বিষয়বস্তুতে চলুন

মুনীর চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(মুনির চৌধুরী থেকে পুনর্নির্দেশিত)
মুনীর চৌধুরী
জন্মআবু নয়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী
(১৯২৫-১১-২৭)২৭ নভেম্বর ১৯২৫
মানিকগঞ্জ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১(1971-12-14) (বয়স ৪৬)
পেশানাট্যকার, প্রবন্ধকার
ভাষাবাংলা
জাতীয়তাব্রিটিশ ভারতীয়
নাগরিকত্বব্রিটিশ ভারত
শিক্ষাকলাবিদ্যায় স্নাতকোত্তর (ভাষাতত্ত্ব)
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানআলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
উল্লেখযোগ্য রচনারক্তাক্ত প্রান্তর, কবর
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারবাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২)
স্বাধীনতা পদক স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮০)
দাম্পত্যসঙ্গীলিলি চৌধুরী
সন্তানআহমেদ মুনীর
আশফাক মুনীর
আসিফ মুনীর
আত্মীয়ফেরদৌসী মজুমদার (বোন)
কবীর চৌধুরী (ভাই)

আবু নয়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী (২৭ই নভেম্বর, ১৯২৫ ১৪ই ডিসেম্বর, ১৯৭১) ছিলেন একজন বাঙালি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী, বাগ্মী ও বুদ্ধিজীবী। তাঁর রচিত কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রথম প্রতিবাদী নাটক। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের শিকার বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অন্যতম।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

[সম্পাদনা]

মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ই নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানাধীন গোপাইরবাগ গ্রামে। তিনি ছিলেন ইংরেজ আমলের একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খান বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরীর চৌদ্দ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। কবীর চৌধুরী তাঁর অগ্রজ, ফেরদৌসী মজুমদার তাঁর অনুজা। ১৯৪৯ সালে তিনি লিলি চৌধুরীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

ছাত্রজীবন

[সম্পাদনা]

মুনীর চৌধুরী ১৯৪১ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় (মাধ্যমিক স্তর) প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ১৯৪৩ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইএসসি পরীক্ষায় (উচ্চ-মাধ্যমিক স্তর) দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। অতঃপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে সম্মানসহ স্নাতক (১৯৪৬) ও স্নাতকোত্তর উপাধি (১৯৪৭) লাভ করেন, উভয় ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় শ্রেণীতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। বক্তৃতানৈপুণ্যের সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবনের প্রথম বছরেই, অর্থাৎ ১৯৪৩ সালে তিনি হলের সেরা বক্তা হিসেবে প্রোভোস্ট্‌স কাপ জেতেন।

১৯৪৬ সালে মুনীর চৌধুরী নিখিল বঙ্গ সাহিত্য প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক সংখ্যক পুরস্কার জেতেন। ছাত্রাবস্থাতেই এক অঙ্কের নাটক রাজার জন্মদিনে লিখেছিলেন, যা ছাত্র সংসদ মঞ্চস্থ করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেই মুনীর চৌধুরী বামপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন, যার ফলে তাঁর পরীক্ষার ফলাফল ব্যাহত হয়। বামপন্থী রাজনীতিতে অতিমাত্রায় সম্পৃক্ততার কারণে তাঁকে সলিমুল্লাহ হল থেকে বহিস্কার করা হয়। একই কারণে পিতার আর্থিক সাহায্য থেকেও তিনি বঞ্চিত হন। এসময় তিনি ঢাকা বেতার কেন্দ্রের জন্য নাটক লিখে অর্থোপার্জন করতেন। বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ‌১৯৪৭ সালের ৬ই ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যে প্রথম ছাত্রসভা হয়, তাতে তিনি বক্তৃতা প্রদান করেন।[]

পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পৃক্ততা

[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পরপরই ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিটির অধীনে পূর্ববঙ্গে (নববগঠিত পূর্ব পাকিস্তান) কাজকর্ম পরিচালনার জন্য একটি আঞ্চলিক (জোনাল) কমিটি গঠন করা হয়। এই জোনাল কমিটির সাত সদস্যের একজন ছিলেন মুনীর চৌধুরী। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে মুনীর চৌধুরী যোগদান করেন। একই বছরের শেষের দিকে তিনি প্রগতি লেখক সংঘের সম্পাদক নির্বাচিত হন।[]

শিক্ষকতা পর্ব

[সম্পাদনা]
স্ত্রী লিলির সাথে মুনীর চৌধুরী (১৯৫৭)

১৯৪৯ সালে মুনীর চৌধুরী খুলনার ব্রজলাল কলেজে ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি কিছুদিন বাংলাও পড়িয়েছিলেন। ঐ বছর মার্চে তিনি ঢাকায় এসে রাজনৈতিক তৎপরতার কারণে গ্রেপ্তার হন, তবে রাজনীতি না করার প্রতিশ্রুতিতে মুক্তি পান। একই বছর তিনি স্ত্রী লিলি মীর্জাকে বিয়ে করেন। ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং সে বছরই আগস্ট মাসে ইংরেজির অস্থায়ী প্রভাষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্তি লাভ করেন।

তবে তিনি রাজনীতি থেকে বেশি দূরে থাকতে পারেন নি। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে পুলিশের ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। ২৬শে ফেব্রুয়ারি শিক্ষকদের প্রতিবাদ সভা আহ্বান করতে গিয়ে গ্রেফতার হন ও তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ সময় প্রায় দুই বছর তিনি দিনাজপুর ও ঢাকার কারাগারে বন্দী জীবনযাপন করেন। ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১শে ফেব্রুয়ারি উৎযাপনের লক্ষ্যে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে কারাবন্দী অবস্থাতেই তিনি কবর নামের একাঙ্কিকাটি রচনা করেন।[] এর প্রথম মঞ্চায়ন হয় জেলখানার ভেতরে, যাতে কারাবন্দীরাই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। বর্তমানে কবর মুনীর চৌধুরীর লেখা শ্রেষ্ঠ নাটক হিসেবে খ্যাত।

সঙ্গী কারাবন্দী অধ্যাপক অজিত গুহের কাছ থেকে তিনি প্রাচীন ও মধ্য যুগের বাংলা সাহিত্যের পাঠ গ্রহণ করে। এরপর কারাগারে থেকেই তিনি ১৯৫৩ সালে বাংলায় কলাবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পর্বের প্রাথমিক পরীক্ষা দেন ও প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন।

১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসলে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৫৪ সালে নিরাপত্তা বন্দী থাকা অবস্থায় কলাবিদ্যায় স্নাতকোত্তর শিক্ষাক্রমের শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়ে তিনি কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে বাংলায় স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জন করেন।

১৯৫৪ সালের ১৫ই নভেম্বর মুনীর চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির অস্থায়ী প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের প্রচেষ্টায় সেই বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং আগস্ট মাসে সার্বক্ষণিক চাকুরি লাভ করেন। ১৯৫৬ সালের এপ্রিল মাসে তিনি বাংলার প্রভাষক হিসেবে চাকুরি স্থায়ী করেন। ১৯৫৬ সালের শেষ দিকে রকাফেলার বৃত্তি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ১৯৫৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জন করেন। সে বছর সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৬২ সালে অস্থায়ী রিডার (প্রভাষক) পদে নিযুক্ত হন।

১৯৬৯ সালে মুহম্মদ আবদুল হাই অকালে মৃত্যুবরণ করলে তাঁর স্থানে মুনীর চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পদে নিযুক্ত হন। ১৯৭০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত একটি ভাষাতাত্ত্বিক সম্মেলনে যোগ দিতে যান।

রাজনৈতিক জীবন

[সম্পাদনা]

মুনীর চৌধুরী ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন। বন্দী থাকা অবস্থায় তিনি তার বিখ্যাত নাটক কবর রচনা করেন (১৯৫৩)। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের যে কোন ধরনের সংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। ১৯৬৬ সালে রেডিওটেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান প্রচারে পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ করেন। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার বাংলা বর্ণমালাকে রোমান বর্ণমালা দিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নিলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময়ে সে আন্দোলনের সমর্থনে সিতারা-ই-ইমতিয়াজ খেতাব বর্জন করেন।[]

বাংলা টাইপরাইটার ও মুনীর অপ্‌টিমা

[সম্পাদনা]

মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম "মুনীর অপ্‌টিমা"। "অ্যান ইলাস্ট্রেটেড ব্রোশিওর অন বেঙ্গলি টাইপরাইটার" (বাংলা টাইপরাইটার সম্পর্কিত একটি সচিত্র পুস্তিকা, ১৯৬৫) শীর্ষক পুস্তিকায় তিনি তার পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন এবং এই নতুন টাইপরাইটার নির্মাণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকবার তৎকালীন পূর্ব জার্মানিতে যান।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদান

[সম্পাদনা]

মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা-সংস্কার কমিটির রিপোর্টের অবৈজ্ঞানিক ও সাম্প্রদায়িক বিষয়বস্তুর তীব্র সমালোচনা করে মুনীর চৌধুরী পূর্ববঙ্গের ভাষা কমিটির রিপোর্ট আলোচনা প্রসঙ্গে একটি দীর্ঘ ভাষাতাত্ত্বিক প্রবন্ধ লেখেন। ১৯৫৯ সালের ২৭শে এপ্রিল প্রবন্ধটি বাংলা একাডেমিতে পঠিত হয়। কিন্তু মুসলিম ধর্মবিশ্বাসে আঘাতের অভিযোগে সামরিক সরকারের কাছে তাকে কৈফিয়ৎ দিতে হয়। এরপর তিনি সাহিত্যে মনোনিবেশ করেন ও বেশ কিছু মৌলিক ও অনুবাদ নাটক লেখেন। অনেকগুলি প্রবন্ধের সংকলনও প্রকাশ করেন। মীর মানস (১৯৬৫) প্রবন্ধ সংকলনের জন্য দাউদ পুরস্কার এবং পাক-ভারত যুদ্ধ সম্পর্কে লেখা সাংবাদিকতাসুলভ রচনা-সংকলন রণাঙ্গন (১৯৬৬)-এর জন্য সিতারা-ই-ইমতিয়াজ উপাধি লাভ করেন। ১৯৬৭-৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাংলা বর্ণমালা ও বানান-পদ্ধতির সংস্কার প্রচেষ্টার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে প্রবন্ধ লেখেন এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ক বিতর্কে সক্রিয় অংশ নেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মৃত্যু

[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের মার্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুনীর চৌধুরী ফিরে আসার কিছুকাল পরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তার কিশোর ছেলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চলে যায়। এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশে মে-জুন মাসে ইংরেজি বিভাগের প্রধান হিসেবে এবং জুলাই মাস থেকে কলা অনুষদের প্রধান তথা "ডীন" হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর মুনীর চৌধুরীকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীদের সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁর বাবার বাড়ি থেকে অপহরণ করে ও সম্ভবত ঐ দিনই তাঁকে হত্যা করে।

উল্লেখযোগ্য রচনাবলি

[সম্পাদনা]
নাটক
  • রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এই নাটকটির মূল উপজীব্য। এতে তিনি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেন। নাটকটির জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
  • চিঠি (১৯৬৬)
  • কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন
  • দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬): একটি রূপকাশ্রয়ী নাটক
  • পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯)
  • মানুষ(১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
  • নষ্ট ছেলে(১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
  • দণ্ডকারণ্য(১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয় (দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য)
    মুনীর চৌধুরীর তুলনামূলক সমালোচনা গ্রন্থের প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ।
  • রাজার জন্মদিন(১৯৪৬)
  • চিঠি(১৯৬৬)
  • পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য(১৯৬৯)
অনুবাদ নাটক
প্রবন্ধ গ্রন্থ
  • ড্রাইডেন ও ডি.এল. রায় (১৯৬৩): পরে তুলনামূলক সমালোচনা গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত
  • মীর মানস (১৯৬৫)
  • রণাঙ্গন (১৯৬৬): সৈয়দ শামসুল হকরফিকুল ইসলামের সাথে একত্রে।
  • তুলনামূলক সমালোচনা (১৯৬৯)
  • বাংলা গদ্যরীতি (১৯৭০)
অন্যান্য
  • An Illustrated Brochure on Bengali Typewriter (1965)

১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমি থেকে আনিসুজ্জামানের সম্পাদনায় চার খণ্ডে মুনীর চৌধুরী রচনাবলি প্রকাশিত হয়। প্রথম খণ্ডে (১৯৮২) মৌলিক নাট্যকর্ম, দ্বিতীয় খণ্ডে (১৯৮৪) অনুবাদ নাট্যকর্ম, তৃতীয় খণ্ডে (১৯৮৪) সমালোচনামূলক গ্রন্থাবলি এবং চতুর্থ খণ্ডে (১৯৮৬) ছোটগল্প, প্রবন্ধ, পুস্তক সমালোচনা ও আত্মকথনমূলক রচনা প্রকাশিত হয়।

পুরস্কার ও সম্মাননা

[সম্পাদনা]
  • বাংলা একাডেমি পুরস্কার (নাটক), ১৯৬২
  • দাউদ পুরস্কার (মীর মানস গ্রন্থের জন্য), ১৯৬৫
  • সিতারা-ই-ইমতিয়াজ, ১৯৬৬ (১৯৭১ সালের মার্চ মাসে মুনীর চৌধুরী এটি বর্জন করেন)
  • স্বাধীনতা পুরস্কার (সাহিত্য), ১৯৮০
  • বাংলাদেশ মুজিবনগর কর্মচারী কল্যাণ সংসদ সম্মাননা স্মারক, ১৯৯২
  • ভাষা সৈনিক ও রাজবন্দী পরিষদ সম্মাননা স্মারক, ১৯৯৩
  • মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক সম্মাননা পরিষদ, ১৯৯৬
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সম্মাননা স্মারক, ২০১৮
  • ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ সম্মাননা স্মারক, ২০১৯

মুনীর চৌধুরীর ৯৫তম জন্মদিনে অনুসন্ধান ইঞ্জিন গুগল তাঁর স্মরণে আন্তর্জালে গুগলের ওয়েবসাইটে দিনব্যাপী একটি ডুডল (আঁকা চিত্র) প্রদর্শন করে।[][]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. আল হেলাল, বশীর (২০০৩), ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস (দ্বিতীয় মুদ্রণ সংস্করণ), ঢাকা: আগামী প্রকাশনী, পৃ. p ২০৯-২১৬, আইএসবিএন ৯৮৪-৪০১-৫২৩-৫ {{citation}}: |location= এবং |place= একাধিকবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে (সাহায্য); |pages=-এ অতিরিক্ত লেখা রয়েছে (সাহায্য)
  2. হোসেন, সেলিনা; ইসলাম, নুরুল, সম্পাদকগণ (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭)। "অনিল মুখার্জি" (ছাপা)বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান (পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত বিতীয় সংস্করণ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। পৃ. ২৯২-২৯৩। {{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: |chapter-format= এর জন্য |chapter-url= প্রয়োজন (সাহায্য); |সংগ্রহের-তারিখ= এর জন্য |ইউআরএল= প্রয়োজন (সাহায্য)
  3. জয়নুদ্দীন, মোহাম্মদ (২৩ নভেম্বর ২০০৫)। "কবর নাটকের স্বাতন্ত্র্য ও সাফল্য"। থিয়েটার৩৪ (২)। ঢাকা: ১৫৩–১৬২। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এর জন্য |ইউআরএল= প্রয়োজন (সাহায্য)
  4. ইমাম, জাহানারা (১৯৮৬)। একাত্তরের দিনগুলি। ঢাকা: সন্ধানী প্রকাশনী। পৃ. p২৬। আইএসবিএন ৯৮৪-৪৮০-০০০-৫
  5. "Google Doodle pays tribute to Munier Chowdhury on 95th birth anniversary"দিইন্ডিপেন্ডেন্টবিডি.কম (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০২০
  6. "munier chowdhurys 95th birthday"www.google.com। গুগল। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০২০

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]