আসাদুল্লাহ আল-গালিব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম ১৫ জানুয়ারী , ১৯৪৮ খ্রি.
Flag of Bangladesh.svg বুলারাটি (সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ)
জাতীয়তা বাংলাদেশী Flag of Bangladesh.svg
অধ্যয়নকৃত শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান
কাকডাঙ্গা সিনিয়র আলিয়া মাদরাসা, আরামনগর কামিল মাদরাসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
জীবিকা অধ্যাপনা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ধর্ম ইসলাম

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব (জন্মঃ ১৫ জানুয়ারী, ১৯৪৮) বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক। তিনি জাতীয়ভিত্তিক ধর্মীয় সংগঠন আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান আমীর। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের প্রফেসর হিসাবে কর্তব্যরত রয়েছেন। এছাড়াও তিনি মাসিক আত-তাহরীক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এবং কয়েকটি সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার পরিচালক। [১]

পারিবারিক পরিচিতি[সম্পাদনা]

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব সাতক্ষীরা সদর থানার বুলারাটি গ্রামে ১৯৪৮ সালের ১৫ জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা আহমাদ আলী (১৮৮৩-১৯৭৬) বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একজন খ্যাতনামা আহলেহাদীছ আলেম ছিলেন। তাঁর বড় ভাই আব্দুল্লাহিল বাকী ছিলেন মুসলিম লীগের বিশিষ্ট নেতা এবং ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৪ সন্তানের জনক। তাঁরা হলেন ডা. তামান্না তাসনীম, আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব, আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজিব ও আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির। তাঁর সহধর্মীনী তাহেরুন্নেছা খান বাহাদুর মোবারক আলী (খান বাহাদুর আহছানউল্লাহর ভ্রাতা)-এর প্রোপৌত্রী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

তিনি সাতক্ষীরার কাকডাঙ্গা সিনিয়র মাদরাসা থেকে দাখিল, আলিম ও ফাযিল এবং জামালপুরের আরামনগর কামিল মাদরাসা থেকে ১৯৬৯ সালে কামিল পরীক্ষা কৃতিত্বের সাথে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মাদরাসা বোর্ডে আলিম ও কামিল পরীক্ষার সম্মিলিত মেধা তালিকায় তার অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১৬তম এবং ৫ম। পরবর্তীতে তিনি কলারোয়া সরকারী কলেজ, সাতক্ষীরা থেকে আইএ এবং সরকারী মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ, খুলনা থেকে বিএ পরীক্ষাতেও কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। অত:পর ১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন। পরিশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। [২]

পেশাজীবন[সম্পাদনা]

১৯৮০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনিস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাংগুয়েজে খণ্ডকালীন লেকচারার হিসাবে যোগদান করেন। অত:পর একই বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‌'আরবী ও ইসলামী শিক্ষা' বিভাগের লেকচারার হিসাবে যোগদান করেন। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগে তিনি প্রফেসর হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। পেশাগত কাজে ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য তিনি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা, সৌদি আরব, কুয়েতসংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণ করেছেন।

প্রতিষ্ঠিত সংগঠনসমূহ[সম্পাদনা]

  • আহলেহাদীছ মহিলা সংস্থা (১৯৮১)।
  • সোনামণি (১৯৯৪)।
  • তাওহীদ ট্রাস্ট (১৯৮৯)।

প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ[সম্পাদনা]

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব মূলত: ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, সাহিত্য প্রভৃতি বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। মাসিক আত-তাহরীক পত্রিকায় নিয়মিত সম্পাদকীয় লেখা ছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকায় তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-নিবন্ধের সংখ্যা প্রায় চার শতাধিক। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি এমফিল, পিএইচডিসহ একাডেমিক গবেষণাকর্মসমূহ তত্ত্বাবধান ও নিরীক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর রচিত ও অনুদিত প্রায় চল্লিশটি গ্রন্থ ও পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। নিম্নে তা বর্ণিত হল।[৩][৪]

ধর্ম[সম্পাদনা]

  • তাফসীরুল কুরআন- ৩০তম পারা (২০১৩)
  • ছালাতুর রাসূল [বাংলা] (১৯৯৮)
  • ছালাতুর রাসূল [ইংরেজী] (২০১০)
  • জিহাদ ও ক্বিতাল (২০১৩)
  • মীলাদ প্রসঙ্গ (১৯৮৬)
  • শবেবরাত (১৯৯০)
  • বিদ‘আত হতে সাবধান [আরবী হতে অনুদিত] (২০১২)
  • হজ্জ ও ওমরা (২০০১)
  • আক্বীদা ইসলামিয়াহ (২০০০)
  • হাদীছের প্রামাণিকতা (২০০৪)
  • মাসায়েলে কুরবানী ও আক্বীকা (১৯৮৭)
  • তালাক ও তাহলীল (২০০১)
  • আশূরায়ে মুহাররম ও আমাদের করণীয় (২০০৪)
  • নয়টি প্রশ্নের উত্তর [আরবী হতে অনুদিত] (২০১০)
  • ছবি ও মূর্তি (২০১০)

সমাজ[সম্পাদনা]

  • আহলেহাদীছ আন্দোলন: উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ; দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষিতসহ [ডক্টরেট থিসিস] (১৯৯৬)
  • আহলেহাদীছ আন্দোলন কি ও কেন? (বাংলা) (১৯৭৯)।
  • আহলেহাদীছ আন্দোলন কি ও কেন? (ইংরেজী) (২০১২)।[৫]
  • ফিরক্বা নাজিয়াহ (২০১৩)
  • জীবন দর্শন (২০১৩)
  • ইনসানে কামেল (২০০৯)
  • উদাত্ত আহ্বান (১৯৯৩)
  • নৈতিক ভিত্তি ও প্রস্তাবনা (১৯৯৩)
  • ইক্বামতে দ্বীন : পথ ও পদ্ধতি (২০০৪)
  • সমাজ বিপ্লবের ধারা (১৯৮৬)
  • তিনটি মতবাদ (১৯৮৭)
  • দাওয়াত ও জিহাদ (১৯৯৩)
  • সালাফী দাওয়াতের মূলনীতি [ আরবী হতে অনুদিত] (১৯৮৫)
  • ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব [ আরবী হতে অনুদিত] (১৯৯১)

রাজনীতি[সম্পাদনা]

  • আরব বিশ্বে ইসরাঈলী আগ্রাসনের নীল নকশা (ইংরেজী হতে অনুদিত) (১৯৮৭)
  • ইসলামী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন (২০০৩)
  • ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (২০০৩)

ইতিহাস[সম্পাদনা]

  • নবীদের কাহিনী-১ (২০১০)
  • নবীদের কাহিনী-২ (২০১০)
  • সীরাতুর রাসূল (ছা.) (নবীদের কাহিনী-৩) (২০১৫)

অন্যান্য[সম্পাদনা]

  • আরবী ক্বায়েদা (১৯৯৮)
  • প্রাথমিক বাংলা শিক্ষা

সমাজ সংস্কার[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের বুকে ইসলামের বিশুদ্ধ দাওয়াত ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিবের অবদান অসামান্য। ৫০ ও ৬০-এর দশকে এ দেশে আহলেহাদীছ আন্দোলনের অন্যতম দিকপাল আল্লামা আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কোরায়শী পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংগঠনিক আন্দোলন শুরু করেছিলেন, সে আন্দোলনকে আরো সুপ্রতিজ্ঞ ও সুসংহত করে তুলেছেন মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। তিনি তাঁর বক্তব্য ও লেখনীর মাধ্যমে এটাই প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, মানবরচিত যাবতীয় মতবাদ পরিত্যাগ করে একমাত্র অহির বিধানের প্রতি নি:শর্ত আত্মসমার্পণের মধ্যেই মানুষের ইহকালীন মঙ্গল ও পরকালীন মুক্তি নিহিত। যা তিনি শ্লোগান আকারে তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, "সকল বিধান বাতিল কর, অহির বিধান কায়েম কর"। মারেফত/তরীকতের নামে প্রচলিত ইসলামবিরোধী আক্বীদা-আমলের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা সোচ্চার। তিনি মুসলিম উম্মাহকে মাযহাবভিত্তিক বিভক্তি থেকে বেরিয়ে এসে একমাত্র পবিত্র কুরআনছহীহ হাদীছের কাছে আত্মসমার্পণের উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন, "আসুন, পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জীবন গড়ি"। তিনি প্রচলিত সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কামনা করেন এবং প্রত্যাশা করেন এমন একটি ইসলামী সমাজ, যেখানে থাকবেনা প্রগতির নামে কোন বিজাতীয় মতবাদ; থাকবে না ইসলামের নামে কোনরূপ মাযহাবী সংকীর্ণতাবাদ। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র ও সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যালটের রাজনীতি ও জঙ্গীবাদ তথা বুলেটের রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাজ্য; বরং মানুষের আক্বীদা-আমলের সংস্কারের মাধ্যমে সমাজের সার্বিক সংস্কার সাধনের মাধ্যমেই ইসলামী সমাজরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এটাই তাঁর মতে ইক্বামতে দ্বীনের নবুয়তী পদ্ধতি।[৬][৭]

কারাবরণ[সম্পাদনা]

২০০৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী তিনি জঙ্গীবাদের সাথে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হন। একই দিনে ১০টি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তিনি অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং এ সকল মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবী করেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাভোগের পর অবশেষে ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট তিনি মুক্তিলাভ করেন। পরবর্তীতে একে একে সকল মামলায় তিনি বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত হন। [৮][৯][১০]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]