মুফতি ফয়জুল্লাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ থেকে পুনর্নির্দেশিত)
মুফতি, মুফতিয়ে আজম

মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ
ব্যক্তিগত
জন্ম১৮৯২
মৃত্যু১৯৭৬(1976-00-00) (বয়স ৮৩–৮৪)
ধর্মইসলাম
জাতীয়তাবাংলাদেশী
আদি নিবাসচট্টগ্রাম
নাগরিকত্ববাংলাদেশী
উল্লেখযোগ্য কাজ
  • ফয়জুল কালাম
  • রাসায়েলে মুফতি আজম
শিক্ষাহাটহাজারী মাদ্রাসা
দারুল উলুম দেওবন্দ
যে জন্য পরিচিতহাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান মুফতি
কাজইসলামী চিন্তাবিদ

মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ (১৮৯২ – ১৯৭৬) বাংলাদেশের দেওবন্দি বিশিষ্ট আলেম ছিলেন। তিনি আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামের প্রধান মুফতি (মুফতিয়ে আজম) ছিলেন। মুফতি ফয়জুল্লাহ জামিয়া ইসলামিয়া হামিউস-সুন্নাহ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা।[১][২][৩]

শিক্ষা ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

মুফতি ফয়জুল্লাহ হাটহাজারি মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন।[৪] দেওবন্দ থেকে ফিরে আসার পর হাটহাজারি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ধর্মীয় বিষয়ে ফতোয়াদি দিতেন বলে ‘মুফতিয়ে আজম’ খেতাব পান। এ থেকে তার নামের আগে ‘মুফতী’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। ১৯৭৬ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত হাটহাজারী মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।[২]

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

আরবি, উর্দুফার্সি ভাষায় তার অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল।[৫] ছাত্রজীবনেই তার সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ ঘটে। দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে তিনি ‘পন্দে ফয়জ’ (কাব্যগ্রন্থ), ‘কসীদায়ে বানাত সুআদ (قصید ئبنات سعاد)’ এর আরবি ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘আল ইকতিসাদু ফি শারহি বানাতি সুআদ (الاقتصاد في شرح بنات سعاد)’ রচনা করেন। ‘সুল্লামুল উলুম ’ পাঠকালে এর কঠিনতম অধ্যায় তানাকুস (تناقض) ও আকসে মুসতাবী (عكس مستوي) এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘আকসে নযীস (عكس نقیض)’ রচনা করেন। তবে ছাত্রজীবনে তার রচিত বেশ কিছু পুস্তিকা হারানো গিয়েছে বলে তিনি আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন। দারুল উলুম দেওবন্দে অধ্যয়নকালে তিনি ‘উমদাতুল আকওয়াল ফিরাদ্দি মাফি আহসানিল মাকাল (عمدة الاقوال في رد ما في احسن المقال)’ রচনা করে প্রশংসিত হয়েছিলেন। তিনি মাদ্রাসা খোলা থাকার দিনসমূহের চেয়ে ছুটির দিনগুলোতে বেশি লেখালেখি করেছেন এবং মাদ্রাসার যেকোনো ছুটিতে একটি করে পুস্তক/পুস্তিকা রচনা করেছেন। ইসলামি শরীয়তের প্রতিটি বিষয়ে তার রচনা থাকলেও তিনি আকিদাফিকহের উপর বেশি আলোচনা করেছেন।[৬][৭][৮] তার রচনা সংখ্যা প্রায় ১০০।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. জসিমউদ্দীন, মুহাম্মদ (২০১৬)। "ফিক্হ শাস্ত্রে মুফতী মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ রহঃ এর অবদান-পিএইচডি থিসিস .pdf"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-১৫ 
  2. আবু মূসা মোঃ আরিফ বিল্লাহ (২০১২)। "ফয়জুল্লাহ, মুফতী"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৪ 
  3. "Archived copy" (PDF)। ২০১১-১০-০৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৬-৩০ 
  4. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৭ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৯ 
  5. আব্দুল বাকী, ড. মুহাম্মদ (২০০৫)। বাংলাদেশে আরবি, ফার্সি ও উর্দুতে ইসলামি সাহিত্য চর্চাঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। পৃষ্ঠা ৮৯। 
  6. দৈনিক আমার দেশ, ৩১ জুলাই, ২০০৯
  7. চৌধুরী, ইজহারুল ইসলাম (১৯৭৭)। হায়াতে মুফতী আজম। হাটহাজারী, চট্টগ্রাম: কুতুবখানা ফয়জিয়া। পৃষ্ঠা ৫–৭। 
  8. জসীম উদ্দিন, মুফতি (২০০২)। দারুল উলুম হাটহাজারীর ইতিহাসচট্টগ্রাম: বুখারী একাডেমি হাটহাজারী। পৃষ্ঠা ২২৫–২২৬। 
  9. মাহবুবে এলাহী, মাওলানা (২০১৩)। (ফয়জুল কালাম গ্রন্থাকারের জীবনী)হায়াতুল মুসান্নিফীনঢাকা: আনোয়ার লাইব্রেরি। পৃষ্ঠা ১৩৭। 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]