পূর্ণিমা (অভিনেত্রী)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পূর্ণিমা
Purnima in beetwin the shooting in Rangamati Hill.JPG
জন্ম (১৯৮১-০৭-১১) জুলাই ১১, ১৯৮১ (বয়স ৩৪)
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
অন্য নাম দিলারা হানিফ রীতা[১]
নাগরিকত্ব  বাংলাদেশ
পেশা অভিনেত্রী
কার্যকাল ১৯৯৮ – বর্তমান
দম্পতি ফরহাদ (২০১০ - বর্তমান)

পূর্ণিমা (জন্মঃ ১১ জুলাই, ১৯৮১) একজন বাংলাদেশী জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ঢাকায়। পূর্ণিমার চলচ্চিত্র জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত 'এ জীবন তোমার আমার' ছবির মাধ্যমে।[২] কাজী হায়াত পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলোনা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ২০১০ সালে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। [৩] পূর্ণিমা অভিনীত বাম্পার হিট চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে মতিউর রহমান পানু পরিচালিত ‘মনের মাঝে তুমি’ ও এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘হৃদয়ের কথা’। তার অভিনীত একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র হচ্ছে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘ মেঘের পরে মেঘ ’।[৪]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তিনি ১৯৮১ সালের ১১ জুলাই বাংলাদেশের চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের ডাক নাম রিতা। তাকে চলচ্চিত্র জগতে এনেছিলেন পরিচালক জাকির হোসাইন, পুর্ণিমার প্রথম ছবি "এ জীবন তোমার আমার"।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ফিল্ম ক্যারিয়ার[সম্পাদনা]

রিয়াজ ও পূর্ণিমা আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা চলচ্চিত্রের সেটে মহড়ায় ২০০৭-এ

পূর্ণিমার প্রথম ছবি "এ জীবন তোমার আমার" ১৯৯৭, যখন তিনি ক্লাস নাইনে পড়তেন। তার সব থেকে সফল ছবি "মনের মাঝে তুমি" ২০০৩, এটি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় বাংলাদেশের সবথেকে সফল ছবির মধ্যে অন্যতম।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

২০০৪ সালে চাষী নজরুল ইসলামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি "মেঘের পরে মেঘ" ছবিতে অভিনয় করেন। এটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাস্তি ও শুভাসিনী গল্প অবলম্বনে তৈরী। তার উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে অন্যতম সুভা (২০০৬), যেখানে তিনি একটি বোবা চরিত্রে অভিনয় করেন। তার অন্যতম বাণিজ্যিক সফল ছবিগুলো হল "হৃদয়ের কথা" (২০০৬), "আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা" (২০০৮)। তার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি "পরাণ যায় জ্বলিয়া রে" (২০১০) এবং "মাটির ঠিকানা" (২০১১)

সর্বশেষ গত বছর ২০১৪ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। এতে পূর্ণিমার বিপরীতে ছিলেন রিয়াজ। মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ চলচ্চিত্রে যেমন তার বিপরীতে রিয়াজ ছিলেন ঠিক তেমনি পূর্ণিমার অভিষেকও হয়েছিলো জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে রিয়াজের বিপরীতে অভিনয় করে। রিয়াজের বিপরীতেই পূর্ণিমা ২৫টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।[৫]

সাহিত্য চর্চা[সম্পাদনা]

ফেসবুকে গত ৩ নভেম্বর,২০১৫ নিজের লেখা একটা কবিতা পোস্ট করেছেন ঢাকাই ছবির অভিনেত্রী পূর্ণিমা। কবিতাটির প্রথম কয়েকটি লাইন ছিল—

‘অনিয়ম আমাদের নিয়ম, দুর্নীতি আমাদের নীতি
দুঃখ ঢাকি বিলাসিতায়, সুখ কেবলই স্মৃতি।’ [৬]

এ কবিতাটি পড়ে অনেকেই তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন। কেউ কেউ তাঁকে নিয়মিত লেখার অনুরোধও করেছেন। বেশ কয়েক মাস ধরেই শুটিং থেকে দূরে আছেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। দেড় বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে আরশিয়াকে নিয়েই তাঁর যত ব্যস্ততা এখন। কাজের জন্য যতটা সময় দরকার তা এখনো বের করতে পারছেন না তিনি। মেয়ের দেখভাল করার পর যে সময়টুকু মেলে তখন টুকটাক লেখালেখির মধ্যেই থাকার চেষ্টা করেন। এ সময়টাতে মনে যাই আসুক না কেন, তাইই লিখে রাখছেন বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।এ প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন,

‘অনেক দিন ধরেই ছবিতে কাজ করছি না। আরশিয়াকে দেখার পর হাতে সময় থাকে। নানা কিছু পড়ি । আর যখন যা মনে আসে তা টুকটাক লিখে রাখি।ফেসবুকে হঠাৎ করেই কবিতাটি পোস্ট করেছিলাম। সবাই খুব প্রশংসা করেছে।’ [৭]

ইদানীং গল্পও লিখছেন পূর্ণিমা। সামনে এগুলো নিয়ে কেউ যদি নাটক তৈরির জন্য আগ্রহী হন, তাতে খুশি হবেন পূর্ণিমা। [৮]

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

বছর চলচ্চিত্র ভূমিকা পরিচালক সহশিল্পী নোট
১৯৯৯ এ জীবন তোমার আমার জাকির হোসেন রাজু রিয়াজ
২০০৩ মনের মাঝে তুমি আনু/রেনু মতিউর রহমান পানু রিয়াজ
২০০৪ মেঘের পরে মেঘ সুরাইয়া চাষী নজরুল ইসলাম রিয়াজ
২০০৫ শাস্তি চন্দরা চাষী নজরুল ইসলাম রিয়াজ
২০০৬ সুভা সুভা চাষী নজরুল ইসলাম শাকিব খান
হৃদয়ের কথা অধরা এস এ হক অলিক রিয়াজ
২০০৮ আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা ছোঁয়া এস এ হক অলিক রিয়াজ
২০০৯ কে আমি: Who am I নীলিমা ওয়াকিল আহমেদ রিয়াজ
২০১০ পরান যায় জ্বলিয়া রে সোহানুর রহমান সোহান শাকিব খান
২০১১ মাটির ঠিকানা শাহ আলম কিরণ শাকিব খান
২০১৪ লোভে পাপ পাপে মৃত্যু সোহানুর রহমান সোহান রিয়াজ ও আমিন খান

সাহিত্য চর্চা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]