বিষেন সিং বেদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বি.এস. বেদী
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামবিষেন সিং বেদী
জন্ম (1946-09-25) ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ (বয়স ৭২)
অমৃতসর, পাঞ্জাব, ব্রিটিশ ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাবোলার, অধিনায়ক, কোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১১৩)
৩১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট৩০ আগস্ট ১৯৭৯ বনাম ইংল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ )
১৩ জুলাই ১৯৭৪ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ ওডিআই১৬ জুন ১৯৭৯ বনাম শ্রীলঙ্কা
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৬৮-১৯৮১দিল্লি
১৯৭২-১৯৭৭নর্দাম্পটনশায়ার
১৯৬১-১৯৬৭উত্তর পাঞ্জাব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৬৭ ১০ ৩৭০ ৭২
রানের সংখ্যা ৬৫৬ ৩১ ৩৫৮৪ ২১৮
ব্যাটিং গড় ৮.৯৮ ৬.২০ ১১.৩৭ ৬.৮১
১০০/৫০ ০/১ –/– ০/৭ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৫০* ১৩ ৬১ ২৪*
বল করেছে ২১৩৬৪ ৫৯০ ৯০৩১৫ ৩৬৮৬
উইকেট ২৬৬ ১৫৬০ ৭১
বোলিং গড় ২৮.৭১ ৪৮.৫৭ ২১.৬৯ ২৯.৩৯
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৪ ১০৬
ম্যাচে ১০ উইকেট ২০
সেরা বোলিং ৭/৯৮ ২/৪৪ ৭/৫ ৫/৩০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২৬/– ৪/– ১৭২/– ২১/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২১ এপ্রিল ২০১৬

বিষেন সিং বেদী (পাঞ্জাবী: ਬਿਸ਼ਨ ਸਿੰਘ ਬੇਦੀ; এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; জন্ম: ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬) অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ভারতের সাবেক ও প্রথিতযশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ভারত ক্রিকেট দলে তিনি মূলতঃ স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৯ সময়কালে ভারতের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় দলকে ২২ টেস্টে নেতৃত্ব দেন। তাঁর সময়কালেই ভারতে স্পিন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করে। বিশ্বের অন্যতম সেরা লেগ স্পিনার হিসেবে ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে ই.এ.এস. প্রসন্ন, ভাগবত চন্দ্রশেখরশ্রীনিবাসন ভেঙ্কটরাঘবনকে নিয়ে ভারতীয় স্পিন জগতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।[১]

ঘরোয়া ক্রিকেট[সম্পাদনা]

পনের বছর বয়সে উত্তর পাঞ্জাবের পক্ষে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। এর মাত্র দুই বছর পূর্ব থেকে ক্রিকেটে হাতে খড়ি হয়।[২] পরবর্তীতে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম থেকে রঞ্জি ট্রফিতে দিল্লির পক্ষে খেলতে থাকেন। তন্মধ্যে ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে রেকর্ডসংখ্যক ৬৪ উইকেট লাভ করেন। এছাড়াও ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে অনেকগুলো বছর নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৫৬০ উইকেট নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবন সমাপ্ত করেন যা যে-কোন ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৯৬৯-৭০ মৌসুমে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি তাঁর সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৭/৯৮ লাভ করেন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে পার্থে একই দলের বিরুদ্ধে টেস্টের সেরা ১০/১৯৪ করেন।[৩] ১৯৭৬ সালে কানপুরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত টেস্টে একমাত্র অর্ধ-শতক ও অপরাজিত ৫০* রান করেন।[৪] একই মৌসুমে মনসুর আলি খান পতৌদি'র পরিবর্তে দলের অধিনায়ক মনোনীত হয়। অধিনায়ক হিসেবে ১৯৭৬ সালে পোর্ট-অব-স্পেনে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে প্রথম জয় পান। ঐ খেলায় ভারত তৎকালীন ৪র্থ ইনিংসে রেকর্ড ৪০৬ রান সংগ্রহ করে ভারত স্মরণীয় জয় পায়।[৫] এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজ দেশে ২-০ সিরিজে জয় পায়। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজ দেশে ৩-১, বিদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩-২ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ সিরিজ পরাজয়ের ফলে সুনীল গাভাস্কার তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

ল্যান্স গিবসের প্রতিটেস্টে ১৬.৬২ ওভার মেইডেন ওভার লাভের পর তিনি ১৬.৩৫ ওভার মেইডেন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। এছাড়াও প্রতি উইকেট প্রাপ্তিতে ৪.২ মেইডেন ওভার দেন।

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

ইনিংসে আট উইকেট লাভবিহীন অবস্থায় ১৫৬০ উইকেট নিয়ে সর্বাগ্রে অবস্থান করছেন তিনি। ১৫৩৬ উইকেট নিয়ে নিকটতম স্থানে অবস্থান করছেন কেন হিগস। ২০০৮ সালে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাক ঘোষণা করে যে, বেদী ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন, যিনি বর্ষসেরা ক্রিকেটারের খেতাব লাভে সক্ষম হননি।[৬] তিনি নিজেই পোশাক-আশাক পরিষ্কার করেন যাকে তিনি তাঁর ভাষায় কাঁধ ও আঙ্গুলের সেরা ব্যায়াম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।[৭]

বিতর্ক[সম্পাদনা]

অধিনায়ক থাকাকালীন বেদী বেশকিছু বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭৬ সালের রেকর্ডভাঙ্গা ইনিংস খেলার টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের সেরা চারজন ফাস্ট-বোলারকে বোলিং আক্রমণে নামায়। তিনি এ কৌশল বুঝতে পারেন ও দুইজন খেলোয়াড় রিটায়ার্ড হার্ট হলে দ্রুত ইনিংস ঘোষণা করেন। এরফলে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচজন খেলোয়াড় আঘাতের কারণে মাঠে নামেননি।[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. S Rajesh (১২ সেপ্টেম্বর ২০১১)। "When spin was king"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  2. Trevor Bailey, Richie Benaud, Colin Cowdrey and Jim Laker, The Lord's Taverners Fifty Greatest, Heinemann-Quixote, 1983
  3. Peter Arnold, The Illustrated Encyclopedia of World Cricket, WH Smith 1985
  4. 2nd TEST: India v New Zealand at Kanpur, 18–23 November 1976
  5. 3rd Test: West Indies v India at Port of Spain, 7–12 April 1976 from Cricinfo
  6. Wisden – Never a cricketer of the year from Cricinfo
  7. Cricinfo – 'Chucking is a bigger threat than bribing or betting'
  8. "4th Test: West Indies v India at Kingston, 21–25 April 1976"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০০৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
সুনীল গাভাস্কার
ভারত জাতীয় টেস্ট ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৭৫/৭৬-১৯৭৮/৭৯
উত্তরসূরী
সুনীল গাভাস্কার