চর ভদ্রাসন উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
চরভদ্রাসন
উপজেলা
Charbhadrasan Landmarks.jpg
চরভদ্রাসন বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
চরভদ্রাসন
চরভদ্রাসন
বাংলাদেশে চর ভদ্রাসন উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৩৩′৩৩″ উত্তর ৯০°৪′৫২″ পূর্ব / ২৩.৫৫৯১৭° উত্তর ৯০.০৮১১১° পূর্ব / 23.55917; 90.08111স্থানাঙ্ক: ২৩°৩৩′৩৩″ উত্তর ৯০°৪′৫২″ পূর্ব / ২৩.৫৫৯১৭° উত্তর ৯০.০৮১১১° পূর্ব / 23.55917; 90.08111 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ ঢাকা বিভাগ
জেলা ফরিদপুর জেলা
আয়তন
 • মোট ১২৩৯ কিমি (৪৭৮ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ৬৮,১৫২
 • ঘনত্ব ৫৫/কিমি (১৪০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৫৫%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ৭৮১০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

চরভদ্রাসন বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

চরভদ্রাসন বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার একটি ছোট উপজেলা। এর উত্তর-পূর্বে লৌহজং উপজেলা, দোহার উপজেলা আর হরিরামপুর উপজেলা, পূর্ব-দক্ষিণে সদরপুর উপজেলা, দক্ষিণ-পশ্চিমে নগরকান্দা উপজেলা এবং পশ্চিম-উত্তরে- ফরিদপুর সদর উপজেলা অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

চরভদ্রাসন উপজেলা ৪টি ইউনিয়ন, ৯৭ গ্রাম, ২৭ টি মৌজা নিয়ে গঠিত। ইউনিয়ন গুলো হল

  1. চরভদ্রাসন সদর
  2. চর হরিরামপুর
  3. গাজিরটেক
  4. চর ঝাউকান্দা

নদনদী[সম্পাদনা]

চরভদ্রাসন উপজেলায় দুটি নদী আছে। সেগুলো হচ্ছে পদ্মা নদী এবং ভুবনেশ্বর নদী[২][৩]

চরভদ্রাসন উপজেলার পটভূমি[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ শাসন আমলের সমাপ্তির দিকে তখনও জমিদারী প্রজাতন্ত্র আইন রহিত হয়নি। জনশ্রুতির মতে এ এলাকায় ব্রিটিশদের নিয়োজিত জমিদারের পেয়াদা ছিল মকিম মিয়া। স্বাধীনচেতা মকিম ছিল তিতুমীর এর ভাবস্বাগরেদ। তারই নির্দেশে জমিদারদের খাজনা না দেওয়ার জন্য উদ্ধুদ্ব করেন। ফলে সংশ্লিষ্ট জমিদার মকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। কয়েকদিনের মধ্যে শুরু হয় বন্দুক যুদ্ধ। মকিম মিয়া নিহত হয়। তার অন্যান্য অনুসারীদের দেশত্যাগ করতে বাধ্য করে। এসময় ব্রিটিশ সরকার এই এলাকায় একজন ব্রিটিশ ভদ্রলোককে দায়িত্ব দেন এলাকার শাসনভারের। পরবর্তীতে তার অনুগতদের চর পত্তন দেয়। কথিত মতে চরের মধ্যে একজন ভদ্রলোক (ঐ ব্রিটিশ নাগরিক) বসবাস করায় তখন এলাকার নাম করন করা হয় চরভদ্রাসন। ব্রটিশ উপনিবেশ থেকে পাকিস্তান রাষ্ট্র ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট স্বাধীনতা প্রাপ্ত হয়। তৎপরবর্তীতে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে 'রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০' প্রবৃত্ত হলে জমিদারশ্রেণি বিলুপ্ত হয় এবং প্রজাদের কাছে জমি হস্তান্তর করা হয়। এলাকাটি ফরিদপুর জেলাধীন সদর মহকুমার অন্তভূক্ত থাকে। চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর সংলগ্ন খাসের হাটে পুলিশ স্টেশন তথা প্রশাসনিক কেন্দ্র বিন্দু ছিল। ১৯৫৪ সালে উক্ত এলাকা পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে ভেঙ্গে গেলে বর্তমানে স্থাপিত জায়গায় চরভদ্রাসন হাট প্রতিষ্ঠা হয়। তখন পুলিশ স্টেশন চরহাজিগঞ্জ স্থানান্তরিত হয়। এমডি ও জনাব এস,এম জয়নাল আবেদীন ১৯৬৮ সালে ইউটিডিসি চরভদ্রাসন বাজারের উত্তর দক্ষিণে প্রতিষ্ঠা করেন একই বছর চরভদ্রাসন আইয়ুব কলেজ বতমানে অবস্থিত চরভদ্রাসন পাইলট হাই স্কুলের একটি কক্ষে স্থাপন করেন। পরবর্তীতে হেলথ কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৬ সালে চরহাজিগঞ্জ থেকে পুলিশ স্টেশন স্থানান্তরিত হয়। ১৯৮৩ সালে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। সকল বিভাগ সেটআপ হয়। ১ম উপজেলা চেয়রম্যান জনাব মো: আবুল হোসেন এবং ইউএনও (তৎকালীন TNO বা থানা নির্বাহি অফিসার) জনাব মো: নরুল হুদা, যিনি বর্তমানে (২০১৭ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে চরভদ্রাসন উপজেলায় সকল বিভাগের কার্যক্রম চলছে। ৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। যথা- চরহরিরামপুর, চরঝাউকান্দা, চরভদ্রাসন সদর ও গাজিরটেক ইউনিয়ন।

অনলাইন নিউজ[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক চর ভদ্রাসন কন্ঠ
  2. I Love Charbhadrasan - হৃদয়ে চরভদ্রাসন
  3. আমাদের চরভদ্রসন

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

জনসংখ্য ৬৮,১৫২ জন (প্রায়) যার মধ্যে পুরুষ ৩৫০০০জন (প্রায়) এবং মহিলা ৩৩১৫২ জন (প্রায়)। এই এলাকায় লোক সংখ্যার ঘনত্ব ১২৩৯ (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে)।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

চরভদ্রাসন উপজেলার শিক্ষার হার ৫৫%।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে চরভদ্রাসন উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ১০ জুলাই, ২০১৫ 
  2. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৯৬, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  3. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬০৫, ISBN 984-70120-0436-4.