গুসকরা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গুসকরা
গুসকরা
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট৩৫,৩৮৮

গুসকরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি শহর ও পৌরসভা এলাকা। এর আয়তন ২১.১৫ বর্গ কি.মি.।[১] ১৯৮৮ সালের ১লা মার্চ গুসকরা পৌরসভা স্থাপিত হয়। এই পৌরসভার প্রথম পৌরপিতা ছিলেন শ্রী তারকেশ্বর পাত্র।[১] এটি একটি পাললিক সীমাভূমি অঞ্চল।[২] ১৯৪৩ সালে বন্যায় এই এলাকায় প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীরা বাঁধ মেরামতি ও রক্ষনাবেক্ষণের দাবীতে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। সরকারের কাছে ডেপুটেশন ও দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে বাঁধ এলাকা জমিদারের স্বত্বাধীন; সরকারের কোনও দায়িত্বই নেই। ১৯৪৪ সালে বাঁধ কমিটির উদ্যোগে গুসকরায় এক বিরাট জনসমাবেশ হয়। সভাপতিত্ব করেন বর্ধমানের মহারাজাধিরাজ উদয়চাঁদ মহতাব। সেখান থেকে প্রস্তাব নিয়ে সরকারের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় ৯ টি ইউনিয়নের সদস্যগন একযোগে পদত্যাগ করে সরকারি স্থানীয় স্বায়ত্বশাসনকে একেবারে অচল করে দেন। সে সময় ইঞ্জিনিয়র ছিলেন জি. মণ্ডল তিনি জুন মাস পরে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বাঁধ মেরামতির কাজ ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করেন। তখন পার্টির তরফ থেকে যত প্রয়োজন তত লেবার সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিলে ইঞ্জিনিয়ার বাঁধ নির্মাণ করতে বাধ্য হন। পার্টি থেকে প্রতিদিন ৫/৬ হাজার লোক যোগাড় করে দেওয়া হয়। ফলে বাঁধ বর্ষার আগেই শেষ হয়ে যায়। এই বাঁধ ১৯৭৮ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত অক্ষত ছিল। এই বাঁধ-আন্দোলনে লোক সরবরাহ করে সফল করার ফলে এই এলাকায় পার্টির জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেড়ে যায়। [৩]

নদ-নদী[সম্পাদনা]

গুসকরার পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয়েছে একমাত্র নদী কুনুর নদী। অজয়ের দক্ষিণে প্রবাহিত অজয়ের প্রধান উপনদী। মোট দৈর্ঘ্য ১১২ কিমি. ও ধারণ-অববাহিকা অঞ্চল (Catchment area) ৭৭২ কিমি. । কুনুর থেকে উৎপন্ন হওয়া গুসকরায় অবস্থিত কাঁদড় বা উপনদীটি বর্ষাতে ফুলে ওঠে; অন্য সময় স্থানে স্থানে শুঁকিয়ে যায়; আবার কোথাও থাকে পায়ের চেটো ভেজা জল। বর্ষাকালে এই উপনদী জলে পুষ্ট হয়ে গুসকরার কাছে কুনুর বন্যাপ্রবণ হয়েছে। বন্যার জলে আউসগ্রাম ও মঙ্গলকোট থানার বিরাট অঞ্চল প্লাবিত হয়। উজানী কোগ্রামের কাছে অজয়-কুনুরের সঙ্গমস্থলেই মঙ্গলকাব্য-খ্যাত ভ্রমরার দহ। মনে হয় মঙ্গলচন্ডী নাম থেকেই হ্রদাকৃতি ভ্রমরার দহের নামকরণ করেছিলেন কবিকঙ্কন। কারণ মার্কণ্ডেয় পুরাণে আছে – তদাহং ভ্রামরাং রূপং, কৃত্বা সঙ্খ্যেয়ংষটপদম্।[৪]

জনসংখ্যার উৎপত্তি☁[সম্পাদনা]

২০১১ সালে সেন্সাস অনুযায়ী - গুসকরায় জনসংখ্যা ৩৫৩৮৮ জন। ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ১৫ টি। অর্থাৎ গড়ে ওয়ার্ড পিছু লোক সংখ্যা ছিল ২৩৫৯.২ জন। বর্তমানে ওয়ার্ড সংখ্যা ১৬ টি। পুরুষ সংখ্যা ১৮০৭৩ জন। মহিলা সংখ্যা ১৭৩১৫ জন। ০ থেকে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু সংখ্যা ছিল ৩৫৪৪ জন যা গুসকরারর মোট জনসংখ্যার ১০.০১ শতাংশ। শিক্ষিতর হার ৮০.১৬ শতাংশ। পুরুষ শিক্ষার হার ৮৬.৩৮ শতাংশ। মহিলা শিক্ষার হার ৭৩.৬৯ শতাংশ। হিন্দু ৮৭.৬০ শতাংশ। মুসলিম ১১.৯০ শতাংশ। খ্রীস্টান ০.১৮ শতাংশ। শিখ ০.০১ শতাংশ। বৌদ্ধ ০.০১ শতাংশ। জৈন ০.১৯ শতাংশ। বিবৃতি হীন - ০.১০ শতাংশ। ৩৩.৩১ শতাংশ Schedule Cast ও ৩.৯০ শতাংশ Schedule Tribe. ১৩৩৪২ জন ব্যাবসা, চাষবাস ও অন্যান্য কাজের সাথে জড়িত। তার মধ্যে ১০৪৪২ জন পুরুষ ও ২৯১০ জন মহিলা।[৫]

বিখ্যাত ব্যক্তিগণ[সম্পাদনা]

রায়বাহাদুর রসময় মিত্র : (১৮৫৯-১০.০৪-১৯৩১)

গুসকরার সন্নিকট গুসকরা - কাশেমনগর রাস্তার মধ্যস্থলে চানক গ্রামে জন্ম। পিতা- নবদ্বীপচন্দ্র। অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন সিউড়ি সরকারী বিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে ১৫ টাকা বৃত্তি পান। মহসীন কলেজে ২০ টাকা বৃত্তি নিয়ে এফ.এ. পাশ করেন। ইংরেজিতে এম.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেদিনীপুরের এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন। পরে হেয়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষক হন। ৫ বছরে হেয়ার স্কুলে প্রভূত উন্নতি করেন। এরপর সরকার তাঁকে হিন্দু স্কুলের দায়িত্ব দেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠায় হিন্দু স্কুলের যেন নতুন জাগরণ ঘটে। এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার তাঁকে রায়বাহাদুর উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন। সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী রসময়বাবুর কীর্তন গানে লোকে মুগ্ধ হয়ে যেত। 'কৃপাদৃষ্টি', 'রাস-রস- কণিকা' প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বর্ধমান জেলার ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতি (দ্বিতীয় খন্ড) এককড়ি চট্টোপাধ্যায়। অরুন কুমার দে। অক্টোবর, ২০০১। পৃষ্ঠা ৫৯২। আইএসবিএন ৮১-৮৫৪৫৯-৩৭-১ |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid character (সাহায্য)  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. বর্ধমান জেলার ইতিহাস ও লোক সংস্কৃতি-প্রথম খন্ড। অরুণ কুমার দে। অক্টোবর, ২০০০। পৃষ্ঠা ১৮।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  3. বর্ধমান জেলা ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতি। অরুণ কুমার দে। অক্টোবর,২০০০। পৃষ্ঠা ৪৮২।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  4. লোকসংস্কৃতি, বর্ধমান জেলার ইতিহাস ও (অক্টোবর ২০০০)। তথ্যসূত্রঃ বর্ধমান জেলার ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতি (প্রথম খন্ড) পাতা- ৩৫ এককড়ি চট্টোপাধ্যায়। অরুণ কুমার দে। পৃষ্ঠা ৩৫। আইএসবিএন ৮১৮৫৪৫৯-৩৬-৩ |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid character (সাহায্য) 
  5. "Census2011"https://www.census2011.co.in/data/town/801677-guskara-west-bengal.html  |ওয়েবসাইট= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  6. বর্ধমান জেলার ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতি (দ্বিতীয় খন্ড)। অরুণ কুমার দে। অক্টোবর,২০০১। পৃষ্ঠা ৬৩৮। আইএসবিএন ৮১-৮৫৪৫৯-৩৭-১ |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid character (সাহায্য)  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)