ব্রজেন বরুয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
ব্রজেন বরুয়া
জন্ম ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫
গুয়াহাটি, অসম
মৃত্যু ২৭ জুন, ১৯৭২
জাতীয়তা ভারত ভারতীয়
পেশা চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, সঙ্গীত পরিচালক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার
সন্তান মনজ্যোতি বরুয়া (পুত্র),
মনানী বেজবরুয়া (কন্যা)

ব্রজেন বরুয়া (অসমীয়া: ব্ৰজেন বৰুৱা) অসমের চলচ্চিত্র জগতের বিখ্যাত ব্যক্তি। তিনি একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রয়োজক, সংগীত পরিচালক ও কন্ঠশিল্পী, অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার ।তদুপরি তিনি গুয়াহাটির বিভিন্ন মঞ্চে অর্কেষ্ট্রা পরিচালনা ও বেতার কেন্দ্রে গান গেয়েছেন। তিনি সর্বমোট ৫টি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও ৮টি চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন। ডক্তর বেজবরুয়া চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করেন।

জন্ম ও পরিবার[সম্পাদনা]

১৯২৫ সনের ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে কামরূপ জেলার বিহদিয়া গাঁও নামক স্থানে ব্রজেন বরুয়ার জন্ম হয়। [১])তাঁর পিতার নাম চন্দ্রনাথ বরুয়া ও মাতার নাম জোনপ্রভা বরুয়া। পিতা চন্দ্রনাথ বরুয়া অসমের গড়কপ্তানী বিভাগের সাব ডিভিসনেল অফিসার ছিলেন। তাঁর মাতা-পিতার ৯টি পুত্র ও ৪টি কন্যা সন্তান ছিল।তাঁদের সকল ভাই-বোনেরা কম-বেশী পরিমানে চলচ্চিত্র জগতের সহিত জড়িত ছিলেন। অসমীয়া চলচ্চিত্র জগতে বিশেষ অবদান থাকা ব্রজেন বরুয়ার পরিবারে সর্বদা সাংস্কৃতিক পরিবেশ বিরাজমান ছিল।

শিক্ষা ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

গুয়াহাটি থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপ্ত করে ব্রজেন বরুয়া উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতা যান। কিন্তু সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের জন্য তিনি গুয়াহাটি ফিরে আসেন ও কটন কলেজ থেকে বি.এস.সি. ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি অসমের জনস্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ছিলেন। কিছুকাল জামুগুরিহাটে ধান সংগ্রহকারী বিষয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। পরবর্ত্তী সময়ে তিনি চাকরি ছেড়ে সাংস্কৃতিক সাধনায় মনোনিবেশ করেন।তিনি অতি অল্প বয়সে গান গাওয়া আরম্ভ করেন। ছাত্রাবস্থাতে অজিত মহন্ত ও কেশব বরুয়ার সঙ্গে গান গেয়েছিলেন। ১৯৪৪ সনে কলকাতায় অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত ছাত্র ফেডারেশনে সংগীত পরিচালনায় যোগদান করেন। গুয়াহাটির বিভিন্ন মঞ্চে গীত পরিবেশন করা ব্রজেন বরুয়া অসমের অর্কেষ্ট্রার অন্যতম প্রবর্তক। ১৯৪৮ সনে গুয়াহাটিতে বেতার কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এই বেতার কেন্দ্রে তিনি একজন সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী রুপে পদার্পন করেন।

চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ[সম্পাদনা]

১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভ্রাতৃ নিপ বরুয়ার চলচ্চিত্র স্মৃতির পরশ নামক চলচ্চিত্রে গীত পরিবেশন করে ব্রজেন বরুয়া প্রথম চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। এই চলচ্চিত্রে দুইটি হিন্দী সংগীত সংযোগ করা হয়। সংগীত দুইটি লিখেন ডঃ বীরেন্দ্র নাথ দত্ত। চলচ্চিত্রটি সংগীতের জন্য যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৬৩ সনে মুক্তিপ্রাপ্ত ইটো সিটি বহুতো কৌতুক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি নিজেকে পরিচালক রুপে আত্মপ্রকাশ করেন। এই চলচ্চিত্রে চার্লি চ্যাপলিনের চরিত্র প্রকাশ পায়। তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ডক্তর বেজবরুয়া। সেই সময়ে অসমীয়া ছবি কলকাতায় নির্মিত হত। তিনি প্রথম ছবি কলকাতায় নির্মাণ করেন যদিও জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালার মত তিনিও অসমে ছবি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। ৩৭ জন ব্যক্তিকে ডক্তর বেজবরুয়ার ছবি কাহিনী পড়ে শুনান ও আলোচনা করে অসমে ছবি নির্মাণের কার্য আরম্ভ করেন। স্থানীয় মঞ্চ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে কর্মরত যুবকদের তিনি ছবি নির্মাণের প্রশিক্ষন দিয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব অর্পন করেন। ব্রজেন বরুয়ার এই বিপ্লবি চিন্তাধারার ফলে পরবর্ত্তী সময়ে অসমের চলচিত্র পরিচালক-প্রয়োজক ছবি নির্মাণের জন্য কলকাতার পরিবর্তে অসমে নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। রমেন বরুয়া সংগীত পরিচালনা করার জন্য ছবিটির গীত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বরুয়া, শিবনাথ. অসমীয়া জীবনী অভিধান. চ'ফিয়া প্রেস এণ্ড পাব্লিচার্স প্রা: লি:, ২০০২, পৃ: ১৬৯-৭০