অণিমা চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অণিমা চৌধুরী
জন্মনলবারী, আসাম, ভারত
পেশাগায়িকা, প্রবক্তা
লেবেলবিভিন্ন

অণিমা চৌধুরী (জন্ম-১৯৫৩-) (ইংরেজি: Anima Choudhury) অসমীয়া সঙ্গীত জগৎের একজন জনপ্রিয় গায়িকা। তিনি বর্তমানে অনেকগুলি অসমীয়া চলচ্চিত্র এবং এলবামে কয়েকটি জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। তিনি আধুনিক গান, কামরূপীয়া লোকগীত, গোয়ালপারীয়া লোকগীত, বিহুগীত, টিকারী গীত, বিয়ানাম, নামঘোষা, রাজস্থানী গান, জ্যোতি সঙ্গীত, বিষ্ণুরাভা সঙ্গীত ইত্যাদি বিভিন্নধরনের গানে কণ্ঠদান করেছেন৷[১]

বংশ পরিচয়[সম্পাদনা]

তাঁর পিতার নাম দন্ডীরাম চৌধুরী এবং মাতার নাম হেমলতা চৌধুরী৷

শিক্ষা এবং কর্মজীবন[সম্পাদনা]

অণিমা চৌধুরীর জন্ম হয় নলবারীর পকোয়া গ্রামে৷ কিন্তু নগাঁওতেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা আরম্ভ হয়। পঞ্চম শ্রেণী পাওয়ার পর তিনি মা-বাবার সঙ্গে গুয়াহাটিতে থাকতে আসেন এবং সেখানে পড়তে শুরু করেন। মেট্রিক পরীক্ষা পাস করে গুয়াহাটি পানবাজার গার্লস হাইস্কুল থেকে৷ স্কুলের শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি কটন কলেজে নাম লেখান় এবং ইতিহাস বিভাগে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি Temples and Shrines in and arounmd Guwahati: a Sociological and Folkloristic Exploration শীর্ষক গবেষণার জন্য গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়-এরথেকে Ph.D. ডিগ্রী লাভ করেন।[১] তিনি ছয়গাঁও মহাবিদ্যালয়-এর ইতিহাস বিভাগে শিক্ষকতা করে এবং বিভাগীয় প্রধান হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন।

সঙ্গীত জীবন[সম্পাদনা]

চতুর্থ শ্রেণীতে পড়াকালীনই তিনি নগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত আসাম সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। গুয়াহাটিতে আসার পর তিনি সঙ্গীত শিক্ষক হীরেণ শর্মার কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিখতে থাকেন। গুয়াহাটি বেতার কেন্দ্রযোগে প্রচারিত অকণির মেল অনুষ্ঠানে গান গাইতে তিনি অডিসন দেন এবং এইমাহর গীত অনুষ্ঠানে নিয়মিত গাইতে শুরু করেন। এক-দুই বছর পর তিনি চেমনীয়ার চ'রা অনুষ্ঠানে একক কণ্ঠের গান গাইতে শুরু করেন। কটন কলেজে তাঁর প্রথম বর্ষে এক সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় তিনি কটন কলেজ-এর শ্রেষ্ঠা গায়িকা হওয়ার সম্মান লাভ করেন। এর ফলে তিনি সঙ্গীত পরিচালক রমেন বরুয়ার নজরে পড়েন। সেই সূত্রে তিনি মুকুতা চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার সুবিধা পান এবং ও প্রাণ গোপাল পাতিলা মায়ারে খেলা শীর্ষক এই গানটি খুব জনপ্রিয় হয়। ১৯৭৩ সালে তিনি গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠা গায়িকা হন এবং একইসময়ে তিনি পুতলা ঘর নামে অন্য একটি চলচ্চিত্রে কণ্ঠদান করেন। এখনো পর্যন্ত তিনি অনেকগুলি চলচ্চিত্র এবং এলবামে গান গেয়েছেন।[১]

তিনি আকাশবাণী এবং দূরদর্শন-এরও A-গ্রেড শিল্পী। কটন এবং গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ গায়িকা ছিলেন৷ ১৯৮৯ সালে কটকে অনুষ্ঠিত উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতি সম্বন্ধীয় দূরদর্শনের এক অনুষ্ঠানে তিনি আসামের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি উড়িয়া দূরদর্শন কেন্দ্রে উড়িয়া গান গাওয়ারও সুযোগ পান। তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিশারদ এবং গুয়াহাটি বেতার কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে তাঁর ভজন এবং গজল সম্প্রচারিত হয়। তিনি আসাম ছাড়াও ভারত-এর বিভিন্ন স্থান যেমন কলকাতা, দিল্লী, পাটনা, কটক, টাওয়াং ইত্যাদি স্থানের মঞ্চে গান পরিবেশন করেছেন। ১৯৯১ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর ফিলাডেলফিয়াতে অনুষ্ঠিত অসমীয়া-আমেরিকান অভিবর্তনে (Assamese-American Conference) অংশগ্রহণ করার জন্য যান এবং ফিলাডেলফিয়া ছাড়াও আমেরিকার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে গান গান। তিনি শিকাগো টিভির একটি অনুষ্ঠানেও অংশ শুরু করেন।[১]

কণ্ঠদান করা চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

কণ্ঠদান করা এলবাম[সম্পাদনা]

  • প্রীতির স্মৃতি (vol-১ এবং vol-২)
  • আঁচলর বা
  • স্মৃতি অনুপম
  • আইর পূজার বেদী
  • তেজীমলা সারে আছে
  • চুপহি
  • এই ব'হাগতে
  • জান
  • মাজনী
  • চেনেহী
  • লাজুকী মেঘালী
  • রামধেনু
  • সুবাস
  • মাণিকী মধুরি
  • সুরের জিঞ্জিরি
  • আমোলমোল
  • ও বন্ধু রে'
  • মধুর মূরুতি
  • জীয়রী
  • পুবা গধূলি
  • পাট গাভরু ৯৩
  • বিয়ানাম
  • সুকইনা
  • প্রভাতী কন্যা
  • জ্যোতির গান
  • ফুল কুঁবরী
  • ন কিনা
  • কাচলি
  • হিয়াজুই
  • মাধৈ মালতী[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Anima Choudhury"। Rupali Parda। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫