শহীদ স্মৃতিসৌধ
| শহীদ স্মৃতিসৌধ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া | |
|---|---|
শহীদ স্মৃতিসৌধ, ইবি | |
| সাধারণ তথ্যাবলী | |
| স্থাপত্যশৈলী | আধুনিক স্থাপত্য |
| অবস্থান | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কুষ্টিয়া জেলা |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| নির্মাণ শুরু | ৫ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ |
| উদ্বোধন | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০১ |
| নির্মাণব্যয় | ৭০ লক্ষ টাকা |
| স্বত্বাধিকারী | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া |
| উচ্চতা | ৭১ ফুট (২১.৬৪ মিটার) |
| কারিগরি বিবরণ | |
| উপাদান | লাল ইট, পাথর, সিমেন্ট |
| নকশা ও নির্মাণ | |
| স্থপতি | হাশেম খান, মুনতাসীর মামুন ও স্থপতি রবিউল ইসলাম |
| পরিচিতি | বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ |
শহীদ স্মৃতিসৌধ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের সম্মান ও স্মৃতি স্মরনার্থে নির্মিত একটি স্থাপত্য।[১][২] ভাস্কর্যটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে ২০০১ সালে নির্মাণ করা হয়। চিত্রশিল্পী হাশেম খান, লেখক মুনতাসীর মামুন ও স্থপতি রবিউল ইসলাম কর্তৃক প্রণীত মডেল ও স্থাপনা কর্মের ভিত্তিকে এটি নির্মিত করা হয়।[৩][৪][৫] এই স্মৃতিসৌধটি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উচু শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। ভাস্কর্যটি নির্মাণে সেই সময়ে ৭০ লক্ষ টাকা লেগেছিলো।
অবস্থান
[সম্পাদনা]স্থাপত্যটি কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানায় অবস্থিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত। প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করেই হাতের বাম দিকে অবস্থিত, শহীদ স্মৃতিসৌধের পাশেই অবস্থিত একটি ঝর্ণা ও তার পাশে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।[৬][৭]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৯৯৯ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তিতে ২০০১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেক এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। ২০২২ সালের স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে আওয়ামীপন্থি দুইটা শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিট একে অপরের সাথে মারামারিতে জড়িয়ে পরে, প্রায় ২০ মিনিট ধরে হাতাহাতি হয়,[৮] ঘটনাটি নানামহল থেকে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়।[৯] এছাড়াও একই বছরের বিজয় দিবসে বেদিতে ফুল দিতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মচারীগণ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন।[১০]
আকার
[সম্পাদনা]স্থাপত্যটির মূল বেদী ৩ ফুট ৯ ইঞ্চি থেকে ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি পর্যন্ত রয়েছে। এর উপরে ৭১ ফুট উঁচু লাল রঙের ইটের খিলানের মত করে চত্বর রয়েছে। মূল বেদির উপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়ে থাকে।[১১] মূল বেদির মাঝখানে ২১ ফুট উচ্চতার জাতীয় পতাকার দণ্ড রয়েছে। স্থাপত্যের দুই পাশে ১০ ফুট উচ্চতার, ৩৮ ফুট ৬ ইঞ্চি প্রশস্ত নিয়ে দেয়ালচিত্র রয়েছে।[৩]
স্থাপত্য তাৎপর্য
[সম্পাদনা]ভাস্কর্যটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মূলধারার যত আন্দোলন হয়েছে, সেইসব স্মৃতিচারণ ও সেই সকল বিপ্লবীদের স্মরণ করতে নির্মিত হয়েছে। স্থাপত্যটির দেয়াল চিত্রে মুক্তিকামি মানুষদের বিদ্রোহী বাক্যলাপ গুণী ব্যাক্তিদের কণ্ঠে বর্ণিত হয়েছে।[৫][১২] আর দেয়ালদুটিতে মাছ, পাখি, একতারা, শাপলাসহ বিভিন্ন ফুল ও পাতার নকশা দেয়ালচিত্রে অঙ্কিত রয়েছে যা এদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে।[১৩]
দেয়াল চিত্র
[সম্পাদনা]দেয়ালচিত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ, মীর মশাররফ হোসেন, পাগলা কানাই ও শেখ মুজিবুর রহমানের বাণী খোদিত রয়েছে।
| “ | বাংলার মানুষ বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছে তারা বীরের জাতি।
তারা নিজেদের অধিকার অর্জন করে মানুষের মত বাঁচতে জানে |
” |
| “ | তোমরা ভয় দেখিয়ে করছ শাসন, জয় দেখিয়ে নয়,
সেই জয়ের টুটিই ধরব টিপে, করব তারে লয় |
” |
| “ | সব লোকে কয়-লালন কি জাত সংসারে,
লালন বলে জাতের কি রূপ দেখলাম না এ নজরে |
” |
| “ | শত রঙ্গের দেখিরে গাভী, এবা রঙ্গের দুধ গো দেখি।
তবে কেন ত্রিজগতে মানবিচ করত্যাচি |
” |
| “ | বাংলা ভাষায় যাহার ভক্তি নাই, সে মানুষ নহে | ” |
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- শহীদ স্মৃতিসৌধ, সততা ফোয়ারা ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব একত্রে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
- ডায়না চত্ত্বর
- ড্রোন ক্যামেরায় ইবি স্মৃতিসৌধ
- দেয়াল লিখন ১
- দেয়াল লিখন ২
- দেয়াল লিখন ৩
- দেয়াল লিখন ৪
- দেয়াল লিখন ৫
- দেয়াল লিখন ৬
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ মাহিমা হিমা, উম্মে (৯ জানুয়ারি ২০২৬)। "ইবির শহীদ স্মৃতিসৌধ যেন ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী"। bonikbarta.com। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০২৬।
- ↑ "কুষ্টিয়া জেলা- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া"। সরকারী ওয়েবসাইট। ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২১।
- 1 2 "স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শন ইবি'র শহীদ স্মৃতিসৌধ"। www.bd24live.com। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২১।
- ↑ "ইবির ভাস্কর্যে ৭১'র স্মৃতি"। bn.voicetv.tv। ৪ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২১।
- 1 2 "চেতনার প্রতীক ইবির স্মৃতিসৌধ"। রাইজিংবিডি.কম। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২১।
- ↑ "ইবি'তে ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধ"। barta24.com। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২১।
- ↑ "ইবি'র শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ সড়কের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন"। campuslive24.com। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২১।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে ইবি শিক্ষকদের হাতাহাতি"। banglanews24.com। ২৬ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ইবি শিক্ষকদের হাতাহাতি"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "ফুল দেয়া নিয়ে ইবিতে ছাত্রলীগ-কর্মচারী মারামারি"। Dhakatimes News। ১৬ ডিসেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "ইবিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত"। banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২১।
- ↑ "ইবিতে ঝিমিয়ে পড়েছে ছাত্র রাজনীতি"। সমকাল। ৩ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২১।
- ↑ "ইবির ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধ"। জাগো নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২১।