দাঁশায় উৎসব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দাঁশায়
অন্য নামদাঁশায়
পালনকারীসাঁওতাল ও অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়
ধরনহিন্দু উৎসব
শুরুআশ্বিন মাস
সংঘটনবার্ষিক
সম্পর্কিতশারদীয়াদুর্গাপূজা

দাঁশায় উৎসব হলো প্রকৃতি দেবী দুর্গার উপাসনাকে কেন্দ্র করে প্রকৃতি উপাসক সাঁওতাল ও অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত একটি উৎসব।

উৎসবের প্রকৃতি[সম্পাদনা]

দাঁশায় উৎসব সম্পুর্ণরূপে "কৃষিভিত্তিক ও প্রকৃতি বন্দনার উৎসব"। অনেকে এটাকে যুদ্ধের কাহিনী বা হুদুড় দুর্গা কিস্কুর লড়াইয়ের কাহিনী বলে ভুল প্রচার করে। দাঁশায় একটি যুদ্ধের উৎসব বলে যে প্রচার চলে তার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তা সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।সাঁওতালরা প্রকৃতি উপাসক। তাঁদের প্রত্যেকটি উৎসবেই নানা ভাবে প্রকৃতি বিভিন্ন শক্তির আরাধনা করা হয়। দীর্ঘ খরা বা অনাবৃষ্টির পর জলের আশায় প্রকৃতি দেবীকে পুজা ও সন্তুষ্ট করে আহ্বান করাই দাঁশায় উৎসবের মুল উদ্দেশ্য। আর "হুদুড়" বা "হুডুর" শব্দটা মেঘের সাথে তুলনা করা হয়। হুডুর বিজলী, হুদুড় হুদুড় হয় ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়। দাঁশায় উৎসবের প্রথম গানটির মধ্যে শুনলেই তার উল্লেখ রয়েছে

"হায়রে হায়রে অকয় যাপে জুঁডিয়াদা দেশ দ অকয় যাপে আতার আদা দিশম দ দেশ দরে ল-লাটিচ এন দ দিশম দরে হাসায় ডিগিরেন ঠাকুর গেচয় জুঁডিয়াদা দেশ দ ঠাকুর গেচয় আতার আদা দিশম দ হায়রে হায়রে দেশ দরে ল-লাটিচ এন দ দিশম দরে হাসায় ডিগিরেন দেশে ঠাকুর জৗডি মেসে দা: দ দেশে ঠাকুর জারগে মেসে জাপুদ দ দেশ দরে ল-লাটিচ এন দ দিশম দরে হাসায় ডিগিরেন"।

“প্রচন্ড অনাবৃষ্টির ফলে দেশ দিশম জ্বলে পুড়ে যায়, হে ঠাকুর বৃষ্টি দাও” – এটাই দাঁশায় উৎসবের মুল কথা, কৃষিজীবি মানুষের করুণ আর্তি বোঝাতে “হায় হায়” শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতের আদিকালে যত ধর্মীয় উৎসব, তার প্রত্যেকটাই কৃষির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত। সাঁওতালদের দাঁশায় উৎসব অন্যতম প্রাচীন কৃষি সম্পর্কিত একটি উৎসব। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কারাম, দাঁশায়, সহরায়, বাহা ইত্যাদি সবকটাই কৃষি ভিত্তিক উৎসব[১]

বাংলার শারদীয়া দুর্গাপুজোর সাথে সম্পর্ক[সম্পাদনা]

সাঁওতালরা দাঁশায় উৎসবে প্রকৃতি রূপে দুর্গার আহ্বান ও পূজা করে, বাঙালির দুর্গাপুজোর অন্যতম বিষয় হলো দুর্গাকে প্রকৃতি রূপে আরাধনা করা। উভয় উৎসবের দেবী দুর্গার আরাধনা ও পূজা করা হয়। সাঁওতালরা মূর্তি পূজা করে না, তাঁরা প্রাকৃতিক শক্তিকে পূজা করেন। দুর্গাকে তাঁরা খরারোধী শুভ শক্তি "বাতাস" রূপে এবং দুর্গার দুই অনুচর লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে বর্ষার পূর্বের ঘূর্ণি ঝড় রূপে আহ্বান করা হয়। উক্ত উৎসবের গান গুলিতে তার উল্ল্যেখ রয়েছে

"হায়রে হায়রে অকয় যাপে জুঁডিয়াদা হায়রে হায সিঞবির দ ল: কান দ হায়রে হায মানবির দ হাসায় ডিগিরেন দেসে ছিতৗ দেসে কৗপরা হায়রে হায জারগে দা: দ নতে বিন হায়রে হায তারসে রাকাব, তারসে নাড়গ হায়রে হায় সিঞবির দ ল: কা দ হায়রে হায় মানবির দ ল: কান দ হায়রে হায়"।

অর্থাৎ অনাবৃষ্টির ফলে মানভূমের(পুরুলিয়া) জঙ্গল এবং সিমভূমের জঙ্গলও যেন জ্বলে পুড়ে গেছে। ছিতা- কাপরা (ছিতা ও কাপরা জাহের দেবীদের অন্যতম দুই দেবী) আপনারা বৃষ্টি দিন |

"হায়রে হায়রে দিবি দুর্গা দয় ওডোক এনা রে আয়নম কাজল দকিন বাহের এনা রে হায়রে হায়রে চেতে লাগিদ দয় ওডোক এনা রে চেতে লাগিদ দ কিন বাহের এনা রে হায়রে হায়রে দেশ লাগিদ দয় ওডোক এনা রে দিশম লাগিদ দ কিন বাহের এনা রে হায়রে হায়রে সুনুম সিঁদুর লাগিদ ওডোক এনা রে বাহা টুসৗ লাগিদ দ কিন বাহের এনা রে হায়রে হায়রে দেলা সে দিবি দুর্গা হয় লেকাতে দেলাসে আয়নম কাজল বার্ডু লেকাতে হায়রে হায়রে অটাং হিজু পেসে সেরমা সাগিন খন ঘুরলাউ হিজু: পেসে সরগ পুরী খন বঠেল বঠেল সেকরেজ সেকরেজ"।

অর্থাৎ, দেবী দুর্গা বাহির হলেন, আয়নম, কাজল (আয়নম ও কাজল দেবীর সহচর, লক্ষ্মী, সরস্বতীর প্রতিরূপ ও বলা যেতে পারে) বাইরে এলেন, দেশের জন্য, দিশমের জন্য এবং সিঁদুর-তেল-পুস্পের জন্য। অর্থাৎ পুজা পাবার জন্য এরা বাহির হলো, এসো দুর্গা বাতাস হয়ে, এসো আয়নম কাজল ঘুর্ণি হয়ে সুদূর মহাকাশের স্বর্গপুরী থেকে। এটাই সাঁওতালদের দেবী আবাহন। দেবী বন্দনা বা পুজো করার ফলে ভালো বৃষ্টি হয়েছিল- তাই “বঠেল বঠেল” আনন্দসূচক ধ্বনি প্রয়োগ হয়[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://krishtikatha.com/2017/09/26/সাঁওতাল-সম্প্রদায়ের-দাঁ/[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. http://krishtikatha.com/2017/09/26/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%81/[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]