কাব্যরস (নন্দনতত্ত্ব)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কোন বর্ণনা শ্রবণ বা পাঠ করে অথবা নাটক, অভিনয় দেখে মনে যে স্থিরতর অপূর্ব ভাবের উদয় হয়, সেই স্থায়ী ভাবকে কাব্যরস বলে। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, শাস্ত্রমতে কাব্যরস হলো অমৃত।

কাব্যরস নয় প্রকার। যথা: (১) আদি, (২) বীর, (৩) করুণ, (৪) অদ্ভুত, (৫) হাস্য, (৬) ভয়ানক, (৭) বীভৎস, (৮) রৌদ্র এবং (৯) শান্ত।

আদিরস (the erotic): নায়ক-নায়িকার অনুরাগবিষয়ক ভাবকে আদিরস বলে।

বীররস (the heroic): দয়া, ধর্ম, দান, দেশভক্তি ও সংগ্রাম বিষয়ে উৎসাহবিষয়ক ভাবের নাম বীররস।

করুণরস (the pathetic): ইষ্টবিয়োগ বা অপ্রিয়সংযোগে যে শোকসঞ্চার হয় তাকে করুণরস বলে।

অদ্ভুত রস (the surprising): আশ্চর্য বিষয়াদি দর্শনে যে বিস্ময়াত্মক ভাবের উদয় হয়, তাকে অদ্ভুত রস বলে।

হাস্যরস (the comic): বিকৃত আকার, বাক্য ও চেষ্টা দ্বারা যে ভাবের উদয় হয়, তা হাস্যরস নামে পরিচিত।

ভয়ানক রস (the disgustful): যা হতে মনে ভয় সৃষ্টি হয়, তাকে ভয়ানক রস বলে।

বীভৎস রস (the surprising): যা দ্বারা মনে ঘৃণাদায়ক ভাবের উদয় হয়, তাকে বীভৎস রস বলে।

রৌদ্র রস (the terrible): ক্রোধজনক রসকে রৌদ্ররস বলে।

শান্ত রস (the quietistic): তত্ত্বজ্ঞানের জন্য যে শান্তভাবের উদয় ও অনুরাগ জন্মায় তাকে শান্ত রস বলে।

কাব্য রসের ধর্ম[সম্পাদনা]

রসের উৎকর্ষসাধক ধর্মের নাম গুণ বা স্টাইল। এই গুণ তিন প্রকার। যথা: মাধুর্য, ওজঃ এবং প্রসাদ।

মাধুর্য (elegance): কাব্যের যে গুণ থাকলে শোনামাত্র চিত্ত ব্যাকুল ও মন বিগলিত হয়, তাকে মাধুর্য বলে।

ওজঃ (encitement): যে গুণ দ্বারা চিত্ত উদ্দীপ্ত ও উজ্জ্বীবিত হয়, তাকে ওজঃ বলে।

প্রসাদগুণ (perspicuity): যে গুণ থাকলে শোনামাত্র অর্থপূর্ণ হয়, তাকে প্রসাদগুণ বলে।