মিফতাহুর রহমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মিফতাহুর রহমান
নাগরিকত্ববাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
কর্মক্ষেত্রতড়িৎ প্রকৌশল
আলোকীয় পদার্থবিজ্ঞান
টেলিযোগাযোগ
প্রতিষ্ঠানলিংকন গবেষণাগার, এমআইটি
আর্থার ডি লিট্‌ল, ইনকর্পোরেটেড
গ্রামীণ শক্তি
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাক্তন ছাত্রঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মার্কেট বিশ্ববিদ্যালয়
ম্যাসাচুসেট্‌স বিশ্ববিদ্যালয়, লোয়েল
পরিচিতির কারণআলোকীয় যোগাযোগ
সেলুলার নেটওয়ার্ক
কম্পিউটার বিজ্ঞান

মিফতাহুর রহমান একজন বাংলাদেশী পদার্থবিদ যার গবেষণার বিষয় আলোকীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা, তারহীন ও মোবাইল প্রযুক্তি।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

তিনি বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৭৬ সালে স্নাতক এবং ১৯৭৭ সালে স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জন করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কিছুকাল দায়িত্ব পালনের পর, ১৯৮৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকি শহরে অবস্থিত মার্কেট বিশ্ববিদ্যালয় (Marquette University) থেকে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে ম্যাসাচুসেট্‌স বিশ্ববিদ্যালয়, লোয়েল হতে কঠিন-দশার পদার্থবিজ্ঞান (solid-state physics) ও আলোকবিজ্ঞানে (optics) পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি তার পিএইচডি গবেষণা করেছিলেন ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি'র লিংকন গবেষণাগারে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

শিক্ষাজীবন শেষে, ১৯৮৮ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত তিনি আর্থার ডি. লিট্‌ল, ইনকর্পোরেটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শদাতা হিসেবে এবং এরপর ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ইনস্টিটিউট ফর প্লাস্টিক্স ইনোভেশন (আইপিআই) এ গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি গ্রামীণ শক্তি নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক এর একটি অঙ্গসংগঠন এটি। ড. মিফতাহুর রহমান ১৯৯৭ থেকে জানুয়ারি, ২০০২ সাল পর্যন্ত ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রক্টর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ২০০২ সালের বসন্তে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে যোগদান করেন। তখন থেকে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথেই যুক্ত; ২০০৩-২০০৭ পর্যন্ত তিনি এই বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে তিনি তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন।

এছাড়াও তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পবিষয়ক গবেষণা সংগঠন, সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (CICT) এর পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন এবং ২০০৬ সালে, IEEE কমিউনিকেশন্স সোসাইটি'র পৃষ্ঠপোষকতায়, বাংলাদেশের ঢাকায় সর্বপ্রথম পরবর্তী প্রজন্মের তারহীন ব্যবস্থা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন (International Conference of the Next Generation Wireless Systems) আয়োজনের জন্য তিনি সর্বজনবিদিত। ড. রহমান এবং বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী উভয়ই, সমগ্র জাতির জন্য জাতীয়ভাবে একটি প্রযুক্তিগত মঞ্চ গড়ে তোলার পক্ষে বক্তব্য দেন।[১] জাতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা বিষয়ক অন্যান্য কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।[২]

পটভূমি[সম্পাদনা]

২০১১ সালে, আবদুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিকাল ফিজিক্স (আইসিটিপি, ইতালি) এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এর যৌথ আয়োজনে, হার্ডওয়্যার সংশ্লেষণে ভি.এইচ.ডি.এল. এবং এফ.পি.জি.এ. নকশা বিষয়ক প্রথম আইসিটিপি আঞ্চলিক মাইক্রোইলেকট্রনিক্স কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. রহমান বলেন:

"In the world of electronics, experimentation is a very expensive task. Before we can produce a single chip in the industry, we have to verify every aspect of it minutely. So, rather than investing large amount of money in making prototypes of a device, simulating the hardware can be implemented to exponentially reduce costs. FPGA and PLD are such tools that help to simulate real hardware. That is the reason this course will help the students, especially the engineering students to have a much better and more practical view on these tools. We have a gold mine of creative minds. But due to our age-old education system, lack of progress in the research and development sector and many other socio-economic reasons obstruct us to nourish those minds. Our sons and daughters are making their mark abroad but Bangladesh still lacks necessary proactive and creative engineers. Such prestigious courses will help develop those enthusiasts and create an opportunity within the country to think and create and contribute to the country's technological development"

— Dr. Miftahur Rahman

"ইলেকট্রনিক্সের জগতে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি কাজ। শিল্প কারখানায় একটা বৈদ্যুতিক চিপ প্রস্তুতের আগে, এর প্রতিটি দিক আমাদেরকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হয়। সুতরাং, কোন যন্ত্রের প্রোটোটাইপ তৈরি করতে বিশাল অংকের অর্থ বিনিয়োগের চেয়ে হার্ডওয়্যারের সিমুলেশনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যয় লাঘব করা যায়। এফপিজিএ এবং পিএলডি এমনই দুটি সরঞ্জাম যা বাস্তব হার্ডওয়্যার সিমুলেশনে সাহায্য করে। এজন্যই এই কোর্স শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের, এই সরঞ্জামগুলো সম্বন্ধে আরও ভালো এবং আরও বাস্তবসম্মত ধারণা দেবে। আমাদের কাছে সৃজনশীল মানসের একটি স্বর্ণখনি রয়েছে। কিন্তু প্রাচীন ঘরানার শিক্ষা-ব্যবস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে অগ্রগতির অভাব, এবং আরও অনেক আর্থ-সামাজিক কারণে, ঐ মানসগুলো বিকশিত হতে বাধা পায়। আমাদের ছেলে-মেয়েরা দেশের বাইরে নিজেদের কাজের ছাপ রাখছে কিন্তু বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত-সংখ্যক সক্রিয় এবং সৃজনশীল প্রকৌশলীর সংকট রয়েছে। এমন মর্যাদাপূর্ণ একটি কোর্স ঐ সকল উৎসাহীদেরকে বিকশিত করবে এবং দেশে থেকেই চিন্তা, সৃজন এবং দেশের প্রযুক্তিগত বিকাশে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করবে।"[৩]

বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পের প্রচারণার উদ্দেশ্যে ড. রহমান বলেন, "আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছি, যারা সফটওয়্যার তৈরিতে সক্ষম, যেগুলো আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতা করতে পারে।"[৪] এসব ছাড়াও তিনি বাংলাদেশে বিশ্বমানের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং সেবাদান শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কার্যক্রমে সভাপতিত্ব করেছেন।[৫]

নির্বাচিত কর্ম[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Minister stresses innovative tech in mobile communications"News Today। ২০১১-০৪-১১। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৩-২৬ 
  2. Mainul Hassan (২০০৭-০১-২৮)। "ROAD to 19th International Olympiad in Informatics at Zagreb-Croatia"Star CampusThe Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৩-২৬ 
  3. Aantaki Raisa (২০১১-০২-০৬)। "An Exposure to the Modern Techno-World"Star CampusThe Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৩-২৬ 
  4. Syed Tashfin Chowdhury (২০০৪-০৩-২৪)। "All set for 5th Softfair 2004- Tech News"Bangladesh Web। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৩-২৬ 
  5. "Seminar on "IP Telephone, 3G and WiMAX the Key Technologies for Next Generation Telecommunication Infrastructure" at NSU"Star CampusThe Daily Star। ২০১০-০২-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৩-২৬