বিষয়বস্তুতে চলুন

আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ

আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ
নীতিবাক্যসকল বিধান বাতিল কর, অহির বিধান কায়েম কর
গঠিত২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ (৩১ বছর আগে) (1994-09-23)[]
প্রতিষ্ঠাতামুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
প্রতিষ্ঠাস্থাননওদাপাড়া, রাজশাহী, বাংলাদেশ
ধরনঅরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন
আইনি অবস্থাসক্রিয়
সদরদপ্তরদারুল ইমারত, নওদাপাড়া (আমচত্ব্রর), রাজশাহী
অবস্থান
অবস্থানসমূহ
স্থানাঙ্ক২৪°২৪′৩৩″ উত্তর ৮৮°৩৬′৩৫″ পূর্ব / ২৪.৪০৯২° উত্তর ৮৮.৬০৯৬° পূর্ব / 24.4092; 88.6096
পরিষেবাধর্মীয় সংস্কার, সমাজ সংস্কার, সমাজ কল্যাণ
পদ্ধতিসমূহইমারত ও বাইয়াত
দাপ্তরিক ভাষা
বাংলা, আরবি, ইংরেজি
আমীরে জামাআত
প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
সাধারন সম্পাদক
মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম
মজলিশে আমেলা ও মজলিশে শূরা।
মূল ব্যক্তিত্ব
প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
প্রধান প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ, সোনামণি
ওয়েবসাইটhttps://www.ahlehadeethbd.org/

আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ বাংলাদেশের একটি ধর্মীয় সংগঠন, যা আহলেহাদীছ বা সালাফি মতাদর্শ অনুসরণ করে।[] ১৯৯৪ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। অদ্যাবধি তিনিই সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।[] এটি বাংলাদেশে আহলেহাদীছ বা সালাফী মতাদর্শ প্রচার ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে।

কাঠামো ও নেতৃত্ব

[সম্পাদনা]

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আছেন প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। কেন্দ্রীয় কমিটির অধীনে দেশব্যাপী জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে শাখা সংগঠন পরিচালিত হয়। এছাড়া রয়েছে যুব এবং নারী শাখা (বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ ও আহলেহাদীছ মহিলা সংস্থা)। এই সংগঠনের অঙ্গ সংগঠন হিসাবে কাজ করছে ‘সোনামণি’ সংগঠন। পেশাজীবী ও আলেমদের সংগঠিত করার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরাম’ ও ‘আহলেহাদীছ ওলামা ও ইমাম পরিষদ’।[]

প্রকাশনা কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

সংগঠনটির পরিচালনাধীন প্রকাশনা সংস্থা ‘হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে গ্রন্থাবলী প্রকাশ করে। ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে দেড় শতাধিক গ্রন্থ ও বইসমূহ। তন্মধ্যে বৃহৎ কলেবরে প্রকাশিত হয়েছে তাফসীরুল কুরআন ২৬ থেকে ৩০ পারা, তরজমাতুল কুরআন (১-৩০ পারা একত্রে), নবীদের কাহিনী-১ ও ২, সীরাতুর রাসূল (ছাঃ), ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ও ফৎওয়া সংকলন।

শিক্ষা কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

এই সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে দুই শতাধিক মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। এ সকল মাদ্রাসা ও ইয়াতীমখানায় অধ্যয়ন করছে কয়েক হাযার ছাত্র-ছাত্রী। ২০১৯ সাল থেকে এসকল প্রতিষ্ঠানসমূহের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও তদারকির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হাদীছ ফাউণ্ডেশন শিক্ষাবোর্ড। যার অধীনে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানে দুই শতাধিক। রাজশাহীতে এই সংগঠন পরিচালিত আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী তাদের সর্ববৃহৎ মাদ্রাসা ও কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান।

বিতর্ক ও সমালোচনা

[সম্পাদনা]

কিছু মহল এই আন্দোলনকে অত্যধিক কঠোর ও অন্যান্য মাজহাবের প্রতি অসহিষ্ণু বলে সমালোচনা করে। ২০০৫ সালে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব জঙ্গীবাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হন। তবে তিনি এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেন। ২০০৮ সালে তিনি মুক্ত হন এবং সকল অভিযোগ থেকে খালাস পান।[]

২০২১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশকে অর্ধশতাধিক চিহ্নিত সংগঠনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[][] আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গিদের মধ্যে অধিকাংশের সংশ্লিষ্টতা আহলেহাদীছ মতাদর্শের সঙ্গে পাওয়া গেছে।[][] বিভিন্ন তদন্তে দেখা গেছে, জেএমবির নেতা-কর্মীদের উল্লেখযোগ্য অংশ আহলেহাদীছ বা 'লা-মাজহাবি' মতবাদ অনুসরণ করত।[১০]

২০২৫ সালে আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ ওয়াশিংটন এক্সামিনারে মাইকেল রুবিন কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। উক্ত প্রতিবেদনে এই আহলেহাদীছ সংগঠনটিকে চরমপন্থী মতাদর্শের সাথে যুক্ত করা হয় এবং বাংলাদেশকে "আরেকটি আফগানিস্তান" বানানোর অভিযোগ তোলা হয়। সংগঠনটি এই অভিযোগগুলোকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং জানায় যে, তারা ইসলামের শিক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। [১১]

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. বাংলাদেশ, আহলেহাদীছ আন্দোলন (১৩ জুন, ২০২৫)। "গঠনতন্ত্র" (পিডিএফ)https://ahlehadeethbd.com/। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন, ২০২৫ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এবং |তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য); |ওয়েবসাইট=-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  2. "Govt 'convinced' about Galib's release, acting Ahab chief claims"দ্য ডেইলি স্টার। ৩১ ডিসেম্বর ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০২১
  3. Riaz, Ali (২০১১)। "Islamist politics and education"। Political Islam and Governance in Bangladesh। Routledge। পৃ. ১২৯–১৩০। আইএসবিএন ৯৭৮-০৪১৫-৫৭৬৭৩-৪
  4. "আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ"ahlehadeethbd.org। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  5. "Leader claims Ahle Hadith has no militancy connection"দ্য ডেইলি স্টার। ১৫ আগস্ট ২০১৬।
  6. "নিষিদ্ধ হচ্ছে আরও সাত জঙ্গী সংগঠন"দৈনিক জনকণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  7. "মাঠে অর্ধশত জঙ্গী সংগঠন"দৈনিক জনকণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  8. "ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, সফল জঙ্গিবাদ উচ্ছেদ প্রকল্প ও আহলে হাদিস"bangla.bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  9. "'জঙ্গিদের ৯০ ভাগ আহলে হাদিস মতবাদি'"Barta24। ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  10. প্রতিবেদক, নিজস্ব (৩ নভেম্বর ২০১৬)। "সালাফি মতাদর্শী ব্যক্তিদের নিয়ে উত্থান জেএমবির"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  11. https://at-tahreek.com/article_details/920859

১১.https://ahlehadeethbd.org/

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]