংহ্যামশেফিল্ড

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. "The British Isles and all that ..."। Heriot-Watt University, Edinburgh। সংগৃহীত 7 March 2011 
  2. 2011 Census: Population Estimates for the United Kingdom. In the 2011 census, the population of England, Wales and Scotland was estimated to be approximately 61,370,000; compromising of 60,800,000 on Great Britain, and 570,000 on other islands. Retrieved 23 January 2014
  3. "Ethnic Group by Age in England and Wales"। www.nomisweb.co.uk। সংগৃহীত 2 February 2014 
  4. "Ethnic groups, Scotland, 2001 and 2011"। www.scotlandscensus.gov.uk। সংগৃহীত 2 February 2014 
  5. Peters, Pam (2004)। The Cambridge Guide to English Usage। Cambridge, England: Cambridge University Press। পৃ: 79। আইএসবিএন 0-521-62181-X। "The term Britain is familiar shorthand for Great Britain" 
  6. "Islands by land area, United Nations Environment Programme"। Islands.unep.ch। সংগৃহীত 24 February 2012 
  7. "Population Estimates"National Statistics Online। Newport, Wales: Office for National Statistics। 24 June 2010। সংগৃহীত 24 September 2010 [অকার্যকর সংযোগ]
  8. See Geohive.com Country data; Japan Census of 2000; United Kingdom Census of 2001. The editors of List of islands by population appear to have used similar data from the relevant statistics bureaux, and totalled up the various administrative districts that make up each island, and then done the same for less populous islands. An editor of this article has not repeated that work. Therefore this plausible and eminently reasonable ranking is posted as unsourced common knowledge.
  9. "says 803 islands which have a distinguishable coastline on an Ordnance Survey map, and several thousand more exist which are too small to be shown as anything but a dot"। Mapzone.ordnancesurvey.co.uk। সংগৃহীত 24 February 2012 
  10. Britain, Oxford English Dictionary, "Britain:/ˈbrɪt(ə)n/ the island containing England, Wales, and Scotland. The name is broadly synonymous with Great Britain, but the longer form is more usual for the political unit." 
  11. Great Britain, Oxford English Dictionary, "Great Britain: England, Wales, and Scotland considered as a unit. The name is also often used loosely to refer to the United Kingdom." 
  12. Definitions and recommended usage varies. For example, the Oxford English Dictionary defines Britain as an island and Great Britain as a political unit formed by England, Scotland and Wales.[১০][১১] whereas the Cambridge Guide to English Usage gives Britain as "familiar shorthand for Great Britain, the island which geographically contains England, Wales and Scotland"
  13. O'Rahilly 1946
  14. 4.20 provides a translation describing Caesar's first invasion, using terms which from IV.XX appear in Latin as arriving "tamen in Britanniam", the inhabitants being "Britannos", and on p30 "principes Britanniae" is translated as "chiefs of Britain".
  15. Cunliffe 2002, পৃ. 94–95
  16. "Anglo-Saxons"। BBC News। সংগৃহীত 5 September 2009 
  17. ১৭.০ ১৭.১ Snyder, Christopher A. (2003)। The BritonsBlackwell Publishingআইএসবিএন 0-631-22260-X 
  18. Greek "... ἐν τούτῳ γε μὴν νῆσοι μέγιστοι τυγχάνουσιν οὖσαι δύο, Βρεττανικαὶ λεγόμεναι, Ἀλβίων καὶ Ἰέρνη, ...", transliteration "... en toutôi ge mên nêsoi megistoi tynchanousin ousai dyo, Brettanikai legomenai, Albiôn kai Iernê, ...", Aristotle: On Sophistical Refutations. On Coming-to-be and Passing Away. On the Cosmos., 393b, pages 360–361, Loeb Classical Library No. 400, London William Heinemann LTD, Cambridge, Massachusetts University Press MCMLV
  19. Pliny the Elder's Naturalis Historia Book IV. Chapter XLI Latin text and English translation at the Perseus Project.
  20. Marcianus Heracleensis et al; Müller, Karl Otfried (1855)। "Periplus Maris Exteri, Liber Prior, Prooemium"। in Firmin Didot, Ambrosio। Geographi Graeci Minores 1। Paris। পৃ: 516–517।  Greek text and Latin Translation thereof archived at the Internet Archive.
  21. Foster (editor), R F; Donnchadh O Corrain, Professor of Irish History at University College Cork: (Chapter 1: Prehistoric and Early Christian Ireland) (1 November 2001)। The Oxford History of Ireland। Oxford University Press। আইএসবিএন 0-19-280202-X  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ভিডিও সংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:British Isles

টেমপ্লেট:United Kingdom topics স্থানাঙ্ক: ৫৩°৫০′ উত্তর ২°২৫′ পশ্চিম / ৫৩.৮৩৩° উত্তর ২.৪১৭° পশ্চিম / 53.833; -2.417