রথীন কিস্কু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রথীন কিস্কু
ᱨᱚᱛᱷᱤᱱ ᱠᱤᱥᱠᱩ
ᱨᱚᱛᱷᱤᱱ ᱠᱤᱥᱠᱩ (Rathin Kisku).jpg
রথীন কিস্কু
জন্ম(১৯৮৪-০৩-২২)২২ মার্চ ১৯৮৪
জাতীয়তাভারতীয়
পেশা
পুরস্কার
  • লাল সুকরা পুরস্কার ২০০৮, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
  • বীরভূম জেলা বাউল পুরস্কার ২০০৯
  • সাঁওতালি ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার ২০১০

রথীন কিস্কু (সাঁওতালি : ᱨᱚᱛᱷᱤᱱ ᱠᱤᱥᱠᱩ) (জন্ম: ২২ মার্চ ১৯৮৬, গোপালনগর, বীরভূম) ভারতের একজন খ্যাত বাউল ও সাঁওতালি সঙ্গীতশিল্পী। রথীন কিস্কুর গ্রামের বাড়ি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে গোপালনগর গ্রামে অবস্থিত। বাউল গানের পাশাপাশি সাঁওতালি ভাষায় তার গায়কির জন্য তিনি ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। রথীন কিস্কুর সঙ্গীত জীবনের প্রথম গুরু ছিলেন অভয় ভট্টাচার্য্য। এরপরে তিনি সিউড়ীর নিতাই দাস বাউলের কাছেও গানের তালিম নিয়েছেন। শান্তিনিকেতনের গানের শিক্ষক দিলীপ কর্মকারের কাছে তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের শিক্ষা নিয়েছেন।[১]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

রথীন কিস্কু বেড়গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশোনা করে স্কুল ত্যাগ করেছিলেন। এরপরেই তিনি বাউল গান শেখা শুরু করেন এবং বিভিন্ন এলাকায় বাউল গান ও পাশাপাশি সাঁওতালি গান গাওয়া শুরু করেন। এভাবেই গান গাইতে গাইতে তিনি পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড, উড়িশ্যা, দিল্লী প্রভৃতি জায়গায় গান পরিবেশন করেন। ২০০৪ সালে তিনি শান্তিনিকেতনের সঙ্গীত বিভাগে ভর্তি হয়ে ক্লাসিকাল গান শেখা শুরু করেন। ঐ বছরেই বহিরাগত ছাত্র হিসেবে তিনি দশম শ্রেনী পরীক্ষা দেন ও উত্তীর্ণ হন। ২০০৫ সালে জার্মানি ভদ্রলোক মার্টিন কামচেনের সহায়তায় সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য জার্মানি পাড়ি দেন। এসময় মাসব্যাপি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বড় বড় মঞ্চে গান পরিবেশনের সুযোগ লাভ করেন।[২] ইউরোপ থেকে ঘুরে এসে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলেও ডাক পান। সরকারি চ্যানেল দূরদর্শনেও তিনি গান পরিবেশন করেন।

বিদেশ ভ্রমণ[সম্পাদনা]

জার্মানি[সম্পাদনা]

  • ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো জার্মানি গিয়ে সেখানকার বড় বড় শহরে গান পরিবেশন করেন।
  • ২০০৮ সালে জুলাই মাসে আবারো তিনি জার্মানি ও পাশাপাশি অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন শহরে গান পরিবেশন করেন।

বাংলাদেশ[সম্পাদনা]

  • ২০০৭ সালে অক্টোবর মাসে রাজধানী ঢাকাতে আসেন এবং জনপ্রিয় বাংলা শিল্পী আনুশেহ এর সাথে গান পরিবেশন করেন।
  • ২০১০ ও ২০১২ সালে রাজশাহী জেলায় আসেন ও আদিবাসী অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন।
  • ২০১৭ সালে মার্চ মাসে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার বারকোনা সাঁওতাল গ্রামে বাহা উৎসবে গান পরিবেশন করেন।[৩]
  • ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার কান্তজীউ মন্দিরের পাশে সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা সিধু-কানুর মূর্তি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

  • ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে শান্তিনিকেতনের উপরে সাঁওতালি গানের প্রথম এ্যালবাম প্রকাশ করেন।
  • ২০০৭ সালের আগস্টে সারেগামার ব্যানারে প্রথম ব্যবসায়িক গানের সিডি 'প্রাণ ভরে গাই' প্রকাশিত হয়।
  • ২০০৯ সালে সাঁওতালি গানের ভিডিও এ্যালবাম 'বাহা' ও 'মনে মনে হাপে রে হাপে' প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "সংস্কৃতি যেখানে যেমন..."archives.anandabazar.com। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২৪ ডিসেম্বর ২০১১। 
  2. বাউল শিল্পী রথীন কিস্কু
  3. "বাহা উৎসবে সাঁওতালদের বসন্তবরণ"bangla.thereport24.com। ২৫ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]