ব্রাত্য বসু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ব্রাত্য বসু
তথ্যপ্র‌যুক্তি মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
২০ মে, ২০১৬
গভর্নরএম কে নারায়াণান
পর্যটন মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
কাজের মেয়াদ
২০ মে, ২০১৪ – ১২ মে, ২০১৬
গভর্নরএম কে নারায়াণান
পূর্বসূরীহিতেন বর্মন
উত্তরসূরীগৌতম দেব
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
কাজের মেয়াদ
২০ মে, ২০১১ – ২০ মে, ২০১৪
গভর্নরএম কে নারায়াণান
পূর্বসূরীপ্রোঃ সুদর্শন রায় চৌধুরী
উত্তরসূরীপার্থ চট্টোপাধ্যায়
বিধায়ক
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
২০১১
গভর্নরএম কে নারায়াণান
পূর্বসূরীগৌতম দেব
সংসদীয় এলাকাদমদম
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1969-09-25) সেপ্টেম্বর ২৫, ১৯৬৯ (বয়স ৫৪)
নাগরিকত্বভারতীয়
জাতীয়তাভারতীয়
রাজনৈতিক দলসর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস
দাম্পত্য সঙ্গীপৌলামী বসু
প্রাক্তন শিক্ষার্থীপ্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা

ব্রাত্য বসু (জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯, কলকাতা)[১] একজন ভারতীয় বাঙালি নাট্যকার, নাট্য পরিচালক, অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ। তিনি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রী।[২] ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি দমদম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন।

জীবন[সম্পাদনা]

ব্রাত্য বসু বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব বিষ্ণু বসুর ছেলে। তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য অধ্যয়ন করার পর কলকাতার সিটি কলেজে অধ্যাপক রূপে যোগ দেন। গণকৃষ্টি নামে এক থিয়েটার গ্রুপে সাউন্ড অপারেটর হিসেবে তার নাট্যজীবন শুরু হয়েছিল।[৩] পরে তিনি দলের জন্য নাটক লিখতে ও পরিচালনা করতে শুরু করেন। আল্ট্রা-মডার্ন নাটক অশালীন (১৯৯৬) তার প্রথম নাটক। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটকগুলি হল অরণ্যদেব, শহরইয়ার, উইঙ্কল টুইঙ্কল ও হত্যারহস্যমূলক নাটক চতুষ্কোণ। ১৯৯৮ সালে তিনি শ্যামল সেন স্মৃতি পুরস্কার ও ২০০০ সালে দিশারী পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৮ সালে তিনি 'ব্রাত্যজন' নামে নিজস্ব একটি থিয়েটার গ্রুপ গঠন করেন।[৪] ২০০৯ সালে দেবব্রত বিশ্বাসের জীবন অবলম্বনে নির্মিত নাটক রুদ্ধসংগীত তার সাম্প্রতিকতম সৃষ্টি।

রাজনীতি জীবন[সম্পাদনা]

২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ব্রাত্য বসু তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দমদম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন সিপিআই(এম) মন্ত্রী গৌতম দেবকে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় তাকে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে উনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন।

চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

তিনি পাঁচটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন: রাস্তা, তিস্তা, তারা, ডিকশনারি ও হুব্বা। প্রথমটির বিষয়, এক যুবকের সন্ত্রাসবাদী হয়ে ওঠা, এবং তৃতীয়টির বিষয়, সমাজ ও প্রেমের ব্যর্থতা। তিনি কালবেলা সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন। [৫]

এগারো বছর পর তিনি পুনরায় সিনেমা নির্দেশনার কাজ করছেন যার নাম "ডিকশনারি"।

অভিনেতা হিসেবে[সম্পাদনা]

বছর শিরোনাম ভূমিকা পরিচালক রেফ
২০০৫ হারবার্ট ধন্না সুমন মুখোপাধ্যায়
২০০৯ স্থানিও সংবাদ মিঃ পল মৈনাক বিশ্বাস ও অর্জুন গৌরিসারিয়া
কালবেলা রমেন গৌতম ঘোষ
২০১১ হ্যালো মেমসাহেব মেনন সাহেব শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়
ইচ্ছে মানস শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়
কাগজের বউ মানিক সাহা বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়
২০১২ টিনের কন্যা অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়
মুক্তধারা অরিন্দম শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়
হেমলক সোসাইটি রক্তিম গাঙ্গুলি সৃজিত মুখার্জি
বালুকাবেলা.কম শুভঙ্কর পার্থ সেন
২০১৩ রোদচশমা ঋতুপর্ণ ঘোষ
মহাপুরুষ ও কাপুরুষ শ্রী শ্রী সদগজানন্দ মহারাজ/পদ অনিকেত চট্টোপাধ্যায়
গোলমালে পিরিত করো না নেবু কাকা অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়
২০১৪ পারাপার গোপাল সঞ্জয় নাগ
২০১৫ যোগযোগ মধুসূদন সেখর দাস
নাটকের মতো অমিতেশ দেবেশ চট্টোপাধ্যায়
কল্কিযুগ এসিপি দিলীপ দত্ত দেবারতি গুপ্তা
অ্যাবি সেন নীলাদ্রি অতনু ঘোষ
২০১৬ ডাবল ফেলুদা মনিমোহন সমাদ্দার সন্দীপ রায়
গ্যাংস্টার জামাল বিরসা দাশগুপ্ত
আসমাপ্টো মলয় সুমন মুখোপাধ্যায়
২০১৭ চিলেকোঠা ফুলু কাকা প্রেমাংশু রায়
বারান্দা গিরিজাপতি রেশমি মিত্র
২০১৮ মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি গোয়েন্দা বরদাচরণ অনিন্দ্য চ্যাটার্জি
২০১৯ বাহোমান সুব্রত অনুমিতা দাশগুপ্ত
ধুলোবালি কথা রাজাদিত্য মল্লিক বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়
দ্য লাভলি মিসেস মুখার্জি কালিদাস মুখোপাধ্যায়/ব্রাত্য ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী
২০২১ মায়ার জঞ্জাল গণেশ সামন্ত ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী
২০২৪ লহো গৌরাঙ্গর নাম রে গিরিশ চন্দ্র ঘোষ সৃজিত

পরিচালক হিসেবে[সম্পাদনা]

বছর শিরোনাম শিল্পী মন্তব্য
২০০৩ রাস্তা অমিতাভ ভট্টাচার্য, মিঠুন চক্রবর্তী, রজতাভ দত্ত
২০০৫ তিস্তা দেবশ্রী রায়, বাদশা মৈত্র, চন্দ্রায়ী ঘোষ
২০১০ তারা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পাওলি দাম, ব্রাত্য বসু
২০২১ ডিকশনারি মোশাররফ করিম, আবীর চট্টোপাধ্যায়, নুসরাত জাহান
২০২৪ হুব্বা মোশাররফ করিম, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত

সম্মাননা[সম্পাদনা]

নাট্যকার ব্রাত্য বসু ২০২১ খ্রিস্টাব্দে “মীরজাফর ও অন্যান্য নাটক” গ্রন্থটির জন্য ভারত সরকারের সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। [৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bratya Basu, nATak samagra (collected plays), Ananda Publishers, 2004
  2. "Minister in Charge"। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ 
  3. http://www.telegraphindia.com/1060506/asp/weekend/story_6169710.asp
  4. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৭ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১১ 
  5. "IMDB"IMDB। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ 
  6. "সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পেলেন ব্রাত্য বসু"। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১২-৩১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]