ফণী শর্মা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ফণী শর্মা
পেশামঞ্চ অভিনেতা, থিয়েটার অভিনেতা, চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক
ভাষাঅসমীয়া
জাতীয়তাভারতীয়

ফণী শর্মা (অসমীয়া: ফণী শর্মা) অসমের নাটক ও চলচ্চিত্র জগতের অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক। মঞ্চ অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পরবর্তী সময়ে তিনি জয়মতী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি ১৯৪৮ সনে সিরাজ ও ১৯৫৫সনে পিয়লী ফুকন নামক চলচ্চিত্র অভিনয় ও পরিচালনা করেন। অসমীয়া নাট্যজগতে তাঁর যথেষ্ট অবদান থাকার জন্য তাঁকে নটসূর্য্য উপাধিতে বিভূষিত করা হয়েছে।

প্রারম্ভীক জীবন[সম্পাদনা]

তেজপুর শহরের ঐতিহাসিক বান রঙ্গমঞ্চের সাথে জড়িত হয়ে ফণী শর্মা প্রথম নাটকের জীবনে প্রবেশ করেন। তাঁর পিতা মোলান শর্মা একজন নাটক বিশেষজ্ঞ ও বান রঙ্গমঞ্চের সুঅভিনেতা ছিলেন। পিতার সহিত নাট্যশৈলীতে গিয়ে তিনি ইন্দ্রেশ্বর বরঠাকুর, ডঃ ললিত মোহন চৌধুরী, প্রফুল্ল বরুয়া ইত্যাদি অভিনেতার অভিনয় উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। নাটক উপভোগ করে তিনি ক্রমাগত ভাবে নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯২৪ সনে তিনি বান রঙ্গমঞ্চে রানা প্রতাপ নাটকে আকবর চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান। ১৯৩০ সনে তিনি পরিভ্রমি নাটদল কহিনুর আপেরাতে অভিনয় করার সুযোগ পায়। এর প্রতিষ্ঠাপক ছিলেন ব্রজনাথ শর্মা। অসমের পূর্ব থেকে পশ্চিম ও উত্তর থেকে দক্ষিণ দিক পর্যন্ত কহিনুর আপেরা নাটক পরিবেশন করে ও এই থিয়েটারের শিল্পী ফণী শর্মা এর অন্যতম আকর্ষন হয়ে উঠে। করুনাকান্ত মজুমদারের প্রযোজনায় অনুষ্ঠিত পূর্বজ্যোতি কহিনুর থিয়েটারের প্রথম বর্ষের থেকে ফণী শর্মা নাটক পরিচালনা করেন। কহিনুর থিয়েটারের দ্বিতীয় বৎসরেও তিনি অভিনয় করেন। তারপর তিনি অন্যান্য থিয়েটারেও অভিনয় করেছিলেন।

চলচ্চিত্র জীবন[সম্পাদনা]

১৯৩৫ সনে তিনি জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালার জয়মতী চলচ্চিত্র নির্মাণে সহযোগ করেন ও গাঠি হাজরিকার চরিত্রে অভিনয় করেন। জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা নির্মিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ইন্দ্রমালতীতে তিনি ললিতের চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৪৮ সনে তিনি বিষ্ণুপ্রসাদ রাভার সহিত মিলিত হয়ে লক্ষীধর শর্মার রচিত গল্পের উপর আধারিত সিরাজ নামক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ১৯৫৫ সনে তিনি পিয়লী ফুকন নামক চলচ্চিত্র পরিচালনা ও অভিনয় করেন। ১৯৬৩ সনে তিনি ইটু খিটু বহুতো নামক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এইটিই তাঁর চলচ্চিত্র জগতের অন্তিম অভিনয়।

নাটক জীবন[সম্পাদনা]

মঞ্চ ও চলচিত্রে অভিনয় করার উপরিও তিনি নাট্যকার রুপে বিখ্যাত ছিলেন। সংখ্যায় কম হলেও তাঁর নাটক গুনমানবিশিষ্ট ছিল। তিনি নাটককে বেশী গুরুত্ব দিতেন। ইতিহাসবিজ্ঞ ডঃ সুর্য্যকুমার ভূঞার গ্রন্থ কোয়র বিদ্রোহে বর্ননা করা আহোম স্বর্গদেউ চুন্যেওয়ার রাজত্বকালে সংঘটিত হওয়া বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে তিনি ইতিহাসমূলক নাটক ভোগজরা রচনা করেন। তিনি অভিনয় করা প্রথম চলচ্চিত্র জয়মতীও ইতিহাসের উপরে আধারিত চলচ্চিত্র ছিল। জয়মতীর পরিচালক ছিলেন জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা । স্থানীয় কাহিনীকে কেন্দ্র করে জ্যোতিপ্রসাদ শোনিত কুয়রী, লভিতা, কারেঙর লিগিরী ইত্যাদি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। জ্যোতিপ্রসাদের পদানুসরন করে ফণী শর্মা অসমীয়া লোক ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করা নাটক রচনা করেছিলেন। ১৯৪৮ সনে সিরাজ চলচ্চিত্রের সফলতার পর তিনি সিরাজ নামক নাটক রচনা করার অনুপ্রেরনা পান। এর বিষয়বস্তু ছিল হিন্দু-মুসলমানের একতা। নাটকটির মুখ্য ভুমিকায় তিনি নিজেই অভিনয় করেন। ১৯৫০-১৯৬০ সনে তিনি নাটকটি বিভিন্ন স্থানে ১০০ বারের অধিক মঞ্চে প্রদর্শন করান। পুত্রের মৃত্যুর পর তিনি কিয় নামক নাটক রচনা করেন। কিয় নাটকটির মুলকাহিনী ছিল : একজন শিল্পী তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য উৎসর্গ করেন কিন্তু তার বিনিময়ে সমাজ থেকে যৎসামান্য ক্ষতিপূরন পায় না। রাজনৈতিক ভ্রষ্টাচারকে কেন্দ্র করে তিনি নাগ-পাশ নামক নাটক রচনা করেন। তিনি কলা বজার নামক নাটক রচনা করে সামাজিক ন্যায় ও অসমতাকে নির্দেশন করেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৭৮ সনে ফণী শর্মার মৃত্যু হয়।

ফণী শর্মার আত্মজীবনী[সম্পাদনা]

রং-বিরং ফণী শর্মার আত্মজীবনী। এই আত্মজীবনীটিতে সেই সময়ের অসমের সাংস্কৃতিক জগতের ছবি প্রস্ফুটিত হয়ে আছে। এখানে বিষ্ণুপ্রসাদ রাভার সহিত তাঁর পরিক্রমা, অসমীয়া ভ্রাম্যমান নাটকের সূত্রপাত ও অসমের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বর্ননা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]