বিষয়বস্তুতে চলুন

সৈয়দ জিয়াউল হক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিশ্বঅলি

শাহানশাহ্

হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী
সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর মাযার, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
জন্ম
সৈয়দ জিয়াউল হক

(১৯২৮-১২-২৪)২৪ ডিসেম্বর ১৯২৮
মৃত্যু১১ অক্টোবর ১৯৮৮(1988-10-11) (বয়স ৫৯)
সমাধিমাইজভাণ্ডার, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
অন্যান্য নামশাহানশাহ[টীকা ১]
পরিচিতির কারণমাইজভাণ্ডারী সূফী
দাম্পত্য সঙ্গীউম্মুল আশেকীন মুনাওয়ারা বেগম (রহ.)
সন্তান
পিতা-মাতা
  • হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) (পিতা)
  • সৈয়দা সাজেদা খাতুন (মাতা)

সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ছিলেন (১৯২৮-১৯৮৮) মাইজভাণ্ডারী তরিকার[১] একজন সুফি সাধক এবং তাকে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছা ছিরহুল আজিজ নামে ডেকে থাকে।

জন্ম[সম্পাদনা]

তিনি ১০ পৌষ ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ, ২৫ ডিসেম্বর ১৯২৮ সাল, ১২ রজব ১৩৪৭ হিজরী চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত ফটিকছড়ি থানার মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন ও মাতার নাম সৈয়দা সাজেদা খাতুন।[২][৩]

শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

প্রথমদিকে গৃহ শিক্ষক মৌলভী মোজাম্মেল হকের নিকট তিনি আরবী বর্ণমালাকলমা শিক্ষা লাভ করেন। এরপর মাইজভাণ্ডার আহমদীয়া জুনিয়র মাদ্রাসায় তিনি তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত তিনি পড়াশুনা করেন নানুপুর আবু সোবহান হাই স্কুলে। তৎপরবর্তীতে নবম ও দশম শ্রেণীর পাঠ শেষে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল হতে এ্যান্ট্রেন্স বা প্রবেশিকা পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হলে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্জনের উদ্দেশ্যে ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলেজে। কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ ডিগ্রী কলেজে বি.এ. বা স্নাতক ডিগ্রী সমাপনী পরীক্ষায় সম্পূর্ণ অংশগ্রহণ করেন নি।[টীকা ২][২]

সুফি দৃষ্টিভঙ্গি[সম্পাদনা]

এটা দৃঢ়ভাবে জানা যায় যে, এমন একটি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়ে তিনি বোয়ালখালী থেকে সরাসরি ফটিকছড়ির মাইজভান্ডারে ফিরে আসেন। তারপর থেকে, তার রহস্যময় ঘটনাবহুল জীবন সুফির একটি রহস্যময় অবস্থায় চলে যায়। সুফি ধ্যান (রিয়াজত/মুরাকাবা/মোশাহেদা) করার সময় তিনি মাঝে মাঝে খাবার ত্যাগ করতেন এবং বেশ কয়েক দিন ধরে অবিরাম ঘুমহীন থাকতেন, প্রায়শই তিনি তীব্র শীতের মৌসুমেও কয়েক দিনের জন্য তীব্র ঠান্ডা পানিতে ডুব দিতেন। এদিকে, তিনি দীর্ঘ দিন যাবত সমস্ত জাগতিক মিলন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি বন্ধ দরজার ঘরে একা থাকতেন।[২]

বিভিন্ন প্রকাশিত তার হ্যাজিওগ্রাফিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যখন তার পিতা ছেলের অস্বাভাবিক মনোভাবের জন্য বিচলিত হয়ে পড়েন, তখন সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর দ্বারা স্বপ্নে দরবেশত্বের অনুপ্রেরণা পান এবং বলেন, "তুমি এত উদ্বিগ্ন কেন? তুমি তাকে আমার সবুজ লম্বা জামা (জুব্বা) পরিয়ে দাও"। পিতা তৎক্ষনাৎ তার ছেলের পরনে পোশাকটি পরিয়ে দেন, তারপর থেকে সৈয়দ জিয়াউল হকের মনোভাবের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে, নীরব ও শান্ত থাকেন। হ্যাজিওগ্রাফাররা তাকে একজন মজ্জুব-ই-সালেক (আরবি: الصّوفي المجذوب السالك) হিসেবে উল্লেখ করেছেন,[২] তিনি কোনো পূর্ব-ব্যবস্থা ছাড়াই পাহাড়, বন, সমুদ্র উপকূল এবং বিভিন্ন স্থানে দিনের পর দিন ভ্রমণ করতেন। তিনি বিপুল সংখ্যক রহস্যময়/কারামাত ঘটনার জন্য স্মরণীয়। তিনি তার সুফি ওস্তাদ এবং পিতার আধ্যাত্মিক শিকল/শাজরার স্থলাভিষিক্ত হন, যা সৈয়দ আমিনুল হক ওয়াসেলের (ছোট মওলানা) মাধ্যমে সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী পর্যন্ত যায়।[৩]

পরিবার[সম্পাদনা]

তিনি জনৈক বদিউজ্জামান চৌধুরীর (বদন সিকদার) ছোট কন্যা সৈয়দা মনোয়ারা বেগমের সাথে ১৯৫৫ সালের ২৮ জানুয়ারি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার সুফি তাত্ত্বিক পীর এবং পিতা, লেখক ও সুফি সাধক সৈয়দ দেলাওর হোসাইন[৪] ১৯৮২ সালের ১৮ জানুয়ারি মৃত্যু বরণ করেন। বর্তমানে তার পুত্র আন্তর্জাতিক সুফি সম্মেলনের আয়োজক, মাইজভাণ্ডারী একাডেমির সভাপতি ও শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট (এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ট্রাস্টীর দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাষ্টটি কতিপয় স্কুল, এতিমখানা এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে।[৩][৫][৬]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

তিনি ২৬ আশ্বিন ১৩৯৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ অক্টোবর ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ, ১৪০৯ হিজরী সনের পহেলা রবিউল আউয়ালের রাতে মারা যান।[২][৩]

তার সমাধির উপর স্থপতি আলমগীর কবিরের[৭] নকশায় একটি মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়।[২][৮][৯]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. শাহানশাহ অর্থ রাজাধিরাজ ।
  2. কথিত আছে, হঠাৎ তার স্বাভাবিক ভাবের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। তিনি সাদা খাতা জমা দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিত্যাগ করে সরাসরি মাইজভান্ডার প্রত্যাগমন করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Dr. Alan Godlas, University of Georgia। "ছুফিজম - ছুফিস- ছুফি অর্ডারস্/সুফিজমস্ ম্যানি পাথ (Sufism -- Sufis -- Sufi Orders/ Sufism's Many Paths)" 
  2. Maizbhander Sharif an emblem of human regalement। "শিরোনামঃ শাহেনশাহ হযরত মৌলানা শাহ সুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী" 
  3. লেখকঃ জামাল উদ্দিন সিকদার, প্রথম প্রকাশঃ ১৯৮২, ৯ম প্রকাশঃ ২০১০। "জীবনীঃ শাহানশাহ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী, শাজরা অনুচ্ছেদ (ক্রমিক নাম্বার ৩৮), পৃষ্ঠাঃ ২০৬" (পিডিএফ) 
  4. দৈনিক পূর্বকোণ (মার্চ ৩০, ২০১৪)। "শিরোনামঃ অছিয়ে গাউছুল আজম শাহসুফি সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন আল মাইজভান্ডারী হতে মহান তরীক্বতের শিক্ষা গ্রহণ করেন"। ২০১৪-১১-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-১১-৩০ 
  5. Daily Banglapost (আগস্ট ৫, ২০১৪)। "হাটহাজারী দক্ষিণ মাদার্শা মদুনাঘাট এলাকায় শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত" 
  6. Daily Banglapost (অক্টোবর ২৫, ২০১৪)। "মাইজভান্ডারী গাউছিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ হাসিম বাজার শাখার হযরত জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী ফাতেহা অনুষ্ঠিত"। ২৯ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০১৪ 
  7. Daily Destiny (মে ২০, ২০১১)। "Open Stage of JABI"। নভেম্বর ২৯, ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ৩০, ২০১৪ 
  8. Daily Ajadi (জুন ১৪, ১৯৮৯)। "Shrine of Bishaw Wali Shahenshah will be reconstructed"। 
  9. Daily Purbakon (জুন ১৪, ১৯৮৯)। "Shrine of Bishaw Wali Shahenshah will be reconstructed"।