হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক

স্থানাঙ্ক: ২৩°১৮′ উত্তর ৮৬°৩৯′ পূর্ব / ২৩.৩০° উত্তর ৮৬.৬৫° পূর্ব / 23.30; 86.65
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হুড়া
সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক
হুড়া পশ্চিমবঙ্গ-এ অবস্থিত
হুড়া
হুড়া
পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে হুড়ার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°১৮′ উত্তর ৮৬°৩৯′ পূর্ব / ২৩.৩০° উত্তর ৮৬.৬৫° পূর্ব / 23.30; 86.65
দেশ ভারত
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
জেলাপুরুলিয়া
লোকসভা কেন্দ্রপুরুলিয়া
বিধানসভা কেন্দ্রমানবাজার, কাশীপুর
আয়তন
 • মোট৩৮২.২১ বর্গকিমি (১৪৭.৫৭ বর্গমাইল)
উচ্চতা১৬৭ মিটার (৫৪৮ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১,৪৩,৫৭৫
 • জনঘনত্ব৩৮০/বর্গকিমি (৯৭০/বর্গমাইল)
ভাষা
 • সরকারিবাংলা, সাঁওতালি, ইংরেজি
সময় অঞ্চলভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+০৫:৩০)
পিন কোড৭২৩১৩০ (হুড়া)
টেলিফোন/এসটিডি কোড০৩২৫১
যানবাহন নিবন্ধনডব্লিউবি-৫৫, ডব্লিউবি-৫৬
সাক্ষরতার হার৬৮.৭৯%
ওয়েবসাইটpurulia.gov.in
http://hurablock.org/

হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলার পুরুলিয়া সদর মহকুমার একটি প্রশাসনিক বিভাগ (সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক)।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে রচিত জৈন ধর্মগ্রন্থ ভগবতীসূত্রে পুরুলিয়াকে প্রাচীন ষোড়শ মহাজনপদের অন্যতম বজ্রভূমির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৮৩৩ সালে জঙ্গলমহল জেলা বিভাজিত করে মানভূম জেলা গঠিত হয়। এই জেলার সদর ছিল মানবাজার। ১৮৩৮ সালে সদর স্থানান্তরিত হয় পুরুলিয়া শহরে। স্বাধীনতার পর মানভূম জেলা বিহার রাজ্যের অংশই থেকে যায়। এই সময় বিহার সরকার জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাভাষীদের উপর হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে এই জেলায় বাংলা ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইন এবং বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ (অঞ্চল হস্তান্তর) আইন অনুযায়ী মানভূম জেলা বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়।[১][২]

ভূগোল[সম্পাদনা]

পুরুলিয়া জেলার সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকগুলির মানচিত্র

হুড়ার স্থানাংক ২৩°১৮′ উত্তর ৮৬°৩৯′ পূর্ব / ২৩.৩০° উত্তর ৮৬.৬৫° পূর্ব / 23.30; 86.65

হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকটি পুরুলিয়া জেলার পূর্বভাগে অবস্থিত। কংসাবতী নদী হুড়া ও পুঞ্চা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মধ্যে সীমানাটি রচনা করেছে। নিম্ন কংসাবতী অববাহিকায় ক্ষয়প্রাপ্ত নিম্নভূমি দেখা যায়।[৩]

হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের উত্তর দিকে কাশীপুরপাড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক; পূর্ব দিকে বাঁকুড়া জেলার ইঁদপুরহিরবাঁধ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক; দক্ষিণ দিকে পুঞ্চা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক; এবং পশ্চিম দিকে পুরুলিয়া ১ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক অবস্থিত।[৪]

হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের আয়তন ৩৮২.২১ বর্গ কিলোমিটার। এই ব্লকে একটি পঞ্চায়েত সমিতি, ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ১০৭টি গ্রাম সংসদ, ১১৬টি মৌজা ও ১১১টি জনবসতিপূর্ণ গ্রাম রয়েছে। ব্লকটি হুড়া থানার এক্তিয়ারভুক্ত এলাকার অন্তর্গত।[৫] ব্লকের সদর হুড়ায় অবস্থিত।[৬]

হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক/পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি হল: চাতুমাদার, দলদলি, হুড়া, জাবাড়া, কালাবনী, কেশরগড়, লাধুড়কা, লখনপুর, মানগুড়িয়া-লালপুর ও রাখেড়া-বিশপুরিয়া।[৭]

জনপরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের জনগণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মোট জনসংখ্যা ১৪৩,৫৭৫। এই জনসংখ্যার সম্পূর্ণ অংশই গ্রামীণ জনসংখ্যা। পুরুষের মোট সংখ্যা ৭২,৮৬৭ (৫১%) ও মহিলার মোট সংখ্যা ৭০,৭০৮ (৪৯%)। ১৮,৪৬৭ জনের বয়স ছয় বছরের কম। তফসিলি জাতি-তালিকাভুক্ত জনসংখ্যা ২৮,০৮৭ (১৯.৫৬২%) এবং তফসিলি উপজাতি-তালিকাভুক্ত জনসংখ্যা ৩৬,৫৬১ (২৫.৪৬%)।[৮]

২০০১ সালের জনগণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আড়শা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মোট জনসংখ্যা ছিল ১২৭,৪২৩; যার মধ্যে ৬৪,৪৬২ জন ছিল পুরুষ এবং ৬২,৯৬১ জন ছিল মহিলা। ১৯৯১-২০০১ দশকে আড়শার জনসংখ্যা বৃদ্ধির নথিবদ্ধ হার ছিল ১২.০৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, এই দশকে পুরুলিয়া জেলায় এই হার ছিল ১৩.৯৬ শতাংশ[৯] এবং সমগ্র রাজ্যে এই হার ছিল ১৭.৮৪ শতাংশ।[১০]

হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের বড়ো গ্রামগুলি (৪,০০০+ জনসংখ্যাবিশিষ্ট) হল (বন্ধনীতে ২০১১ সালের জনগণনার হিসেব): কালাবনী (৫,৬৯৮), মাঙ্গুরালালপুর (৬,৬৮৩), দলদলি (৪,৪৮৮), কেশরগড় (৪,৬২৬) ও পাসসিয়া (৪,০৭৫)।[৮]

এই ব্লকের অন্যান্য গ্রামগুলি হল (বন্ধনীতে ২০১১ সালের জনগণনার হিসেব): হুড়া (৩,৪১৯), রাকশ্যাড়া (২,৩৮৭), বিশপুরিয়া (৩,৬৬১), চাতুমাদার (১,৮৪২), জাবাড়া (২,০৭৩), লাধুড়কা (৩,৬৫২) ও লখনপুর (২,৯৭৩)।[৮]

সাক্ষরতা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের জনগণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মোট সাক্ষর জনসংখ্যা ৮৬,০৬৭ (অন্যূন ছয় বছর বয়সী জনসংখ্যার ৬৮.৭৯ শতাংশ); এর মধ্যে পুরুষ সাক্ষরের সংখ্যা ৫১,৯৭১ (অন্যূন ছয় বছর বয়সী পুরুষ জনসংখ্যার ৮১.৯৫ শতাংশ) এবং সাক্ষর মহিলার সংখ্যা ৩৪,০৯৬ (অন্যূন ছয় বছর বয়সী মহিলা জনসংখ্যার ৫৫.২৭ শতাংশ)। সাক্ষরতার ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্যের হার ছিল ২৬.৬৮ শতাংশ।[৮] টেমপ্লেট:Literacy in CD Blocks of Purulia district

ভাষা ও ধর্ম[সম্পাদনা]

২০০১ সালের জনগণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরুলিয়া জেলার ৭৬.৬ শতাংশ অধিবাসীর মাতৃভাষা ছিল বাংলা, ১১.৪ শতাংশের সাঁওতালি, ৭.৭ শতাংশের কুর্মালি, ১.৯ শতাংশের হিন্দি, ১.১ শতাংশের উর্দু, ০.৩ শতাংশের খোরঠা/খোট্টা, ০.২ শতাংশের তেলুগু, ০.১ শতাংশের ওডিয়া, ০.১ শতাংশের মুন্ডারি এবং ০.৪ শতাংশের অন্যান্য ভাষা।[১১]

২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি ভাষা (দ্বিতীয় সংশোধনী) বিল অনুযায়ী, কোনও নির্দিষ্ট ব্লক বা মহকুমা বা জেলায় জনসংখ্যা ১০ শতাংশের বেশি অংশের ভাষা হিন্দি, সাঁওতালি, ওডিয়া বা পাঞ্জাবি হলে সংশ্লিষ্ট ভাষাটি সেই অঞ্চলে অতিরিক্ত সরকারি ভাষার মর্যাদা পাবে। এরপর ২০১৮ সালের পশ্চিমবঙ্গ সরকারি ভাষা (দ্বিতীয় সংশোধনী) বিলে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভাষার তালিকায় কামতাপুরী, রাজবংশী ও কুর্মালিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।[১২][১৩]

পুরুলিয়া জেলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যে স্থানীয় বাংলা উপভাষা প্রচলিত তা প্রায়শই কুর্মালি, খোরঠা ও খোট্টাহির মতো মগহি উপভাষা, এমনকি খোট্টা বাংলার সঙ্গেও মিশে যায়। জেলার অনেক সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকেই আদিবাসীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। পূর্বতন মানভূম জেলার জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশের মাতৃভাষা ছিল সাঁওতালি। কেউ কেউ কুর্মালি, মুণ্ডারি এবং ভূমিজ বা মাহলি সম্প্রদায়ের ভাষার মতো মুন্ডারি বা কোলারিয়ান ভাষাতেও কথা বলত। যদিও খুব অল্প সংখ্যক মানুষই এই ভাষাগুলিতে (বিষেষত ভূমিজদের ভাষায়) কথা বলত। সেই কারণে সন্দেহ করা হয় যে, বিভিন্ন জনগণনায় আদিবাসীরাও বাংলাকে নিজেদের মাতৃভাষা বলে নথিভুক্ত করেছে, যদিও তারা এখনও এই সকল ভাষায় নিজেদের মধ্যে কথোপকথন চালায়।[১৪]

হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ধর্মবিশ্বাস
হিন্দু
  
৮১.০০%
মুসলমান
  
৬.৮৩%
খ্রিস্টান
  
০.১২%
অন্যান্য
  
১২.০৫%

২০১১ সালের জনগণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আড়শা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের হিন্দুদের মোট সংখ্যা ১১৬,২৯৬; যা মোট জনসংখ্যার ৮১.০০ শতাংশ। মুসলমানের সংখ্যা ৯,৮০৭ (৬.৮৩ শতাংশ), খ্রিস্টানের সংখ্যা ১৭০ (০.১২ শতাংশ) এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ১৭,৩০২ (১২.০৫ শতাংশ)।[১৫] অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আছে আদিবাসী, মারাং বোরো, সাঁওতাল, সারনাথ, সারি ধর্ম, সর্না, আলছি, বিদিন, সন্ত, সায়েভধর্ম, সেরান, সরন, সারিন, খেরিয়া,[১৬] ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়।[১৫]

গ্রামীণ দারিদ্র[সম্পাদনা]

২০০৫ সালে গ্রামীণ পরিবার সমীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরুলিয়া জেলার ৩২.৮৫ শতাংশ পরিবার দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে।[১৭] বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদউত্তর দিনাজপুর জেলার ৩১-৩৮ শতাংশ পরিবার দারিদ্র সীমার নিচের রয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গে সকল জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ হার। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ২০ শতাংশই দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে।[১৮]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

জীবিকা[সম্পাদনা]

হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে
জীবিকা

  কৃষক (২৫.০৬%)
  খেতমজুর (৫০.৩১%)
  কুটিরশিল্পের শ্রমিক (২.৫৩%)
  অন্যান্য শ্রমিক (২২.১০%)

২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী, হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের সকল শ্রমিকদের মধ্যে ১৭,৪৫৪ জন কৃষক (২৫.০৬ শতাংশ), ৩৫,০৩৩ জন খেতমজুর (৫০.৩১ শতাংশ), ১,৭৬২ জন কুটিরশিল্পের সঙ্গে যুক্ত (২.৫৩ শতাংশ) এবং ১৫,৩৯১ জন অন্যান্য ক্ষেত্রের শ্রমিক (২২.১০ শতাংশ)।[১৯] ব্লকে মোট শ্রমিকের সংখ্যা ৬৯,৫৪০ (মোট জনসংখ্যার ৪৮.৫০ শতাংশ) এবং অ-শ্রমিকের সংখ্যা ৭৩,৯৩৫ (মোট জনসংখ্যার ৫১.৫০ শতাংশ)।[২০]

টীকা: জনগণনার নথিতে সেই ব্যক্তিকেই কৃষক বিবেচনা করা হয়েছে, যিনি স্বীয়/সরকারি/প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানাধীন জমিতে কৃষিকাজ/তত্ত্বাবধানের কাজে নিযুক্ত। যে ব্যক্তি অন্যের জমিতে অর্থ বা সম্পদ বা অংশীদারিত্বের বিনিময়ে শ্রমদান করেন, তাঁকে খেতমজুর ধরা হয়। কুটিরশিল্প সেই শিল্পকেই বলা হয়, যাতে পরিবারে বা গ্রামের মধ্যে এক বা একাধিক সদস্য যুক্ত এবং যে শিল্প ১৯৪৮ সালের কারখানা আইন মোতাবেক কারখানা হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন নয়। অন্যান্য শ্রমিকেরা হলেন কৃষক, খেতমজুর বা কুটিরশিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক ভিন্ন অন্য উপায়ে যাঁরা অর্থনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত। এঁদের মধ্যে আছেন কারখানা, খনি, বন, পরিবহণ ও অফিসের কর্মচারী, যাঁরা ব্যবসা ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত, শিক্ষক, বিনোদনশিল্পী প্রমুখ।[২১]

পরিকাঠামো[সম্পাদনা]

২০১১ সালে প্রকাশিত ডিস্ট্রিক্ট সেন্সাস হ্যান্ডবুক, পুরুলিয়া-য় প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে ১১১টি জনবসতিপূর্ণ গ্রাম রয়েছে। ১০০ শতাংশ গ্রামেই বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানীয় জলের সরবরাহ রয়েছে। ২৫টি গ্রামে (২২.৫২ শতাংশ) ডাকঘর রয়েছে। ৯৮টি গ্রামে (৮৮.২৯ শতাংশ) টেলিফোন সংযোগ (ল্যান্ডলাইন, পাবলিক কল অফিস ও মোবাইল ফোন সহ) রয়েছে। ৫৯টি গ্রামে (৫৩.১৫ শতাংশ) পাকা রাস্তা এবং ৪৬টি গ্রামে (৩৬.০৪ শতাংশ) পরিবহন সংযোগ (বাস, রেল ও নাব্য জলপথ) রয়েছে। ১০টি গ্রামে (৯.০১ শতাংশ) কৃষিঋণ সংস্থা এবং ১২টি গ্রামে (১০.৮১ শতাংশ) ব্যাংক পরিষেবা সুলভ।[২২]

কৃষি[সম্পাদনা]

২০১৩-১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিম্নোক্ত উপায়ে শ্রেণিবিভক্ত করা হয়: বর্গাদার ০.৫১ শতাংশ, পাট্টার (নথি) অধিকারী ১৩.৩৯ শতাংশ, ছোটো চাষি (১ ও ২ হেক্টর জমির মালিক) ৬.৭১ শতাংশ, প্রান্তিক চাষি (১ একরের কম পরিমাণ জমির মালিক) ২২.১২ শতাংশ ও খেতমজুর ৫৭.২৭ শতাংশ।[২৩]

২০১৩-১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মোট সেচিত জমির পরিমাণ ১৩,১৬০.৬৮ হেক্টর, যার মধ্যে ১,১৯৮.০০ হেক্টর জমির খালের জলে সেচিত, ৮,৩৯৭.৯৭ হেক্টর জমি জলাধারের জলে সেচিত, ১১.২১ হেক্টর জমি নদী থেকে তোলা জলে সেচিত, ১৮৫.৪ হেক্টর জমি খনিত কূপের জলে সেচিত এবং ৩,৩৬৮.১০ হেক্টর জমি অন্য উপায়ে সেচিত হয়।[২৩]

২০১৩-১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে ২,২৩৩ হেক্টর জমি থেকে মোট ৩,৬৭৩ টন আমন ধান (প্রধান শীতকালীন ফসল); ৫ হেক্টর জমি থেকে ১৩ টন বোরো ধান (গ্রীষ্মকালীন ফসল); এবং ১৬ হেক্টর জমি থেকে ৩২ টন গম উৎপাদিত হয়। এছাড়াও এই ব্লকে মাসকলাই, আলু ও সরষে উৎপাদিত হয়।[২৩]

ব্যাংক পরিষেবা[সম্পাদনা]

২০১৩-১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ২টি গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয় রয়েছে।[২৩]

অনুন্নত অঞ্চল অনুদান তহবিল[সম্পাদনা]

পুরুলিয়া জেলা অনুন্নত অঞ্চল হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় এই জাতীয় অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ভারত সরকার কর্তৃক গঠিত অনুন্নত অঞ্চল অনুদান তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্য লাভ করে। ২০১২ সালের হিসেব অনুযায়ী, সারা দেশের ২৭২টি জেলা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত; যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১১টি জেলা রয়েছে।[২৪][২৫]

পরিবহণ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

২০১৩-১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে ৮টি প্রান্তিক বাস রুট রয়েছে। নিকটবর্তী রেল স্টেশনটি ব্লক সদর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।[২৩]

বাঁকুড়া থেকে পুরুলিয়া পর্যন্ত প্রসারিত ৩১৪ নং জাতীয় সড়ক এই ব্লকের উপর দিয়ে গিয়েছে।[২৬]

শিক্ষাব্যবস্থা[সম্পাদনা]

২০১৩-১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ১৮৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩,৩২২ জন শিক্ষার্থী, ২৭টি মধ্য বিদ্যালয়ে ১,০৮৪ জন শিক্ষার্থী, ৭টি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩,৪৫২ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৫,৪৯৯ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এই ব্লকের একটি সাধারণ কলেজে ২,৪৯৬ জন শিক্ষার্থী, ২টি পেশাগত/প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে ১৬৫ জন শিক্ষার্থী এবং বিশেষ ও অচিরাচরিত ধারার ৩২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯,০২৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।[২৩]

২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ১১১টি জনবসতিপূর্ণ গ্রামের মধ্যে ১টি গ্রামে একটিও বিদ্যালয় নেই, ৭২টি গ্রামে দুই বা ততোধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, ৪২টি গ্রামে অন্তত একটি প্রাথমিক ও একটি মধ্য বিদ্যালয় আছে এবং ২২টি গ্রামে অন্তত একটি মধ্য ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।[২৭]

১৯৮১ সালের লালপুরের দলদলিতে মহাত্মা গান্ধী কলেজ স্থাপিত হয়।[২৮]

স্বাস্থ্য পরিষেবা[সম্পাদনা]

২০১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, আড়শা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে একটি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৩টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে। এগুলিতে মোট ৪৮টি শয্যা ও ৬ জন চিকিৎসক সুলভ। ব্লকের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপকেন্দ্রগুলিতে ৮,৭৩৫ জন রোগী অন্তর্বিভাগে ও ২৪২,১৫৫ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসার সুযোগ পান।[২৩]

হুড়ায় ৩০টি শয্যাবিশিষ্ট হুড়া গ্রামীণ হাসপাতাল হল এই ব্লকের প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। চাতুমাদার (৪টি শয্যাবিশিষ্ট), খৈরিপিহিরা (৪টি শয্যা) ও লাধুড়কায় (১০টি শয্যাবিশিষ্ট) প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে।[২৯][৩০]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Historical background"। Purulia District। ২০০৮-০১-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৬ 
  2. "Historical Event: Bhasa Andolan"Department of Information and Cultural Affairs। Purulia.nic.in। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  3. "District Census Handbook Puruliya" (পিডিএফ)pages 11,12। Directorate of Census Operations West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  4. "Purulia district"Blocks in Purulia district। Purulia district administration। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  5. "District Statistical Handbook 2014 Purulia"Tables 2.1, 2.2। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  6. "District Census Handbook: Puruliya" (পিডিএফ)Map of District Puruliya with CD Block HQs and Police Stations (on the fifth page)। Directorate of Census Operations, West Bengal, 2011। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  7. "Directory of District, Subdivision, Panchayat Samiti/ Block and Gram Panchayats in West Bengal"Purulia - Revised in March 2008। Panchayats and Rural Development Department, Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  8. "C.D. Block Wise Primary Census Abstract Data(PCA)"2011 census: West Bengal – District-wise CD Blocks। Registrar General and Census Commissioner, India। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  9. "Provisional population totals, West Bengal, Table 4, Puruliya District"Census of India 2001। Census Commission of India। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  10. "Provisional Population Totals, West Bengal. Table 4"Census of India 2001। Census Commission of India। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৬ 
  11. "District Census Handbook Puruliya, Series 20, Part XXA" (পিডিএফ)page 44: Mother tongue। Directorate of Census Operations West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  12. "Multilingual Bengal"। The Telegraph, 11 December 2012। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ 
  13. "Kamtapuri, Rajbanshi make it to the list of official languages in Bengal"। Outlook, 28 February 2015। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ 
  14. "Bengal District Gazetteers - Manbhum by H. Coupland, ICS"Section 72, First Published 1911। University of California, San Diego। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  15. "C1 Population by Religious Community"West Bengal। Registrar General and Census Commissioner, India। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  16. "ST-14 A Details Of Religions Shown Under 'Other Religions And Persuasions' In Main Table"West Bengal। Registrar General and Census Commissioner, India। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  17. "West Bengal Summary"Rural Household Survey 2005। Department of Panchayat & Rural Development, Government of West Bengal। ১৩ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২০ 
  18. "West Bengal: Poverty, Growth and Inequality" (পিডিএফ)। World Bank Group। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২০ 
  19. "District Census Handbook Puruliya, Census of India 2011, Series 20, Part XII A" (পিডিএফ)Table 33: Distribution of Workers by Sex in Four Categories of Economic Activity in Sub-district 2011। Directorate of Census Operations, West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  20. "District Census Handbook Puruliya, Census of India 2011, Series 20, Part XII A" (পিডিএফ)Table 30: Number and percentage of Main workers, Marginal workers and Non workers by Sex, in Sub-districts, 2011। Directorate of Census Operations, West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  21. "District Census Handbook Puruliya, Census of India 2011, Series 20, Part XII A" (পিডিএফ)Census Concepts and Definitions, Page 23। Directorate of Census Operations, West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  22. "District Census Handbook, Puruliya, 2011, Series 20, Part XII A" (পিডিএফ)Page 79, Table 36: Distribution of villages according to availability of different amenities, 2011। Directorate of Census Operations, West Bengal.। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২০ 
  23. "District Statistical Handbook 2014 Purulia"Tables 8.2, 17.2, 18.2, 18.1, 20.1, 21.2, 4.4, 3.1, 3.3 – arranged as per use। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  24. "Backward Regions Grant Funds: Programme Guidelines" (পিডিএফ)। Ministry of Panchayati Raj, Government of India। ৩০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  25. "Backward Regions Grant Fund"Press Release, 14 June 2012। Press Information Bureau, Government of India। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  26. "Rationalisation of Numbering Systems of National Highways" (পিডিএফ)। New Delhi: Department of Road Transport and Highways। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৬ 
  27. "District Census Handbook, Puruliya, 2011, Series 20, Part XII A" (পিডিএফ)Page 976-77, Appendix I A: Villages by number of Primary Schools and Appendix I B: Villages by Primary, Middle and Secondary Schools। Directorate of Census Operations, West Bengal.। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২০ 
  28. "Mahatma Gandhi College"। MGC। ২৭ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০২০ 
  29. "Health & Family Welfare Department" (পিডিএফ)Health Statistics – Rural Hospitals। Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২০ 
  30. "Health & Family Welfare Department" (পিডিএফ)Health Statistics – Primary Health Centres। Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২০