ভারত-চীন যুদ্ধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভারত-চীন যুদ্ধ
India China Locator.png
এশিয়ার দুই বৃহৎ শক্তি ভারত ও চীনের ঘটিত ভারত-চীন যুদ্ধ
তারিখ ভারতীয় অভিমতঃ অক্টোবর ১০ ,১৯৬২[১] চৈনিক অভিমতঃ নভেম্বর ২১,১৯৬২[২]
অবস্থান দক্ষিণ শিংজ্যাং (আকসাই চীন) ও অরুনাচল প্রদেশ (দক্ষিণ তিব্বত)
ফলাফল চীনা সামরিক বাহিনীর বিজয়।
অধিকৃত
এলাকার
পরিবর্তন
''আকসাই চীন'' চীনের নিয়ন্ত্রণে এসেছিল.
বিবদমান পক্ষ
ভারত
ভারত
চীন
গণপ্রজাতন্ত্রী চীন
নেতৃত্ব প্রদানকারী
ভারত ব্রিজমোহন কৌল চীন Zhang Guohua[৩]
শক্তিমত্তা
১০,০০০-১২,০০০ ৮০,০০০[৪][৫]
প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি
১,৩৮৩ জন মৃত [৬]
৩,৯৬৮ জন আটক [৬]
১,০৪৭ জন আহত[৬]
১,৬৯৬ জন নিরূদ্দেশ[৬]
৭২২ জন মৃত[৭]
১,৬৯৭ জন আহত [৮]

ভারত-চীন যুদ্ধ ভারতচীনের মধ্যে ১৯৬২ সালে সংঘটিত একটি যুদ্ধ। সীমানা নিয়ে বিরোধ থেকে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। যুদ্ধে চীনের কাছে ভারত পরাজিত হয়। চীন তিব্বত দখল করার পর ভারতের বর্তমান অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চীনকে চীনের অন্তর্ভুক্ত এলাকা বলে দাবী করে, এভাবে যে সীমান্ত সমস্যার শুরু হয় তা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের সূচনা করে। যুদ্ধে ভারতের জয়ী হয়ে একতরফা যুদ্ধবিরতি জারি করে, আকসাই চীন দখলে রাখে কিন্তু অরুণাচল প্রদেশ ফিরিয়ে দেয়, যুদ্ধের পর ভারত সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ভারতের শান্তিবাদী বিদেশনীতিও কিছু পরিমাণে পরীবর্তিত হয়। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়নযুক্তরাজ্য ভারতকে সমর্থন করে, অন্যদিকে পাকিস্তান চীনের সঙ্গে মিত্রতা বাড়াতে সচেষ্ট হয় |

স্থান[সম্পাদনা]

চীন এবং ভারতের সীমারেখা যা নেপাল, সিক্কিম (তথা ভারত দ্বারা শাসিত অঞ্চল) এবং ভূটান দ্বারা তিন ভাগে বিভক্ত। এই সীমার দৈর্ঘ্য মায়ানমার থেকে ওদিকে পশ্চিম পাকিস্তান পর্যন্ত। এই সীমারেখায় কিছু অমীমাংসিত অঞ্চল রয়েছে-- পশ্চিমে আক্সাই চিন, যা সুইজারল্যান্ড এর সমান এক অঞ্চল এবং এখানে চীনের ছিঞ্ছিয়াং এবং তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সদর রয়েছে (তিব্বত ১৯৬৫ সালে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা লাভ করে), পূর্বে ভূটান এবং মায়ানমার এবং মধ্যে অরুণাচল প্রদেশ (পূর্বের নর্থ ইস্ট ফ্রণ্টিয়ার এজেন্সি (North East Frontier Agency))। দুটি অঞ্চলই চীন ১৯৬২ সালে দখল করেছিল।

যুদ্ধ অধিকাংশ সময়েই অতি উচ্চতায় অবস্থিত স্থানে সংঘটিত হয়েছিল। আক্সাই চিন ৫০০০ মিটার উচ্চতায় এক সল্ট প্লেটের মরুভূমি। অরুণাচল প্রদেশে ৭০০০ মিটারেরও অধিক উচ্চতায় কয়েকটি শৃংগ আছে। চীনা সেনারা অঞ্চলটির এক বৃহৎ স্থান দখল করে নিয়েছিল। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ-এ ইটালিয়ান ক্যাম্পেইনের মতো এই যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই বহু সৈনিক শত্রুর আক্রমণের পরিবর্তে পরিবেশের প্রতিকূলতার জন্যে মৃত্যু মুখে পতিত হয়।[৯]

পটভূমি[সম্পাদনা]

Pre-Simla British map published in 1909 shows the so-called "Outer Line" as India's northern boundary

যুদ্ধের মূল কারণ ছিল আক্সাই চিন এবং অরুণাচলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে পারস্পরিক বিবাদ। ভারতের কাশ্মীর অংশের দাবী করা এবং চীনের ছিঞ্ছিয়াঙ অংশের দাবী করা অক্সাই চিনের মধ্যে তিব্বত এবং ছিঞ্ছিয়াং কে সংযোগীকারী একটি পথ আছে। চীন এই পথ নির্মাণ করার প্রয়াস চালালে যুদ্ধের আরম্ভ হয় বলে মনে করা হয়।

আক্সাই চিন[সম্পাদনা]

অমীমাংসিত সীমারেখার পশ্চিম অংশ
The map given by Hung Ta-chen to the British consul at Kashgar in 1893. The boundary, marked with a thin dot-dashed line, matches the Macartney-MacDonald line.
Postal Map of China published by the Government of China in 1917

শিখ মিসলে লাদাখে অভিযান চালালে ভারত-চীন সীমারেখার পশ্চিম অংশ নির্ধারিত হয় ১৮৩৪ সালে। সেই সময় শিখ মিসলে জম্মু এবং কাশ্মীর সহ উত্তর ভারতের অধিকাংশ শাসন করত। ১৮৪২ সালে শিখ মিসলে এক চুক্তি স্বাক্ষর করে সেই সময়কার প্রচলিত সীমার পক্ষে[১০]। ১৮৪৬ সালে ব্রিটিশরা শিখদের পরাজিত করে লাদাখ দখল করে নেয়। ব্রিটিশরা চীনা কূটনীতিকদের সাথে আলোচনায় বসে সীমারেখা বিষয়ে আলোচনা করার জন্যে। পাঙং জলাশয় এবং কারাকরাম ঘাটের সীমা সুনির্দিষ্ট হলেও অক্সাই চিনের অঞ্চল বিবাদত রয়ে যায়[১১]

সার্ভে অব ইন্ডিয়ার কর্মকর্তা ডব্লিউ এইচ জনসন 'জনসন রেখা'র প্রস্তাব করেন, অক্সাই চিনকে কাশ্মীর অংশের হিসেবে দেখানোর জন্য[১২]। জনসন এই রেখার প্রস্তাব কাশ্মীরের মহারাজার সামনে পেশ করেন এবং মহারাজা নির্দিষ্ট ১৮০০০ বর্গকিলোমিটার দাবী করেন[১২]। জনসনের প্রস্তাবকে অশুদ্ধ আখ্যা দেয়া হয়। তার প্রস্তাবিত সীমারেখাকে "patently absurd" (পেটেন্টলি এবসার্ড) আখ্যা দেয়া হয় এবং এই রেখা ভারতের বহু উত্তর পর্যন্ত দাবী করা হয়[১]। পরে জনসন সার্ভের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।[১][১২][১৩] মহারাজা ছাহিদুল্লাহ (এতিয়ার ছাাইদুল্লা) সেনা ঘাটি স্থাপন করে কয়েক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করেন।[১৪] সেই স্থান ভ্রমণ করা ফ্রেঞ্চিস ইয়ংহাসবেন্ডের মতে ছাহিদুল্লাহ্ এর একটি পুরণো দুর্গ ছিল। সেখানে মানুষের বাস করা একটাও ঘর ছিলনা। সেই স্থান কেবল অঘরী কির্ঘিজদের মঞ্চের মত ব্যবহার করা হত।[১৫] দুর্গটা সম্ভবত কয়েক বছর আগে কাশ্মীরীরা নির্মাণ করে।[১৬] ১৮৭৮ সালে চীন ছিঞ্ছিয়াং পুনর দখল করে এবং সমস্যা সমাধানের পূর্বেই ১৮৯০ সালে তারা ছাহিদুল্লা দখল করে।[১২] ১৮৯২ সালের মধ্যে চীন কারাকরাম ঘাটিতে সীমানির্ধারক চিহ্ন স্থাপন করে।[১]

ম্যাকমহান রেখা[সম্পাদনা]

The McMahon Line is the red line marking the northern boundary of the disputed area.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ Calvin. War was never declared and thus the beginning of the conflict is a matter of dispute. According to James Barnard Calvin's Timeline, the first heavy fighting occurred on October 10. Calvin's chapter detailing the Border War also begins on October 10.
  2. 6月,印度军队加快了武装入侵中国的速度,东段已越过“麦克马洪线”,进入西藏山南的扯冬地区。截至8月底,印军在中国境内建立了一百多个据点。
  3. China's Decision for War with India in 1962 by John W. Garver
  4. H.A.S.C. by United States. Congress. House Committee on Armed Services — 1999, p. 62
  5. War at the Top of the World: The Struggle for Afghanistan, Kashmir, and Tibet by Eric S. Margolis, p. 234.
  6. ৬.০ ৬.১ ৬.২ ৬.৩ The US Army [১] says Indian wounded were 1,047 and attributes it to Indian Defence Ministry's 1965 report, but this report also included a lower estimate of killed.
  7. Official Chinese government figures. Proof for this can be found in the bottom article, a basic summary of the war's events
  8. [২]
  9. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Chushul নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  10. The Sino-Indian Border Disputes, by Alfred P. Rubin, The International and Comparative Law Quarterly, Vol. 9, No. 1. (Jan., 1960), pp. 96–125.
  11. Maxwell, Neville (৯ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "Settlements and Disputes: China's Approach to Territorial Issues" (PDF)। Economic and Political Weekly 41 (36): ৩৮৭৬। আসল থেকে ২০০৬-১০-০১-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০০৬-০৯-২৯ 
  12. ১২.০ ১২.১ ১২.২ ১২.৩ Mohan Guruswamy, Mohan, "The Great India-China Game", Rediff, June 23, 2003.
  13. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Noorani নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  14. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; HimalayanFrontiers নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  15. Younghusband, Francis E. (1896). The Heart of a Continent. John Murray, London. Facsimile reprint: (2005) Elbiron Classics, pp. 223-224.
  16. Grenard, Fernand (1904). Tibet: The Country and its Inhabitants. Fernand Grenard. Translated by A. Teixeira de Mattos. Originally published by Hutchison and Co., London. 1904. Reprint: Cosmo Publications. Delhi. 1974, pp. 28-30.