সোহরাই

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সোহরাই
অন্য নামবাঁদনা
ধরনলোকজ,মৌসুমী
উদযাপনদিয়া, গৃহ সজ্জা, আচার পালন ও ভোজ

সোহরাই হল বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিসগড়, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যগুলির ফসল কাটার উৎসব। একে গরুর উৎসবও বলা হয়। এটি ফসল কাটার পরে উদযাপিত হয় এবং দিওয়ালি উৎসবের সাথে মিলে যায়। এটি প্রজাপতি, কুড়মি, সাঁওতাল, মুন্ডা এবং ওরাওঁদের দ্বারা উদযাপিত হয়।[১][২]

এটি অক্টোবর-নভেম্বর মাসে হিন্দু মাসের কার্তিকের অমাবস্যায় পালিত হয়। কিছু অঞ্চলে এটি জানুয়ারীর মাঝামাঝি সময়েও উদযাপিত হয়। এই উৎসবে মানুষ উপবাস করে, ঘর রং করে, খাবার প্রস্তুত করে। রাতে, তারা গবাদি পশুর ঘর আলোকিত করে ও গউরিয়া দেবতার কাছে বলিদান উৎসর্গ করে। [৩][৪]

উদ্‌যাপন[সম্পাদনা]

সোহরাই ফসল কাটার পরে উদযাপিত হয় ফসল উৎসব। হিন্দু মাসের কার্তিক মাসে (অক্টোবর-নভেম্বর) আমাসব্য (অমাবস্যায়) উৎসবটি পালন করা হয়। গবাদি পশু বিশেষত ষাঁড়, মহিষ, ছাগল এবং ভেড়ার সম্মানে এই উৎসব পালন করা হয়। এদিন মাটির প্রদীপগুলি ঘর, গবাদি পশু শেড, রান্নাঘর এবং বাগান আলোকিত করে। উৎসবের দিন, এই প্রাণীগুলকেি স্নান করানো হয়, তাদের শিং এবং কপাল তেল মিশিয়ে সিঁদুর দিয়ে অভিষিক্ত করা হয়। তাদের ভাত এবং সবজি দিয়ে বিশেষ খাবার দেওয়া হয়। গৌড়ীয় দেবতা (গরু পালনের আত্মাকে) উৎসর্গ করা হয়। সোহরাই এদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা প্রকাশের দিন। [৪][৫][৬][৭] ফসল উৎসবটির সময় তারা তাদের শৈল্পিক দক্ষতা এবং ভাবের প্রকাশ করে। প্রতি বছর, উৎসব শেষ হওয়ার পরে, এই সময়ে তৈরি অঙ্কন এবং নিদর্শনগুলি মুছে ফেলা হয়। এই উৎসবটি সাধারণত অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে তিন দিনের জন্য অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবটি দিওয়ালির সাথে মিলে যায়। [৮] বছরের প্রধান ধানের শীষ আসার পরে সোহরাই হল সান্থাল উপজাতির প্রধান উৎসব [৯]

শিল্পকলা[সম্পাদনা]

ঝাড়খণ্ডের হাজারীবাগ জেলায়, একটি দেশীয় শিল্প ফর্মটি মহিলারা চর্চা করেন। ফসলকে স্বাগত জানাতে এবং গবাদি পশুদের উদ্‌যাপন করার জন্য কাদামাটির দেয়ালে মাটি দিয়ে শিল্পকর্ম করা হয়। মহিলারা তাদের ঘর পরিষ্কার করে দেয়ালগুলি সোহরাইয়ের চারুকলার ম্যুরাল দিয়ে সজ্জিত করে। এই শিল্প ফর্মটি খ্রিস্টপূর্ব ১০,০০০-৪,০০০ থেকে অব্যাহত রয়েছে। এটি বেশিরভাগ গুহায় প্রচলিত ছিল, তবে তা পরে কাদামাটির দেয়ালযুক্ত ঘরে স্থানান্তরিত হয়েছিল। [১০]

Bhelwara Sohrai
ভেলওয়ারা সোহরাই
ঝাড়খণ্ডের সোহরাই দেওয়াল চিত্র

এই সোহরাই আর্ট ফর্ম একরঙা বা রঙিন হতে পারে। লোকেরা সাদা কাদা দিয়ে একটি স্তর দিয়ে দেয়ালটি আবরণ করে এবং স্তরটি ভেজা থাকাবস্থায়, তারা এতে তাদের আঙুল দিয়ে আঁকেন। তাদের নকশাগুলি ফুল এবং ফলের থেকে শুরু করে বিভিন্ন অন্যান্য প্রকৃতি-অনুপ্রাণিত ডিজাইনের মধ্যে রয়েছে। ঘরের দেয়াল রঙ করার জন্য আগে ব্যবহৃত গোবরটি রঙ যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। পূর্ববর্তী প্রয়োগের বিপরীতে সাদা মাটির কোটের কারণে অন্ধকার রেখাটি দৃশ্যমান হয়। সোহরাই শিল্পীরা তাদের আঁকায় স্বতঃস্ফূর্ত। সামান্য প্রাক-পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়। ক্যানভ্যাসগুলি ১২ x ১৮ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত। । ডিজাইনগুলি সাধারণত শিল্পীর স্মৃতি থেকে আঁকা হয়। শিল্পীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং প্রকৃতির সাথে তাদের মিথস্ক্রিয়া সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "SOHRAI: THE TRADITIONAL HARVEST ART OF JHARKHAND"shuru-art.com 
  2. "Sohrai, A festival and an art"indroyc.com। ১০ নভেম্বর ২০১৫। 
  3. "SOHRAI PAINTING"maatighar.org। ২১ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২১ 
  4. Xalxo, Prem (২০০৭)। Complementarity of Human Life and Other Life Forms in Nature: A Study of Human Obligations Toward the Environment with Particular Reference to the Oraon Indigenous Community of Chotanagpur, India (ইংরেজি ভাষায়)। Gregorian Biblical BookShop। পৃষ্ঠা 58। আইএসবিএন 978-88-7839-082-9 
  5. Sevartham (ইংরেজি ভাষায়)। St. Albert's College। ২০০৫। পৃষ্ঠা 28। 
  6. Xalxo, Prem (২০০৭)। Complementarity of Human Life and Other Life Forms in Nature: A Study of Human Obligations Toward the Environment with Particular Reference to the Oraon Indigenous Community of Chotanagpur, India (ইংরেজি ভাষায়)। Gregorian Biblical BookShop। আইএসবিএন 978-88-7839-082-9 
  7. Sachchidananda (১৯৭৯)। The Changing Munda (ইংরেজি ভাষায়)। Concept। পৃষ্ঠা 291। 
  8. Krishna, Sumi (২০০৪-০১-১৩)। Livelihood and Gender: Equity in Community Resource Management (ইংরেজি ভাষায়)। SAGE Publications India। পৃষ্ঠা 268। আইএসবিএন 978-81-321-0385-1 
  9. Gupta, Narendra Kumar Das (১৯৬৩)। Problems of Tribal Education and the Santals (ইংরেজি ভাষায়)। Bharatiya Adimjati Sevak Sangh। পৃষ্ঠা 50। 
  10. 1949-, Singh, Ajit Kumar (১৯৯৭)। Land use, environment and economic growth in India। MD Publ। আইএসবিএন 8175330252ওসিএলসি 313224070 


টেমপ্লেট:India-festival-stub