জয়নুল আবেদীন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জয়নুল আবেদীন
Zainul Abedin.jpg
জন্ম (১৯১৪-১২-২৯)ডিসেম্বর ২৯, ১৯১৪
কেন্দুয়া, বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু মে ২৮, ১৯৭৬(১৯৭৬-০৫-২৮) (৬১ বছর)
জাতিসত্তা বাঙালি
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারতীয় (১৯১৪-১৯৪৭)
পাকিস্তানী (১৯৪৭-১৯৭১)
বাংলাদেশী (১৯৭১-১৯৭৬)
যে জন্য পরিচিত চিত্রশিল্পী
ধর্ম মুসলিম

জয়নুল আবেদীন (জন্ম: ২৯ ডিসেম্বর, ১৯১৪ - মৃত্যু: ২৮ মে, ১৯৭৬) একজন বিখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী। তাঁর শৈল্পিক এবং দূরদর্শী বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি বাংলাদেশে শিল্পাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন।[১][২][৩] তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে- দুর্ভিক্ষ-চিত্রমালা, সংগ্রাম, সাঁওতাল রমণী, ঝড় এবং আরো অনেক ছবি। ১৯৭০ সালে গ্রাম বাংলার উৎসব নিয়ে আঁকেন ৬৫ ফুট দীর্ঘ তাঁর বিখ্যাত ছবি নবান্ন

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত জয়নুল আবেদিনের কবর

জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা তমিজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুলিশের দারোগা। মা জয়নাবুন্নেছা গৃহিনী। নয় ভাইবোনের মধ্যে জয়নুল আবেদিন ছিলেন সবার বড়। পড়াশোনার হাতেখড়ি পরিবারের কাছ থেকেই। খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি ছবি আঁকা পছন্দ করতেন। পাখির বাসা, পাখি, মাছ, গরু-ছাগল, ফুল-ফলসহ আরও কত কি এঁকে মা-বাবাকে দেখাতেন। ছেলেবেলা থেকেই শিল্পকলার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র ষোল বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে তিনি বন্ধুদের সাথে কলকাতায় গিয়েছিলেন শুধু মাত্র কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখার জন্য। কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখে আসার পর সাধারণ পড়াশোনায় জয়নুল আবেদিনের মন বসছিল না। তাই ১৯৩৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই স্কুলের পড়ালেখার বাদ দিয়ে কলকাতায় চলে যান এবং মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস-এ ভর্তি হন। তাঁর মা জয়নুল আবেদিন আগ্রহ দেখে নিজের গলার হার বিক্রি করে ছেলেকে কলকাতার তখন আর্ট স্কুলে ভর্তি করান। পরবর্তীতে ছেলে জয়নুল আবেদিনও মায়ের সেই ভালবাসার ঋণ শোধ করেছেন দেশের স্বনামধন্য শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে। জয়নুল আবেদিন ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে পড়েন। ১৯৩৮ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে প্রথমেই যার নাম বলতে হয় তিনি হলেন জয়নুল আবেদীন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে একটি শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুভূত হয়। জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালে পুরান ঢাকার জনসন রোডের ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুলের একটি জীর্ণ বাড়িতে মাত্র ১৮ জন ছাত্র নিয়ে গভর্নমেন্ট আর্ট ইন্সটিটিউটের যাত্রা শুরু হয়। জয়নুল আবেদীন ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রথম শিক্ষক। ১৯৫১ সালে এটি সেগুনবাগিচার একটি বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৫৬ সালে গভর্নমেন্ট আর্ট ইন্সটিটিউট শাহবাগে স্থানান্তর করার পর ১৯৬৩ সালে এটি একটি প্রথম শ্রেণীর সরকারি কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তখন এর নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় নামে এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় নামে। তিনি ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর এই সরকারি কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। জয়নুল আবেদীন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে লোকশিল্প জাদুঘর ও ময়মনসিংহে জয়নুল সংগ্রহশালা গড়ে তোলেন।

চিত্রশিল্প[সম্পাদনা]

জয়নুল আবেদীন ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার জন্য সারা বিশ্বের কাছে খ্যাত হয়েছেন। এ ছাড়াও তাঁর বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলো হল : ১৯৫৭-এ নৌকা, ১৯৫৯-এ সংগ্রাম, ১৯৬৯-এ নবান্ন, ১৯৭০-এ মনপুরা-৭০, ১৯৭১-এ বীর মুক্তিযোদ্ধা, ম্যাডোনা প্রভৃ‌তি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

জয়নুল আবেদীন ব্যক্তিগত জীবনে জাহানারা আবেদীনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।[৪]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

২০০৯ সালে, বুধ গ্রহের একটি জ্বালামুখ চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন সম্মানে আবেদীন নামে নামকরণ করা হয়।[৫]

গ্যালারি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Noor pays tribute to Shilpacharya Zainul Abedin"bssnews.netআসল থেকে ৬ জানুয়ারি ২০১৫-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৫ জানুয়ারি ২০১৬ 
  2. "‘Zainul’s devotion to art never bothered me,’ says Jahanara"Weekly Holiday (Dhaka: Holiday Publication Limited)। ২০১১-১২-১১। ২০১৬-০১-০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০১৬-০১-০৯ 
  3. "Pho Photography exhibition on Zainul's life begins at DU"Bdnews24.com (Dhaka)। ২০০৫-১২-২৮। ২০১৬-০১-০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০১৬-০১-০৯ 
  4. "Zainul Abedin's birth centenary event starts"The Daily Star। ২০ ডিসেম্বর ২০১৪। আসল থেকে ৫ জানুয়ারি ২০১৬-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৫ জানুয়ারি ২০১৬ 
  5. " United States Geological Survey. Abedin". Gazetteer of Planetary Nomenclature. 7 March 2011.