আটপাড়া উপজেলা
| আটপাড়া | |
|---|---|
| উপজেলা | |
মানচিত্রে আটপাড়া উপজেলা | |
| স্থানাঙ্ক: ২৪°৪৮′৩৭″ উত্তর ৯০°৫২′৮″ পূর্ব / ২৪.৮১০২৮° উত্তর ৯০.৮৬৮৮৯° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | ময়মনসিংহ বিভাগ |
| জেলা | নেত্রকোণা জেলা |
| সরকার | |
| আয়তন | |
| • মোট | ১৯২ বর্গকিমি (৭৪ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০১১)[১] | |
| • মোট | ১,৩২,৪৪০ |
| • জনঘনত্ব | ৬৯০/বর্গকিমি (১,৮০০/বর্গমাইল) |
| সাক্ষরতার হার৮০.৯০% | |
| • মোট | % |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| প্রশাসনিক বিভাগের কোড | ৩০ ৭২ ০৪ |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
আটপাড়া উপজেলা বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলার একটি উপজেলা। এটি নেত্রকোণা জেলার মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে ছোট উপজেলা। ৭ টি ইউনিয়ন ও ১৭৫ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত আটপাড়া উপজেলা।
অবস্থান ও আয়তন
[সম্পাদনা]আটপাড়া উপজেলার উত্তরে বারহাট্টা উপজেলা, দক্ষিণ কেন্দুয়া উপজেলা ও মদন উপজেলা, পূর্বে খালিয়াজুড়ি উপজেলা, মোহনগঞ্জ উপজেলা, পশ্চিমে নেত্রকোণা সদর উপজেলা।
প্রশাসনিক এলাকা
[সম্পাদনা]আটপাড়া উপজেলায় বর্তমানে ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আটপাড়া থানার আওতাধীন।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]আটপাড়া
উপজেলার ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও ঘটনাবহুল। এর প্রধান ঐতিহাসিক দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- নামকরণের ইতিহাস: বারো-ভুঁইয়াদের আমলে আটপাড়া 'সরকার বাজুহার' এর অন্তর্ভুক্ত ছিল [১.৩.৩, ১.৪.১]। পরবর্তীতে এটি সিরুজিয়াল ও ময়মনসিংহ পরগণার অধীনে আসে [১.৩.৩, ১.৪.১]। তৎকালীন ময়মনসিংহ পরগণার জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী তার নিজের নামানুসারে এই এলাকার নাম রেখেছিলেন 'ব্রজের বাজার' [১.৩.৩, ১.৪.১]। পরে এলাকাটির নাম পরিবর্তন করে 'আটপাড়া' রাখা হয়, তবে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও 'ব্রজের বাজার' নামটি প্রচলিত আছে [১.৩.৩, ১.৪.১]।
- প্রশাসনিক বিবর্তন: আটপাড়া থানার কার্যক্রম প্রথমে নেত্রকোণা সদর ও পরে বারহাট্টা থানা থেকে পরিচালিত হতো [১.১.১, ১.৪.৪]। ১৯১৭ সালের ২১ আগস্ট আটপাড়া থানা (পুলিশ স্টেশন) হিসেবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করে [১.১.১, ১.৪.৪]। ১৯৬২ সালে এটি সার্কেল উন্নয়নের আওতায় আসে এবং ১৯৬৪ সালে নিজস্ব কার্যালয় স্থাপিত হয় [১.১.২, ১.৪.৪]। অবশেষে ১৯৮৩ সালের ২ জুলাই আটপাড়াকে উপজেলায় উন্নীত করা হয় [১.১.২, ১.৪.২]।
- মুক্তযুদ্ধ: ১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট বীর মুক্তিযোদ্ধারা আটপাড়া থানা আক্রমণ করেন। এই অভিযানে থানার ওসি ও বেশ কিছু রাজাকার নিহত হয় এবং মুক্তিযোদ্ধারা প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র দখল করেন [১.২.৩, ১.৪.১]। ৭ অক্টোবর এই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সম্মুখ যুদ্ধ হয়, যেখানে তিন জন রাজাকার নিহত হয় [১.২.৩, ১.২.৮]।
- ঐতিহাসিক স্থাপনা: মোঘল আমলের স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে স্বরমুশিয়া ও হরিপুর গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে তিন গম্বুজবিশিষ্ট সারমুষিয়া-হরিপুর মসজিদ বিদ্যমান [১.২.৩, ১.৪.১]। এ ছাড়া রামেশ্বরপুর গ্রামের জমিদার রায় বাড়ির ধ্বংসাবশেষ এলাকার প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে [১.২.৩, ১.৪.১]।
- সামাজিক আন্দোলন: ব্রিটিশ আমলে তেলিগাতী ইউনিয়নের আমতী গ্রামের সমাজ সংস্কারকগণ (যেমন- সোনাফর উদ্দিন, শariat খাঁ প্রমুখ) নিষ্ঠুর জমিদার শ্যাম বিশ্বাসের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, যা পরবর্তীতে সারা জেলায় ছড়িয়ে পড়েছিল [১.২.৪, ১.৪.১]
জনসংখ্যার উপাত্ত
[সম্পাদনা]এখানের মোট জনসংখ্যা ১,৩২,৪৪০ জন।
শিক্ষা
[সম্পাদনা]অতীতে শিক্ষার হার কম থাকলেও দিনেদিনে এই হার ক্রমশ বাড়তেছে । শিক্ষার হার:৬০% আটপাড়া উপজেলায় ৩টি কলেজ ও ২টি উন্নত মানের মাদ্রাসা রয়েছে। (১)তেলিগাতী সরকারি ডিগ্রী কলেজ। স্থাপিত:১৯৬৮খ্রী:। (২) আটপাড়া ডিগ্রী কলেজ। স্থাপিত:১৯৮৫খ্রী:।
অর্থনীতি
[সম্পাদনা]আটপাড়া উপজেলা মূলত কৃষি নির্ভর। এই উপজেলায় ধান, পাট, গম ইত্যাদি প্রধান অর্থকরী ফসল। এছাড়াও কুমড়া, আলু, পটল, সরিষা প্রচুর পরিমাণে চাষ করা হয় । প্রধান ফল-ফলাদি হচ্ছে আম, কাঁঠাল, কলা, জাম, লিচু, পেয়ারা, তরমুজ, সুপারি, পেঁপে ইত্যাদি। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি হচ্ছে কাউন, খেসারি, ছোলা, আউশ ধান, অড়হর, মাষকলাই। এখানে প্রচুর হাঁস-মুরগি এবং খামার,গরু-ছাগলের খামার, মৎস্য খামার রয়েছে যা কিনা এই উপজেলার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ব্যাপক অবদান রেখেছে। ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনায় এই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট ও মাঝারি আকারের ক্ষুদ্র শিল্প।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব
[সম্পাদনা]- যোগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী - ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং বিপ্লবী।
- অখিল পাল - বাংলাদেশের খ্যাতিমান ভাস্কর ও শিল্পী।
- খালেকদাদ চৌধুরী - বিশিষ্ট সাহিত্যিক।
- আব্দুল খালেক - সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা।
- খাদিজা আমিন- প্রাক্তন সংসদ সদস্য।
- নুরুল আমিন তালুকদার- প্রাক্তন সংসদ সদস্য।
- মনজুর কাদের কোরাইশী - প্রাক্তন জাতীয় সংসদ সদস্য।
- হেলাল হাফিজ - কবি ও সাংবাদিক
- কাহ্নপাদ - আদী যুগের কবি।
- মোসলেহউদ্দিন আহমেদ:বীর প্রতীক
- প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী -অবসর প্রাপ্ত সচিব ও বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করছেন।
- হেলালুজ্জামান - বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।
জনপ্রতিনিধি
[সম্পাদনা]সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী খায়রুল ইসলাম।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে আটপাড়া"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "এক নজরে আটপাড়া"। atpara.netrokona.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ১১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০২০।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |