কাটোয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কাটোয়া
শহর
কাটোয়া পশ্চিমবঙ্গ-এ অবস্থিত
কাটোয়া
কাটোয়া
পশ্চিমবঙ্গ, ভারতে অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৩৯′উত্তর ৮৮°০৮′পূর্ব / ২৩.৬৫° উত্তর ৮৮.১৩° পূর্ব / 23.65; 88.13স্থানাঙ্ক: ২৩°৩৯′উত্তর ৮৮°০৮′পূর্ব / ২৩.৬৫° উত্তর ৮৮.১৩° পূর্ব / 23.65; 88.13
দেশ  ভারত
রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ
জেলা পূর্ব বর্ধমান জেলা
জনসংখ্যা (2001)
 • মোট ৭১,৫৭৩
ভাষা
 • অফিসিয়াল বাংলা, ইংরেজি
সময় অঞ্চল আইএসটি (ইউটিসি+৫:৩০)

কাটোয়া ( ইংরেজি ভাষায়: Katwa) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি মহকুমা শহর ও পৌরসভা এলাকা। কাটোয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কাটোয়া ভাগীরথী নদীঅজয় নদের তীরবর্তী একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থান। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু এখানে কেশব ভারতীর কাছে দীক্ষা নেন। নাম হয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যগিরি, তাই কাটোয়ার মাহাত্ম্য বৈষ্ণবতীর্থ হিসাবেও। তাঁর সেই দীক্ষাস্থলের নাম এখন গৌরাঙ্গবাড়ি। বাংলার নবাব আলীবর্দী খানের আমলে নাগপুরের মারাঠা রাজা প্রথম রঘুজী ভোঁসলের মারাঠা সৈন্যরা (বর্গী) এ অঞ্চলে লুটপাট শুরু করে। তারা কাটোয়ায় ঘাঁটি তৈরি করেছিল। মারাঠা 'বর্গী'দের প্রধান ভাস্কর পণ্ডিত এখানে দুর্গাপূজা প্রচলন করেন[১]। ১৭৪২ সালের সেপ্টেম্বরে ভাস্কর পণ্ডিত যখন কাটোয়ায় দূর্গাপুজা পালন করছিলেন, নবাব আলীবর্দী খান কাটোয়ার এক মাইল উত্তরে উদ্ধারনপুরের কাছে গঙ্গা পার হয়ে অকস্মাৎ হামলা করেন এবং এই যুদ্ধে মারাঠা দস্যুদের পরাজয় ঘটে। এরপর তারা বাংলা থেকে বিতাড়িত হয়[২]। এরপর ১৭৬৩ সালে নবাব মীর কাশিমের সাথে ইংরেজের যুদ্ধ হয় এই কাটোয়ায়। নবাব বাহিনী পরাজয় বরণ করে।

অজয় ও ভাগীরথী নদীর সংগম, কাটোয়া। পশ্চিমবঙ্গ।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

ভারতের ২০০১ সালের আদম শুমারি অনুসারে কাটোয়া শহরের জনসংখ্যা হল ৭১,৫৭৩ জন;[৩] এর মধ্যে পুরুষ ৫১% এবং নারী ৪৯%।

এখানে সাক্ষরতার হার ৭৪%। পুরুষদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৮% এবং নারীদের মধ্যে এই হার ৬৯%। সারা ভারতের সাক্ষরতার হার ৫৯.৫%; তার চাইতে কাটোয়া এর সাক্ষরতার হার বেশি।

এই শহরের জনসংখ্যার ১০% হল ৬ বছর বা তার কম বয়সী।

যোগাযোগ[সম্পাদনা]

কাটোয়া, হাওড়া - আজিমগঞ্জ লাইনের একটি রেলওয়ে জংশন স্টেশন। হাওড়া হতে উত্তরবঙ্গের রেলপথে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। এখানে কিছুকাল আগে পর্যন্ত কাটোয়া - আহমেদপুর ও কাটোয়া - বর্ধমান ঐতিহ্যবাহী ন্যারো গেজ রেল চলাচল করতো। বর্তমানে ন্যারো গেজের বদলে কাটোয়া আহমাদপুর লাইন ব্রড গেজে উন্নতীকরণ হয়েছে। কাটোয়া সড়কপথে জেলা সদর বর্ধমানের সাথে যুক্ত। ভাগীরথীর অপর পারে দেবগ্রাম হয়ে নদীয়া জেলার সাথে নদীপথে যোগাযোগ আছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সৌমেন দত্ত (১ অক্টোবর, ২০১৪)। "ভাস্কর পন্ডিতের পূজোর সাক্ষ্য"। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগৃহীত ২৪.০১.২০১৭ 
  2. মারাঠা আক্রমন। "ঐতিহাসিক পটভূমিকা"। ন্যাশনাল ইনফরমেশন সেন্টার। সংগৃহীত ২৪.০১.১৭ 
  3. "ভারতের ২০০১ সালের আদম শুমারি"। সংগৃহীত অক্টোবর ৭, ২০০৬