গোবরডাঙা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
গোবরডাঙ্গা
শহর
গোবরডাঙা শহরের একটি আবাসিক এলাকা
গোবরডাঙা শহরের একটি আবাসিক এলাকা
গোবরডাঙ্গা পশ্চিমবঙ্গ-এ অবস্থিত
গোবরডাঙ্গা
গোবরডাঙ্গা
গোবরডাঙ্গা ভারত-এ অবস্থিত
গোবরডাঙ্গা
গোবরডাঙ্গা
অবস্থান পশ্চিমবঙ্গ,ভারত
স্থানাঙ্ক: ২২°৫২′ উত্তর ৮৮°৪৬′ পূর্ব / ২২.৮৭° উত্তর ৮৮.৭৬° পূর্ব / 22.87; 88.76স্থানাঙ্ক: ২২°৫২′ উত্তর ৮৮°৪৬′ পূর্ব / ২২.৮৭° উত্তর ৮৮.৭৬° পূর্ব / 22.87; 88.76[১]
দেশ  ভারত
রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ
জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনা
সরকার
 • পৌর প্রধান সুভাষ দত্ত[২]
আয়তন
 • মোট ১৩.৫ কিমি (৫.২ বর্গমাইল)
উচ্চতা[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ৬ মিটার (২০ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১১)[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
 • মোট ৪১,৬১৮
 • ঘনত্ব ৩১০০/কিমি (৮০০০/বর্গমাইল)
ভাষা
 • সরকারি ভাষা বাংলা
সময় অঞ্চল IST (ইউটিসি+5:30)
আইএসও ৩১৬৬ কোড IN-WB
Lok Sabha constituency Bangaon
Vidhan Sabha constituency Gaighata
ওয়েবসাইট north24parganas.nic.in

গোবরডাঙা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার একটি শহর ও পৌরসভা এলাকা। এই অঞ্চল প্রাচীন কুশদহ পরগনা বা কুশদ্বীপের অন্তর্গত ছিল। এই অঞ্চল সেসময় নদীবেষ্টিত বাঁশবন সমাকীর্ণ গ্রাম ছিল এবং বিবিধ প্রাকৃতিক কারণে মানুষের দুরধিগম্য ছিল। পরবর্তীতে, জনবসতি বিস্তারের পর আধুনিককালে গোবরডাঙা জমিদারবংশ ও সংস্কৃত পণ্ডিতসমাজ প্রসিদ্ধি অর্জন করে।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন কুশদ্বীপের অন্তর্গত এই অঞ্চলের উপর দিয়ে ইছামতি নদী যমুনা নদীর সঙ্গে প্রবাহিত হত৷ এখানকার চালুন্দিয়া নদীও খরস্রোতা ছিল, বাণিজ্যের পণ্যবাহী নৌকা চলাচল করত; চান্দুলিয়ার খানিকটা অংশ 'কঙ্কনা' বা 'বামোড়' নামধারণ করে খাঁটুরা বা হয়দাদপুরের পূর্বদিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

একসময় এই অঞ্চল সমৃদ্ধ গোপপ্রধান জনপদ ছিল। সংলগ্ন গোপিনীপোতা, গয়েশপুর, গোময়, গবীপুর, গোপালপুর প্রভৃতি গ্রামের গোপ-কৃষ্ণ জড়িত নাম এখনো সেই স্মৃতি বহন করছে। ১৮৫০-৮০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এখানকার কানাই-নাট্যশালা গ্রামে মাটি খুঁড়ে একাধিক প্রাচীন মন্দিরের ভিত পাওয়া যায়; এছাড়া, মানুষের কঙ্কালও মিলেছিল। মাটকুমড়ো অঞ্চলেও মাটি খুঁড়ে বড়-বড় অট্টালিকা ও পুরানো ইটের স্তুপ পাওয়া গিয়েছিল।

অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে যশোরের শ্যামরাম মুখোপাধ্যায় (মৃত্যুঃ ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দ) ইংরেজদের কাছ থেকে নিলামে গোবরডাঙার জমিদারি কেনেন। তাঁর পুত্র কালিপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় দক্ষ হাতে জমিদারি পরিচালনা করেছিলেন। ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে ৫০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু ঘটে। গোবরডাঙা জমিদারদের বিভিন্ন ভবন এখন ভগ্নপ্রায় অবস্থায় বিদ্যমান।

কুশদহ পরগনার মাটিকোমরা, গৈপুর, খাঁটুরা প্রভৃতি অঞ্চলে 'নবন্যায়' শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ সংস্কৃত পণ্ডিতরা বসবাস করতেন। পণ্ডিত রামভদ্র ন্যায়ালঙ্কারের যথেষ্ট নামযশ ছিল। কথক রামধন তর্কবাগীশ এবং তাঁর পুত্র সমাজ-সংস্কারক শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন এই অঞ্চলের খাঁটুরার বাসিন্দা ছিলেন।

১৬শ শতকের মধ্যভাগে বর্গী হাঙ্গামার কারণে সপ্তগ্রামের ৪২ ঘর তাম্বুলি বণিক (রক্ষিত, সেন, আশ, কোঁচ, দত্ত, কর, দে, পাল, কুণ্ড) স্থানীয় ইছাপুর জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা রঘুনাথ চক্রবর্তীর সহায়তায় খাঁটুরায় বসবাস শুরু করেন। তাঁরা এই অঞ্চলে যথেষ্ট প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ছিলেন; তাঁদের ছিল গোলাবাড়ি, খামার, তেজারতি, মহাজনি কারবার, চিনি ও ধানচালের ব্যবসা। তাঁদের কারখানাগুলিতে ('মোকাম') দলুয়া চিনি, গরপেটে চিনি তৈরী হত। দানধ্যান, ব্রাহ্মণসেবা এবং পুরাণ পাঠেও তাঁদের খ্যাতি ছিল; সিদ্ধিরাম রক্ষিত ছিলেন বিখ্যাত পুরাণ পাঠক। [৩]

ভৌগোলিক উপাত্ত[সম্পাদনা]

শহরটির অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হল ২২°৫২′ উত্তর ৮৮°৪৬′ পূর্ব / ২২.৮৭° উত্তর ৮৮.৭৬° পূর্ব / 22.87; 88.76[৪] সমূদ্র সমতল হতে এর গড় উচ্চতা হল ৬ মিটার (১৯ ফুট)।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

ভারতের ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুসারে গোবরডাঙা শহরের জনসংখ্যা হল ৪১,৬১৮ জন।[৫] এর মধ্যে পুরুষ ৫১%, এবং নারী ৪৯%।

এখানে সাক্ষরতার হার ৮০%, । পুরুষদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৪%, এবং নারীদের মধ্যে এই হার ৭৫%। সারা ভারতের সাক্ষরতার হার ৫৯.৫%, তার চাইতে গোবরডাঙা এর সাক্ষরতার হার বেশি।

এই শহরের জনসংখ্যার ৯% হল ৬ বছর বা তার কম বয়সী।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Maps, Weather, and Airports for Gobardanga, India"fallingrain.com (ইংরেজি ভাষায়)। 
  2. Official District Administration site আর্কাইভ January 15, 2007, at the Wayback Machine.
  3. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ২০৫-২১৩
  4. "Gobardanga"Falling Rain Genomics, Inc (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত অক্টোবর ৭, ২০০৬ 
  5. "ভারতের ২০০১ সালের আদমশুমারি" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত অক্টোবর ৭, ২০০৬