আবুল কালাম শামসুদ্দীন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আবুল কালাম শামসুদ্দীন
জন্ম ৩ নভেম্বর, ১৮৯৭
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ৪ মার্চ, ১৯৭৮
বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশী
পুরষ্কার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৭০), একুশে পদক (১৯৭৬)

আবুল কালাম শামসুদ্দীন (৩ নভেম্বর, ১৮৯৭ - ৪ মার্চ, ১৯৭৮) ছিলেন একধারে একজন সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সাহিত্যিক। তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রারম্ভিক জীবন[উৎস সম্পাদনা]

তিনি ১৯১৯ সালে ঢাকা কলেজ হতে আইএ পাস করার পর কলকাতার রিপন কলেজে (অধুনা সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) বিএ শ্রেণীতে ভর্তি হন। কিন্তু ওই সময় (১৯২০-২১) খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তিনি তাতে যোগ দেন এবং বি.এ পরীক্ষা না দিয়ে কলকাতার গৌড়ীয় সুবর্ণ বিদ্যায়তন থেকে উপাধি পরীক্ষা (১৯২১) পাস করেন।

সাংবাদিকতা[উৎস সম্পাদনা]

১৯২৩ সালে দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতা চর্চা শুরু হয়। পরবর্তিতে তিনি ১৯২৪ সালে সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন। ১৯৩৬ সালে দৈনিক আজাদে যোগদান করে তিনি ১৯৪০-৬২ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ সালে প্রেস ট্রাস্ট অব পাকিস্তান পরিচালিত দৈনিক পাকিস্তানের সম্পাদক নিযুক্ত হন, তিনি ১৯৭২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।[১]

রাজনৈতিক জীবন[উৎস সম্পাদনা]

ছাত্রাবস্থায় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে প্রাণিত হয়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। পরিনত বয়েসে প্রথমে তিনি প্রচণ্ড পরিমাণে আইয়ুব খানের বিরোধী ছিলেন এবং ভাষা অন্দোলনেও সক্রিয় ভুমিকা রেখেছিলেন, কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তিনি পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

ভাষা আন্দোলনের সম্পৃক্ততা[উৎস সম্পাদনা]

ভাষা আন্দোলনে তার সম্পাদিত 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকা ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বাংলা ভাষার দাবি সংক্রান্ত সম্পাদকীয় প্রকাশ করতেন নিয়মিত। তিনি ২১ শে ফেব্রুয়ারির গুলিচালনার প্রতিবাদে পরের দিন আইনসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।

পুরস্কার[উৎস সম্পাদনা]

  • সিতারা-ই-খিদমত (১৯৬১);
  • সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৭; কিন্তু ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সরকারি দমননীতির প্রতিবাদে উভয় খেতাব বর্জন করেন);
  • বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৭০);
  • একুশে পদক (১৯৭৬)।

গ্রন্থাবলী[উৎস সম্পাদনা]

  • কচিপাতা
  • অনাবাদী জমি
  • ত্রিস্রোতা
  • খরতরঙ্গ
  • ইলিয়ড
  • পলাশী থেকে পাকিস্তান
  • অতীত দিনের স্মৃতি[২]

তথ্যসূত্র[উৎস সম্পাদনা]

  1. শহিদুল ইসলাম (জানুয়ারি ২০০৩)। "শামসুদ্দীন, আবুল কালাম"। in সিরাজুল ইসলামআবুল কালাম শামসুদ্দীনঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশআইএসবিএন 984-32-0576-6। সংগৃহীত জানুয়ারি ১৯, ২০১৬ 
  2. সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম সম্পাদিত; বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান; দ্বিতীয় সংস্করণ: ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭; পৃষ্ঠা: ৫৩, ISBN 984-07-4354-6

বহিঃসংযোগ[উৎস সম্পাদনা]