এম শমশের আলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এম শমশের আলী
জন্ম২১ নভেম্বর ১৯৩৭
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ববাংলাদেশ Flag of Bangladesh.svg
দাম্পত্য সঙ্গীসাকেবা আলী
সন্তানজীশান আলী (বড় ছেলে) এবং জেহান আলী (ছোট ছেলে)

এম শমশের আলী (জন্ম: ২১ নভেম্বর ১৯৩৭) হলেন বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিক পরমাণু বিজ্ঞানী।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৩৭ সালের ২১ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পৈত্রিক সূত্রে তিনি যশোর সদর থানার সিঙ্গিয়া গ্রামের (বর্তমানে বসুন্দিয়া) লোক ছিলেন। তার বাবার নাম আমীর আলী এবং মাতা রহিমা খাতুন।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

শমশের আলীর শিক্ষা শুরু হয় চুয়াডাঙ্গা এলাকার স্থানীয় ইউসুফ মাস্টারের স্কুলে। পিতার চাকরির কারণে তারা সপরিবারে চলে যান ভারতের চব্বিশ পরগনার রানাঘাটে। সেখানে শমশের আলীকে ভর্তি করে দেওয়া হয় লালগোপাল স্কুলে। এখানে দুবছর লেখাপড়ার পর ভারত ভাগের কারণে ১৯৪৮ সালে তারা সপরিবারে ফিরে আসেন যশোরে। এবং এখানেই বসবাস করতে শুরু করেন। এরপর তাকে ভর্তি করে দেওয়া হয় যশোর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে। এবং এই স্কুল থেকেই তিনি ১৯৫৪ সালে ম্যাট্টিক পাস করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। ১৯৫৬ সালে এই কলেজ থেকে আই. এস. সি. পাস করেন। কলেজ জীবন শেষে তিনি ১৯৫৬ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার পছন্দের বিষয় ছিল পদার্থবিজ্ঞান। ১৯৫৯ সালে শ্রেষ্ঠত্বের সাথে অনার্স এবং ১৯৬০ সালে এম. এস. সি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেন এবং ১৯৬৫ সালে সেই ম্যানচেস্টার থেকেই থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স বিষয়ে পি. এইচ. ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।[১]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৬১ সালে পাকিস্তান আনবিক শক্তি কমিশনে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পি. এইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করার পর ১৯৬৫ সালে দেশে ফিরে এসে তিনি ঢাকায় আনবিক শক্তি কেন্দ্রে সিনিয়র সায়িন্টিফিক অফিসার হিসেবে যোগ দেন। কর্মদক্ষতার জন্য তিনি ১৯৭০ সালে অত্যন্ত অল্প বয়সে আনবিক শক্তি কমিশনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬১-১৯৮২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ বছর যাবৎ ড. আলী আনবিক শক্তি কমিশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা স্পেশাল সাইটেশনের মাধ্যমে ড. আলীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি প্রফেসর অব ফিজিক্স করে তাকে একটা বিরল সম্মাননা প্রদান করে। ১৯৮২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯২-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সাল হতে ২০১০ সাল সময় পর্যন্ত সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কোরআন ও বিজ্ঞান ভিত্তিক গ্রন্থ রচনা[সম্পাদনা]

১৯৭০ সালের দিকে তিনি কোরআনের দিকে ঝুঁকে পড়েন, বিজ্ঞান চর্চার উৎসাহ, লেখাপড়ার উৎসাহ, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ভাল করার উৎসাহ, এই বিষয়গুলো তাকে আকৃষ্ট করায় তিনি ও তার কয়েক সহকর্মী মিলে দীর্ঘ ৫ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিজ্ঞান ও ইসলামের আলোকে গবেষণামূলক একটি বই লেখেন। বইটি “ইসলামিক ফাউন্ডেশন”-এর “সায়েন্টিস্ট ইন্ডিকেশন অন দি হলি কোরান” নামে একটি প্রজেক্টের অধীনে ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

আগ্রহের বিষয়[সম্পাদনা]

আগ্রহের বিষয়ের মধ্যে একটি হচ্ছে বিজ্ঞান আর অন্যটি হচ্ছে ধর্ম। ধর্ম বলতে তিনি শুধুমাত্র ইসলামকে নয় সকল ধর্মকে বুঝিয়েছেন। আগ্রহের অন্য বিষয়গুলো হচ্ছে -

  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জনপ্রিয়করণ (তিনি রেডিও ও টেলিভিশনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত প্রায় ৫০০টিরও বেশি বিষয় উপস্থাপন করেন)।
  • তৃতীয় বিশ্বের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়াদি।
  • বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে সামঞ্জস্য।[২]

গবেষণামূলক প্রবন্ধ[সম্পাদনা]

  • Scientific Indications in the Holy Quran ।
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মুসলমানদের অবদান।
  • BRAIN TWISTER (Delightful Mathematics)
  • Alladin's Real Lamp : Science and Technology, ২০১১

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ইসলাম নিয়ে গবেষণার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন ড. এম শমশের আলীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করে। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষাজীবনের সাফল্য ও গবেষণামূলক কর্মে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য তাকে Honorary Professor of Physics হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে এক বিরল সম্মাননা প্রদান করে। ১৯৭৪ সালে পারমানবিক পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে হরিপ্রসন্ন রায় স্বর্ণপদক প্রদান করে। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি তাকে গবেষণার স্বীকৃতি হিসাবে একাডেমি স্বর্ণপদক প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি জগদীশচন্দ্র বসু স্বর্ণপদক, আকরম খাঁ স্বর্ণপদক, মাদাম তেরেসা স্বর্ণপদক ও ভাসানী স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ২০০৫ সালে তিনি খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ স্বর্ণপদক লাভ করেন। ২০০৯ সালে তিনি মালয়েশিয়াতে International University Leadership Colloquies এর পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা পদক লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে Third world Academy of Science এর Fellow হয়েছিলেন।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Adnan, Rajib, Bipul, Shanto,। "ড. এম শমশের আলী / D. M. Shamsher Ali (1937) - Jessore, Jhenaidah, Magura, Narail"jessore.info 
  2. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৮ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৬ 
  3. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৬