শিবসাগর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শিবসাগর
city
শিবসাগর আসাম-এ অবস্থিত
শিবসাগর
শিবসাগর
আসামের মানচিত্রে শিবসাগরের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৬°৫৯′উত্তর ৯৪°৩৮′পূর্ব / ২৬.৯৮° উত্তর ৯৪.৬৩° পূর্ব / 26.98; 94.63স্থানাঙ্ক: ২৬°৫৯′উত্তর ৯৪°৩৮′পূর্ব / ২৬.৯৮° উত্তর ৯৪.৬৩° পূর্ব / 26.98; 94.63
দেশ  India
রাজ্য অসম
জেলা শিবসাগর
উচ্চতা ৯৫
জনসংখ্যা (২০০১)
 • মোট ৫৩
Languages
 • Official অসমীয়া, ইংরেজি
সময় অঞ্চল IST (ইউটিসি+5:30)
PIN ৭৮৫৬৪০
Telephone code ০৩৬৭১
ওয়েবসাইট sivasagar.nic.in

শিবসাগর (ইংরেজি:Sivasagar; অসমীয়া:শিৱসাগৰ) ভারতের অসম রাজ্যের একটি পুরাতন ও ঐতিহাসিক শহর । ভারতীয় ইতিহাস মতে আহোম সাম্রাজের রাজধানী এই স্থানে ছিল । দিখৈ ও দিসাং নদী, জয়দোল, দেবিদোল ইত্যাদি অতীতের কীর্তিচিহ্ন দিয়ে সমৃদ্ধ শিবসাগর শহর একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থল। এই শহরটির পুরাতন নাম রংপুর

নামকরন[সম্পাদনা]

অঞ্চলটির নাম এখানকার বিখ্যাত জলাশয় “শিবসাগর পুকুর” থেকে হয়েছে ।

স্বর্গদেউ রুদ্রসিংহের মৃত্যুর পর তাঁহার ভাই শিবসিংহ রাজসিংহাসনে বসেন। শিবসিংহের চারটি পত্নি থাকা সত্বেও তিনি চিনাতলিয়া নটের কন্যা ফুলমতী বা ফুলেশ্বরীকে বিবাহ করেন। রাজার পত্নী হয়ে ফুলমতী নাম বদল করে প্রমথেশ্বরী নাম গ্রহন করে। ফুলমতী সুন্দরী, বুদ্ধিমতী ও উচ্চঅভিলাশী ছিলেন । মিথ্যা দোষ আরোপ করে রাজাকে সিংহাসন থেকে পদচ্যুত করিয়ে ফুলবতী নিজে ক্ষমতায় আসেন ।

সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় ফুলমতীর মৃত্যু হয়। ফুলমতীর মৃত্যুর পর রাজা শিবসিংহ ফুলমতীর বোন দ্রৌপদিকে বিবাহ করেন । রানী হয়ে দ্রৌপদি অম্বিকা নাম গ্রহন করে । রানী অম্বিকা স্বামির নামে একটি বিশাল পুকুর খনন করান যা শিবসাগর নামকরন করা হয় । রাজা শিবসিংহ থেকে “শিব” ও বিশাল জলাশয় হওয়ার জন্য “সাগর” এতএব শিব+সাগর =শিবসাগর । বৃটিশ শাসনকালে এই অঞ্চলের আশে পাশে প্রশাশনীয় কাজের কেন্দ্র ছিল তাই কালক্রমে এই স্থানের নাম শিবসাগর নামে পরিবর্ত্তন হয়ে যায়।

পর্যটক স্থল[সম্পাদনা]

শিবসাগর জেলা আহোম রাজাদের কতৃক নির্মিত বিশাল পুখুরী, দেবির মন্দির, জাদুঘর, সংগ্রহালয় ইত্যাদি দিয়ে ভরপুর ঐতিহাসিক নগর । ইংরাজি ১৭৩৪ সনে রানী অম্বিকা কলুঞ্চপারে ভগবান শিবকে উৎসর্গ করে একটি পুকুর খনন করান । শিবকে উৎসর্গ করা এই পুকুরের নাম রাখা হয় শিবসাগর। এই পুকুরের দক্ষিন দিকে আরও তিনটি পুকুর আছে কিন্তু এদের মধ্যে শিবদৌল সর্ববৃহৎ পুকুর । শিবদোলের পুর্বে বিষ্ণুদোল ও পশ্চিমে দেবিদোল অবস্থিত। শিবদোলে শিবরাত্রির দিনে মেলার আয়োজন করা হয়। অসমের বিভিন্ন স্থান ও উত্তরপূর্বাঞ্চল সহ পশ্চিমবঙ্গের ব্যাক্তিরা এই স্থানে আসেন ও মেলা উপভোগ করেন। দেবিদোল হচ্চে দূর্গাদেবির মন্দির । দূর্গাপুজার তিথিতে এখানে রিতিমত দেবির পূজা করা হয় অপরদিকে বিষ্ণুদোল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরত্বে দেউঘর অবস্থিত । বর্ত্তমানদিনে দেউঘর হরগৌরী মন্দির নামে পরিচিত। শিবসাগর শহর থেকে ২কিলোমিটার দূরত্বে আহোম রাজা নির্মান করা তলাতল ঘর অবস্থিত । আহোম রাজা রাজেশ্বর সিংহ তলাতল ঘর নির্মান করিয়েছিলেন । তলাতল ঘর থেকে দিখৈ নদি ও কারেং ঘর যাওয়ার জন্য ২টি গুফা বা সুরঙ্গ ছিল যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় আছে । তলাতল ঘর থেকে সামান্য দূর ব্যাবধানে রংঘর অবস্থিত যা ৩৭ নং রাষ্ট্রিয় ঘাইপথ দ্বারা সংযুক্ত । স্বর্গদেউ প্রমত্তসিংহ ১৭৪৪ সনে পশুযুদ্ধের আনন্দ করার উদ্দেশ্যে এই দুটিতালা বিশিষ্ট মহল নির্মান করেছিলেন । লাই বা রুদ্রসিংহ নিজমাতা জয়মতীর স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে জয়সাগর নামক একটি পুকুর খনন করান । ১৭০৩ সনে স্বর্গদেউ রুদ্রসিংহ শিবসাগর থেকে প্রায় ১২কিলোমিটার দূরত্বে নামডাং নদির উপরে শিলা বা পাথর দ্বারা একটি সেতু নির্মান করিয়েছিলেন যার নাম “খিলর খাঁকু” । নাগা পাহাড় থেকে পাথড় সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট অনুপাতে সরিষার তেল, ধুনা, গুর, মাটিকালাই দাল, চুন, বরাচাউল ও হাঁসের ডিম ব্যাবহার করে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মান করা হয়েছিল।

চিত্র:আনন্দরাম বরুয়া শিশু উদ্যানে একটি শিশু.jpeg
আনন্দরাম বরুয়া শিশু উদ্যানে একটি শিশু স্থান: শিবসাগর

যাতায়ত ব্যাবস্থা[সম্পাদনা]

রাজধানী গুয়াহাটি থেকে এই অঞ্চলে নৈশ বাসযাত্রা সুবিধা আছে। তেজপুর থেকে সচরাচর বাসের ব্যাবস্থা আছে । নিকটবর্ত্তী শহর ডিব্রুগঢ় থেকে ভারতের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য ট্রেনের সুবিধা আছে । ইহাছাড়াও নিকটবর্ত্তী স্থানে যাতায়ত করার জন্য জলপথে ফেরির ব্যাবস্থা আছে।

আবহাওয়া[সম্পাদনা]

শিবসাগরের আবহাওয়া সারা বছর মনোরম থাকে। তাপমাত্রা ১০° সেন্টিগ্রেড থেকে ৪০° সেন্টিগ্রেডের মধ্যে থাকে। ব্রহ্মপুত্র নদ শহরের নিকট দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এখানে বছরে ৯০ থেকে ৯৪ ইঞ্চি (২৩০ থেকে ২৪০ সেমি) বৃষ্টিপাত হয়।

Sivasagar-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
মাস জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে বছর
সর্বোচ্চ °সে (°ফা) রেকর্ড ২৯
(৮৪)
৩২
(৯০)
৩৪
(৯৩)
৩৬
(৯৭)
৪০
(১০৪)
৩৮
(১০০)
৩৮
(১০০)
৩৮
(১০০)
৩৬
(৯৭)
৩৭
(৯৯)
৩৩
(৯১)
৩৪
(৯৩)
৪০
(১০৪)
সর্বোচ্চ °সে (°ফা) গড় ২৩
(৭৩)
২৪
(৭৫)
২৬
(৭৯)
২৮
(৮২)
৩০
(৮৬)
৩১
(৮৮)
৩১
(৮৮)
৩২
(৯০)
৩১
(৮৮)
৩০
(৮৬)
২৮
(৮২)
২৫
(৭৭)
২৮٫৩
(৮২٫৮)
সর্বনিম্ন °সে (°ফা) গড় ১০
(৫০)
১৩
(৫৫)
১৬
(৬১)
১৯
(৬৬)
২২
(৭২)
২৪
(৭৫)
২৫
(৭৭)
২৫
(৭৭)
২৪
(৭৫)
২১
(৭০)
১৬
(৬১)
১১
(৫২)
১৮٫৮
(৬৫٫৯)
সর্বনিম্ন °সে (°ফা) রেকর্ড
(৩৭)

(৩৯)

(৪৬)
১২
(৫৪)
১২
(৫৪)
১২
(৫৪)
১৩
(৫৫)
১৪
(৫৭)
১৭
(৬৩)
১৬
(৬১)

(৩৯)

(৪১)

(৩৭)
গড় অধঃক্ষেপণ মিমি (ইঞ্চি) ৩৬
(১٫৪২)
৭০
(২٫৭৬)
১০২
(৪٫০২)
১৯৫
(৭٫৬৮)
৩৬৮
(১৪٫৪৯)
৪১০
(১৬٫১৪)
৪৮৭
(১৯٫১৭)
৩৩৭
(১৩٫২৭)
৩১৬
(১২٫৪৪)
১২১
(৪٫৭৬)
৩০
(১٫১৮)
১৩
(০٫৫১)
২,৪৮৫
(৯৭٫৮৪)
উৎস: Weather2

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. লীলা গগৈ (২০০৭ চন). বেলি মাৰ গ'ল. প্ৰকাশক ডিব্ৰুগড়: বনলতা.