স্ফুলিঙ্গ (ভাস্কর্য)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
স্ফুলিঙ্গ
স্ফুলিঙ্গ (শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্য)
স্ফুলিঙ্গ
শিল্পীকনক কুমার পাঠক
অবস্থানরাজশাহী

শহীদ শামসুজ্জোহার স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ শামসুজ্জোহা আবাসিক হলের মূল ফটকের পাশে একটি স্মৃতি স্মারক স্ফুলিঙ্গ নির্মাণ করা হয়।

অবস্থান[সম্পাদনা]

স্ফুলিঙ্গ (শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্য) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা আবাসিক হল প্রাঙ্গনে অবস্থিত।

আকার[সম্পাদনা]

১৫ ফুট উচ্চতা, ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এই ভাস্কর্যে শহীদ শামসুজ্জোহার ৩ ফুট উচ্চ আবক্ষ প্রতিকৃতি রয়েছে।[১] ৫ মে, ২০১২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান এটি উদ্বোধন করেন। তৎকালীন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মর্তুজা খালেদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক এস এম জাহিদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে একই বিভাগের প্রভাষক কনক কুমার পাঠক ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়।

স্থাপত্য তাৎপর্য[সম্পাদনা]

১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ১৯৬৬-এর ছয় দফা১১ দফা দাবিতে এবং শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। ২০ জানুয়ারি পাকিস্তানি পুলিশের গুলিতে মিছিল করা অবস্থায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা আমানুল্লাহ আসাদুজ্জামান শহীদ হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে হত্যা করা হয়।[২] এই দুটি হত্যাকান্ডে আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ওঠে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কেন্দ্রীয় সরকার সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে, সান্ধ্যকালীন আইন জারি করে। ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করার চেষ্টা করে। আন্দোলনকারী ছাত্ররা মিছিল বের করলে অনেক ছাত্রের জীবননাশের আশঙ্কা থাকায় প্রক্টর শামসুজ্জোহা নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন সেনাসদস্যদের। কিন্তু সেনাসদস্যরা তার কথা উপেক্ষা করে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।[৩]

শহীদ শামসুজ্জোহা হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

তার মৃত্যুর পরপরই তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার নামানুসারে নবনির্মিত আবাসিক হলের নামকরণ করেন শহীদ শামসুজ্জোহা হল এবং হলের মূল ফটকের পাশে একটি স্মৃতি স্মারক স্ফুলিঙ্গ নির্মাণ করা হয় ২০১২ সালে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "রাবিতে উন্মোচিত হলো 'স্ফুলিঙ্গ'"যায় যায় দিন। মে ৬, ২০১২। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১৭, ২০১৫ 
  2. তুহিন ওয়াদুদ (ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১১)। "ইতিহাসের আলোকে শহীদ শামসুজ্জোহা"দৈনিক প্রথম আলোঢাকা। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১৭, ২০১৫ 
  3. বাংলাপিডিয়া

আরও দেখুন[সম্পাদনা]