অ্যালান বর্ডার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
অ্যালান বর্ডার
Allan Border005.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম অ্যালান রবার্ট বর্ডার
জন্ম (১৯৫৫-০৭-২৭) ২৭ জুলাই ১৯৫৫ (বয়স ৬২)
ক্রিমোর্ন, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
ডাকনাম এবি, ক্যাপ্টেন গ্রাম্পি
উচ্চতা ১.৭৫ মিটার (৫ ফুট ৯ ইঞ্চি)
ব্যাটিংয়ের ধরন বামহাতি
বোলিংয়ের ধরন স্লো লেফট আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকা অধিনায়ক, কোচ, প্রশাসক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৯৯)

২৯ ডিসেম্বর ১৯৭৮ বনাম ইংল্যান্ড

      
শেষ টেস্ট ২৫ মার্চ ১৯৯৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৪৯)

১৩ জানুয়ারি ১৯৭৯ বনাম ইংল্যান্ড

      
শেষ ওডিআই ৮ এপ্রিল ১৯৯৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
১৯৮০–১৯৯৬ কুইন্সল্যান্ড
১৯৮৬–১৯৮৮ এসেক্স
১৯৭৬–১৯৮০ নিউ সাউথ ওয়েলস
১৯৭৭ গ্লুচেস্টারশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৫৬ ২৭৩ ৩৮৫ ৩৮২
রানের সংখ্যা ১১১৭৪ ৬৫২৪ ২৭১৩১ ৯৩৫৫
ব্যাটিং গড় ৫০.৫৬ ৩০.৬২ ৫১.৩৮ ৩১.৭১
১০০/৫০ ২৭/৬৩ ৩/৩৯ ৭০/১৪২ ৩/৬২
সর্বোচ্চ রান ২০৫ ১২৭* ২০৫ ১২৭*
বল করেছে ৪০০৯ ২৬৬১ ৯৭৫০ ৩৭০৩
উইকেট ৩৯ ৭৩ ১০৬ ৯০
বোলিং গড় ৩৯.১০ ২৮.৩৬ ৩৯.২৫ ৩২.২৭
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৭/৪৬ ৩/২০ ৭/৪৬ ৩/২০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৫৬/– ১২৭/– ৩৭৯/– ১৮৩/–
উৎস: ক্রিকইনফো, ১৫ আগস্ট ২০১৭

অ্যালান রবার্ট বর্ডার, এএম (ইংরেজি: Allan Robert Border; জন্ম: ২৭ জুলাই, ১৯৫৫) নিউ সাউথ ওয়েলসে ক্রিমোর্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রথিতযশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার[১] তবে, অ্যালান বর্ডার মাঠে এ.বি. নামেই বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে অধিক পরিচিত ছিলেন। ক্রিকেট খেলায় তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবেই ভূমিকা রাখতেন। পাশাপাশি বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার হিসেবে মাঝেমাঝে দলের প্রয়োজনে বোলিং করে সফলতাও লাভ করেছেন। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে অনেকগুলো বছর অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

বর্ডার সিডনির উপকণ্ঠে নর্থ শোর এলাকার ক্রিমোর্নে জন্মগ্রহণ করেন। আরো তিন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলসের মোজম্যানে শৈশবকাল অতিক্রমণ করেন। তাঁর বাবা জন এবং মা শেইলা[২] তাদের পরিবার ক্রীড়াপ্রেমী ছিল। নর্থ সিডনি বয়েজ হাই স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯৭২ সালে বিদ্যালয় জীবন সাফল্যের সঙ্গে সমাপণ করেন।[৩][৪]

শুরুর দিকে বয়সসীমার বাইরে দুই/তিন বছর বেশি বয়স নিয়ে ক্রিকেট দলে খেলেন। এছাড়াও মোজম্যান বেসবল ক্লাবে খেলেন। সেখানে তিনি ফিল্ডিং এবং সোজা ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা অর্জন করেন। ষোল বছর বয়সে সিডনি গ্রেড ক্রিকেটে মোজম্যান দলের পক্ষ হয়ে অভিষিক্ত হন। বামহাতি স্পিনার হিসেবে বোলিং করেন এবং নয় নম্বরে ব্যাটিং করতে নামেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে কম্বাইন্ড হাইস্কুল দলের হয়ে আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন।[৫] এ সময়ে তিনি ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার ব্যারি নাইটের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন।[৬]

ক্রিকেট জীবন[সম্পাদনা]

১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে তিনি স্তরভিত্তিক ক্রিকেটে ছয় শতাধিক রান করেন। পরের বছরের শুরুতে ধারাবাহিকভাবে দুইটি সেঞ্চুরি করে নিউ সাউথ ওয়েলস দলের সদস্যরূপে নির্বাচিত হন।[৭] বেশ কয়েকজন টেস্ট খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে কুইন্সল্যান্ড বুল্‌স দলের বিপক্ষে এসসিজিতে জানুয়ারি, ১৯৭৭ সালে অভিষিক্ত হন।[৮] তিনি ৩৬ রান করেন এবং খেলার শেষ তিনটি ক্যাচ ধরে দলকে জয়ের নোঙরে পৌঁছে দেন।[৮] বিলিপি নামীয় একটি চলচ্চিত্র সংক্রান্ত লাইব্রেরীর কেরানির চাকুরী থেকে ইস্তফা দেন এবং ১৯৭৭ সালে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের হয়ে ইংরেজ লীগে অংশগ্রহণ করেন। এ সময়ে তিনি আমন্ত্রিত খেলায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ১৫৯* রান করেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে ৩৬.২৯ গড়ে ৬১৭ রান করেন।[৯] এরপর তিনি পুণরায় ইংল্যান্ডে ফিরে যান এবং ইস্ট ল্যাঙ্কাশায়ার ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে খেলেন। সেখানে তিনি ১১৯১ রান ও ৫৪ উইকেট লাভ করেন।[৪][১০]

কীর্তিগাঁথা[সম্পাদনা]

Allan Border 2.jpg

ধারাবাহিকভাবে ১৫৩টি টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণ করেন যা বিশ্বরেকর্ডরূপে অদ্যাবধি চিহ্নিত হয়ে আছে। সুনীল গাভাস্কারের ক্রিকেট জীবন থেকে অবসর গ্রহণের ছয় বছর ও ১৩৬ টেস্ট পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দশ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।[১১] ২ জানুয়ারি, ১৯৯৩ সালে বর্ডার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একমাত্র ইনিংসে ৭৪ রান করেন। কার্ল হুপারের বলে অন-ড্রাইভে এক রান নেয়ার মাধ্যমে ২১ রান অতিক্রমের মাধ্যমে দশ হাজার রান স্পর্শ করেন। কিন্তু বিংশ শতকে তাঁর এ কীর্তিটি উইজডেন কর্তৃপক্ষ বৃহৎভাবে এড়িয়ে যায় মূলতঃ ব্রায়ান লারা’র প্রথম দ্বি-শতক রানের জন্য।[১২] এছাড়াও তিনি সর্বমোট ১৫৬টি টেস্ট খেলেছেন যা পরবর্তীতে নিজ দলের স্টিভ ওয়াহ কর্তৃক রেকর্ডটি ভেঙ্গে যায়। টেস্ট ক্রিকেটে ১১,১৭৪ রান সংগ্রহের মাধ্যমে তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড গড়েন; পরবর্তীকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট প্রতিভা ব্রায়ান লারা ২০০৫ সালে ভেঙ্গে ফেলেন।

টেস্ট ক্রিকেট জীবনে বর্ডার ২৭টি সেঞ্চুরি করেন। টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ হয়ে সবচেয়ে বেশী খেলায় অংশগ্রহণসহ সবচেয়ে বেশী রান করার কীর্তি গড়েন। টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর অস্ট্রেলীয় রেকর্ডটি পরবর্তীকালে স্বদেশী রিকি পন্টিং জুলাই, ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্টে নিজের করে নেন।[১৩]

আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বিশ্বের সেরা ৫৫জন ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তন্মধ্যে, অ্যালান বর্ডার তাঁদের একজন ছিলেন।[১৪] ২০০০ সালে শতাব্দীর সেরা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড দলে তাঁকে দ্বাদশ খেলোয়াড়রূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[১৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "BORDER, Allan Robert, Member of the Order of Australia"itsanhonour.gov.auDepartment of the Prime Minister and Cabinet। ৯ জুন ১৯৮৬। সংগৃহীত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  2. Christison, p. 8.
  3. Christison, p. 9.
  4. Wisden, 1982 edition: Allan Border — Cricketer of the year.
  5. Christison, p. 10.
  6. Christison, p. 11.
  7. Christison, p. 13–14.
  8. Christison, p. 14.
  9. Christison, p. 14–15.
  10. Christison, p. 16.
  11. "Records / Bangladesh / Test matches / Most runs"CricInfo। ESPN। সংগৃহীত ৩১ জানুয়ারি ২০১৩ 
  12. "AUSTRALIA v WEST INDIES 1992–93 -Third Test"CricInfo। Wisden। সংগৃহীত ৪ জানুয়ারি ২০১৩ 
  13. "Ponting passes Border as highest Australian run getter" 
  14. "Border, Harvey, Gower, Underwood inducted into Hall of Fame" 
  15. "Panel selects cricket team of the century"Australian Broadcasting Corporation। ২০০০-০১-১৮। সংগৃহীত ২০০৭-০৬-০৬ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
কিম হিউজ
অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৮৪/৮৫-১৯৯৩/৯৪
উত্তরসূরী
মার্ক টেলর
পূর্বসূরী
ডেভিড হুকস
অস্ট্রেলিয়া একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়কবৃন্দ
১৯৮৪/৮৫-১৯৯৩/৯৪
উত্তরসূরী
রে ব্রাইট
পুরস্কার
পূর্বসূরী
কে কটি
বর্ষসেরা অস্ট্রেলীয় পুরস্কার
১৯৮৯
উত্তরসূরী
ফ্রেড হলোজ