হাসিনা খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হাসিনা খান
Haseena Khan.jpg
অধ্যাপক হাসিনা খান
জন্মগেন্ডারিয়া, পুরান ঢাকা বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশি
কর্মক্ষেত্রজিনতত্ত্ব, প্রাণরসায়ন
প্রাক্তন ছাত্রঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পরিচিতির কারণইলিশের জিনোম উদ্ভাবক দলের নেতৃত্ব

হাসিনা খান বাংলাদেশের একজন প্রাণরসায়ন বিজ্ঞানী, জিনতত্ত্ববিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো। তাঁর নেতৃত্বেই ২০১৮ সালে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের জিনোম সিক্যুয়েন্স বা অনুক্রম আবিষ্কৃত হয়।[১] গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে।[২] এছাড়াও তিনি বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে পাটের জিনোম অনুক্রম আবিষ্কারে অবদান রাখেন।[৩]

জন্ম ও পরিবার[সম্পাদনা]

অধ্যাপক হাসিনা খানের জন্ম পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায়। তাঁর মা বেগম খোদেজা খাতুন এবং পিতা সরকারি চাকরিজীবী বাবা এম এ খালেক। হাসিনা খান নয় ভাইবোনের মধ্যে অষ্টম। তাঁর জন্মের বছর দুয়েক পরই বাবা কলকাতায় হাইকমিশনার হিসেবে বদলি হওয়ায় শৈশবের কয়েক বছর কলকাতায় কাটে।[৪] ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যার জননী।[৫]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

হাসিনা খানের পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় কলকাতার মিশনারি স্কুল কুইন অব দ্য মিশনে। বাবার বদলির সূত্রেই ১৯৬০ সালে ঢাকায় ফিরে ভর্তি হন পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স স্কুলে। এখান থেকেই ১৯৭০-এ খুব ভালো ফলাফল নিয়ে ও-লেভেলের গণ্ডি পেরোন। [৪] তিনি ১৯৭৪ সালে ঢাকার হলিক্রস কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়নবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৭৬ সালে স্নাতক ও ১৯৭৮ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৮৫ সালে হাসিনা খান ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে অনুজীব বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।[৬]

কর্মক্ষেত্র[সম্পাদনা]

হাসিনা খান ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের লেকচারার হিসেবে যোগদেন।[৫] ইংল্যান্ড থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রাণরসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত হাসিনা খান জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও জীবপ্রকৌশলী বিভাগে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো হিসেবে দায়িত্বরত।[৬][৭] অধ্যাপক হাসিনা খান পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের কাজে যুক্ত ছিলেন।[৮]

২০১৭ সালে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের জীবন রহস্য উন্মোচনে হাসিনা খানের তত্ত্বাবধানে একটি বিজ্ঞান প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।[১] ২০১৮ সালে এই দল ইলিশ মাছের জিন নকশা উন্মোচন করে।[৯]

পদক ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

  1. বায়োটেকনোলজিতে অবদানের জন্য "ইউনেস্কো/রোস্টকা এওয়ার্ড ফর ইয়ং সায়েন্টিস্ট", ১৯৮৯ [৬]
  2. বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি, এম ও গনি স্মৃতি স্বর্ণ পদক, ২০১১
  3. পাটের জিনোম গবেষণায় অবদানের জন্য কাজী মাহবুবুদ্দিন স্বর্ণ পদক, ২০১৫
  4. বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদানের জন্য মনি সিং- ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্ট এওয়ার্ড, ২০১৬
  5. স্বাধীনতা পুরস্কার,২০১৯ [২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Hurrah for hilsa, again"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০১-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৪-০১ 
  2. "স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ১২ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান | জাতীয়"ittefaq। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৩-২৮ 
  3. আহমেদ, আনিস (জুন ২২, ২০১০)। "প্রতিকূল পরিবেশে পাট উৎপাদনে সহায়ক হবে পাটের জীবনরহস্য উদ্‌ঘাটন: হাসিনা খান"ভিওএ। ২৩ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৮ 
  4. প্রথম আলো, ফারাহ্ শাম্মা (৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১)। "স্বপ্নপথের যাত্রী"। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৭ 
  5. "Profile of Dr. Haseena Khan"du.ac.bd (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৮ 
  6. "Bangladesh Academy of Science: Professor Haseena Khan" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১৭ 
  7. The Promise of Bio-tech: Haseena Khan
  8. আলম, শেখ সাবিহা (৫ জানুয়ারি ২০১৬)। "বিজ্ঞান গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরা"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৮ 
  9. Das, Avizit; Ianakiev, Peter; Baten, Abdul; Nehleen, Rifath; Ehsan, Tasneem; Ahmed, Oly; Islam, Mohammad Riazul; Naser, M. Niamul; Marma, Mong Sano (২০১৮-১২-২২)। "Genome of Tenualosa ilisha from the river Padma, Bangladesh"BMC Research Notes11 (1): 921। আইএসএসএন 1756-0500ডিওআই:10.1186/s13104-018-4028-8পিএমআইডি 30577879পিএমসি 6303923অবাধে প্রবেশযোগ্য