বিষয়বস্তুতে চলুন

এ. কিউ. এম. বজলুল করিম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ড. এ. কিউ. এম. বজলুল করিম
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন
কাজের মেয়াদ
১৫ মে ১৯৭২  ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৭
পূর্বসূরীঅফিস প্রতিষ্ঠিত
উত্তরসূরীএম মইদুল ইসলাম
ব্যক্তিগত বিবরণ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
ধর্মইসলাম

ড. এ. কিউ. এম. বজলুল করিম ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, মৃত্তিকা বিজ্ঞানী এবং দেশের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (প্রথম)’-এর জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম চেয়ারম্যান জবাব বজলুল করিম স্বাধীন বাংলাদেশের নব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রথম পিএসসি (PSC - Public Service Commission) চেয়ারম্যান এ কিউ এম বজলুল করিম। ৭০, ৮০ ও ৯০ দশকে টিভিতে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি।[] শিক্ষায় অনন্য সাধারণ অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে তাকে “শিক্ষায় স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয়।[]

জন্ম ও কর্ম জীবন

[সম্পাদনা]

জবাব করিম, এ.কিউ.এম বজলুল (১৯২০-১৯৯৮) একজন শিক্ষাবিদ ও মৃত্তিকা বিজ্ঞানী। তিনি বি করিম নামেই অধিক পরিচিত। বজলুল করিম ১৯২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ) জেলার লৌহজং উপজেলার অন্তর্গত কলমা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৬ সালে তিনি তার গ্রামের কলমা লক্ষ্মীকান্ত হাই স্কুল থেকে এন্ট্রান্স, ১৯৩৮ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৪০ সালে বি.এসসি (পাস) এবং আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪২ সালে রসায়ন শাস্ত্রে এম.এসসি ডিগ্রি লাভ করেন। বজলুল করিম তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কলকাতায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ে যোগদানের মধ্য দিয়ে। পরবর্তী সময়ে তিনি যাদবপুর কলেজে একজন জুনিয়র প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং তারও পরে খাদ্য ও ঔষধ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কেমিক্যাল স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ল্যাবরেটরিতে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি পিএইচ.ডি গবেষণার উদ্দেশ্যে লন্ডন গমন করেন। সেখানকার ইম্পেরিয়াল কলেজে কৃষি রসায়ন শাস্ত্রে ভর্তি হন এবং ১৯৪৮ সালে ‘Residual Effect of Fertilisers on the Growth and Yield of Potatoes’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৪৯ সালে লন্ডন থেকে প্রত্যাবর্তন করে ড. বি করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নব প্রতিষ্ঠিত মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫২ সালে তিনি রিডার পদে উন্নীত হন। আমেরিকান একাডেমি অব সায়েন্সেস কর্তৃক ভিজিটিং সাইন্টিস্ট হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে ড. বজলুল করিম আমেরিকা গমন করেন এবং সেখানকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাসে মৃত্তিকা বিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে যোগদান করেন। ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেন। আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে এসে তিনি পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালের শেষ দিকে তিনি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৬৭ সালে অধ্যাপক করিম ‘সয়েল সার্ভে অব পাকিস্তান’ প্রকল্পের মহাপরিচালক নিযুক্ত হন এবং ১৯৬৯ সালে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে অধ্যাপক করিম বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন-এর প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পাঁচ বছর এ দায়িত্বে বহাল থাকেন। ১৯৭৮ সালে পুনরায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পূর্বের পদে ফিরে আসেন এবং ১৯৮২ সালের ৩০ জুন তারিখে অবসরগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও ড. করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশ মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতি-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক বজলুল করিম বিভিন্ন দেশিয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের মৃত্তিকা বিষয়ক মৌলিক গবেষণার ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে ছিল মৃত্তিকা-উদ্ভিদ পুষ্টি সম্পর্ক ও মৃত্তিকা রসায়ন। এ.কিউ.এম বজলুল করিম তাঁর শিক্ষকতা ও গবেষণা কর্মকান্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক, শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৮২ সালে শেরে বাংলা স্বর্ণপদক, ১৯৮৪ সালে অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ৬ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইউআরএল=http://www.bpsc.gov.bd/platform/chairman/78.bpsc2012.pml |সংগ্রহের-তারিখ=২৩ জুন ২০১৫ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20150726031945/http://www.bpsc.gov.bd/platform/chairman/78.bpsc2012.pml |আর্কাইভের-তারিখ=২৬ জুলাই ২০১৫ |ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর }}</ref>

পুরস্কার ও সম্মাননা

[সম্পাদনা]

শিক্ষা ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের “সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার” হিসাবে পরিচিত “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় তাকে।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "বি. পি. এস. সি." নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. 1 2 "স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের তালিকা"মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১৭

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]