মোহনগঞ্জ উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২৪°৫২′০০″উত্তর ৯০°৫৮′০০″পূর্ব / ২৪.৮৬৬৭° উত্তর ৯০.৯৬৬৭° পূর্ব / 24.8667; 90.9667

মোহনগঞ্জ উপজেলা
মোহনগঞ্জ উপজেলা, বাংলাদেশের স্কাইলাইন।
মোহনগঞ্জ উপজেলা পরিষদ
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
মোহনগঞ্জ উপজেলা
বিভাগ
 - জেলা
ঢাকা বিভাগ
 - নেত্রকোনা জেলা
স্থানাঙ্ক ২৪°৫২′০০″উত্তর ৯০°৫৮′০০″পূর্ব / ২৪.৮৬৬৭° উত্তর ৯০.৯৬৬৭° পূর্ব / 24.8667; 90.9667
আয়তন ২৪৩.২০ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (২০০১)
 - ঘনত্ব
 - শিক্ষার হার
১,৪৩,৭৪০জন[১]
 - 
 - ৩৪.৩০%
ওয়েবসাইট: উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট

মোহনগঞ্জ বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

অবস্থান: ২৪°৪৫´ থেকে ২৪°৫৫´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৫৫´ থেকে ৯১°০৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। উত্তরে নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলা, পূর্বে নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলা এবং পশ্চিমে নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া উপজেলাবারহাট্টা উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

ভাটিবাংলার রাজধানী খ্যাত প্রশাসন মোহনগঞ্জ থানা গঠিত হয় ৬ এপ্রিল ১৯২০ সালে। ১৯৮২ সালে উপজেলায় রুপান্তরিত করা হয়। মোহনগঞ্জ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন রয়েছে।

  • একমাত্র পৌরসভা হলো মোহনগঞ্জ পৌরসভা।

ইউনিয়নগুলি হলো :-

  • এক নং বিরামপুর বড়কাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ
  • দুই নং বড়তলী বানিহাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ
  • তিন নং তেতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ
  • চার নং মাঘান সিয়াধার ইউনিয়ন পরিষদ
  • পাঁচ নং সমাজ সহিলদে ইউনিয়ন পরিষদ
  • ছয় নং সুয়াইর ইউনিয়ন পরিষদ
  • সাত নং গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ভাটি বাংলার রাজধানী বলে জনশ্রুত নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা একটি প্রাচীন জনপদ। মোহন সাহা নামে একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর নাম অনুসারে এই শহরের নাম করণ করা হয় বলে জানা যায়। ব্রিটিশ শাসন আমল থেকেই মোহনগঞ্জ ছিল ধান, পাট, মাছ, সরিয়ার উলে­খযোগ্য ব্যবসাকেন্দ্র । এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৯২৫ খ্রিঃ মোহনগঞ্জ রেল স্টেশন নির্মাণ কাজ গুরু হয়। ১৯২৮ খিঃ রেল চলাচল গুরু হয়। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার ০৭/০৮ টি উপজেলার রাজধানীর সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোহনগঞ্জ সর্বাধুনিক গুরুত্ববহ শহর । বর্তমানে বাজধানীর সাথে ঢাকা-মোহনগঞ্জ রুটে বি.আর.টি.সি. সহ ০৭/০৮টি পরিবহণ সংস্থার বাস সার্ভিস চালু রয়েছে।

মোহনগঞ্জ পৌরসভা ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত । পৌরসভায় অবকাঠামোগত উন্নয়নে সম্ভাবনা অপার। জলপথে অর্থনৈতিককর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে মোহনগঞ্জ সমধিকার সম্ভাবনার একটি উপজেলা । মোহনগঞ্জ পৌরসভার বুক চিঁড়ে প্রবাহিত শিয়ালজানি খাল দিয়ে এক সময় ধান, পাট বোঝাই বড় মাপের নৌকা চলাচল করত। সময়ের বিবর্তনে খালটি আজ বিলুপ্ত প্রায় । খালটি আশু সংস্কারের ব্যবস্থা গুহীত হয়েছে। শিক্ষা , ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে মোহনগঞ্জ অনন্য সাধারণ ঐতিহ্য বহন করছে।এছাড়াও আনেক প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। কংশ ও ধনু দুটি নদী যার মধ্যে কংশ প্রায় মৃত।

একসময় মোহনগঞ্জ ছিল মাছের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু বর্তমানে তার অনেকটা ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে।[২][৩]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

  • খোজার দিঘী
  • ডিঙ্গাপোতা হাওর, মোহনগঞ্জ উপজেলা
  • বেথাম গ্রামের প্রাচীন দুর্গ (সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে নির্মিত),
  • শেখের বাড়ির মসজিদ (হোসেন শাহী আমলে নির্মিত),
  • দৌলতপুর মন্দির (নির্মিত ৮৭৬ বঙ্গাব্দ)।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার ৫২% শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৪.৩%; পুরুষ ৩৬.৯%, মহিলা ৩১.৫%। কলেজ ৩ , মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৮, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯২, মাদ্রাসা ১২।

উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান :

  • মোহনগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (১৯৬৯),
  • মোহনগঞ্জ মহিলা কলেজ (১৯৯৮),
  • মোহনগঞ্জ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩১),
  • মোহনগঞ্জ পাবলিক হাই স্কুল (১৯৮১),
  • মোহনগন্জ্ঞ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৮৯)
  • মোহনগন্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ( ১৯৫২)
  • খান বাহদুর কবির উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৬৭.৭৫%, অকৃষি শ্রমিক ২.৮৭%, শিল্প ০.৮০%, ব্যবসা ১১.৮৭%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ২.৮০%, চাকরি ৪.৩০%, নির্মাণ ০.৮৬%, ধর্মীয় সেবা ০.৪৬%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.২৮% এবং অন্যান্য ৮.০১%।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, সরিষা, তুলা।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি আলু।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, জাম।

মৎস, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার মৎস্য ৫০, হাঁস-মুরগি ৬১।

যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যাবস্থা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ সেটা এই মোহনগঞ্জ উপজেলাকে দেখলেই বোঝা যায়। সিলেট ঢাকা সুনামগঞ্জ ভৈরব বাজারের সঙ্গে একটি শক্তিশালী জলযোগাযোগ ব্যাবস্থা রয়েছে এই মোহনগঞ্জ উপজেলা থেকে। এর স্থলযোগাযোগ ব্যাবস্থা অন্তত উন্নত। দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে এই উপজেলার রূপবৈচিত্র্যে আহরণ করতে খুব সহজেই আসা যায়া। ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ রেলযোগাযোগ ব্যাবস্থা অন্তত উন্নত। হাওর এক্সপ্রেস নামের ইন্টারসিটি ট্রেনটির গন্তব্যস্থল এই মোহনগঞ্জ উপজেলা। এছাড়া মহুয়া কমপিউটার নামের ব্যাসরকারি ট্রেনটিও এই রেলরুটে চলাচল করে। ঢাকা মোহনগঞ্জ হাইওয়েতে প্রতিদিন 20 টিরো বেশী বাস চলাচল করে। যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৩৪.৩৪ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ৩৭ কিমি, কাঁচারাস্তা ২১৭ কিমি; রেলপথ ৩ কিমি; নৌপথ ১২ নটিক্যাল মাইল।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

[৪]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধারা মোহনগঞ্জ থানার পাকসেনাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করলে পাকসেনারা বারহাট্টার দিকে পালিয়ে যায় এবং মুক্তিযোদ্ধারা মোহনগঞ্জ থানা দখল করে নেয়। ৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা স্থানীয় লোকদের সহায়তায় ১৯ জন রাজাকারকে মোহনগঞ্জের পাথরঘাটায় হত্যা করে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ২১৭, মন্দির ৩২।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৪.৩%; পুরুষ ৩৬.৯%, মহিলা ৩১.৫%। কলেজ ২, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫০, স্কুল ৪৬, মাদ্রাসা ৫। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: মোহনগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ (১৯৬৯), মোহনগঞ্জ মহিলা কলেজ (১৯৯৮), মোহনগঞ্জ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩১), মোহনগঞ্জ পাবলিক হাই স্কুল (১৯৮১)।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ৪, ক্লাব ৩৬, সিনেমা হল ৩, মহিলা সংগঠন ৪, খেলার মাঠ ১২, নাট্যদল ১।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৩৪.৩৪ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ৩৭ কিমি, কাঁচারাস্তা ২১৭ কিমি; রেলপথ ৩ কিমি; নৌপথ ১২ নটিক্যাল মাইল।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পালকি, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, মহিষের গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা আটামিল, স’মিল, রাইস মিল, তেলকল, আইস ফ্যাক্টরী, প্রিন্টিং প্রেস, ওয়েল্ডিং কারখানা।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, মৃৎশিল্প, লৌহশিল্প, সূচিশিল্প, কাঠের কাজ।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ৩৮, মেলা ২। মোহনগঞ্জ, ছেছড়াখালি, মথুরা, জৈনপুর, বেথাম, গাগলাজুর, পাইকুড়া ও পালগাঁও হাট এবং নাগডরা ও বড়ান্তর মেলা উল্লেখযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য ধান, শুঁটকি মাছ, ডিম।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়নের আওতাধীন। তবে ২০.১৩% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯৪.৮৫%, ট্যাপ ০.৮৬%, পুকুর ১.৪৪% এবং অন্যান্য ২.৮৫%। এ উপজেলার ৩৩% অগভীর নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ১৩.৮০% (গ্রামে ৭.০৬% ও শহরে ৫২.৩৮%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৭৫.৭১% (গ্রামে ৮১.৪৪% ও শহরে ৪২.৮২%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। তবে ১০.৫০% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ৭, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ২।

এনজিও ব্র্যাক, প্রশিকা, আশা, আহসানিয়া মিশন।

[US]

তথ্যসূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; মোহনগঞ্জ উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।

গ্যালারি[সম্পাদনা]


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সৈয়দ মারুফুজ্জামান (৫ মার্চ ২০১৫)। "মোহনগঞ্জ উপজেলা"bn.banglapedia.org। বাংলাপিডিয়া। সংগৃহীত ১০ জুলাই, ২০১৫ 
  2. নেত্রকোণা জেলার ইতিহাস’ (পৃষ্ঠা-১৬৮, খন্ড-৫)
  3. বাংলাপিডিয়া
  4. "প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


নেত্রকোনা জেলা Flag of Bangladesh
উপজেলা/থানাঃ নেত্রকোনা সদর | মোহনগঞ্জ | মদন | খালিয়াজুড়ি | কেন্দুয়া | দূর্গাপুর | কলমাকান্দা | আটপাড়া | বারহাট্টা | পূর্বধলা