ঋতুপর্ণ ঘোষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ঋতুপর্ণ ঘোষ
Rituparno.jpg
জন্ম ৩১ আগস্ট, ১৯৬৩
কলকাতা, ভারত
মৃত্যু মে ৩০, ২০১৩(২০১৩-০৫-৩০) (৪৯ বছর)
কলকাতা, ভারত
জাতীয়তা ভারতীয়
বংশোদ্ভূত বাঙালি
নাগরিকত্ব ভারত
পেশা চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা
পুরস্কার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (ভারত)

ঋতুপর্ণ ঘোষ (জন্ম:৩১শে অগস্ট, ১৯৬৩ - মৃত্যু:৩০শে মে, ২০১৩) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক।[১] অর্থনীতির ছাত্র ঋতুপর্ণ ঘোষের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার ক্রিয়েটিভ আর্টিস্ট হিসেবে। ১৯৯২ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি হীরের আংটি। দ্বিতীয় ছবি উনিশে এপ্রিল মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। এই ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পান।

ঋতুপর্ণ ঘোষ ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের অনুরাগী। দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি বারোটি জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছিলেন।[২][৩] ২০১৩ সালের ৩০ মে কলকাতায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।[৪]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৯৬৩ সালের ৩১ অগস্ট কলকাতায় ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্ম। তাঁর বাবা-মা উভয়েই চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবা সুনীল ঘোষ ছিলেন তথ্যচিত্র-নির্মাতা ও চিত্রকর।[৫] ঋতুপর্ণ ঘোষ সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডিগ্রি অর্জন করেন।[৬]

ঋতুপর্ণ ঘোষ ছিলেন ভারতের এলজিবিটি সম্প্রদায়ের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। জীবনের শেষ বছরগুলিতে তিনি রূপান্তরকামী জীবনযাত্রা নিয়ে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা করছিলেন। তিনি নিজের সমকামী সত্ত্বাটিকে খোলাখুলিভাবে স্বীকার করে নেন, যা ভারতের চলচ্চিত্র জগতের খুব কম মানুষ করেছেন।[৭][৮][৯]

বিজ্ঞাপন দুনিয়ায়[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্র জগতে আসার আগে ঋতুপর্ণ ঘোষ ছিলেন কলকাতার একজন "অ্যাডভারটাইসমেন্ট কপিরাইটার"। ১৯৮০-র দশকে বাংলা বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় বেশ কিছু জনপ্রিয় এক লাইনের শ্লোগান লিখে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় কলকাতায় ইংরেজি ও হিন্দি বিজ্ঞাপনগুলি বাংলায় অনুবাদ করে চালানো হত। ঋতুপর্ণ বাংলায় স্বতন্ত্র বিজ্ঞাপনী শ্লোগানের ধারা সৃষ্টি করেন। তাঁর সৃষ্ট বিজ্ঞাপনগুলির মধ্যে শারদ সম্মান ও বোরোলিনের বিজ্ঞাপনদুটি বিশেষ জনপ্রিয় ছিল। কোনো কোনো সমালোচকের মতে, (বিজ্ঞাপনী চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে) দর্শকদের কাছে আবেদন পৌঁছে দেওয়ার এক বিশেষ দক্ষতা তিনি অর্জন করেছিলেন, যা তাঁর ছবি বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজে জনপ্রিয় করে তোলে।[১০][১১]

চলচ্চিত্র পরিচালনা[সম্পাদনা]

১৯৯২-২০০৩[সম্পাদনা]

সুভাষ ঘাই-এর (ডানদিকে) ঋতুপর্ণ ঘোষ (বাঁদিকে) ও দেবজ্যোতি মিশ্র (পিছনে); নৌকাডুবি ছবিও অডিও রিলিজের সময়

ঋতুপর্ণ ঘোষের কর্মজীবন শুরু হয় বিজ্ঞাপনী দুনিয়ায়। তাঁর পরিচালনায় প্রথম ছবি হিরের আংটি ১৯৯২ সালে মুক্তি পায়। এটি ছিল ছোটোদের ছবি।[১২] ছবিটি তৈরি হয়েছিল শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস অবলম্বনে। এতে অভিনয় করেছিলেন বসন্ত চৌধুরী, মুনমুন সেন প্রমুখেরা।[১৩]

১৯৯৪ সালে তাঁর দ্বিতীয় ছবি উনিশে এপ্রিল মুক্তি পায়। এই ছবিতে এক মা ও তাঁর মেয়ের পারস্পরিক সম্পর্কের কাহিনি দেখানো হয়েছে।[১৪] ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়। ১৯৯৫ সালে এই ছবি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পায়।[৪] এরপর দহন মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। ১৯৯৮ সালে এই ছবি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায় এবং এই ছবির দুই অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও ইন্দ্রাণী হালদার একসঙ্গে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পান।[১৫] দহন ছবির বিষয়বস্তু কলকাতার রাস্তায় এক মহিলার ধর্ষিত হওয়ার কাহিনি। অপর একটি মেয়ে সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। সে এগিয়ে আসে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু সমাজ ও ধর্ষিতার পরিবার পরিজনের ঔদাসিন্যে সে হতাশ হয়।[১৬]

১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া অসুখ ছবিতে এক অভিনেত্রী ও তাঁর আয়ের উপর অনিচ্ছুকভাবে নির্ভরশীল বাবার সম্পর্ক দেখানো হয়। এটি শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায়। বাড়িওয়ালি মুক্তি পায় ২০০০ সালে। এই ছবিতে এক নিঃসঙ্গ বিধবা (কিরণ খের) নিজের বাড়িটি এক ফিল্ম প্রোডাকশনকে ভাড়া দেন। তাঁর অবদমিত কামনাবাসনাগুলি ছবির সুদর্শন পরিচালককে নিয়ে কল্পনার ডানা মেলে। এই ছবির জন্য কিরণ খের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পান।[১৪]

২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত উৎসব শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায়। এই ছবির বিষয়বস্তু এক একান্নবর্তী পরিবারের ভাঙন। এই পরিবারের সদস্যরা তাদের পারিবারিক বাড়ি থেকে বেশি দূরে না থাকলেও বছরে শুধু একবার দুর্গাপূজার সময় একত্রিত হয়। ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি তিতলি-র গল্প এক অভিনেত্রীর মেয়েকে কেন্দ্র করে। মেয়েটির প্রিয় ফিল্মস্টারের সঙ্গে এক সময় তার মায়ের প্রণয় সম্পর্ক ছিল।[১৩][১৪]

২০০৩ সালে আগাথা ক্রিস্টিদ্য মিরর ক্র্যাকড ফ্রম সাইড টু সাইড অবলম্বনে ঋতুপর্ণ তৈরি করেন একটি "হুডানইট" রহস্য ছবি শুভ মহরত। এই ছবিতে বিশিষ্ট অভিনেত্রী রাখী গুলজারশর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে অভিনয় করেন নন্দিতা দাস। এই বছরই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে ঋতুপর্ণ তৈরি করেন চোখের বালি। এই ছবিতেই তিনি প্রথম বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বর্যা রাইকে নিয়ে কাজ করেন।[১৭]

২০০৪—২০১৩[সম্পাদনা]

ঋতুপর্ণ ঘোষ ও অমিতাভ বচ্চন (ডান দিকে), দ্য লাস্ট লিয়ার ছবির সেটে

২০০৪ সালে ঋতুপর্ণের প্রথম হিন্দি ছবি রেনকোট মুক্তি পায়। এই ছবিটি ও. হেনরির ছোটোগল্প "দ্য গিফট অফ দ্য ম্যাজাই" (১৯০৬) অবলম্বনে নির্মিত। এই ছবিতেও ঐশ্বর্যা রাই অভিনয় করেছিলেন। এই ছবির শ্যুটিং শেষ হয়েছিল ১৭ দিনে।[১৪] ছবিটি শ্রেষ্ঠ হিন্দি ছবি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায়।[১৪] ২০০৫ সালে তাঁর বাংলা ছবি অন্তরমহল মুক্তি পায়। এটি ব্রিটিশ আমলের এক জমিদার পরিবারের গল্প। জ্যাকি শ্রফ জমিদার চরিত্রট করেন; আর তাঁর দুই স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন সোহা আলি খানরূপা গাঙ্গুলি[১৪]

২০০৭ সালে দ্য লাস্ট লিয়ার মুক্তি পায়। এটি একটি প্রাক্তন শেক্সপিয়ারিয়ান থিয়েটার অভিনেতার জীবনের গল্প। অমিতাভ বচ্চন কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন।[১৪] এছাড়া প্রীতি জিন্টাঅর্জুন রামপালও এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।[১৮]

২০০৮ সালে মুক্তি পায় খেলা। এটি মানব সম্পর্কের গল্প। এটি মণীষা কৈরালার প্রথম বাংলা ছবি।[১৪] এই বছরই মুক্তি পায় তাঁর সব চরিত্র কাল্পনিক। প্রসেনজিৎ ও বিপাশা বসু অভিনীত এই ছবিটি শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায়।

২০০৯ সালে যিশু সেনগুপ্ত, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, দীপংকর দে ও মমতা শঙ্কর অভিনীত ছবি আবহমান মুক্তি পায়। এটি শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায়।[১৪]

মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর পরবর্তী ছবি সত্যান্বেষী-র শ্যুটিং শেষ করেছিলেন। এই ছবিটি গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সীর কাহিনি অবলম্বনে তৈরি হচ্ছিল।[৬][১৯]

অভিনয় জীবন[সম্পাদনা]

ঋতুপর্ণ ঘোষ প্রথম অভিনয় করেন ওড়িয়া ছবি কথা দেইথিল্লি মা কু-তে। হিমাংশু পারিজা পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৩ সালে।[২০] ২০১১ সালে তিনি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের আরেকটি প্রেমের গল্প এবং সঞ্জয় নাগের মেমরিজ ইন মার্চ ছবিতে অভিনয় করেন। আরেকটি প্রেমের গল্প ছবির বিষয় ছিল সমকামিতা।[২১]

ঋতুপর্ণের শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি চিত্রাঙ্গদা। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রাঙ্গদার কাঠামো অবলম্বনে নির্মিত।[১৪] এটি ৬০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়।[১৮]

অন্যান্য কাজ[সম্পাদনা]

টেলিভিশন কর্মজীবন[সম্পাদনা]

ঋতুপর্ণ দুটি সেলিব্রিটি চ্যাট শো সঞ্চালনা করেন। এগুলি হল ইটিভি বাংলাএবং ঋতুপর্ণ এবং স্টার জলসাঘোষ অ্যান্ড কোম্পানি]][২২][২৩] ঘোষ অ্যান্ড কোম্পানির একটি পর্বে তিনি মীরের সাক্ষাৎকার নেন। এটি কিছু বিতর্ক সৃষ্টি করে।[২৪]

পত্রিকা সম্পাদনা[সম্পাদনা]

ঋতুপর্ণ বাংলা ফিল্ম ম্যাগাজিন আনন্দলোক সম্পাদনা করেন ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

ঋতুপর্ণ ঘোষ দশ বছর ধরে ডায়াবেটিস (ডায়াবেটিস মেটিলাস টাইপ ২) রোগে এবং পাঁচ বছর ধরে প্যানক্রিটিটিস রোগে ভুগছিলেন।[১২] এছাড়াও তাঁর অনিদ্রা রোগ ছিল এবং সেই জন্য তিনি ঘুমের ওষুধ খেতেন।[২৫] ডাক্তারদের রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাবডোমিনোপ্ল্যাস্টি ও ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টের পর প্রয়োজনীয় হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি করাতে গিয়ে তাঁর শারীরিক অসুস্থতা বেড়ে যায়। আরেকটি প্রেমের গল্প ছবিতে এক সমকামী চিত্রপরিচালকের ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য তাঁকে এগুলি করাতে হয়েছিল।[১২]

২০১৩ সালের ৩০ মে তাঁর কলকাতার বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যু ঘটে। তাঁর দুই পরিচারক দিলীপ ও বিষ্ণু তাকে বিছানায় অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পান। প্রতিবেশী নীলাঞ্জনা সেনগুপ্ত ডাক্তার নিরূপ রায়কে খবর দেন। তিনি এসে ঋতুপর্ণ ঘোষকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।[২৬] মৃত্যুকালে ঋতুপর্ণের বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর।[৪]

বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেতা ও পরিচালকেরা ঋতুপর্ণ ঘোষের বাড়িতে এসে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিকেলে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নন্দনে। সেখানে চত্বরের বাইরে কিছুক্ষণ তাঁর দেহ রাখা হয় সাধারণ মানুষকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। নন্দনে বহু মানুষ এসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান।[১২] এরপর তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।[২৭] তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষের পরিবারবর্গের সঙ্গে ৪৫ মিনিট সময় কাটান। ঋতুপর্ণ ঘোষকে তিনি “বিরল প্রতিভা” হিসেবে উল্লেখ করেন।[১২] টালিগঞ্জ থেকে তাঁর দেহ সিরিটি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।[২৭] সৎকারের আগে কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে তাঁকে গান স্যালুট দেওয়া হয়।[২৮][২৯]

প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প[সম্পাদনা]

বাঙালি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে ঋতুপর্ণ আর নেই। এই খবরটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। আমরা একজন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় পরিচালককে অকালে হারালাম।”[৩০] ঋতুপর্ণর তিতলিদোসর ছবির নায়িকা কঙ্কনা সেনশর্মা বলেন, এটা তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি।[১৬] অভিনেতা অরিন্দম শীল এই দিনটাকে জাতীয় শোকের দিন হিসেবে পালন করার আর্জি জানান।[২৬] দেব বলেন, এই খবর শুনে তিনি হতবাক। [২৬] ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, ঋতুপর্ণ ছিলেন এমন এক মহান শিল্পী যিনি আবেগ ও সাংস্কৃতিক চেতনায় বাংলার চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছেন।[৩১]

বলিউড[সম্পাদনা]

অমিতাভ বচ্চন তাঁর স্মৃতিচারণায় বলেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ একমাত্র পরিচালক যিনি বচ্চন পরিবারের সকলের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি একটি টুইটে লেখেন, ঋতুপর্ণ ছিলেন এক সংবেদনশীল শিল্পমনস্ক নরম মনের মানুষ।[৩২] অভিনেত্রী বিপাশা বসু বলেন, ঋতুপর্ণের মৃত্যুসংবাদ তাঁর কাছে হৃদয়বিদারক; তিনি এই খবর বিশ্বাসই করতে পারছেন না।[২৬] চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল বলেন, ঋতুপর্ণের মৃত্যু এক “বিরাট ট্রাজেডি”।[৩৩] সোহা আলি খান বলেন, ঋতুপর্ণ ছিলেন এক অগ্রণী চিত্র পরিচালক এবং তিনি সত্যজিৎ রায় ও নব্য শৈলীর মধ্যে যোগসূত্রের কাজটি করেছিলেন।[৩১] অর্জুন রামপাল বলেন, ঋতুপর্ণ ছিলেন এক অসামান্য দক্ষ শিল্পী এবং অসাধারণ মানুষ।[৩১] অভিনেত্রী কিরণ খের ঋতুপর্ণের শিশুসুলভ প্রাণোচ্ছ্বলতার কথা স্মরণ করে বলেন, “চলচ্চিত্র জগৎ অশিক্ষিত লোকে ভর্তি। সেখানে ঋতুপর্ণ ছিলেন একজন শিক্ষিত মানুষ। তাঁর নিজস্ব একটা লাইব্রেরি ছিল এবং তিনি ধর্মকর্ম করার মতো করে পড়াশোনা করতেন। তাঁর জ্ঞানের কোনো তুলনা নেই।[৩১]

চলচ্চিত্র তালিকা[সম্পাদনা]

বছর নাম ভাষা ভূমিকা অন্যান্য তথ্য
পরিচালক চিত্রনাট্যকার অভিনেতা
১৯৯২ হিরের আংটি বাংলা হ্যা হ্যা প্রথম পরিচালিত ছবি, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত
১৯৯৪ উনিশে এপ্রিল বাংলা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী) - দেবশ্রী রায়
১৯৯৭ দহন বাংলা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য) - ঋতুপর্ণ ঘোষ
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী) - ইন্দ্রাণী হালদারঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
১৯৯৯ বাড়িওয়ালি বাংলা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী) - কিরণ খের
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রী) - সুদীপ্তা চক্রবর্তী
১৯৯৯ অসুখ বাংলা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র)
২০০০ উৎসব বাংলা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ পরিচালনা)
২০০২ তিতলি বাংলা হ্যা হ্যা
২০০৩ শুভ মহরত বাংলা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রী) - রাখি গুলজার
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র)
চোখের বালি বাংলা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র)
কথা দেইথিল্লি মা কু ওড়িয়া হ্যা প্রথম অভিনয়
২০০৪ রেনকোট হিন্দি হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ হিন্দি চলচ্চিত্র)
২০০৫ অন্তরমহল বাংলা হ্যা হ্যা
২০০৬ দোসর বাংলা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (বিশেষ জুরি পুরস্কার / বিশেষ স্বীকৃতি - কাহিনিচিত্র) - প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়
২০০৭ দ্য লাস্ট লিয়ার বাংলা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ ইংরেজি চলচ্চিত্র)
২০০৮ খেলা বাংলা হ্যা হ্যা
সব চরিত্র কাল্পনিক বাংলা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র)
২০১০ আবহমান বাংলা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ পরিচালনা)- ঋতুপর্ণ ঘোষ
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী) - অনন্যা চট্টোপাধ্যায়
নৌকাডুবি বাংলা হ্যা হ্যা
২০১১ আরেকটি প্রেমের গল্প বাংলা হ্যা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত; সমকামিতা বিষয়ক ছবি।
মেমরিজ ইন মার্চ ইংরেজি হ্যা হ্যা সঞ্জয় নাগ পরিচালিত
২০১২ সানগ্লাস হিন্দি হ্যা হ্যা অপ্রকাশিত
চিত্রাঙ্গদা: দ্য ক্রাউনিং উইশ বাংলা হ্যা হ্যা হ্যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (বিশেষ জুরি পুরস্কার / বিশেষ স্বীকৃতি - কাহিনিচিত্র)
জীবনস্মৃতি বাংলা হ্যা হ্যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী অবলম্বনে নির্মিত তথ্যচিত্র
২০১৩ সত্যান্বেষী বাংলা হ্যা হ্যা অপ্রকাশিত

পুরস্কার[সম্পাদনা]

পুরস্কার বছর ছবি বিভাগ ফল
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ১৯৯৫ উনিশে এপ্রিল শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিজয়ী
১৯৯৮ দহন শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য বিজয়ী
অসুখ শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি বিজয়ী
২০০১ উৎসব শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিজয়ী
২০০৩ শুভ মহরত শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি বিজয়ী
২০০৪ চোখের বালি শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি বিজয়ী
২০০৫ রেনকোট শ্রেষ্ঠ হিন্দি ছবি বিজয়ী
২০০৮ দ্য লাস্ট লিয়ার শ্রেষ্ঠ ইংরেজি ছবি বিজয়ী
২০০৯ সব চরিত্র কাল্পনিক শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি বিজয়ী
২০১০ আবহমান শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি বিজয়ী
২০১২ চিত্রাঙ্গদা বিশেষ জুরি পুরস্কার বিজয়ী
বম্বে ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ১৯৯৯ অসুখ এফআইপিআরইএসসিআই পুরস্কার (বিশেষ উল্লেখ) বিজয়ী
২০০২ তিতলি এফআইপিআরইএসসিআই পুরস্কার (জুরি পুরস্কার) বিজয়ী
২০০৩ শুভ মহরত শ্রেষ্ঠ ভারতীয় ছবি মনোনীত
বার্লিন ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০০০ বাড়িওয়ালি নেটওয়ার্ক ফর দ্য প্রোমোশন অফ এশিয়ান সিনেমা অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী
কলাকার অ্যাওয়ার্ডস ১৯৯৭ উনিশে এপ্রিল ৫ম কলাকার পুরস্কার - শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিজয়ী
২০১১ আরেকটি প্রেমের গল্প ১৯তম কলাকার পুরস্কার - শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিজয়ী
পুসান ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ১৯৯৬ উনিশে এপ্রিল নিউ কারেন্টস অ্যাওয়ার্ড মনোনীত
লোকার্নো ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০০৩ চোখের বালি গোল্ডেন লেপার্ড মনোনীত
২০০৫ অন্তরমহল গোল্ডেন লেপার্ড মনোনীত
কেরল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎযব ২০০৫ অন্তরমহল গোল্ডেন ক্রো ফিসান্ট মনোনীত
কারলোভি ভ্যারি ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ১৯৯৮ দহন ক্রিস্টাল গ্লোব মনোনীত
২০০৪ রেনকোট ক্রিস্টাল গ্লোব মনোনীত
ডউভিল এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০১০ আবহমান বেস্ট ফিল্ম— লোটাস মনোনীত
শিকাগো ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০০৩ চোখের বালি গোল্ড হিউগো মনোনীত

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Rituparno Ghosh: Indian film director dies age 49"। The Guardian। 2013-05-30। সংগৃহীত 2013-05-30 
  2. "Rituparno, tender as night: Raja Sen salutes the talent"Rediff। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  3. "Rituparno Ghosh, trailblazer of new wave Bengali cinema, dies"The Times of India। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ "Rituparno Ghosh, national award winning filmmaker, dies"The Times of India। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  5. "Rituparno Ghosh biography"। Calcutta Web। সংগৃহীত 30 May 2013 
  6. ৬.০ ৬.১ "Rituparno Ghosh: Bengal's brave, young director"NDTV। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  7. Ghosh, Palash (30 May 2013)। "Renowned Indian Filmmaker And Gay Icon Rituparno Ghosh Dies At 49"International Businesss Times। সংগৃহীত 1 June 2013 
  8. "Rituparno Ghosh's passing away a great loss to Lesbian, Gay, Bisexual community: Onir"The Indian Express। 30 May 2013। সংগৃহীত 1 June 2013 
  9. Moitra, Sumit (31 May 2013)। "Rituparno Ghosh, an icon for LGBT community"DNA India। সংগৃহীত 1 June 2013 
  10. "Abohomaner dake sara dite biday Rituparno-er"। Anandabazar Patrika। 31 May 2013। 
  11. "Rituparno Ghosh's jumpcut from fleeting ad films to meaningful cinema"The Times of India। 31 May 2013। সংগৃহীত 31 May 2013 
  12. ১২.০ ১২.১ ১২.২ ১২.৩ ১২.৪ "Shocked Kolkata bids a tearful adieu to filmmaker Rituparno Ghosh"The Times of India। 31 May 2013। সংগৃহীত 31 May 2013 
  13. ১৩.০ ১৩.১ "Rituparno Ghosh, a film-maker who pushed the envelope, dies at 49"Live Mint। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  14. ১৪.০ ১৪.১ ১৪.২ ১৪.৩ ১৪.৪ ১৪.৫ ১৪.৬ ১৪.৭ ১৪.৮ ১৪.৯ "Rituparno Ghosh's glorious cinematic journey"India Today। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  15. "Rituparno Ghosh, National Award-winning filmmaker, dies"NDTV। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  16. ১৬.০ ১৬.১ "Filmmaker Rituparno Ghosh passes away in Kolkata at 49"India Today। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  17. "Variety acclaims Chokher Bali"Sify। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  18. ১৮.০ ১৮.১ "Rituparno Ghosh: Trailblazer of new wave Bengali cinema"Daily News and Anlysis। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  19. "Rituparno Ghosh wrapped up Satyanweshi shoot before death"First Post। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  20. "Rituparno Ghosh’s first, an Oriya film"The Times of India। 6 November 2012। সংগৃহীত 10 November 2012 
  21. "Arekti Premer Golpo (Bengali)"Outlook। সংগৃহীত 30 May 2013 
  22. "Rituparno Ghosh — It’s never gonna be the same again!"The Hindu Business Line। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  23. "Ghosh & Co."। Kolkata Curry। সংগৃহীত 10 November 2012 
  24. "I don’t think I am doing anything illegal."The Telegraph (Calcutta)। সংগৃহীত 30 May 2013 
  25. "Rituparno Ghosh: It was the heart that bled"The Times of India। 31 May 2013। সংগৃহীত 31 May 2013 
  26. ২৬.০ ২৬.১ ২৬.২ ২৬.৩ "Tollywood mourns loss of Rituparno Ghosh"The Times of India। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  27. ২৭.০ ২৭.১ "Mamata reaches technician studios alongside Rituparno’s cortege"First Post। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  28. "Rituparno Ghosh cremated as Kolkata bids tearful goodbyeRituparno Ghosh cremated as Kolkata bids tearful goodbye"India Today। 31 May 2013। সংগৃহীত 31 May 2013 
  29. "Rituparno Ghosh dies: Gun salute before cremation"NDTV। 31 May 2013। সংগৃহীত 31 May 2013 
  30. "Renowned filmmaker Rituparno Ghosh dies"The Hindu। 30 May 2013। সংগৃহীত 30 May 2013 
  31. ৩১.০ ৩১.১ ৩১.২ ৩১.৩ "Memories of a Maverick Maker: Rituparno Ghosh"The Times of India। 31 May 2013। সংগৃহীত 31 May 2013 
  32. "Amitabh Bachchan tweets in memory of Rituparno Ghosh"The Times of India। 31 May 2013। সংগৃহীত 31 May 2013 
  33. "Rituparno Ghosh cremated with full state honours"NDTV। 31 May 2013। সংগৃহীত 31 May 2013 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]