জুবিন গাৰ্গ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(জুবিন গার্গ থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জুবিন গার্গ
Zgarg.PNG
প্রাথমিক তথ্য
জন্ম নামজুবিন বরঠাকুর
আরো যে নামে
পরিচিত
গ'ল্ডি
জন্ম (1971-11-18) ১৮ নভেম্বর ১৯৭১ (বয়স ৪৮)
তুরা, মেঘালয়, ভারত
ধরনPlayback singing, Bihu, Indian folk, Indian pop, rock
পেশানেপথ্য গায়ক, composer, songwriter, musician, Music director, actor
বাদ্যযন্ত্রসমূহকণ্ঠ, বন্দর, তবলা, কীবোর্ড, ঢোল
কার্যকাল১৯৯২-বর্তমান
লেবেলইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ, আই ক্রিয়েশন, টাইমস মিউজিক, টি-সিরিজ, জি মিউজিক কোম্পানি, ইরোস নাও, সারেগামা

জুবিন গার্গ (অসমীয়া: জুবিন গার্গ) একজন ভারতীয় বিখ্যাত ও অসমের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী। জুবিন গার্গকে অসম ও পশ্চিমবঙ্গে রকস্টার হিসাবে মান্য করা হয়। জুবিন গার্গ ভারতীয় বিখ্যাত গায়ক গায়িকার ২১ নম্বর তালিকায় রয়েছেন। জুবিন গার্গকে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের "রাজপুত্র" বলা হয়।[১] ড ভূপেন হাজারিকার পর ভারতীয় ও আসাম উত্তর-পূর্বের গর্বিত জুবিনকে আসামের রাজ্যপাল তার নামের আগে "লুইতকণ্ঠ" সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করেছে, এখন তার নামের আগে "লুইতকণ্ঠ" জুবিন গার্গ বলা হয়। জুবিন গার্গ বহুবিধ প্রতিভার অধিকারী। একাধারে তিনি একজন কন্ঠশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার ও অভিনেতা। জুবিন অসমীয়া, বাংলা, হিন্দি, নেপালী, তামিল, তেলেগু, কন্নড়, মালায়লম, মারাঠি, ওড়িয়াইংরেজী ভাষায় গান গেয়েছেন। ১৯৯২ সনে জুবিনের প্রথম অসমীয়া এ‍্যালবাম "অনামিকা" মুক্তি পেয়েছিল। জুবিন ঢোল, ড্রাম, দোতারা, মেন্ডলিন ও ইলেকট্রনিক কি-বোর্ড বাজাতে পারেন। "শুধু তুমি" বাংলা চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করে তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতকারের পুরস্কার লাভ করেছিলেন। হিন্দি "ইয়া আলি" গানের জন্য জুবিন গার্গ গ্ল'বেল ভারতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও স্টারডার্ড পুরস্কার লাভ করেছিলেন। জুবিন গার্গ ২০১৭ তে " মিশ্বন চাইনা" নামের একটি অসমীয়া চলচিত্র মুক্তি দিয়েছেন। এরপর ২০১৯ সালে জুবিন গর্গ এর পরিচালিত ও অভিনীত "কাঞ্চনজঙ্ঘা" নামের একটি অসমীয়া চলচ্চিত্র মুক্তি দিয়েছেন, এবং এই চলচ্চিত্র অসম ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সাথেও বিদেশেও মুক্তি দিয়েছেন জুবিন।

বংশ এবং পরিবার[সম্পাদনা]

১৯৭২ সনের ১৮ নভেম্বরে মেঘালয় রাজ্যের তুরা শহরে জুবিন গর্গের জন্ম হয়েছিল। তাহার পিতার নাম মোহিনী. এম.বরঠাকুর এবং মাতার নাম স্বর্গীয়া ইলি বরঠাকুর। প্রথম জীবনে জুবিনের নাম ছিল জুবিন বরঠাকুর। প্রসিদ্ধ গীতিকার জুবিন মেহেতার নামকরনে জুবিনের নাম রাখা হয়েছে ও গোত্রের নাম থেকে উপাধি নেওয়া হয়েছে। জুবিনের পরিবার শিবসাগরের জাঁজীর স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। উনার পিতা কর্মসূত্রে মেজিস্ট্রেট ছিলেন। পেশাগত কারনে জুবিনের পিতা বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছেন। তাই ছোটবেলা থেকেই জুবিন এসব স্থান সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। জুবিনের পিতা ’কপিল ঠাকুর’ ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। জুবিনের মা ইলি বরঠাকুর একজন বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী , অভিনেত্রী ও সুগায়িকা ছিলেন। তিনি নিজের প্রতিভাকে পেশাগত ভাবে ব্যবহার করতেন না। তিনি বালক জুবিনের গৃহশিক্ষার ব্যাবস্থা করেছিলেন। জুবিন প্রথম গুরু হিসাবে নিজের মাকে স্মরণ করেন। জুবিনের বোনের নাম জংকি বরঠাকুর। জংকি বরঠাকুর একজন গায়িকা ও অভিনেত্রী ছিলেন। ২০০২ সনে তেজপুর টাউনে একটি শোকাবহ মোটর দুর্ঘটনায় জংকির মৃত্যু হয়। জংকি বরঠাকুরের স্মৃতির জন্য জুবিন গর্গ “শিশু” নামক একটি গানের এ্যালবাম রচনা করেন। ২০০২ সালের ৪ ফেব্রয়ারী জুবিন গার্গ ফেশ্বন ডিজাইনার " গরিমা শইকীয়া" র সাথে বিবাহপাশে আবদ্ধ হোন।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

জুবিন প্রথম গুরু হিসাবে নিজের মাকে স্মরণ করেন। গুরু রবীন ব‍্যানার্জী থেকে জুবিন ছেলেবেলায় তবলা ও গানের শিক্ষা পেয়েছিলেন। অসমীয়া লোক সংস্কৃতির শিক্ষা রমনী রায় থেকে পেয়েছিলেন। জুবিনের পরিবার স্থায়ীভাবে গুয়াহাটি স্থানান্তর হওয়ার জন্য তিনি জগ্গনাথ বরুয়া কলেজ ছেড়ে গুয়াহাটির বি. বরুয়া কলেজে বিজ্ঞানে স্নাতক বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু সংগিতের সঙ্গে সম্পূর্নভাবে জড়িত থাকার জন্য জুবিন শেষ পর্যন্ত কলেজ শিক্ষা সমাপ্ত করিতে পারেন নাই।

কণ্ঠশিল্পীরূপে জুবিন[সম্পাদনা]

১৯৯২ সনে অনুষ্ঠিত যুব মহোৎসব পাশ্চাত্য একক পরিবেশনে স্বর্ণপদক লাভ করার পর জুবিনের জীবনের মোড় পাল্টে যায়। এইসময়ে প্রথমবার কণ্ঠশিল্পী রুপে জুবিন সফলতা অর্জন করেন। ১৯৯২ সনে অসমীয়া এ‍্যালবাম “অনামিকা” মুক্তি হওয়ার পর জুবিন পেশাধারী সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন। এই এ‍্যালবাম অল্পসময়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে। জুবিন নিজের নামে চল্লিশের অধিক এ‍্যালবাম ও অসংখ্য অসমীয়া চলচ্চিত্রে কন্ঠদান করেছেন। তাছাড়া অনেক বাংলা, হিন্দী, তামিল, তেলুগু, মারাঠী ও নেপালী সহ ৪০টি ভাষায় সর্বমোট ২০,০০০ থেকেও বেশি গান গেয়েছেন। ফিজা, কাটে, গ্যাংস্টার, প্যায়ার কে সাইড এফেক্ট ইত্যাদি হিন্দী চলচ্চিত্রের গানে জুবিনের সুকন্ঠের আভাস পাওয়া যায়। ২০০০ সনে জুবিন অসমীয়া চলচ্চিত্র “তুমি মোর, মাথো মোর” কাহিনী লিখেছিলেন এবং স্বয়ং নিজে পরিচালনা ও অভিনয় করেছিলেন। তিনি ২০০৫ সনে রাষ্ট্রিয় পুরস্কার প্রাপ্ত অসমীয়া চলচ্চিত্র “দীনবন্ধুতে” সহ-পরিচালনা, অভিনয় ও কন্ঠদান করেছিলেন। জুবিন সঞ্জয় ঝা এর দ্বারা পরিচালিত হিন্দী চলচ্চিত্র “স্ট্রিং” এর সংগীত পরিচালনা করেছিলেন। জুবিন কন্ঠদান করা নতুন ছবিগুলোর নাম হ’ল : Gangster, Krrish 3, Good Boy Bad Boy, Pyaar Ke Side Effects, Jimmy, Kya Love Story Hai, I See You, Big brother, Victoria no. 203, Bombay to Bangkok, Namastey London, Aashaayen, The Train, Raqib, Jhoom Barabar Jhoom ইত্যাদি ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃ সংযোগ[সম্পাদনা]