বাড়িয়া গণহত্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাড়িয়া গণহত্যা
বাড়িয়া গণহত্যা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
বাড়িয়া গণহত্যা
স্থানবাড়িয়া, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ
তারিখ১৪ মে ১৯৭১ (ইউটিসি+৬:০০)
লক্ষ্যবাঙ্গালী হিন্দু
হামলার ধরনগণহত্যা
ব্যবহৃত অস্ত্ররাইফেল
নিহত২০০
আহত১০০
হামলাকারী দলপাকিস্তান সেনাবাহিনী

বাড়িয়া গণহত্যা হল ১৯৭১ সালের ১৪ই মে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের বর্তমান গাজীপুর সদর উপজেলার বড়িয়া গ্রামে নিরস্ত্র বাঙালি হিন্দুদের উপর পরিচালিত নির্মম গণহত্যা।[১][২][৩] এই গণহত্যায় বাড়িয়া এবং নিকটবর্তী কামারিয়া থেকে প্রায় ২০০ বাঙালি হিন্দু নিহত হয়, এবং আরও কয়েক শতাধিক আহত হয়।

পটভূমি[সম্পাদনা]

বাড়িয়া গ্রামটি ঢাকা জেলার জয়দেবপুর মহকুমার অন্তর্গত। বর্তমানে এটি ঢাকা বিভাগের গাজীপুর জেলার অধীনে আসে। এটি গাজীপুরের ভাওয়াল এস্টেটের প্রাসাদ থেকে ৮ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। ১৯৭১ সালে, বাড়িয়া প্রায় একচেটিয়াভাবে হিন্দু জনবসতিপূর্ণ গ্রাম ছিল।[১] পাকিস্তান সেনাবাহিনী ২৫ শে মে অপারেশন সার্চলাইট চালু করে। তারা ভাওয়াল এস্টেটে সেনানিবাস স্থাপন করেছিল।

হত্যাকাণ্ড[সম্পাদনা]

১৪ মে ১ টার দিকে বিকেলে সহযোগী আউয়াল, হাকিম উদ্দিন এবং মজিদ মিয়া সেনাবাহিনী নিয়ে ভাওয়াল এস্টেটে বাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ৫০০ পাকিস্তানি সেনার একটি দলকে নেতৃত্ব দেয়।[১] গ্রামে প্রবেশের পরে সেনারা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্রামবাসীদের উপর গুলি চালায়। অনেকে ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং অন্যরা গুরুতর আহত হন। অপরাধীরা বাড়িঘর লুট করে নিয়ে যায় এবং বেশিরভাগকে আগুন ধরিয়ে দেয়। গ্রামের কয়েকজন বেলাইয়ের বিল পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। সেনারা তাদের উপর গুলি চালায়। পালিয়ে আসা গ্রামবাসীদের জিনিসপত্র পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং সহযোগীরা লুট করে নিয়ে যায়। সেনাবাহিনী বেলাই বিলে একটি পানির পাম্পকে কামান ভেবে ভুল করে গুলি চালায়।

এই মহাপ্রলয় থাকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত। বেলা সাড়ে সাতটার দিকে সেখানে ভারী বর্ষণ হয়। নির্বিচারে গোলাগুলির ঘটনায় বাড়িয়ায় ও কামারিয়ার প্রায় ২০০ গ্রামবাসী মারা যায়, যার মধ্যে নারী ও শিশুরাও মারা যান।[১] বন্দুকযুদ্ধে কয়েকশ মানুষ আহত হয়।

যুদ্ধের পর বাড়িয়া ও কামারিয়া গ্রাম ১৫১ জন শহীদের তালিকা করা হলেও শহীদদের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। জয়দেবপুরের রাজবাড়িতে ক্যান্টনমেন্ট থাকায় পাকিস্তানি বাহিনী সহজেই তিতারকুল দিয়ে চিলাই নদী পার হয়ে বাড়িয়াতে হত্যাযজ্ঞ চালাতে পেরেছে। দুপুর একটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনী তা-ব লীলা চালায় বাড়িয়া ও কামারিয়া গ্রামের অধিবাসীদের ওপর। সেদিন রাত্র সাড়ে সাতটার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছিল। জয়দেবপুর ভাওয়াল রাজবাড়ি ক্যান্টনমেন্ট থেকে বাড়িয়া গ্রামের দূরত্ব ছিল আট কিলোমিটার। পাকিস্তানি বাহিনী আসার কথা শুনে গ্রামবাসীর অনেকেই বাড়ি থেকে পালিয়ে বিলে নেমে যায়। কচুরিপানার মধ্যে শুধু মাথাটা বের করে দিয়ে কোনরকমে লুকিয়ে ছিল। এর মধ্যে পাকিস্তানি বাািহনী গুলি করে। গুলিতে সেখানেই অনেকেই মারা যায়।

ভবিষ্যৎ ফল[সম্পাদনা]

বাড়িয়ায় সেনাবাহিনীর হাতে নিধনের খবর যখন আশেপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে, হিন্দুরা গ্রামগুলি ছেড়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় পালিয়ে যায়।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. রহমান, মোঃ মুজিবুর (১৪ মে ২০১৪)। "বাড়িয়া গণহত্যা দিবস ॥ একটি স্মৃতিস্তম্ভ চাই"দৈনিক জনকণ্ঠ। ৬ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৪ 
  2. "গাজীপুরের বাড়িয়া গণহত্যা দিবস আজ"যুগান্তর। ঢাকা। ১৪ মে ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৪ 
  3. "বাড়িয়া গণহত্যা দিবস আজ"দৈনিক ইত্তেফাক। ঢাকা। ১৪ মে ২০১৪। ১৮ মে ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৪