ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীকে কোনো না কোনো হলের সাথে আবাসিক/অনাবাসিক ছাত্র-ছাত্রী হিসেবে যুক্ত থাকতে হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য ১৪ টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৫ টি আবাসিক হল রয়েছে। এছাড়া চারুকলা অনুষদব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা হোস্টেল এবং বিদেশী ছাত্রদের জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস।

পরিচ্ছেদসমূহ

আবাসিক হলসমূহ[সম্পাদনা]

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল[সম্পাদনা]

১৯২১ সালে এই হলের যাত্রা শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথেই। এর মূলভবন তৈরি হয় বিশের দশকের শেষের দিকে। এই হলের প্রথম প্রোভোস্ট ছিলেন অধ্যাপক এ এফ রাহমান। এই হলের প্রথম নাম ছিল মুসলিম হল, কিন্তু পরবর্তীতে ঢাকা নবাব নবাব স্যার সলিমুল্লাহের নামে এই হলের নামকরণ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় দশ বছর পর নওয়াব স্যার সলিমুল্লার মৃত্যুবার্ষিকির অনুষ্ঠানে তার নামে একটা ছাত্রাবাস করার প্রস্তাব করা হয়। মুসলিম ছেলেদের জন্য তখন হল তৈরি হয়ে গেছে। প্রথমে এ হল ছিল এখনকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিল্ডিংএ। আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দি বললেন এই হলকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল করা হোক। এর পর বর্তমান সলিমুল্লাহ মুসলিম হল নির্মাণ করা হয় এবং সলিমুল্লার নামে নামকরণ করা হয়[১]

ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ হল[সম্পাদনা]

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল
মুসা খাঁ মসজিদ
শহীদুল্লাহ হলের পুকুর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হল। প্রথমে এই হলের নাম ছিল ঢাকা হল। ১৯৬৯ সালে এশিয়ার বিখ্যাত পণ্ডিত, জ্ঞানতাপস ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহের নামানুসারে এই হলের নাম করণ করা হয় শহীদুল্লাহ্‌ হল।পরে ১৭ জুন, ২০১৭ তারিখে এই হলের নাম ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল করা হয়।[২] এ হলে মোট ছয়টি ভবন রয়েছে। একটি তিন তলা আভিজাত মূল ভবন, যেটি কার্জন হলের নকশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়াও ৫ তলা বিশিষ্ট দুটি বর্ধিত ভবন। মোট আবাসিক ও দ্বৈতাবাসিক ছাত্রে সংখ্যা প্রায় ১০৯৫ জন। এই হলে আনোয়ারুল আজিম ভবন নামে একটি ভবন রয়েছে যেটিতে রয়েছে ছাত্রদের ডাইনিং রুম, ক্যান্টিন, ২ টি ইনডোর গেমস্‌ (টেবিল টেনিস, ক্যারোম) রুম, একটি টিভি রুম,ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ হল ডিবেটিং ক্লাব রুম, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব অব ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ হল রুম, বাঁধন (স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন) রুম, একটি কনফারেন্স রুম, একটি রিডিং রুম, একটি নিউজ পেপার রুম। আর আছে একটি মেস ভবন যার উপর তলায় হলের সুদৃশ্য মসজিদ। এই হলের প্রশাসনিক ভবন লিটন হল নামে পরিচিত। আরো রয়েছে একটি লন্ড্রি, সেলুন এবং একটি কারপেন্টার হাউজ।

পুরো হল জুড়েই মনোমুগ্ধকর বাগান তৈরি করেছে একটি সুন্দর পরিবেশ। হলের মাঝখানে একটি বহুমুখী খেলার মাঠ রয়েছে। হলের সামনের বিশাল পুকুর এর অনন্য বৈশিষ্ট। ১৯৫২ সালে এই পুকুর ঘাটে বসেই ১৪৪ ধারা ভেঙে ভাষা আন্দোলনের মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৭১ সালের মার্চ ২৫ রাতে এই হলের পাশেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। যার ফলে ক্ষিপ্ত পাক সেনারা সর্বপ্রথম হত্যাকাণ্ডটি চালায় এই হলে ঢুকে। সেই রাতে বর্বর পাক সেনাদের হাতে খুন হন এ হলের আবাসিক শিক্ষক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আতাউর রহমান খান খাদিম সহ আরো অনেকে।

শহীদুল্লাহ হল এলাকার পূর্বের নাম ছিল বাগ-এ-মুসা খাঁ। এটি বারো ভূইয়াঁর অন্যতম ভূইয়াঁ ঈসা খাঁর পুত্র মুসা খাঁয়ের নামে নামাঙ্করণ করা হয়। মুসা খাঁ সুবেদার ইসলাম খাঁয়ের নিকট যুদ্ধে হেরে যাবার পর যুদ্ধাবন্দী হিসেবে আটক ছিল। তবে সুবেদার ইসলাম খাঁ তার প্রতি বেশ সহৃদয় ছিল। হাকিম হাবিবুর রহমানের মতে এটি একটি বাগান ছিল যা মুসলিম বাগান হিসেবেও বিখ্যাত ছিল। সেই সময়ের নিদর্শন হিসাবে রয়েছে মুসা খাঁয়ের মসজিদ, এবং সমাধি।

জগন্নাথ হল[সম্পাদনা]

অক্টোবর স্মৃতি ভবন, জগন্নাথ হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু তথা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান সম্প্রদায়সহ আদিবাসী ছাত্রদের জন্য সংরক্ষিত বিশেষ হল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম যে তিনটি হল নিয়ে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ হল তার একটি।

১৯৮৫ খ্রীস্টাব্দের ১৫ অক্টোবর প্রাচীন জগন্নাথ হলের একটি আবাসিক ভবনের ছাদ ধ্বসে পড়লে সংঘটিত হয় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারায় ৩৯ জন ছাত্র, কর্মচারী ও অতিথি। এরপর থেকেই সাংবার্ষিকভিত্তিতে ঐ দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। নিহতদের স্মরণে নির্মিত হয় অক্টোবর স্মৃতি ভবন ও স্মৃতিসৌধ।

ফজলুল হক মুসলিম হল[সম্পাদনা]

ফজলুল হক মুসলিম হল

অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এ কে ফজলুল হকের নামানুসারে হলের নামকরণ করা হয় ফজলুল হক হল। ১৯৪০ সালের ১ জুলাই ৩৬৩ জন ছাত্র নিয়ে শুরু হয় এই হলের যাত্রা। [৩] মূল ভবনের পাশাপাশি এর একটি বর্ধিত ভবন রয়েছে যা দক্ষিণ ভবন নামে পরিচিত। আবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৭৬৬ জন এবং অনাবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৯৯৭ জন। অধ্যাপক ড. অলীউর রহমান এই হলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্টের দায়িত্ব পালন করছেন।[৪]

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল[সম্পাদনা]

প্রথমে এ হলের নাম ছিল ইকবাল হল১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানীদের গুলিতে নিহত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৩৫জন আসামীর অন্যতম শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল। আবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৭৫০ জন এবং অনাবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ১৬২৩ জন।[৫]

রোকেয়া হল[সম্পাদনা]

চামেলি হাউজে মাত্র ১২ জন নারী শিক্ষার্থী নিয়ে ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আবাসিক নারী শিক্ষার্থী হল হিসাবে যাত্রা শুরু হয় রোকেয়া হলের। ১৯৬৪ সালে এর নামকরণ করা হয় "রোকেয়া হল" নামে, মূলত বেগম রোকেয়া ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশ এর নারী জাগরণের অগ্রদূত। মিসেস আক্তার ইমাম ছিলেন এই হলের প্রথম প্রভোস্ট। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনা ও দালালদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তৎকালীন আবাসিক ছাত্রীরা। বাংলাদেশের ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে রোকেয়া হলের ছাত্রীরা সক্রিয় আন্দোলনের মাধ্যমে সাহসী ভূমিকা পালন করেছে।

বর্তমানে এই ছাত্রীহলে তিন সহস্রাধিক ছাত্রীর আবাস। স্নাতক সম্মান শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে চারটি ভবন: শাপলা (প্রধান), চামেলী(নতুন), সূর্যমুখী(বর্ধিত) এবং ৭মার্চ ভবন। স্নাতকোত্তর এবং এমফিল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি ভবন- ফয়জুন্নেসা ভবন।

সাত মার্চ ভবনটি ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং উদ্বোধন করেন।

এছাড়া হল সংলগ্ন স্থানেই রয়েছে প্রভোস্ট বাংলো এবং আবাসিক শিক্ষিকাদের বাসভবন। প্রতিবছর মেধাবী শিক্ষার্থীদের রোকেয়া হল কর্তৃপক্ষ "রোকেয়া স্বর্ণপদক" প্রদান করেন।

[৬]

মাস্টারদা সূর্যসেন হল[সম্পাদনা]

মাস্টারদা সূর্যসেন হল ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এই আবাসিক হলের নাম ছিল জিন্নাহ হল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী সূর্য সেনের নামানুসারে এই হলের নামকরণ করা হয়। ছয়তলা এই হলে ছাত্রদের বসবাসের জন্য রয়েছে প্রায় ৫০০টি কক্ষ। এছাড়াও রয়েছে একটি মসজিদ, একটি পাঠ কক্ষ, একটি গ্রন্থাগার, একটি মিলনায়তন ও খেলাধুলার কক্ষ, অতিথি কক্ষ, কম্পিউটার ল্যাবরেটরি এবং তিনটি খাবার কেন্টিন। হলের বর্তমান প্রধ্যাক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন অধ্যাপক ড. মকবুল আহমেদ । আবাসিক ভবনের মাঝখানে রয়েছে একটি ফুলের বাগান এবং একটি কৃত্রিম জলাধার ও ফোয়ারা। উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে একটি শহীদ মিনার ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এই হলের শহীদ ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দের স্মরণে নির্মিত ভাষ্কর্য স্মৃতির জানালা। হলটির অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাবসায় শিক্ষা অনুষদের ১০০ মিটার উত্তর পশ্চিমে। এর পাশেই রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাশাসনিক ভবন।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠা ১ জানুয়ারি ১৯৬৭। বর্তমান আবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৬০০, দ্বৈতাবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৮২০ এবং অনাবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৮৯০। হলের পাশে একটি মাঠ রয়েছে। এই হলে দুটি রিডিং রুম ও একটি লাইব্রেরি (গিয়াস উদ্দিন পাঠাগার), একটি ডাইনিং (আলমগিরের ক্যান্টিন)ও একটি মেস(ফয়োটস এন্টারটেইনমেন্ট) রয়েছে। আছে একটি টিভি রুম ও একটি গেমস রুম।

এই হলের ৫৬৪ নাম্বার কক্ষে বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত লেখক হুমায়ুন আহমেদ থাকতেন। এখানে বসেই তিনি তার অনেক বিখ্যাত বই লিখেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এই হলে থাকতেন।

শামসুন নাহার হল[সম্পাদনা]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ছাত্রী হল। বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও কবি শামসুন নাহার মাহমুদের নামে এই হলের নামকরণ করা হয়।

কবি জসীম উদ্ দীন হল[সম্পাদনা]

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালে পল্লীকবি জসীম উদ্ দীন এর নামে এই হলের নামকরণ করা হয়।হলটিতে রয়েছে৫তলা বিশিষ্ট দুইটি সংযুক্ত ভবন।হলটিতে দুইটি রিডিং রুম,একটি টিভি রুম,একটি পেপার রুম, একটি গেমস রুম, কেন্টিন ও মেস আছে,।এছাড়া নিচতলায় মসজিদ,ডিবেটিং ক্লাব এবং স্বেচ্ছা রক্তদানের সংগঠন বাঁধনেরও কার্যক্রম রয়েছে। হলের পাশে রয়েছে একটি খেলার মাঠ এবং সামনের অংশে রয়েছে মনোরম ফুল বাগান।

হলের বিশেষ আকর্ষণ একসারি দোকান যেগুলোর গ্রহনযোগ্যতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী বিশেষ করে ছাত্রীদের কাছে সন্দেহাতীত ভাবে প্রচন্ড। মনোরম ও নিরিবিলি পরিবেশের জন্য হলটি সকলের কাছে পরিচিত।

বর্তমান আবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৩৮৭ এবং অনাবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৭৮৯।

স্যার এ. এফ. রহমান হল[সম্পাদনা]

১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হলটির নামকরণ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি ভিসি এবং বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আহমেদ ফজলুর রহমান- এর নামে। আবাসিক/দ্বৈতবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৯৯২ জন ও অনাবাসিক সংযুক্ত ছাত্র সংখ্যা ৮৯৫ জন। হলটির অবস্থান নীলক্ষেত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল[সম্পাদনা]

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবিটি আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগের দোতলা থেকে তোলা। (০৯/০২/২০১৯)

১৯৮৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে এ হলের নামকরণ করা হয়। এ হলে আবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৪৮৪ জন এবং অনাবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৩৭৫২ জন। হলটি জাতির পিতার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য নামকরণ করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল[সম্পাদনা]

১৯৮৮ সালে মরহুম রাষ্ট্রপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদ জিয়াউর রহমানের নামানুসারে হলের নামকরণ করা হয়। এ হলের আবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ১২০৫ জন এবং অনাবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৩৭৫২ জন।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে নিউ মার্কেটর পিছনে বিজিবি ৩নং গেইটের মধ্যবর্তী এলাকাতে এই হল অবস্থিত। এই হলের পাশেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনিষ্টিটিউট অবস্থিত।

স্যার ফিলিপ হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল[সম্পাদনা]

১৯৬৬ সালে আন্তর্জাতিক হোস্টেল নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০২ সালে এটি ছাত্রাবাসে উন্নিত হয়। এ হলে ৩৬ জন বিদেশি ছাত্র আছে। এছাড়া এ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন তরুণ শিক্ষকের আবাসিক ব্যব্যস্থা আছে।

অমর একুশে হল[সম্পাদনা]

২০০১ সালে এই হলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আবাসিক ছাত্র সংখ্যা ৪২৫ জন এবং অনাবাসিক ৩৭০ জন।

বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল[সম্পাদনা]

বিজয় একাত্তর হল[সম্পাদনা]

৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম, মনোরম স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ হলটি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৃহত্তম হল। হলটির অবস্থান মাস্টারদা সূর্যসেন হল এবং জিয়া হলের মাঝামাঝি স্থানে।

২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নতুন হল উদ্বোধন করেন। এই হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টুইন-টাওয়ার ও অসাম্প্রদায়িক হল বলে খ্যাত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে ও সকল সম্প্রদায়ের মানুষের আত্মোৎসর্গের কথা স্মরণ করে সবার জন্য এই হল উন্মুক্ত। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই হলে সব ধর্মের ও বর্ণের ছাত্ররা থাকতে পারেন।

এ হলের তিনটি ব্লকের নাম বাংলাদেশের প্রধান ৩টি নদী যথাক্রমে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নামে নামকরণ করা হয়েছে। হলটিতে ছাত্রদের জন্য চারটি লিফট, একটি সুসজ্জিত গেস্টরুম, একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, দুটি পাঠকক্ষ, একটি কম্পিউটার ল্যাব, একটি কাউন্সেলিং রুম, হল সংসদ কক্ষ (স্থাপিত ২০১৯), একটি সেলুন, একটি সুবিশাল হল অডিটোরিয়াম ও দূরদর্শন কক্ষ, বাঁধনের হল শাখার রুম, একটি ইনডোর গেমসরুম (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় গণরুম নামে খ্যাত), একটি অত্যাধুনিক জিমনেশিয়াম, একটি পত্রিকা পাঠকক্ষ, একটি পাঠাগার ও একটি বিশাল মসজিদ রয়েছে।

কবি সুফিয়া কামাল হল[সম্পাদনা]

কবি সুফিয়া কামালের নাম অনুসারে এই হলের নাম করন করা হয়। হলে আবাসন সংখ্যা ১,৪০০। দুটি ১০ তলা ভবন প্রদীপ্ত ও প্রত্যয়। এই হলে রয়েছে একটি ক্যান্টিন, লাইব্রেরি, পড়ার কক্ষ ও মেয়েদের পার্লার।

ছাত্রাবাস[সম্পাদনা]

আই.বি.এ. হোস্টেল[সম্পাদনা]

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকাতে এই হোস্টেল অবস্থিত। ব্যবসায়ে প্রশাসন ইনিষ্টিটিউট বা আই বি এর ছাত্রদের জন্য এই হোস্টেল।

শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাস[সম্পাদনা]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ. এফ. রহমান হলের বর্ধিতাংশ হিসেবে নিউ মার্কেট বিপণী বিতানের পিছনে এই ছাত্রাবাসের অবস্থান।

ডঃ কুদরত-ই-খুদা ছাত্রাবাস[সম্পাদনা]

ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি এর ছাত্রদের জন্য এই ছাত্রাবাসটি। এটি হাজারীবাগে উক্ত ইনস্টিটিউটের পাশে অবস্তিত।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছাত্রী নিবাস[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. ়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ, অধ্যাপাক আব্দুর রাজ্জাকের আলাপচারিতা,সরদার ফজলুল করিম। পৃষ্ঠা-১৭
  2. "শহীদুল্লাহ হলের নাম পরিবর্তন"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৯-০৫ 
  3. "ফজলুল হক মুসলিম হল"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৫ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ২৭, ২০১৪ 
  4. "ফজলুল হক মুসলিম হল"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১২ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১৪, ২০১৮ 
  5. "University of Dhaka || the highest echelon of academic excellence"www.du.ac.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৪-১৮ 
  6. "রোকেয়া হল"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৫ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ২৭, ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমুহ